নাক ডাকা মৃত্যুর ঝুকিঁ

NAkdakaআজ বিশ্ব ঘুম দিবস। ঘুম প্রশান্তির। কিন্তু আমরা ক'জন জানি ঘুমের মধ্যেও মৃত্যু হতে পারে। এমনই এক রোগের নাম স্লিপ অ্যাপনিয়া। নাক ডাকা ঘুমেরই আরেক নাম এটি। নাক ডাকার আওয়াজটা আসলে নাক থেকে বের হয় না। তার উৎস গলা থেকে নাকের মধ্যবর্তী অংশ। সেখানে কোনো কারণে বাতাস চলাচলে বাধা পায় বলেই শব্দের উৎপত্তি। এ অবস্থাটা যে কারও জন্য মারাত্মক। কারণ, শ্বাসনালিতে বাতাস যত কম ঢুকবে, তত শরীরে অক্সিজেনকমবে। কমতে-কমতে অক্সিজেনের মাত্রা ৬০-এর নিচে নামলেই ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে।নাক ডাকায় মৃত্যুর ঝুঁকিকলকাতার নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ দীপঙ্কর দত্ত জানান, 'নাক ডাকার সময় মাংসপেশি শিথিল হয়ে যায়। এ সময় টাকরা বা আলজিভ নাক-গলার সন্ধিস্থলকে (ন্যাসোফ্যারিংস) ঢেকে দেয়। ফলে বাতাস সেখানে ধাক্কা খেতে খেতে ঢোকে। তখন গলা দিয়ে একটা গোঙানির মতো শব্দ বেরোয়। গলার ভেতরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমলেও এটা হতে পারে।'চিকিৎসকদের দাবি, ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে স্লিপ অ্যাপনিয়ার প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। শরীরে মেদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গলার ভেতরের মাংসপেশি শিথিল হয়ে শ্বাসনালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাতে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস পায়। আবার দীর্ঘদিন ধরে শরীরে অক্সিজেন কম ঢুকলে মেদ nak 7বাড়ে। ব্যাপারটা একটা দুষ্টচক্রের মতো। এর ওপর ধূমপান-মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে সমস্যা আরও জটিল রূপ নিতে পারে।স্লিপ অ্যাপনিয়ায় রাতের ঘুমে বারবার ব্যাঘাত ঘটে। ফলে দিনে সবসময় ঝিমুনি ভাব থাকে। সকালে উঠতে কষ্ট হয়, মাথা ধরে, এমনকি যৌন অক্ষমতা ও বন্ধ্যত্বও দেখা দিতে পারে। নাক ডাকার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। আনন্দবাজার পত্রিকা।