প্রচ্ছদ  >>   ফেসবুকের  নির্বাচিত স্ট্যাটাস

লাশের মিছিলে আতঙ্কের জীবনযাত্রা

জিবলু রহমান : সোলায়মানের পরিবারের দাবি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক’জন নেতার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জের dead1431602496ধরে সোলায়মানকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কলকাঠি নেড়েছেন বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে সোলায়মানের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও সোলায়মান অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠা লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার। সোলায়মানের পরিবারের অভিযোগ বিষয়টি অবগত হয়ে ঘটনার কয়েক দিন আগেই বিদেশে পাড়ি জমান ওই সংসদ সদস্য আর অপহরণকারীদের সহযোগিতা করেছে একটি বিশেষ বাহিনী। সোলায়মানের স্ত্রীর দাবি সোলায়মান অপহরণের পর পরই ঢাকা থেকে তাকে লক্ষ্মীপুর নেয়া পর্যন্ত অপহরণকারীদের সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। অপহরণকারীরাই তাকে জানিয়েছেন ওই বাহিনীর ঢাকার একটি সদর দপ্তর থেকে কুমিল্লা অঞ্চলের ক্যাম্পে নেয়া হয়। সেখান থেকে নেয়া হয় লক্ষ্মীপুরে। এ ঘটনায় বিশেষ বাহিনীর কারা জড়িত এমনটি তারা আঁচ করতে পারলেও নিরাপত্তার কারণে তারা তা বলতে পারছেন না। (সূত্রঃ দৈনিক মানব জমিন ১০ মে ২০১৪)
২ জুলাই ২০১৪ মধুরচর গ্রাম সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা থেকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ অজ্ঞাত (৪৫) এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করে। একই দিনে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ হাসনাবাদ জামে মসজিদ সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা থেকে অজ্ঞাত এক পুরুষের (৩০) অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে। এই দুই ঘটনায় দুই থানায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
৩ জুলাই ২০১৪ কেরানীগঞ্জে হাসনাবাদ মোকামপাড়া থেকে মাথা থ্যাতলানো এক যুবকের লাশ ও ৪ জুলাই মিল ব্যারাক ঘাট এলাকায় নদীতে কচুরিপানার সঙ্গে আটকে থাকা আরেক যুবকের লাশ উদ্ধার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা।
৬ জুলাই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ খায়রুল আলম রিয়েল ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ফিরোজ আলম নামে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করে। এদের মধ্যে ডেইরি ফার্মের কর্মী ফিরোজ নিখোঁজ হওয়ার ৯ মাস পরে ওই দিন তাঁর হাড়-গোড় উদ্ধার করে পুলিশ। ডেইরি ফার্মের আরেক কর্মী দ্বীন ইসলাম তাঁকে হত্যা করেছিলেন।
১৪ জুলাই কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পরে শুভাড্যা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আসাদের লাশ উদ্ধার করে। তিনি হত্যার শিকার বলে জানিয়েছে পুলিশ। ১৫ জুলাই তপন শীল নামে এক ব্যাক্তি খুন হন।
২৬ জুলাই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ লোকমান হোসেন মাতবর (৪০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। নিহত লোকমান শরীয়তপুরের পালং থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। নিহতের ছোট ভাই উথান মাতবর জানান, পূর্ব শক্রতার জের ধরে তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।
২৮ জুলাই শাকিল নামে এক যুবকের লাশ মীরেরবাগ এলাকার বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। মাদক সংক্রান্ত বিরোধে এই হত্যা বলে পুলিশের ধারণা।
২৯ জুলাই আরো একজন অজ্ঞাত পুরুষের লাশ উদ্ধার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ পুলিশ।
৩১ জুলাই হুমায়ুন নামে এক তরুণ হন। তার লাশ উদ্ধার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
৩ আগস্ট সকালে বুড়িগঙ্গা থেকে ভাসমান ১৪/১৫ বছরের এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ মুক্তিরবাগ এলাকা থেকে রহমতউল্লাহ নামে এক ব্যাক্তির লাশ নিখোঁজের তিন দিন পরে উদ্ধার করে। জিনজিরা রহমতপুরের বাসিন্দা রহমতউল্লাহকে জবাই করে, হাতে-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকা- বলে ধারণা পুলিশের।
৪ আগস্ট দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ চুনকুটিয়ার একটি ডোবা থেকে সোহেল মৃধা নামে এক যুবকের লাশ নিখোঁজের ১৭ দিন পরে উদ্ধার করে। মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
৯ ও ১০ আগস্ট আরো দুটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। ১০ আগস্ট ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পূর্ব পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
১১ আগস্ট পুলিশ আবদুল কুদ্দুস নামে এক অটোরিকশা ব্যবসায়ীর লাশ তাঁর বাসা থেকে উদ্ধার করে। এক দড়ি দিয়েই লাশের গলা, হাত-পা বাঁধা ছিল। ওইদিনই শারমীন আক্তার (১৩) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গৃহকর্মী শারমীন আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
১৮ আগস্ট অজ্ঞাত পরিচয় আরো এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ। ওইদিনই নিখোঁজের তিন মাস পরে মিম আক্তার (৮) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যার অভিযোগে শিশুটির খালুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। (সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো ৩০ আগস্ট ২০১৪)
২০ আগস্ট কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গার আশ্রাফাবাদ ঘাট এলাকা থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পুরুষাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
২৯ জানুয়াারি ২০১৫ রাতে মিরপুর বেড়িবাঁধ থেকে বুকে-পিঠে ১০টি গুলীবিদ্ধ অবস্থায় ছাত্রদলের নেতা আরিফুল ইসলামের (২৩) লাশ উদ্ধার হয়। তবে তাঁকে শনাক্ত করতে তিন দিন চলে যায়। তাঁর স্বজনেরা অভিযোগ করেন, ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ি ভোলা যাওয়ার সময় ঢাকার সদরঘাটে কর্ণফুলী-৪ লঞ্চ থেকে আরিফুলকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। অবশ্য ডিবি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
৩০ জানুয়ারি ২০১৫ রাজধানীর রূপনগর থানার বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে আরিফুল ইসলাম মুকুল নামে এক ছাত্রদল নেতার  গুলীবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ভোলার চরফ্যাশন থানা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন। পরিবারের দাবি গোয়েন্দা পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ এ দাবি অস্বীকার করেছে।
৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ভাষানটেকের একটি বালুর মাঠে গুলীবিদ্ধ এক তরুণের লাশ পাওয়া যায়। পাঁচ দিন হাসপাতাল মর্গে পড়ে থাকার পর পরিচয় মেলে। নাম জি এম মোঃ নাহিদ (২২), বাড়ি মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে। তিনি বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ভাগনে।
নিহত নাহিদের বাবা সাবেক সেনাসদস্য জি এম সাঈদ অভিযোগ করেন, ২ ফেব্রুয়ারি মিরপুর থেকে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সাদাপোশাকে থাকা পুলিশের একটি দল (সিভিল টিম) নাহিদকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর পুলিশ নাহিদকে ছেড়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। পুলিশের সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁদের দেনদরবারও হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগও দেন তাঁরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেলে লাশ।
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ রাজধানী থেকে উদ্ধার হয় দুই গুলীবিদ্ধ লাশ। ওই দিন ভোরে যাত্রাবাড়ীতে গুলীতে নিহত হয় রাসেল সরদার। একই দিনে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন কালসীর নতুন রাস্তার ওয়ার্কশপের সামনে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় অজ্ঞাত (৩৩) এক যুবকের লাশ পাওয়া যায়। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ছাত্রদল নেতা সুমন সোহেলের লাশ উদ্ধার হয় দাউদকান্দি থেকে।
১০ মার্চ ২০১৫ সকালে ফকিরাপুল এলাকায় শিমু আক্তার (২২) নামে এক নারীর সাত টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতকরা ওই নারীকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করে। এরপর তার লাশ কেটে সাত টুকরো করে এই এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রাখে। এ ঘটনায় র‌্যাব ও পুলিশ সাতজনকে আটক করেছে।
১৪ মার্চ ২০১৫ সকাল ৭টার দিকে বনানী স্টাফ রোড ফুটওভারব্রিজের পাশ থেকে শামীম আহমেদ ভুঁইয়া (৪৮) নামে যুবলীগের এক নেতার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শামীমের গলায় ডিশ লাইনের তার ও কাপড় পেঁচানো ছিল। তার হাত-পা ছিল বাঁধা। পুলিশের ধারণা আগের রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা শামীমকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে গেছে। নিহতের স্ত্রী বেবী আক্তার অভিযোগ করেন, বানানীর হোটেল ব্যবসার বিরোধ নিয়ে শামীমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
১৭ মার্চ ২০১৫ সকালে তুরাগ এলাকার একটি খালি প্লট  থেকে গাড়িচালক টিপু সুলতান (৩০) নামে এক গাড়িচালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। টিপুকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ও শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়। মূলত গাড়ি ছিনতাইয়ের জন্যই তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় এক নারীসহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।
২০ মে ২০১৫ রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে সুইটি বেগম ও তাঁর মামাশ্বশুর আমিনুল ইসলামের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকারীদের হামলায় আহত হয় নিহত সুইটির পাঁচ বছরের ছেলে সাদও। নিহতের স্বামী ডেসকোর প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, ব্যবসায়িক বিরোধ বা চাঁদা না দেওয়ার কারণে তাঁর স্ত্রী ও মামাকে খুন করা হয়েছে।
যারা হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত, তারা নিজেরা দায়  থেকে বাঁচতেই হয়তো বিকৃত করে এক এলাকার লাশ অন্য এলাকায় নিয়ে ফেলে। আবার কখনও লাশ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে। এসব লাশের অধিকাংশের শেষ পর্যন্ত পরিচয় জানা যায় না। বর্তমানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া লাশের মধ্যে বেশির ভাগ বয়সে তরুণ। অন্য লাশের মধ্যে ট্রেনে কাটা, সড়ক দুর্ঘটনা, হত্যা ও অস্বাভাবিক মৃত্যু হওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি। এসব মরদেহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিক্যাল  কলেজ হাসপাতাল ও মিটফোর্ড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরির পর এক সপ্তাহ লাশ সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল মর্গে সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেখানেও সংশ্লিষ্ট থানায় পরিচয় শনাক্ত না হলে পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষ বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামে হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হস্তান্তরের সময় লাশ উদ্ধারের তারিখ, স্থান ও সংশ্লিষ্ট থানার নাম দেয়া হয় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামকে। পরবর্তীতে এই সূত্র ধরেই আঞ্জুমানের সাহায্যে কবর শনাক্ত করা হয়। প্রতিটি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করতে গড়ে ১১০০ টাকা খরচ হয়। এ খরচ তারা নিজেদের পক্ষ থেকেই করে থাকেন।
রাজধানী এবং এর উপকণ্ঠ থেকেই উদ্ধার করা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি বেওয়ারিশ লাশ। এর মধ্যে মিরপুর বেড়িবাঁধ, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর রেললাইনের দু’পাশ, ডেমরা, শ্যামপুরের ওয়াসা পুকুরপাড়, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর বেড়িবাঁধ, বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট ও কেরানীগঞ্জ থেকে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার হয়েছে। লাশের হত্যার পর কারও শরীর থেকে হাত-পা ও কারও মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। আবার কারও চোখ উপড়ে এবং মুখ বিকৃত করে লাশ বস্তাবন্দী করে নদীর পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়।
 বেওয়ারিশ লাশ হওয়ার জন্য কেউ এ দুনিয়াতে জন্মায়নি। রাষ্ট্র কোনভাবেই বেওয়ারিশ লাশের দায় এড়াতে পারে না। তাদের দায়িত্ব হলো তদন্ত করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখি করা। আর তা করতে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন। সে সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। অনেকে শহরমুখী হচ্ছে। শহরে এসে নানা কারণে মানুষ মারা যাচ্ছে। ফলে তাদের চেনাজানা বা পরিচিত কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। বেওয়ারিশদের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ করলে কয়েক জনের হলেও পরিচয় শনাক্ত করা যাবে।  (সূত্রঃ দৈনিক মানব জমিন ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)
গণতান্ত্রিক যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা দমনের জন্য সরকার গুম ও খুনের পথ বেছে নিয়েছে। চলমান আন্দোলনে ঢাকা মহানগরে অনেককে গুলী করে হত্যা করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিরিয়াল কিলিংয়ে নেমেছে। তারা একের পর এক বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করছে।
বিরোধী দলের জন্য কোন আইন নেই, নিরাপত্তা নেই। বিরোধীদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও অনেক কর্মী ক্রমেই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাচ্ছে। আর তারা অপেক্ষাকৃত চরমপন্থি কৌশল অবলম্বন করতে পারে। মানুষ হারাচ্ছে বন্ধু, ভাই। আর বিতাড়িত হচ্ছে ঘর থেকে। তারা মরিয়া হয়ে উঠছে।
ইতালির নাগরিককে কেন হত্যা করা হয়েছে তার একটা স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এই হত্যার ঘটনা জঙ্গি হামলা কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে এ ঘটনার প্রভাব বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য খুবই ক্ষতিকর। এখন অনেক প্রভাবশালী দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সারাক্ষণ জঙ্গি জঙ্গি করছে। বিদেশী দূতাবাসগুলো এ বিষয়ে নোট নিচ্ছে। অনেকে বলেন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এটা মুখে বললে হবে না। সেই ষড়যন্ত্রেরও একটা প্রমাণ থাকতে হবে। সব ঘটনাকে রাজনৈতিক কালার দেয়াও সমীচীন নয়। (শেষ)
এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

নির্বাচিত স্ট্যাটাস [Facebook all day]

আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...