প্রচ্ছদ বিনোদন

নৈতিক কারণেই আসিফের সঙ্গে থাকা হলো না : রোকেয়া প্রাচী

:: পাভেল রহমান, বিভাগীয় সম্পাদক, বিনোদন ::

রোকেয়া প্রাচীর বিচরন অভিনয়ের সব শাখায়। মঞ্চ, টিভি নাটক আর জীবনধর্মী চলচ্চিত্র সর্বত্রই ছড়িয়েছেন প্রতিভার আলো। অসাধারণ অভিনয় নৈপুণ্যে তিনি জয় করেছেন হাজারো মানুষের হৃদয়। মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত এ অভিনেত্রীকে ইদানিং রাজনীতির মঞ্চে বেশ সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে। তেল-গ্যাস-বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে যেমন রাজপথে সক্রিয় তিনি। আবার নিরাপদ সড়কের দাবীতে কিংবা বিদেশী অপসংস্কৃতির আগ্রাসনের প্রতিবাদে স্লোগানমুখর। একদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এর দাবী নিয়ে আন্দোলন কার্যক্রম অন্যদিকে প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁর। সম্প্রতি কলামিস্ট আসিফ নজরুলের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। বিবাহ বিচ্ছেদের পর রোকেয়া প্রাচী মেয়েদেরকে নিয়ে ইস্কাটনে আলাদা ফ্ল্যাটে থাকছেন। অভিনয় আর বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ব্যস্ত আছেন সময়ের এই গুণী শিল্পী। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে রয়েছে নিজের গড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুল। সামনের দিনগুলোতে তাঁকে নির্মাতা হিসেবেও আরো সক্রিয়ভাবে দেখতে পাবেন ভক্তরা। ব্যাক্তি জীবন, আন্দোলন আর মিডিয়ার ব্যস্ততা নিয়ে রোকেয়া প্রাচী কথা বলেছেন প্রতিমুহূর্ত.কম এর সঙ্গে।  

 

প্রতিমুহূর্ত.কম : এখন কী নিয়ে ব্যাস্ত আছেন?
রোকেয়া প্রাচী : এখন ব্যাস্ত সময় কাটছে সামাজিক আন্দোলন নিয়ে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে এ দেশের তরুণ প্রজন্মের যে ঐতিহাসিক জাগরণ ঘটেছে আমি নৈতিক কারনেই শুরু থেকে এর সঙ্গে আছি। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, সেই সঙ্গে এদেশ থেকে কট্টর সাম্প্রদায়িক ও ধর্মভিত্তিক মৌলবাদী রাজনীতির বিলুপ্তি দেখতে চাই। যারা ধর্মকে মানুষের হৃদয়ের বোধ থেকে রাজপথে নিয়ে এসে দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেয় তাদের বিরোদ্ধেই আমাদের আন্দোলন।

প্রতিমুহূর্ত.কম : মিডিয়ার ব্যাস্ততা কেমন চলছে?
রোকেয়া প্রাচী : মিডিয়ার ব্যাস্ততা তো আছেই। একুশে টিভিতে ‘তবুও বাঁধন’ নামের একটি লাইভ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছি। চ্যানেল ২৪ এ “আরএফএল হোম মেকার অব দ্যা ইয়ার” নামের আরএফএল এর একটি ইভেন্ট চলছে, এর বিচারকের দায়িত্ব পালন করছি।

প্রতিমুহূর্ত.কম : আপনাকে তো নির্মাতা হিসেবেও কাজ করতে দেখা গেছে, এ বিষয়ে জানতে চাই?
রোকেয়া প্রাচী : হ্যাঁ, আমার পরিচালনায় বেশ কয়েকটি একক নাটক প্রচার হয়েছ্ েতবে নিজের করা উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ‘বায়ান্নোর মিছিল’ নামের একটি প্রামাণ্য চিত্রের কথা আমি আলাদাভাবে উল্লেখ করতে চাই। ভাাষা শহীদ আবুল বরকতের জীবন ও কর্ম নিয়ে আমি এই প্রামাণ্য চিত্রটি নির্মাণ করেছি। ভবিষ্যতে এ ধরণের আরো কিছু কাজ করতে চাই। তাছাড়া এখন কিছু নাটক বানানোর চেষ্ঠা করছি। সামনের দিনগুলোতে চলচ্চিত্র বানানোর ইচ্ছে আছে।


প্রতিমুহূর্ত.কম : অভিনয়ের খবর জানতে চাই?
রোকেয়া প্রাচী : গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের জন্য গত তিন মাস তেমন কোন কাজ করা হয় নি। আর আমি এমনিতেই একটু কম কাজ করি। প্রতি মাসে ৫-৬দিন মিডিয়াতে অভিনয়ের কাজটা করি। আন্দোলনে সময় দিতে গিয়ে গত তিন মাস টিভি নাটকে তেমন কাজ করা হয় নি, তবে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। এর মধ্যে রয়েছে আশরাফ শিশিরের পচিালনায় ‘গাড়িওয়ালা’ সরোয়ার সামি’র পরিচালনায় ‘তমিজের চিঠি আসে’ মির্জা সাখাওয়াতের পরিচালনায় ‘হরিজন’।  

প্রতিমুহূর্ত.কম : কেমন আছেন ব্যাক্তি জীবনে?
রোকেয়া প্রাচী : আমার মেয়েদেরকে নিয়ে আমি ভালো আছি। আমার বড় মেয়ে রিমঝিম কলেজে পড়ছে, ছোট মেয়ে আস্থা স্কুলে পড়ছে। আমি একজন আশাবাদী মানুষ, সব সময় স্বপ্ন সাজাই। নিজেকে ভালোবাসতে পারি, স্বপ্ন দেখতে পারি। রাত হলে শান্তিতে ঘুমুচ্ছি, সকাল বেলা ঘুম ভাঙছে। জীবন আমার সঠিক পথেই চালিত হচ্ছে। ব্যাক্তি জীবনে আমি খুবই ডিসিপ্লিন একজন মানুষ। সব কিছুই আমি নিয়ম মেনে করি। কাজের মধ্যে আছি,

প্রতিমুহূর্ত.কম : সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে আপনার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাই?
রোকেয়া প্রাচী : আমি এখন ইস্কাটনে আলাদা ফ্ল্যাটে থাকছি। আমার মেয়েরা আমার সঙ্গেই থাকছে। । তবে মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে এখনো আসিফের (আসিফ নজরুল) সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয়। কারন মেয়ে তো আমার একার নয়, আমাদের দুজনের। তাই মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে আমাদের দুজনকেই ভাবতে হবে। মেয়েরা যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হবে তখন তারা ঠিক করে নেবে তারা কোথায় থাকবে।

প্রতিমুহূর্ত.কম : ঠিক কী কারনে আপনারা আলাদা হয়ে গেলেন?
রোকেয়া প্রাচী : এ বিষয়টি নিয়ে আমি কোন কথা বলতে চাই না। যেহেতু বিবাহ বিচ্ছেদের পর আসিফের সঙ্গে আমার আর কোন সম্পর্ক নাই তাই এ বিষয়ে আর কথা না বলাই ভালো। শুধু এটুকু বলবো আদর্শিক ও নৈতিক দিক বিবেচনা করে আসিফের সঙ্গে থাকা হলো না। আমরা দুজনে কথা বলে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।

প্রতিমুহূর্ত.কম : সন্তানেরা কী এ বিচ্ছেদ মেনে নিয়েছে?
রোকেয়া প্রাচী : সন্তানদের সঙ্গে তো আমাদের বিচ্ছেদ হয় নি, সন্তান আমাদের দুজনের। সন্তানেরা এখন আমার কাছে থাকে। কিন্তু যখন খুশি তারা বাবার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে যতোদিন ইচ্ছা হয় থাকে। মেয়েরা প্রাপ্ত বয়স্ক হলে তারাই ঠিক করবে কোথায় থাকবে? তবে তারা এখন জানে যে বাবা মা আলাদা হয়ে বসবাস করছে এবং এ বিষয়টি তারা মেনে নিয়েছে।

প্রতিমুহূর্ত.কম : আপনাকে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে? এ বিষয়ে জানতে চাই?
রোকেয়া প্রাচী : কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে আমাদের তরুণরা যে জাগরণ ঘটিয়েছে সেটি এখনো থামে নি। আমরা সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসীর রায় দেখতে চাই। কোন রাজাকারকে আর আমাদের দেশের পার্লামেন্টে দেখতে চাই না। যতোদিন পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন না হবে ততোদিন আন্দোলন চলবে। আর এই আন্দোলন যে শুধুমাত্র গণজাগরণ মঞ্চ থেকে করতে হবে তা কিন্তু নয়। এটা আমাদের চেতনার আন্দোলন, যার যার জায়গা থেকে সবাই এ আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাবো।

প্রতিমুহূর্ত.কম : এখন তো গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে মত পার্থক্য তৈরি হয়েছে- এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
রোকেয়া প্রাচী : গনজাগরণ মঞ্চ নিয়ে আন্দোলনের শুরু থেকে জামায়াত শিবির নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে, এখনো করছে। কিন্তু এদেশের তরুন সমাজ জামায়াত শিবিরের মুখোশ চিনে ফেলেছে। যখনই আমরা জামায়াতের বিষ দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছি তখনই হেফাজতে ইসলাম নামে জামায়াতের একটি নতুন প্রেতাত্মার জন্ম হয়েছে। তবে আমাদের তরুণরা হেফাজতে ইসলামের উদ্দেশ্যও পরিষ্কারভাবে বুঝে গিয়েছে। হেফাজত যে ইসলামের হেফাজত না, রাজাকারদের হেফাজত করার জন্য জন্ম নিয়েছে এটি এখন পরিষ্কার।

প্রতিমুহূর্ত.কম : হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবী নিয়ে আপনার বক্তব্য?
রোকেয়া প্রাচী : হেফাজতে ইসলাম তো জামায়াত ইসলামেরই অংশ। শাপলা চত্বরের সমাবেশ থেকে হেফাজত যে ১৩ দফা দাবী দিয়েছে তার সবগুলোই মধ্যযুগীয়। আজকের আধুনিক সময়ে এসে এই দাবীগুলোর কোন যৌক্তিকতা নেই। হেফাজতে ইসলাম এদেশের লাখ লাখ মা বোনদের অসম্মান করেছ্।ে তাই আমাদের মা বোনেরা হেফাজতের বিরোদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং হেফাজতের মধ্যযুগীয় আন্দোলনকে প্রতিহত করেছে। এ মুহূর্তে হেফাজত একটি ডেড ইস্যু।

প্রতিমুহূর্ত.কম : হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে আপনার বক্তব্য?
রোকেয়া প্রাচী : আমাদের দাদা-নানারা যখন ধর্মের চর্চা করতো তখন তো ইসলাম রক্ষা করার জন্য কোন হেফাজতে ইসলামের মতো রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন হয় নি। আমাদের পূর্বপুরুষরা হৃদয় দিয়ে ইসলামকে বহন করেছে, হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়েই আজকের প্রজন্ম ইসলামকে রক্ষা করবে। ধর্ম চর্চা থাকবে মানুষের অন্তরে, ধর্মকে রাজপথে এনে যারা পবিত্র কোরান শরীফ পুড়িয়েছে এর বিচার এদেশের তরুণ প্রজন্মই করবে। তাই আমি বলবো হেফাজতে ইসলামের ভন্ডামী দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। দেশটা আমাদের সকলের, ধর্ম যার যার। তাই ধর্মকে নিয়ে যারা ব্যবসা করেন, রাজনীতি করেন তাদেরকে প্রতিহত করবে আমাদের তরুনেরা।



প্রতিমুহূর্ত.কম : রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন, ভবিষ্যতে কী সাংসদ হিসেবে দেখতে পাবো?
রোকেয়া প্রাচী : আমি  এসেছি মানুষের জন্য কাজ করার উদ্দেশ্য নিয়ে। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে, নিজে ক্ষমতাবান হতে নই। আজকে আমাদের স্বার্বভৌমত্বের উপর আঘাত এসেছে, আমাদের জাতীয় পতাকার উপর আঘাত এসেছে, আমাদের সাধারণ মানুষের ধর্ম বিশ্বাসের উপর আঘাত এসেছে। একজন রাজনীতি সচেতন মানুষ হিসেবে কেউ এমন দুঃসময়ে চুপ করে থাকতে পারে না। মানবতার এমন বিপন্ন সময়ে আমি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছি, মানুষের পাশে থাকার জন্য। এর আগেও বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে মানুষের পাশে ছিলাম। সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধে আন্দোলন করেছি, ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানীর বিরোদ্ধে আন্দোলন করেছি। এর কোনটিই আমি সাংসদ হবার লোভ নিয়ে করে নি। রাজনীতিতে যখন সক্রিয় হয়ে কাজ করছি, আমার একটাই উদ্দেশ্য জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। জনগণের কথা বলার জন্য যদি জনগণ আমাকে পার্লামেন্ট যাওয়ার কথা বলে তবে আমার কোন আপত্তি নেই। আমার কাছে জনগণই চূড়ান্ত কথা। সাংসদ হবো কিনা সেটা সময়ই নির্ধারন করবে।

প্রতিমুহূর্ত.কম : সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে আপনার একটি স্কুল আছে, সেটার খবর কী?
রোকেয়া প্রাচী : মোহাম্মদপুর বেড়ীবাঁধে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে আমি একটি স্কুল গড়েছি। সেখানে ছেলে মেয়েরা পড়াশুনার পাশাপাশি থিয়েটার, আবৃত্তি, গান, নাচ এর চর্চা করে। আমার এ স্কুলটিতে এখন প্রায় ১০০জন শিক্ষার্থি আছে। এদেরকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। এদেরকে আমাদের সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে গড়ে তুলতে চাই।

প্রতিমুহূর্ত.কম : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
রোকেয়া প্রাচী : তোমাকেও ধন্যবাদ, শুভ কামনা প্রতিমুহূর্ত.কম এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য।

 

ছবি : নিপুন কাওসার, স্টাফ ফটোগ্রাফার

বিএইচ/জেএ

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

বিনোদন : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...