প্রচ্ছদ  >>   ফেসবুকের  নির্বাচিত স্ট্যাটাস

স্বদেশে-প্রবাসে প্রশ্ন:বাংলাদেশকে কি হারিয়ে দেয়া হচ্ছে

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন( নিউইয়র্ক  থেকে): স্বদেশে-বিদেশে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীদের তীব্র মনোবেদনা ও ক্ষোভজাত প্রশ্ন: বাংলাদেশকে কি বাস্তব অর্থে হারিয়ে দেয়া হচ্ছে? এর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কি প্রতীকী সরকার আর পতাকার মধ্যে সীমিত হয়ে যাচ্ছে? দেশে ফোন করলে এ ধরনের কষ্ট-কঠিন প্রশ্ন বেশি অনুররণিত হয়। যেসব আলামতের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার প্রতিবাদ নেই কেন, এমন প্রশ্নের প্রায়ই অভিন্ন India-Bangladesh-borderউত্তর: প্রতিবাদ করার পরিবেশ নেই। প্রতিবাদকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, জঙ্গীপনা, স্বাধীনতাবিরোধীদের তৎপরতা হিসেবে আখ্যায়িত করে ডজন ডজন মিথ্যে মামলা দায়ের করার পর বিজ্ঞ আদালত  রিমাণ্ড নামক দোযখে (?) প্রেরণ করে। এমন ডিজিটালী কৌশল নেয়া হয়েছে যার সরল সোজা বার্তা হচ্ছে: কোন প্রতিবাদ নয়, সবকিছু মেনে নিতে হবে, সয়ে যেতে হবে। এর বাইরে হলে অভাবিত-অচিন্তনীয় পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। তাই দেশের স্বার্থ, এমনকি স্বাধীনতাবিরোধী তৎপরতার বিরোধিতা করাও যেন অপরাধ, রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এ কারণেই বন্ধুত্বের রশিতে দেশকে সাত পাকে বেঁধে সঁপে হলেও অবিরাম দলন দর্শনে জর্জরিত ও ভয়-কাতুরে মানুষ প্রতিবাদ করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। আমাদের সর্বক্ষেত্রে দুষমণের চর ঢুকেছে। আমাদেরকে মনস্তাত্তিকভাবে বলতে গেলে হারিয়ে দেয়া হচ্ছে । আমাদের স্বাধীনচেতা আবেগ ও মনস্তত্তকে ভোঁতা করে দেয়া হচ্ছে। একশ্রেণীর স্বার্থশিকারী রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী এবং মিডিয়ার স্বার্থান্বেষী ভূমিকা ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার কারণে  দেশের প্রকৃত সমস্যা-সংকটকে আড়াল করে জনগণের সামনে ভিন্ন বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। হাজারো সংকট-সমস্যা আর মানুষের মনোবেদনাকে অস্বীকার করে সবকিছুকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ভবিষ্যু সমৃদ্ধির অলীক অবাস্তব কল্প-কাহিনী শুনিয়ে দেশের মূল সমস্যা হতে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে । আর আইনের অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহারের মাধ্যমে কবরের শান্তি প্রতিষ্ঠার অঘোষিত প্রতিজ্ঞা দেশবাসীকে বাকপ্রতিবন্দীতে  পরিণত করেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মানুষের সহজাত মানবিক চেতনাবোধ উবে গেছে।
অথচ নাগরিকের এসব চেতনা একটি জাতির অহঙ্কার ও শক্তির বহন করে। এই অহঙ্কার ও  শক্তি থেকেই যুগ যুগ ধরে নিষ্পেষিত মুসলমানরা একটি পৃথক আবাসভূমির দাবি তুলেছিল, ১৯৪৭ সনে পৃথক আবাসভূমির মালিক হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সনে স্বাধীন দেশের অভ্যুদয় ঘটিয়েছিল। এই দেশের জননিরাপত্তা, দেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা-সাবভৌমত্ব সুদৃঢ় ও রক্ষার করার জামিনদার হলো সরকার। এ ধরনের ওয়াদা করেই যেকোন সরকার ক্ষমতায় আসে। আর সরকারের পেছনের শক্তি হলো জনগণ, বিদেশী কোন প্রভু নয়। বিদেশী প্রভুর গোলামী করতে গেলে দেশ ও জনগণ কিভাবে পরাধীন হয়ে যায় তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ মীরজাফর, জগৎশেট, উঁমিচাঁদ, ঘষেটি বেগমরা রেখে গেছে। জনগণ স্বাধীন ও শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ থাকলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় ও বিপদমুক্ত থাকে। এ চেতনাগুলোকে শানিত রাখার দায়িত্ব সরকারের।
কোন মানুষই নিজদেশের পতন চায় না, হয়তো সরকারের পরিবর্তন চায়। সরকারের পরিবর্তন চাওয়ার মানে দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নয়। কোন সরকারের কোন কাজের বিরোধিতা কিংবা সমালোচনা কোন পর্যায়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতা কিংবা অন্যকোন অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত নয়। এটা তাদের অধিকার। জনগণের সঙ্গত প্রতিবাদী মানসিকতাকে জোর করে দাবিয়ে রাখলে দেশের দুর্দিনে তাদেরকে আর পাওয়া যায় না। সরকারেরই দায়িত্ব দেশকে সর্বক্ষেত্রে বিপদমুক্ত রাখা, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা।
সরকারই যদি বন্ধুত্ব ও চুক্তির আড়ালে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয় Ñ যেগুলোর সাথে দেশের কার্যকর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব তথা অস্তিত্ব সরাসরি জড়িত Ñ তাহলে তো দেশের অস্তিত্ব এক সময় পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তাই সরকারকে সাবধান করে দেয়া দেশের সচেতন জনগণের পবিত্র দায়িত্ব। সে দায়িত্ব  পালন তথা দেশের স্বার্থ ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা কোনভাবেই আইনসঙ্গত নয়।
সরকারের বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী তো প্রকাশ্যেই বলে ফেলেছেন: আমরা (বাংলাদেশ-ভারত) একদেশ। এমন কথা বলার পর কোন দেশপ্রেমিক কি নীরব থাকতে পারে? শেখ হাসিনারা দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন তা অনুধাবন করতে আরো কিছু বলার প্রয়োজন আছে কি? শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সরকারের কেউ-ই, এমনকি সেনাবাহিনী থেকে এমন জঘন্য মন্তব্যের কোন প্রতিবাদ আসে নি। সেই মন্ত্রী এখনো স্বপদে রয়েছেন। একজন মন্ত্রী এমন দেশবিরোধী কথা বলতে পারেন কিনা তেমন প্রশ্নও কেউ তোলেন নি। তিনি আজ পর্যন্ত কিভাবে মন্ত্রীপদে বহাল আছেন সেকথা চিন্তা করতেও মন কেঁপে উঠে। আমরা কোন দিকে যাচ্ছি? এই মন্ত্রী কার খেয়ে কার গান গেয়েছেন? কোন সাহসে কার সাহসে তিনি এমন মন্তব্য করলেন? স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির মন্ত্রী এমন মন্তব্য করলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোথায় পালিয়েছে তা খোঁজ করার কেউ আছেন বলে মনে হয় না।
বাংলাদেশের অতি সাধারণ মানুষও মনে করেন সরকার ভারতকে যতোই বন্ধুরাষ্ট্র বলে মনে করুক, বাস্তবে তা মোটেই সত্যি নয়। গত ৪৫ বছরে ভারত একবারও প্রমাণ করতে পারে নি, সে আমাদের নিরাপদ বন্ধু। বিশ্বে বহুদেশের সাথে প্রতিবেশী দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। নানা ধরনের দ্বিপাাক্ষিক চুক্তি হয়েছে। বিনা ভিসায় যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। অভিন্ন মুদ্রাও চালু আছে।  কিন্তু কোন দেশের কোন মন্ত্রীর মুখে কখনোই শোন যায় নি: আমরা এক দেশ। কোন দল ক্ষমতায় ফিরে আসলে কোন প্রতিবেশী দেশের সেনাবাহিনী প্রধান কখনোই মন্তব্য করেন নি, অমুক দেশকে আর কখনোই আমাদের ‘রাডারের বাইরে যেতে দেয়া হবে না’, যেমনটি বলেছিলেন ভারতের সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান শঙ্কর রায় চৌধুরী। আমেরিকা-ভিয়েতনামসহ  বিশ্বের বহুদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ অন্যদেশের সহযোগিতায় বিজয়ী হয়েছে। কিন্তু কোন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সাহায্যকারী দেশ ঐ দেশের বিজয়কে নিজের বিজয় হিসেবে দাবি করে নি। কিংবা প্রতিবছর বিজয় দিবস উদ্যাপনও করে নি। কোন সহায়তাকারী দেশ স্বাধীন-হওয়া দেশে অবাধ লুটপাট করে নি। তথাকথিত বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির নামে অসম তথা অধীনতামূলক চুক্তি করতে স্বাধীন-হওয়া দেশকে বাধ্য করে নি। আর স্বাধীন হওয়া দেশের সরকার কিংবা কোন দল সাহায্যকারী দেশের কথিত প্রশংসায় অরোরাত্রি এমন ভূয়া প্রশস্তি গায় নি। তাদেরকে ডেকে ডেকে এনে খেতাব/স্বীকৃতিপত্র প্রদান করে নি।
স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির এ ধরনের বন্ধুত্বের নামে কিংবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আড়ালে প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম তথা আনুগত্যতা জনগণকে আতঙ্কিত করছে। আতঙ্কিত জনগণের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসঞ্জাত অনুভূতি: বাংলাদেশ সরকার কিংবা জনগণ সরল বিশ্বাসে ভারতকে বন্ধু ভেবেছিল, ভারত সে বিশ্বাসের মর্যাদা রাখে নি। ভারত আমাদের প্রভু হতে চায়। ভারত বাংলাদেশের সাথে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করবে, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে প্রতারণামূলক বন্ধুত্বের আবরণে সীমিত এবং খর্ব করবে, বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১ সনে তা ক্ষুণাক্ষরেও কল্পনায় আনতে পারেন নি । ভারত আমাদের সাথে নির্মম প্রতারণা করেছে। কারণ ভারত যা করছে তা কোনভাবেই বন্ধুত্বের সংজ্ঞায় কিংবা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে না। অবাধ লুণ্ঠন, আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদ-নদীর পানি অবরোধ, জাল কাগুঁজে টাকা এবং চোরাচালানীর মাধ্যমে বাংলাদেশকে তলাহীন ঝুড়ি বানানো, সীমান্তে নিরাপরাধ বাংলাদেশীদের হত্যা, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, সরকারের ভিতরে-বাইরে দেশগ্রাসী চর সৃষ্টি, দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়কদের হত্যা, একচেটিয়া বাণিজ্যের নামে অবাধ শোষণ, বাংলাদেশের শিল্প-অবকাঠামো ভেঙ্গে দেয়া, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে চর-সন্ত্রাসী ঢুকিয়ে নাশকতা চালিয়ে শিল্প-কারখানা এবং জাতীয় সম্পদ ধবংস করে দেশকে সর্বক্ষেত্রে পঙ্গু ও  অকেজো করা, সর্বোপরি অসম চুক্তির অধীনে একচেটিয়া সুবিধা বাগিয়ে নেয়া কি কোন বন্ধুত্বের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে?
তথ্যাভিজ্ঞমহলের মতে, ভারতের এ ধরনের স্বার্থসিদ্ধিমূলক আচরণ তথা দুরভিসন্ধি কি কোন বন্ধুর কাজ না দুষমণের চক্রান্ত তথা আমাদের অস্তিত্ববিনাশী অঘোষিত যুদ্ধের অংশবিশেষ তা স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি অনুধাবন করলেও নিজেদের ক্ষমতা এবং স্বার্থগত কারণে ‘চাহিদামাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে’ এমন নীতি অনুসরণ করছে।
২০০৯ সন থেকে সরকারের ভূমিকা প্রমাণ করে সরকার ভারতের কাছ থেকে কিছু না পেয়েই ভারতের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নানাবিধ অসম ও অসঙ্গত সুবিধা প্রদান করেছে, যেগুলো কোনভাবেই মেনে নেয়া উচিত হয়নি। একটি উদারণই যথেষ্ট হওয়া উচিত। তীব্র জ্বালানী সংকটে জর্জরিত ভারত থেকে বিদ্যুত আমদানীর নামে একদিকে যেমন বাংলাদেশের  জ্বালানী ব্যবস্থাপনাকে ভারতের হাতে জিম্মি করার সড়ক তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের পূর্বাংশ থেকে পশ্চিমাংশে বিনা পয়সায় বিদ্যুত সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ যেন ভারতেরই ভূখণ্ড। তাই বাংলাদেশ ভূখণ্ডকে ভারত যেমন ইচ্ছে তেমন করে ব্যবহার করবে। এই সুযোগের বিনিময়ে বাংলাদেশ কি পাবে তার কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষণা কোন পক্ষ থেকেই আসেনি । সবকিছুতেই যেন রাখঢাক, কিছু লুকিয়ে যাবার প্রচেষ্টা। একটি স্বাধীন জাতির জন্য এটা কোনভাবে অভিপ্রেত ও সুখকর নয়। স্পর্শকাতর চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সেগুলো প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে আলোচনা, বিচার-বিশ্লেষণ, তথা গণ-বিতর্ক জরুরী হওয়া সত্বে সরকার যেন কোনকিছু লুকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে জনসাধারণ্যে তো দূরের কথা, খোদ জাতীয় সংসদ কিংবা অধিকাংশক্ষেত্রে মন্ত্রী পরিষদেও উত্থাপন করা থেকে বিরত থাকে।
অন্যদিকে চুক্তি হবে সম-সুযোগ সম্পন্ন। চুক্তিতে বর্ণিত সুবিধাসমূহ উভয়দেশে একই সময়ে কার্যকর হবে, এটাই প্রত্যাশিত এবং বাস্তবসম্মত। কিন্তু বাংলাদেশ-ভারত চুক্তির ক্ষেত্রে এসব নীতি অনুসৃত না হওয়ায় জনমনেত নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে। কোন চুক্তি না করেই তথাকথিত মানবিক কারণে ভারতীয় যানবাহন চলাচলের নমুনা দেথে সাধারণ মানুষ মনে করেন, সরকার ভারতে খুশি করতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে । যেমনটি করলে ভারত খুশি হবে, সরকার তা-ই করছে। ভারতের সাথে মুখোমুখি কিংবা সম-মর্যাদা নিয়ে কথা বলতে মনে হয় সরকার ভয় করছে। কিংবা সরকারের এমন কোন দুর্বলতা রয়েছে, যে কারণে ভারতের সাথে কোন বিষয়ে দরকষাকষি করার মনস্তাত্তিক শক্তি সংশ্লিষ্টদের নেই। সরকারের ভূমিকা ও কার্যক্রম প্রমাণ করে এক ধরনের ভীতি কিংবা আনুগত্যতার পাশে সরকার আবদ্ধ, যেখান থেকে সে বের হতে পারছে না।
চুক্তির নামে ভারতকে যেসব সুবিধা দেয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ভারত থেকে কি কি সুবিধা পেয়েছে, সেগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করা জরুরী । ভারত থেকে বাংলাদেশ কি পেল তাও জনগণকে জানানো উচিত। এগুলো জানার অধিকার তাদের রয়েছে। এগুলোর উপর গণ-শুনানাী, উন্মুক্ত বিতর্ক হোক। ভারত কিংবা বাংলাদেশে ভারতপ্রেমিকদের বুঝতে হবে, কোন চুক্তির ছূতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ভারত তার নিজস্ব ভূখণ্ডের মতো ব্যবহার সুযোগ পেতে পারে না, অথচ ভারত  তেমনটি চেয়ে আসছে, যা বিশ্বের কোন স্বাধীন দেশের কাছে কোন প্রতিবেশী দেশ পায় নি। একটি উদাহরণই যথেষ্ট। ভারত বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কমপক্ষে ১৫টি ফোঁড় দিতে চায়, অর্থাৎ বাংলাদেশের ১৫টি জায়গা দিয়ে ভারতীয় যানবাহন বাংলাদেশে ঢুকে আবার ভারতে প্রবেশ করার সুযোগ চায়, যার চুক্তি হয়ে গেছে । এগুলো হলো: তামাবিল-ডাউকি, হালুয়াঘাট-ঘাসুয়াপাড়া, সুনামগঞ্জ-সেলবাজার, দর্শনা-গেদে, রোহনপুর-সিঙ্গাবাদ, বিরল-রাধিকাপুর, আখাউড়া-আগরতলা, বরসরা (বৃহত্তর সিলেট)-বরসরা (করিমগঞ্জ, আসাম), রামগড়-সাবরুম, তেগামুখ-দেমাগিরি, বিবিরবাজার-শ্রীরামপুর, বিলোনিয়া (বৃহত্তর নোয়াখালী)-বিলোনিয়া (ত্রিপুরা), বেনাপোল-পেট্রাপোল, বেতুলি-রংনা বাজার এবং মনু-চাতলাপুর।
ভারত চিরকাল তথাকথিত এশিয়ান হাইওয়ের কথা বলে আসছিল। বলে আসছিল ট্রানজিট-ট্রান্সশিফ্টমেন্টের কথা। কিংবা ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের কথা। এখন এ শব্দগুলো মুখেও আনে না। এখন হচ্ছে ইন্ডিয়া-টু-ইন্ডিয়া কানেকশন, যা নাম হলো করিডোর। ভারতের স্বাথেই ভারতকে এসব সুবিধা দেয়া হচ্ছে। ভারত বাংলাদেশ সরকারকে এমন পেয়ে বসেছে যে, বন্ধুত্ব আর আনুগত্যতার বোঝা বহন করতে গিয়ে ভারতীয় চাহিদা তথা দাবিকে অগ্রাহ্য করার মতো শক্তি তারা হারিয়ে ফেলেছে। যেমনটি ভারত চাইছে তেমনটি দিতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদেরকে কি দিবে এবং এ ধরনের অকাতর দানের ফলে দেশের কি সুবিধা কিংবা ক্ষতি হবে, তা জানার সুযোগ জনগণের যে রয়েছে, সে কথা মনে হয় সরকার একেবারেই ভুলে গেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় সরকার জনগণের উপর নির্ভর না হয়ে ভারতের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে।
শেখ হাসিনা প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রচার করেছিলেন যে, ভারতকে ট্রান্সশিফ্টমেন্ট দিলে আমাদের যুবকদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে, বাংলাদেশ প্রতিবছর ভারত থেকে ২০ হাজার কোটি ডলার শুল্ক পাবে। তোফায়েল আহমেদ এখনো মন্ত্রী। তিনি এখন নীরব। ১৫টি পয়েন্ট এবং  চট্টগ্রাম-মংলা বন্দর ব্যবহারের বিনিময়ে বাংলাদেশ ভারত থেকে কি পরিমাণ অর্থ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবে, কিংবা আদৌ পাবে কিনা। এতদসংক্রান্ত কোন তথ্য এ পর্যন্ত প্রকাশ করা হয় নি। অন্যদিকে জনৈক উপদেষ্টা নসিয়ত করেছেন, শুল্ক চাওয়া নাকি সভ্যতার আওতায় পড়ে না। এর আগে শুনানো হয়েছে টিপাইমুখ বাঁধ দিলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। দেশের দুর্ভাগ্য কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে মন্ত্রী কিংবা উপদেষ্টার মন্তব্যে তা পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। এরা কি বাংলাদেশের মন্ত্রী-উপদেষ্টা নাকি ভারতের? কিসের বিনিময়ে বাংলাদেশের বেতনভূক মন্ত্রী-উপদেষ্টা ভারতের হয়ে কথা বলছেন, তার পূর্ণাঙ্গ হওয়া জরুরী।
অন্যদিকে মুসাহেবী এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যা উপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ রাজ-রানীর আগমনের ইতিহাসকে সামনে নিয়ে আসে। ভারতীয়দের ভাষায় মোদি কিছু না দিয়েই সবকিছু নিয়ে গেছেন। তারপরেও এতো উল্লাস কেন? দানেই কি আনন্দ! বাংলাদেশের ক্ষতিকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে মোদির সফরকে কেন্দ্র করে মতলবী মিডিয়া সেন্ডিকেট, বুদ্ধিপ্রতিবন্দী বুদ্ধিবিক্রীজীবীরা, এবং রাজনীতি-ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আনন্দের বন্যা বইয়ে দেয়। এ তামাশা দেখে জাতি হবভম্ব হয়ে যায়। ছিটমহল হস্তান্তর কোনভাবেই মোদি সফরের ফলশ্র“তি নয়, বরং ১৯৭৪ সনে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিলম্ব বাস্তবায়ন মাত্র। আরো সহজ করে বলতে হয় ছিটমহল হস্তান্তর হলো বাংলাদেশকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলার ২২টি মরণঘাতী চুক্তির সান্তনা পুরষ্কার তথা গরু মেরে জুতা দানের মতো নির্মম কৌতুক বিশেষ। তথ্যাভিজ্ঞমহলের মতে, এসব চুক্তি কংগ্রেসের সাথেই ঠিক করা ছিল। কেবল মোদির সফরের সময় সেগুলো প্রকাশ্য রূপলাভ করে। তাদের মতে, এসব স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীন ও পৃথক স্বাতন্ত্র্যবোধ তথা অস্তিত্বকে মুষড়ে ফেলা হয়েছে, যার ইঙ্গিত বিদ্যুৎ পতিমন্ত্রীর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ ইঙ্গিত ছাড়া দেশবাসী আর কিছুই জানেন না।
দেশবাসী পুরোপুরি অন্ধকারেই রয়েছেন। আর এর প্রতিবাদ করার জনগণের অধিকারও সরকার অঘোষিতভাবে হরণ করেছে। জনগণের মনে চাপা ক্ষোভ এবং তীব্র হতাশা বিরাজ করছে। দ্বিতীয়তঃ প্রতিবাদ করার মতো দল বা নেতৃত্ব নেই। সাধারণ মানুষের চেয়ে দলীয় নেতারা বেশি ভয়-কাতুরে। তাদের অধিকাংশই নন্দলাল। কোন কোন দলের ভিতরে ভারতীয় চরের অনুপ্রবেশ ঘটেছে, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভারতের কাছে নতি স্বীকার করতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অন্যান্যদেরকে প্ররোচিত-প্রভাবিত করার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ হতাশ না হয়ে পারেন না। গণতান্ত্রিক দেশে সাধারণ মানুষ কোন দলের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়, যা চূড়ান্ত পরিণতিতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করে। কিন্তু দলীয় রাজনীতি তথা নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে আমাদের ভূ-কৌশলগত অবস্থানের কারণে দেশের অস্তিত্বই বিপন্ন হতে পারে। এ কারণেই জনমনে ভীতি: আমাদের স্বাধীনতাকে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয়া হচ্ছে। জনমনের এই ভীতি দূরীকরণের দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বের। জনগণ তেমন নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছে।*
লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক

Email: এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।



 

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

নির্বাচিত স্ট্যাটাস [Facebook all day]

আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...