প্রচ্ছদ  >>   ফেসবুকের  নির্বাচিত স্ট্যাটাস

মুক্তিযোদ্ধারা কার ?দেশের না দলের ?

মাসুম মোহাম্মদ মহসিন: আজ মনে হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা অস্ত্রহাতে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অন্ন-আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করেছিলেন, তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট images6V80BLYGকিছু প্রশ্ন করতে চাই।  স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তৎকালীন আওয়ামী সমর্থক ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) নামক পৃথক রাজননৈতিক দল গঠন করে । তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাসদপন্থী  মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছিলেন। এমনকি বহু মুক্তিযোদ্ধাকে জীবন দিতে হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিহত হবার পর মোশতাক সরকার যে কয়দিন ক্ষমতায় ছিল, তখনও এই পক্ষপাতিত্বের রকমফের হয় নি। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করার পর নিজের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য মুসলিম লীগের এবং জামাতপন্থী লোকদেরকে রাজনীতির করার অধিকার দিয়ে শাহ আজিজের মত লোকদের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়ে প্রথম মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। সেইখানে শুধু জিয়ার প্রশাসন একা দায়ী নয়, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ নিজেদের অতীতকে ভুলে প্রতিপত্তির লোভে তার সাথে হাত মিলিয়ে ছিলেন। তারা ভুলে গিয়েছিলেন তারা কোন ব্যক্তি বা দলের নয়, তারা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সব মানুষের। সেই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের যে তালিকা করা হয়েছিল সেইখানে অনেক দালাল অনেক রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা হয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা রেখেই এরশাদ সরকারের আমলে পুনরায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করা হলো। সেখানেও দলীয় বিবেচনায় অনেক মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় নি, এমন অনেক ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা নিয়েছিল। ১৯৯১ সনে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর অনেক খাঁটি মুক্তিযোদ্ধার পরিবর্তে নতুন মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে নতুন তালিকা তৈরি করা হলো। যেই দলটির নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, ১৯৯৬ তারা ক্ষমতায় এসে পুনরায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করেন। সেখানেও দলীয় বিবেচেনায় অনেক অমুক্তিযোদ্ধা তালিকার অন্তর্ভূক্ত হয়। ২০০১ সনে খালেদা জিয়া পুনরায় ক্ষমতায় এসে আবার নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রণয়ন করে আবার অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা বানালেন। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা সংশোধনের নামে কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নতুন কিছু আওয়ামীপন্থী লোককে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করলেন। শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যেসব প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন, নব্য অমুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধাগুলো লাভের সুযোগ নিলেন । ২০১৪ সালে ঐ নেত্রী আবার ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন সংজ্ঞা আবিষ্কার করলেন। এই সংজ্ঞার ফলে ১৩ বছর বয়সে যারা মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছিলেন এবার তারা মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়বেন । ৪৩ বছর পর আবার মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কেন এমন টানাহেঁছড়া অপমান করা হচ্ছে? এমন বহু  মুক্তিযোদ্ধা কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান রয়েছেন, যারা দলীয় রাজনীতির খ্যাড়াকলে পড়ে কোন সুযোগ-সুবিধা তো দূরের কথা, সামান্য স্বীকৃতিও পান নি। সংবাদপত্রে প্রায় দেখা যায়: বহু মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করছেন। রাষ্ট্র তাদের জন্য কিছু করেছে কী? তাদের জন্য সম্মানজনক কোন ব্যবস্থা করার মতো তহবিলের কি এতোই অভাব পড়েছে? ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দাপটে খাঁটি মুক্তিযোদ্ধারা কোণঠাসা হয়ে হারিয়ে যাচ্ছেন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ৪৩ বছর পর মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন সংজ্ঞা প্রদান করে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে কি অপমান করা হচ্ছে না?  এদেরকে আর কতো অপমান করবেন? নিন্দুকদের মতে, নতুন কিছু দলীয় ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর দুরভিসন্ধি থেকেই মুক্তিযোদ্ধার নতুন তালিকা প্রণনয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর এর শিকার হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ আর আসল মুক্তযোদ্ধারা। দল করলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়। আর দলীয় লোক না হলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া যায় না, কিংব সেই স্বীকৃতি হারাতে হয়? তাই প্রশ্ন জাগে মুক্তিযোদ্ধারা কার? দলের না দেশের?
নতুন সংজ্ঞার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে  নতুন প্রজন্মের সামনে হেয় করা হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের তুলে না ধরে তাদেরকে অপমান করার পথ বেছে নিয়েছে সরকার। উচিত ছিল মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা, যাতে তারা অনুভব করতে পারে যে তাদের বাপ-দাদারা কেন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন যার ফলশ্র“তিতে তারা স্বাধীন স্বদেশ পেয়েছে।

লেখক: বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

নির্বাচিত স্ট্যাটাস [Facebook all day]

আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...