নব্য দাসব্যবস্থা : উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির গল্প

ফরহাদ মজহার

q741বাংলাদেশ থেকে মানুষ পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে মানুষ পাচার হওয়া নতুন কিছু নয়। এর আগেও পাচার হয়েছে। পাচার শব্দটা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। পাচার বললে অনুমান করা হয় যে বৈধভাবে মানুষ বিদেশে না গিয়ে অবৈধ পথে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মানুষ নিজেই অবৈধ বস্তুতে পরিণত হয়ে গেছে, অপরাধী চক্র সেই বস্তু পাচার করছে। বৈধ পথে গেলে তাকে পাচার বলা হয় না, মধুর ভাষায় বলা হয় অভিবাসন, ইংরেজিতে মাইগ্রেশন।

পাচার কিংবা ট্রাফিকিংয়ের কথা আমরা এর আগে শুনতাম মেয়েদের পাচার করার ক্ষেত্রে। যাদের পাশের দেশ ভারতে কিংবা পাকিস্তানে বিক্রি করে দেয়া হতো। তারা বৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে না। অপরাধী চক্রের হাতে পড়ে কলকাতা, মুম্বাই বা করাচির নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু একটু গভীরভাবে ভেবে দেখলে আমরা বুঝব, যে মেয়েটি কাজের খোঁজে ঢাকা শহরে এসে পোশাক কারখানার দাসত্বে যুক্ত হয়, পুড়ে মরে কিংবা জীবন্ত মাটির তলায় চাপা পড়ে, তার সঙ্গে এই মেয়েদের দাসত্বের চরিত্রে পার্থক্য থাকলেও যে প্রক্রিয়া তাদের নিজ নিজ গ্রাম, পরিবার বা জীবিকার ক্ষেত্র থেকে উৎখাত করেছে সেটা একই। সেখানে বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। গ্রামে কাজ নেই, অভাব, এর আগে পুরুষরা চাকরি খুঁজতে শহরে হয়তো এসেছিল, তারা অনেকে ফিরে যায়নি। কিংবা শহরে তাদের নিজেরই হয়তো পেট চলে না, তারা পরিবারকে খাওয়াবে কিভাবে? অতএব যে কিশোরী মেয়েটি কোনোদিন ঘর ছাড়েনি, তাকে শহরে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে মা কিংবা অসহায় বাবা। কিংবা তারা সবাই শহরে চলে এসেছে। ঢাকা, কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই কিংবা সুদূর লাহোর- সব শহরের ক্ষেত্রেই একই কথা। যারা ঢাকায় কিছুর সুযোগ পায়নি, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে অবৈধ হয়ে গেছে। তাদের অনেকে খপ্পরে পড়েছে অপরাধী চক্রের। এই গল্পগুলো আমাদের জানা।
ছেলেদের পাচার হওয়ার ঘটনাও কারোরই অজানা ছিল না। চাকরির সন্ধানে ইউরোপে কিংবা আমেরিকায় ছুটে গেছে বেকার যুবক। বৈধ পথের সন্ধান না পেয়ে অবৈধ পথেই গেছে। ধরা পড়েছে, জেল খেটেছে, অনেকে সমুদ্রে মারাও গেছে। তাহলে পুরুষের পাচার হওয়া ও মারা পড়া নতুন খবর নয়।

থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় যে গণকবরগুলো পাওয়া যাচ্ছে তাদের মধ্যে নতুনত্ব হল- এটা পুরনো কায়দার দাস প্রথার মতো। দাসদের খাঁচায় রাখা হতো কিংবা দাস-ক্যাম্পে। এখানে দাসদের সবাই রোহিঙ্গা কিংবা বাংলাদেশের নারী ও পুরুষ। গহিন জঙ্গলের মধ্যে দাসদের বন্দি রাখার জন্য ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের বেচা-বিক্রি হতো। নিপীড়নে-নির্যাতনে, অনাহারে-অর্ধাহারে যারা মরত, তাদের ক্যাম্পের পাশেই কবর দিয়ে দেয়া হতো। আজকের খবরে দেখলাম, মালয়েশিয়ায় যে কবর পাওয়া গেছে সেখানে ১৩৯ জনকে কবর দেয়া হয়েছে।

সত্যি বলতে কী, এই খবরগুলোর মধ্যে নতুনত্ব কিছু নেই। আগে দাসরা চালান যেত প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যে। কিভাবে তাদের চালান দেয়া হয় সেটা দেখার জন্য এয়ারপোর্টে গেলেই যথেষ্ট। আপনি চাইলে এখনই গিয়ে হয়তো দেখবেন একই কাপড় একই টুপি পরে নব্যকালের দাসেরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে পাসপোর্ট। তারা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে কিংবা মালয়েশিয়ার রাবার বাগানে কাজ করতে। এখানে একটি পার্থক্য আছে। আগে দাসদের জন্তু-জানোয়ারের মতো জাল দিয়ে ধরে পায়ে শেকল দিয়ে নিয়ে যেত। এখন শেকলের নাম পাসপোর্ট আর ভিসা। সেটা তাদের কাছে থাকে যারা দাসদের নিয়ে যাচ্ছে। দাসমালিক সেটা নিজেদের কাছে রাখে যাতে দাস পালাতে না পারে। দ্বিতীয়ত, যাওয়ার পুরো খরচ দাসের নিজের। এই টাকা তাকে আয় করেই পরিশোধ করতে হবে।

পার্থক্য বা দাস ব্যবসায়ের নতুন দিকের কথা বললে তৃতীয় আরেকটি দিক আছে। সেটা হচ্ছে, তাদের পাচার হয়ে যাওয়ার নিষ্ঠুর ও নির্মম প্রক্রিয়া। পুরোটা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো আগে এত জানাজানি হয়নি। এবার ফাঁস হয়ে গেছে। দাসদের ক্যাম্প এবং তাদের মৃতদেহ কোথায় কিভাবে পুঁতে ফেলা হতো সেই খবর ফাঁস হয়ে গেছে। সেটা সভ্য দেশগুলোর জন্য খুব বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালেও ইউরোপ-আমেরিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার সময় অকথ্য অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করেছে অনেকে। ইউরোপ উন্মূল, উদ্বাস্তু মানুষগুলোকে ঢুকতে দেয় না। বেশিদিনের কথা নয়, গত এপ্রিলে আফ্রিকা ও ইটালিতে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে পাচার হয়ে যাওয়া জীবদের মধ্যে ৮০০ জনের সলিল সমাধি ঘটে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও ছিল। যে কয়জন বেঁচে ছিল তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশীও আছেন। স্পেনের উপকূলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে আসা শরণার্থীদের একটি নৌকা উদ্ধার না করে তাকে স্পেনের সমুদ্র প্রহরীরা ধাক্কা দিয়ে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। তথাকথিত আরব বসন্তের একটি নগদ ফল হচ্ছে উত্তর আফ্রিকা থেকে কমপক্ষে ৫৮ হাজার অভিবাসী প্রবল বাধা সত্ত্বেও ইউরোপে ঢুকেছে। ইউরোপ নিজেকে যতই গণতন্ত্রী দাবি করুক কিংবা মানবাধিকারের কথা বলুক, নিজের দেশের সীমান্ত তারা পাহারা দিয়ে রাখতে চায়। গণতন্ত্রের ধারণার মধ্যেই অন্য দেশের মানুষকে বাদ দেয়ার ধারণা রয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অর্থ হচ্ছে অন্য কোনো দেশের লোক যেন সেই দেশে তাদের আরোপিত বৈধ নিয়মের বাইরে প্রবেশ করতে না পারে, তার পাহারার ব্যবস্থা করা। এই গোড়ার সত্য অনেক সময় আমরা ভুলে যাই।
তারপরও মনুষ্য পাচার সভ্য দেশগুলোর জন্য বিব্রতকর। তারা সীমান্ত কড়াভাবেই পাহারা দেয়। তাদের
কড়াকড়ির কুফল প্রায়ই এমন মাত্রায় পৌঁছায়, যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলা চলে। এ ধরনের বিব্রতকর ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।

এবার যে দেশগুলোর খবর গণমাধ্যমে তোলপাড় তুলেছে তারা ইউরোপ বা আমেরিকা নয়, তারা থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালানো রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের দাসগুলো পাচার হয়ে যাওয়ার সময় সাগরে ধরা পড়ে যায়। বাংলাদেশ যেভাবে রোহিঙ্গাদের স্থান দেয়নি, তেমনি থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াও স্থান দেয়নি। অসহায় মানুষগুলোর নৌকা কূলে ভেড়ার পরও তাদের ঠেলে আবার সাগরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক জনমতের চাপে সিদ্ধান্ত বদল
হয়েছে; কিন্তু ইতিমধ্যে অনেকেই সাগরে বিলীন হয়ে
গেছে। একই ঘটনা বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও ঘটিয়েছিল। থাইল্যান্ডে ও মালয়েশিয়ায় দাসদের যেসব ক্যাম্প ও গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছে তা এখন বিশ্বব্যাপী খবর হয়ে রটেছে।

মে মাসের ১ তারিখে মালয়েশিয়ার প্রতিবেশী ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মানুষ পাচারের ট্রানজিট ভূমি থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশের গহিন জঙ্গলে প্রথম একটি গণকবর ও পরে আরও কিছু কবরের সন্ধান মিলেছিল। গণকবরটি থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল পাচারের শিকার ২৬ বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গার দেহাবশেষ ও কঙ্কাল। অভিবাসীদের গন্তব্যস্থল মালয়েশিয়াতেও পরে এরকম গণকবর ও কবরের সন্ধান মেলে। এই কবরগুলোর পাশাপাশি বেশকিছু বন্দিশিবিরের সন্ধান পাওয়া যায়। ভাগ্যের সন্ধানে বেপরোয়া সাগরে ভাসমান কয়েক হাজার মানুষকে কূলে ভিড়তে না দেয়ায় সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক মহলের নানা সমালোচনা ও চাপের মুখে পড়ে। গণকবর, বন্দিশিবির ও অভিবাসী সংকট নিয়ে দেশ দুটির রাখঢাকের নীতি প্রসঙ্গে ও সরকারগুলোর ভূমিকা নিয়েও কথা উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকা নিয়েও।

এ লেখা যখন লিখছি তখন থাইল্যান্ডে শুক্রবারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ বিষয়ে একদিনের শীর্ষ সম্মেলন। বঙ্গোপসাগর হয়ে আন্দামান সাগরে অভিবাসীদের ঢল নামাকে কেন্দ্র করে এ সংকট নিয়ে আলোচনা এবং তার সমাধানের জন্য নীতিনির্দেশক কোনো মতৈক্যে পৌঁছানো যায় কি-না তা নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা এই শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করেছেন। থাইল্যান্ডের ডাকা আজকের সম্মেলনে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনামসহ ১৭ দেশের প্রতিনিধিদের হাজির থাকার কথা। তবে রোহিঙ্গা সংকট তৈরির ক্ষেত্রে মিয়ানমার আগেই বলে দিয়েছে যে, সম্মেলনে রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার করলে এতে যোগ দেয়ার কোনো আগ্রহ তাদের থাকবে না।

অভিবাসীদের আসার ঘটনা নজিরবিহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা মোকাবেলায় একত্রে কাজ করতেই জরুরি বৈঠক।

বৈধ বা অবৈধ অভিবাসন কিংবা শক্তিশালী চক্রের হাতে পড়ে দাস হয়ে যাওয়া ইত্যাদি প্রতিটিরই বিশেষ চরিত্র রয়েছে। কিন্তু তাদের সাধারণ চরিত্র হচ্ছে, মানুষ যে কোনো কারণে হোক তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে উৎখাত হয়ে যাচ্ছে এবং নতুন জীবন ও জীবিকার সন্ধানে অন্য দেশে যাচ্ছে। কী হতে পারে সেই কারণ? দাঙ্গা, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বা পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া ইত্যাদি। কিন্তু নিজের দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে প্রবেশের অনুমতি তাদের নেই। পাচার বলি, দাসপ্রথা বলি কিংবা অভিবাসন- যে নামই বলি, এক দেশ থেকে আরেক দেশে মানুষের
দেশান্তরী হওয়ার যে মাত্রা ও চরিত্র তা সাম্প্রতিককালে
খুবই বেড়েছে। ফলে তা নতুনভাবে বিবেচনা ও মীমাংসার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ব্যাংককের সম্মেলনে কী ফল হবে আমরা জানি না; কিন্তু অভিবাসন এমন একটি বিষয় যা পুঁজিতান্ত্রিক গোলকায়নের অবিচ্ছেদ্য প্রক্রিয়ার অন্তর্গত। পুঁজি ও পণ্যের চলন
পুঁজির যে লজিক বা অপ্রতিরোধ্য নৈর্ব্যক্তিক চরিত্রের অন্তর্গত, ঠিক একইভাবে তা মনুষ্য নামক জীবজন্তুরও বিচরণের সম্পর্ক ও চরিত্রের নির্ধারক। এখানে তার বিস্তৃত ব্যাখ্যার সুযোগ আমরা পাব না। তবে সহজে কিছু ব্যাপার বোঝার চেষ্টা করব।

গ্রাম থেকে যে কিশোরী মেয়েটি শহরের পোশাক কারখানায় শোষিত হওয়ার জন্য আসে, নতুন শ্রমদাসত্বের কারাগারে বন্দি হয়, সে স্বেচ্ছায় এটা করে না। নিজের ইচ্ছায় কেউ দাস হয় না। অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে সে এই দাসত্বের শৃংখল মেনে নিতে বাধ্য হয়। নিজেকে বিক্রি না করে সে এই সমাজে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারে না। ব্যবস্থার যে সন্ত্রাস ও সহিংসতা বিদ্যমান, সে-ও সেই ব্যবস্থার সহিংসতার শিকার। প্রত্যক্ষ সন্ত্রাস ও সহিংসতা যেমন, থাইল্যান্ডে পাচার হয়ে যাওয়া দাসদের সহিংসতা ও সন্ত্রাসের চরিত্রের মধ্যে আমরা যা দেখি, তাদের সঙ্গে কারখানার দাসদের সঙ্গে পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু থাকলেও তাদের মিল বোঝার জন্য একটি ধারণা ব্যবহার করা হয়, সেটা হল কাঠামোগত সন্ত্রাস (structural violence)। বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার চরিত্র ও কাঠামোর মধ্যেই নিরন্তর এই সন্ত্রাস ও সহিংসতা ঘটতে থাকে। গ্রাম থেকে মানুষকে তার জীবিকার্জনের উপায় থেকে উৎখাত করে কাঠামোগত সহিংসতা ও সন্ত্রাসের অধীনস্থ না করে বিশ্ব পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থা সচল থাকতে পারে না। অন্যদিকে জমি কিংবা গ্রামীণ জীবিকার্জনের উপায় থেকে উৎখাত না ঘটলে বাজার থেকে পুঁজিপতি মুক্ত শ্রমিক কিংবা পণ্য হিসেবে সস্তা শ্রমশক্তি কিনতে পারে না। জীবিকার জন্য কিংবা স্রেফ জীব হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য অন্য কোনো উপায় নেই বলেই মানুষ দাসত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়। কিংবা জীবিকার সন্ধানে যে কোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকে। কাঠামোগত সন্ত্রাস ও সহিংসতার এই দুমুখী চরিত্র না বুঝলে আমরা একালে নব্য দাস ব্যবস্থার কিছুই বুঝব না। এক. গ্রামীণ ব্যবস্থা, জমি বা জীবিকার উপায় থেকে উৎখাত হওয়া। এবং দুই. পুঁজিতান্ত্রিক পুঁজির কাছে নিজের শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া। কিংবা নব্য দাসত্ব মেনে নেয়া।

এই নব্য দাসব্যবস্থার প্রকাশ নানা প্রকার হতে পারে।
রানা প্লাজা কিংবা পোশাক কারখানায় একরকম,
অন্যদিকে দেশান্তরী হওয়া সাগরে মৃতপ্রায় জীবদের ক্ষেত্রে অন্যরকম, কিংবা যাদের থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার
জঙ্গলে খুলি ও হাড়গোড় পাওয়া যাচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে
আরও নিষ্ঠুর ও নির্মম। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষগুলো কাঠামোগত সন্ত্রাস ও সহিংসতার শিকার। অন্যত্র এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার আগে এই সারকথাটুকু
বুঝতে পারলে আমরা বুঝব মানুষের চলাচল একালে অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়। যা একই সঙ্গে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক।

বিশ্বব্যবস্থায় আমরা সস্তা দাস সরবরাহের ক্যাম্পে পরিণত হয়েছি। আমাদের কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে যথার্থ কারণে। আমাদের উন্নয়ন বা প্রবৃদ্ধির গল্প কিন্তু এটাই। নব্য দাসব্যবস্থা ও দাস শ্রমিক হিসেবে দেশে-বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া। সুন্দর!

Bangla-Kotir
line seperator right bar ad
sunnati hazz
line seperator right bar ad
RiteCareFront
line seperator right bar ad
Adil Travel Winter Sale front
line seperator right bar ad
starling front
line seperator right bar ad

Prothom-alo Ittafaq Inkilab
amardesh Kaler-Kontho Amader-Somay
Bangladesh-Protidin Jaijaidin Noya-Diganto
somokal Manobjamin songram
dialy-star Daily-News new-york-times
Daily-Sun New-york-post news-paper

line seperator right bar ad

 

 Big

line seperator right bar ad
Rubya Front
line seperator right bar ad

Motin Ramadan front

line seperator right bar ad
 ফেসবুকে বিএনিউজ24
line seperator right bar ad
   আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...
line seperator right bar ad
banews ad templet
 
 
line seperator right bar ad
   ফটোগ্যালারি
  আরো ছবি দেখুন -->> 
line seperator right bar ad
 
    পুরাতন সংখ্যা
banews ad templet