প্রেসক্লাবে গণতন্ত্রের সূর্য ডুবছে, রক্তক্ষরণ হচ্ছে

a2w3পীর হাবিবুর রহমান

গণতন্ত্রের দ্বীপ জাতীয় প্রেসক্লাবেই গণতন্ত্রের সূর্য ডুবতে যাচ্ছে। জাতীয় প্রেসক্লাবকে যারা সাংবাদিকতার চেতনার প্রতীক হিসেবে দেখেন, যারা সেকেন্ড হোম বলে মনে করেন, মৃত্যুর পর যাদেরকে সেখানে নিয়ে জানাজা পড়ানো হয় সেসব সদস্যদের অনেকের হৃদয়ে এখন রক্তক্ষরণ চলছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিকতার নবজাগরণের সঙ্গী যাদের রক্ত, ঘাম, মেধা জড়িয়ে আছে তাদের স্মৃতিমাখা জাতীয় প্রেসক্লাব রাজনৈতিক দলীয়করণের আগ্রাসনে বিভক্ত সমাজে এখনো ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের সুমহান মুক্তিযুদ্ধসহ সেনাশাসন কবলিত স্বাধীনতাপূর্ব ও উত্তরকালের এই জনগোষ্ঠীর সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জাতীয় প্রেসক্লাবের মর্যাদা। জাতীয় প্রেসক্লাবের দেয়ালে সাংবাদিকতার মহান পেশার সাহসী পূর্বসূরিদের প্রতিকৃতি এখনো শোভা পাচ্ছে। প্রবেশ দ্বারে শোভা পাচ্ছে সুমহান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত শহীদ সাংবাদিকদের নাম।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াত ফোরামের দলাদলি, বিভক্তি, নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চতুরতা ব্ল্যাক বলের নামে পেশাদার সাংবাদিকদের সদস্য লাভের সুযোগ বঞ্চিত করেছে। তাই নয়, অতীতে দলবাজ নেতাদের সদস্য ভাগাভাগিতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে ফাঁসিতে ঝোলা জামায়াতের নেতা আবদুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানকে সদস্য পদই দেয়নি ভোটাধিকারসহ দাপটের সঙ্গে প্রেসক্লাব ব্যবহারের অবাধ সুযোগ দেয়া হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন কমিটি তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে ইচ্ছামতো দলবাজ সাংবাদিকদের সদস্য করেছে। সেই সময়ে আওয়ামী লীগ ফোরামের কোনো কোনো নেতা তাদের পছন্দের সদস্যকেও সেই তালিকাবদ্ধ করেছিলেন। পেশাদারদের ক্লাব জাতীয় প্রেসক্লাবকে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করেছিলেন।
প্রেসক্লাবে গণতন্ত্রের সূর্য ডুবছে, রক্তক্ষরণ হচ্ছেপ্রেসক্লাবের নির্বাচিত বর্তমান কমিটি যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের সদস্যপদ বাতিল করলেও বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের নেতৃত্ব ও দুই শিবিরের ফোরাম নেতাদের চাপের কাছে মেরুদণ্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর কারণে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হয়নি। জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রতি দুই বছর অন্তর ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে থাকে। আওয়ামী ফোরামে বামপন্থি রাজনীতি বিশ্বাসীরা থাকেন। বিএনপি-জামায়াত ফোরামে এই দুই দলের বিশ্বাসীরা ছাড়াও অতি বাম ও দক্ষিণপন্থি চিন্তার সাংবাদিকরা থাকেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে সদস্যপদ পেতে হলে দুই ফোরামের নেতাদের আস্থা অর্জন করার মধ্য দিয়ে হতে হয়। তাও কালেভদ্রে।
সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে সম্পর্কহীন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়রা প্রেসক্লাবে দাপটের সঙ্গে নিজেদের সদস্যপদই বহাল রাখেন না দলবাজির নির্বাচনে নেতৃত্বেও আসীন হন। এবার নির্বাচন না করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াত ফোরাম নেতারা নেতৃত্ব ভাগাভাগি করে ক্লাবের কর্তৃত্ব নিতে চেয়েছিলেন। আওয়ামী-জামায়াতের এই ঐক্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই সমঝোতার প্যানেলের বাইরে দুই ফোরামের রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত বিশ্বাসী অনেকে আলাদা প্যানেল দিয়েছিলেন। কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যারা সমঝোতা করে বিনা ভোটে নেতৃত্ব দখল করতে চেয়েছিলেন তারা নির্বাচন কমিশনকে চাপ দিয়েছিলেন যে তাদের প্যানেল রেখে বাকিদের মনোনয়ন বাতিল করে দিতে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন রাজি না হয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নেই অজুহাতে পদত্যাগ করে চলে যান। নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার আমরা যারা প্রেসক্লাবের সদস্য তাদের না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে ষড়যন্ত্রের পথ নিয়ে যারা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সাহস রাখেন না সেসব দলবাজরা বিশেষ সাধারণ সভা ডেকে নিজেদের স্বঘোষিত নেতা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের এ ধরনের সাধারণ সভা ডাকার এখতিয়ার তাদের নেই। বিনা ভোটে এভাবে নেতা হওয়ার বৈধতাও তাদের নেই। সভায় অধিকাংশ ছিলেন যারা প্রেসক্লাবের সদস্য নন। দুই রাজনৈতিক শিবিরের বাইরেও আমরা অনেকে পেশাদারিত্বের জায়গায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবে যাকে খুশি তাকে ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচিত করতে চাই। কিন্তু বৃহস্পতিবার যেটি ঘটানো হয়েছে সেটি অগণতান্ত্রিকই নয়, গায়ের জোরে ক্যু মাত্র। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব হাইজ্যাক করার শামিল। বিবেকবোধ সম্পন্ন জাতীয় প্রেসক্লাবে সদস্যদের গণতন্ত্রের এই আইল্যান্ডের পবিত্রতা রক্ষা ও পেশাদারদের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে এখন এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান নির্বাচিত কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও তারাই নির্বাচিত। এ মুহূর্তে জাতীয় প্রেসক্লাবে দলবাজি থেকে দূরে থাকা সিনিয়র সদস্যদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে বিশেষ সাধারণ সভা ডাকা উচিত। সেই সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করতে পারেন। এই স্টিয়ারিং কমিটি অপেশাদার সদস্যদের সদস্যপদ বাতিল করে পেশাদারদের ভোটার করার মধ্যদিয়ে একটি নির্বাচন দিতে পারেন।
রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের মতো ফোরাম প্যানেলে ভোট নয়, স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব নির্বাচনের পথ সুগমে প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি। ক্ষমতার দম্ভে অতীতে একদল কর্তৃত্ব কব্জায় রাখতে চেয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে তখন জামায়াত ছিল। ক্ষমতার অহঙ্কারে এখন একদল নেতৃত্ব দখল করতে চাচ্ছে পরিত্যক্ত বিএনপি ও জামায়াতকে নিয়ে। এই কমিটি তিন দলের আজ্ঞাবহদের অবিহিত কমিটি। এরা মধ্যরাতের টকশোতে আর ক্লাবের চায়ের টেবিলে রাজা উজির মারেন। বড় বড় কথা বলেন। রাজনীতিবিদসহ ব্যবসায়ী আমলাদের তুলোধুনো করেন। আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখেন না। এই ঘোষিত কমিটির সময় পেশাদারিত্বের মর্যাদায় গর্বিত ও অলঙ্কৃত সম্মানীত অগ্রজ কয়েকজন সাংবাদিককে দেখা গেছে। এটা কখনোই কাম্য ছিল না। যারা নিজেদের নেতা ঘোষণা করেছেন ইতিহাসে তাদের নাম কালো হরফে লেখা থাকবে।
এ সময়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের আত্মমর্যাদাবান সদস্যদের এগিয়ে আসা উচিত, জাতির রক্তমাখা ইতিহাসের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়ানো পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্যের প্রতীক, গণতন্ত্রের দ্বীপ ভূমির পবিত্রতা রক্ষায়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্পদ কারো পৈত্রিক ভিটে নয়, যে চাইলেই দখল করা যাবে। এটা রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এটা জনগণের সম্পদ। এটা আমাদের পেশাদারিত্বের মর্যাদার ঠিকানা। যার তার হাতে অতীতে কলঙ্কিত হয়েছে। যাকে তাকে এখন অবৈধভাবে দখল করে নিতে দিতে পারি না। যারা নিতে চাচ্ছেন, মনে রাখবেন দিন বদলায়, সময় বদলায়, ইতিহাস ক্ষমা করে না। এভাবে দখলদারিত্ব নিলে জবাব একদিন দিতেই হবে। সদস্যদের ডাকা হয় না, ভোট হয় না, কমিটি হয়ে যায়, এটা মামাবাড়ির আবদার নয়, এটা প্রতিষ্ঠান।

Bangla-Kotir
line seperator right bar ad
sunnati hazz
line seperator right bar ad
RiteCareFront
line seperator right bar ad
Adil Travel Winter Sale front
line seperator right bar ad
starling front
line seperator right bar ad

Prothom-alo Ittafaq Inkilab
amardesh Kaler-Kontho Amader-Somay
Bangladesh-Protidin Jaijaidin Noya-Diganto
somokal Manobjamin songram
dialy-star Daily-News new-york-times
Daily-Sun New-york-post news-paper

line seperator right bar ad

 

 Big

line seperator right bar ad
Rubya Front
line seperator right bar ad

Motin Ramadan front

line seperator right bar ad
 ফেসবুকে বিএনিউজ24
line seperator right bar ad
   আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...
line seperator right bar ad
banews ad templet
 
 
line seperator right bar ad
   ফটোগ্যালারি
  আরো ছবি দেখুন -->> 
line seperator right bar ad
 
    পুরাতন সংখ্যা
banews ad templet