মহিলাদের রোগ : লিউকোরিয়া

woman-smilebলিউকোরিয়া বা সাদাস্রাব স্ত্রী জননতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের উপসর্গ হিসাবে প্রকাশ পেতে পারে। সাদা কিংবা ক্রিম অথবা হলদে বা সবুজ জাতীয় রস যোনীপথ দিয়ে বাইরে নির্গত হলে সেটাকে লিউকোরিয়া বলে। সাদাস্রাবের সাথে পুঁজ বা মিউকাস অথবা উভয়ই একসাথে নির্গত হতে পারে। যোনীপথ,সারভিক্স এবং জরায়ুঝিল্লীতে দীর্ঘদিন প্রদাহ থাকলে স্রাব নির্গত হয়। সংক্রমিত যোনীস্রাবের ক্ষেত্রে একটি সমস্যা হলো এ যে, গণোরিয়া লকুনো থাকতে পারে, যার সনাক্তকরণ না হলে ভবিষ্যতে নানা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।স্বাভাবিক কারণে সাদাস্রাব নিঃসরণ১. নবজাতক মেয়ে বাচ্চার প্রথম ১-১০ দিন স্বাভাবিকভাবে মিউকাস জাতীয় পদার্থ যোনিপথে রস পেরিয়ে আসতে পারে।২. মাসিক স্রাব শুরু হওয়ার আগে ও পরে এটা হতে পারে।৩. ডিম্বাশয় হতে পরিপক্ক ডিম্বাণু ডিম্বনালিতে আসার সময় স্বাভাবিকভাবেই সাদাস্রাব।রোগজনিত কারণে সাদাস্রাব নিঃসরণ১. ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজিনালিস এবং ক্যানডিডা অ্যালবিক্যান্স নামক এক প্রকার ছত্রাকের সংক্রমণের ফলে মেয়েদের সাদাস্রাব হয়। উক্ত ছত্রাকের সংক্রমণের ফলে বহিঃ যোনীতে চুলকানীসহ ঘন দই এর মত সাদাস্রাব নির্গত হতে থাকে। গর্ভনিরোধক বড়ি খেলে ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত মহিলাদের মধ্যে এবং ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে ক্যানডিডা সংক্রমণ বাড়ে।২. ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজিনালিস দ্বারা যৌনাঙ্গে প্রদাহ হলে ঘন পুঁজের মত অনেকটা হলদে বর্ণের দুর্গন্ধযুক্ত যৌনীস্রাব নির্গত হয় এবং চুলকানি, জ্বালাপোড়াও দেখা দিতে পারে। ট্রাইকোমোনাস জীবাণু পুরুষের যৌনাঙ্গে থাকে। তবে বেশি সময় পুরুষের মধ্যে থাকলেও কোন উপসর্গ থাকেনা। সে পুরুষের সাথে স্বামী-স্ত্রীর মিলনের ফলে এর দ্বারা মহিলারা সংক্রমিত হতে পারে।এছাড়াও গণোরিয়া, ভগ্ন স্বাস্থ্য, দুঃশ্চিন্তা, বহুমূত্র রোগ, জরায়ুর মুখে ক্ষত বা প্রদাহ, ভ্যাজিনাল এডিমনাটোসিস, গর্ভনিরোধক বড়ি, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন জীবন যাপন, কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কাজ করলে, সিনথেটিক পেন্টি ব্যবহার করলে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে মহিলাদের সাদাস্রাব নিঃসরণ হতে পারে।রোগের লক্ষণঅতিরিক্ত সাদা বা হলুদ স্রাবকাপড়ে বাদামী হলুদ রঙের দাগ পড়া।যৌনাঙ্গের বাইরে ব্যথানুভ, জ্বালাপোড়া ভাব থাকা।তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্থি অনুভব এবং পিছনে ব্যথা।স্পর্শে রক্তপাত (জরায়ুর মুখে ঘা বা প্রদাহ থাকলে)যৌনাঙ্গ ফুলে গেলে।দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব হওয়া।পরামর্শরোগীকে আশ্বস্ত করতে হবে।মানসিক অবসাদ বা দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য তাকে বুঝাতে হবে।পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে উপদেশ দিতে হবে।অপুষ্টি জন্য পুষ্টিকর খাবার, ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট দিতে হবে।নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ থাকতে পারেন।প্রচুর পানি ও শাক সবজি খেতে হবে এবং হজমে গোলযোগ হলে তার চিকিত্সা করাতে হবে।ঘুম যাতে সঠিক পরিমাণ হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।স্রাবের সাথে চুলকানি বা অন্য উপসর্গ থাকলে রোগ নির্ণয় করে তার চিকিত্সা দিতে হবে।স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। টক এবং মশলাযুক্ত খাবার যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। (সূত্র:হামদর্দ)