বিএনপি’র জনপ্রিয়তা এবং বাস্তবতা

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন:‘বিএনপি এখনও বাংলাদেশের জনপ্রিয় দল’। ১৮ জুলাই (২০১৫) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ মন্তব্য করেন। বেগম খালেদা জিয়ার এ মন্তব্যের বাস্তবতা প্রমাণ করতে হলে নিরপেক্ষ সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও পুলিশবাহিনীর অধীনে একটি অবাধ ও কারচুপিমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন হওয়া আবশ্যক। বিএনপি’র 34e1wচেয়ারপারসনসহ পুরো দেশবাসী প্রায় প্রতিদিনই সংবাদপত্রের পাতায় কিংবা টিভি পর্দায় বিএনপি প্রসঙ্গে নানাবিধ নেতিবাচক খবর দেখেন। এসব খবরের সারমর্ম হলো: সংগঠন হিসেবে বিএনপি এখন প্রান্তিক পর্যায়ে চলে গেছে। বিএনপি নড়বড়ে অবস্থায়, ভাঙ্গনের মুখে ইত্যাদি খবরের পাশাপাশি রয়েছে ক্ষমতাসীনদের নানা ধরনের ভীতি এবং ধমক: বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না, বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিএনপি  চেয়ারপারসন’এর বিচার হবে। এমনকি তাকে কোন কারাগারে রাখা হবে তাও আগাম বলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা সরকারের কোন কোন মন্ত্রী। কারণ তারা যেসব আগাম মন্তব্য করেন, আদালত থেকে প্রায় তেমন রায়ই দেয়া হয়।  এ ধরনের খবর, তথা ধমকের পরেও বিএনপি’র চেয়ারপারসন নির্ভীকভাবে যে এগিয়ে চলেছেন । কারণ তার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে: বিএনপি সত্যিই এখনও ক্ষমতাসীন দলের তুলনায় অধিকতর জনপ্রিয় দল ।
অনেকেই মনে করেন, বিএনপি’র এই জনপ্রিয়তাই কারো কারো মাথাব্যথা তথা এমন ভীতিসঞ্জাত প্রচারণার আসল কারণ । বিএনপি’র প্রতিপক্ষ ভালোভাবেই বুঝে যে, বিএনপি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জনসম্পৃক্ত। অব্যাহত দলন, গুম, হত্যা, গ্রেফতার, নির্যাতনের কারণে বিএনপি’র ভিতরের অবস্থা যা-ই হোক না কেন, বিএনপি-বিরোধী শক্তির নানাবিধ অজনপ্রিয় পদক্ষেপ ও গণ-দুর্নীতির কারণেই বিএনপি সংগঠন হিসেবে জনগণের কাছে এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগের যেকোন সময়ে চেয়ে অধিকতর জনপ্রিয় এবং অপরিহার্য দল।
বিশ্লেষকরা মনে করেন বিএনপিকে কিছুই করতে হবে না, বিএনপি’কেকেবল বিএনপির মূল আদর্শ ও লক্ষ্য অটুট রেখে টিকে থাকতে হবে। বহু সাবেক নেতা, মন্ত্রী-এনপি সরকারের সাথে হাত মিলিয়েছে, নতুন বিএনপি তৈরি করছে Ñ এমন খবরে বিভ্রান্ত বা ভয় পাবার কোন কারণ নেই। কিংবা নেতা-নেত্রীদের কারাকাণ্ড দেয়া হবে,  কিংবা নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হবে না, ইত্যাদি প্রচারণাকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেয়ার পরও বিএনপির ahmedsg 1310390836 20-thumb hartal-maramari12জনপ্রিয়তা হ্রাস পাবে না। বরং দুর্যোগ-দুর্বিপাক চক্রান্ত যতো বিস্তৃত ও বহুমুখী হবে, জনগণ বিএনপির দিকে ততো বেশি ঝুঁকবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন: বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপিকে সাচ্ছা দেশপ্রেমিকদের দলে পরিণত করার উত্তম সময়। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির ধারক এবং স্বার্থশিকারী যেসব সুবিধাবাদী কিংবা দুর্নীতিবাজ বিএনপিতে রয়েছে তারা দল থেকে চলে গেলে দলের কোন ক্ষতি হবে না। বিএনপি’র ভিতরে থেকে যারা বিভিন্ন অজুহাতে আন্দোলনে অংশ না নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়েছিলেন, কিংবা যারা সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে বিএনপি করেন, তাদের  ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্তের এটাই সময়।  তাদের ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ ও যথার্থ তথ্য সংগ্রহ করে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে দলের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন ও সহানুভূতি বহুগুণ বেড়ে যাবে। সৎ দেশপ্রেমিক এবং আত্মত্যাগী নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে বিএনপি দেশ ও জনসেবায় সর্বতোভাবে মনোনিবেশ করতে পারবে। এজন্য বিএনপি’র মূল নেতৃত্বকে সততা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে প্রতিশ্র“ত তথা ওয়াদাবদ্ধ থাকতে হবে।  বিএনপি’র বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে সত্যতা থাকলে তা প্রকাশ্যে স্বীকার করে এসবের পুনরাবৃত্তি ভবিষ্যতে কোনভাবেই হবে না, এমন ঘোষণা অতীব জরুরী। বিএনপি’কে সরাসরি ঘোষণা দিতে হবে: বিএনপি’র কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কোন ধরনের দুর্নীতিতে জড়াবে না, বিএনপি’র নেতারা দুর্নীতি করবেন না এবং অন্যদেরকেও দুর্নীতি করতে দিবেন না।
বিএনপি’র নিকট হতে আরেকটি জরুরী ঘোষণা আসা অতীব জরুরী। যেসব অমূলক এবং স্পর্শকাতর সুবিধাদি ভারতকে দেয়া হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনাপূর্বক পুনরুদ্ধারের  করার কথা বলতে হবে। চুক্তির আপত্তিকর দিকগুলো প্রত্যাখ্যান তথা অস্বীকার করার পিছনে বিএনপি’র অকাট্য ও গ্রহণযোগ্য যুক্তি রয়েছে। বিতর্কিত কিংবা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক নয় এমন কারো মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া কোন সুবিধা কতোখানি জনমতের প্রতিফলণ ঘটায় , তা  যাচাইয়ের জন্য গণভোটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শাসনতন্ত্রে সংযোজিত যেসব ধারা, উপধারা গণতান্ত্রিক চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক সেগুলোও গণভোটের মাধ্যমে বাতিল করার উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের পরামর্শ: বিএনপিকে অনুধাবন করতে হবে এ দেশের মানুষ কেন শহীদ জিয়ার প্রতি এমন ঝুঁকে পড়েছিলেন? শহীদ জিয়া কেন  এতো জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ছিলেন? বিএনপি’কে জিয়ার আপসহীন সততা, জাতীয়তাবাদী চেতনা, সর্বোপরি ইসলামী মূল্যবোধ লালন করার পুনঃঘোষণা দিতে হবে। এগুলোর ধারণ ও লালন ছাড়া বিএনপি’র অন্যকোন মূলধন নেই, অন্য মূলধন বিএনপি’র প্রয়োজনও নেই। কেবল স্বদেশপ্রেম,  সততা হলো বিএনপি’র পাথেয়। কোন কোন দুর্নীতিবাজের কারণে বিএনপি’র জনপ্রিয়তায় যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, সেখান থেকে বিএনপিকে বেরিয়ে আসতে হবে । Najmul 1305019669 1-bnp maramariবিএনপি’র নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে হবে, বিএনপি নেতৃত্ব কোন ধরনের দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতিতে আর লিপ্ত হবে না, এবং কাউকে এ ধরনের অপকর্মে প্রশ্রয় দেবে না। ক্ষমতাশীন কি ক্ষমতাহীন অবস্থায় বিএনপি’র চরিত্র ও দায়িত্ব  এক ও অভিন্ন থাকতে হবে। ক্ষমতার বাইরে থাকতে এক কথা, ক্ষমতায় গিয়ে অন্যকথা Ñ  এমন সংস্কৃতি হতে বিএনপিকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বিএনপি’কে মনে রাখতে হবে: স্বদেশপ্রেম এবং আগ্রাসী শক্তির সাথে আপস পাশাপাশি  চলে না। সততা ও স্বার্থান্বেষী রাজনীতির মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক, এগুলো শহীদ জিয়া যেভাবে অনুভব করেছিলেন, বিএনপি আজকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সেগুলো লালন করতে হবে। বিদেশে বিএনপির বন্ধু থাকতে পারে, কিন্তু প্রভু নয়। স্বদেশের মানুষ আর মাটি থেকেই বিএনপিকে শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। বিএনপি’র মূল পুঁজিই হলো বাংলাদেশের মুসলিম পরিচিতি ও সংস্কৃতি তথা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী চেতনার লালন, সর্বোপরি দেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব তথা অস্তিত্ব রক্ষার অঙ্গীকার। বাংলাদেশের নিরেট দেশপ্রেমিক মানুষ বিশ্বাস করেন ভারত আমাদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু নয়।  ভারতের সাথে আপস করে ক্ষমতায় আসলে বিএনপি তার আত্মিক ও স্বাধীন শক্তি হারিয়ে ফেলবে। ভারতের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা ও আনুগত্যতার রোগে ভুগবে। বিএনপি’কে ক্ষমতায় আসতে হবে আওয়ামী লীগ দেশের যেসব স্পর্শকাতর স্বার্থ ভারতকে অকাতরে দান করেছে,  সেগুলো ফিরিয়ে আনার শপথ ও শক্তি নিয়ে। বাংলাদেশের মানুষ দেশ শাসনে আর কেবল দলের কিংবা ব্যক্তির পরিবর্তন চায় না। তারা দলীয় নীতি ও নেতৃত্বের  গুণগত পরিবর্তন চায়। বাংলাদেশ একটি কার্যকর সার্বভৌম স্বনির্ভর দেশ হিসেবে অগ্রসর হোক, এটাই মানুষের আকুতি, কারো ছায়ারাষ্ট্র হবার মানসিকতা মানুষের নেই। নেতৃত্বে তার আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন চায়।
বিএনপি’কে মানুষের অনুভূতি অনুধাবন করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা এবং শক্তি-সমর্থন নিয়েই বিএনপি’কে ক্ষমতায় আসতে হবে। ক্ষমতায় আসার বা থাকার জন্য দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের সাথে বুঝাপড়া করার নীতি গ্রহণ করলে বিএনপি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন হারাবে, যেমনটি হারিয়েছে আওয়ামী লীগ। যেদল বাংলাদেশকে ভারতের খপ্পর হতে রক্ষা করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে দাঁড়াবে, জনগণ সেদলের দিকেই ঝুঁকবে। বাংলাদেশে কোন দল ক্ষমতায় আসবে বা থাকবে তা ভারত নিয়ন্ত্রণ করলে বাংলাদেশের তো স্বাধীন অস্তিত্বই থাকে না।  যারা ভারতকে ক্ষমতার মূলশক্তি মনে করেন, তারা বাংলাদেশের পৃথক অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বকে পদদলিত করছেন। ভাবতেই অবাক লাগে ভারত কীভাবে এমন সুযোগ ও শক্তি পেয়ে গেল যে, আমাদের দেশে কে ক্ষমতায় আসবে তা ভারতই ঠিক করে দিবে। কারা ভারতের হাতে ক্ষমতার এই চাবি তুলে দিয়েছে? বাংলাদেশে নির্বাচন হবে, জনগণ ভোট দিবে, জনগণের টাকা দিয়ে সরকারের সাথে সংশ্লিষ্টদের ভোগ-বিলাসিতার ব্যয় নির্বাহ হবে; তারপরেও ভারত কিভাবে বাংলাদেশীদের ভাগ্য নির্ধারণী মোড়ল হয়ে গেল? বিএনপি’র দায়িত্ব হবে এর নেপথ্য কাহিনী ও কারণ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা এবং এ ধরনের পরিস্থিতি হতে দেশ ও জাতিকে উদ্ধার করার জন্য দেশব্যাপী গণসংযোগ করে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করা । সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক কোন ব্যক্তি বা দল এমন অসহনীয় পরিস্থিতি মেনে নিতে পারে না। বাংলাদেশের জনগণ স্বভাবগতভাবে অন্যদের খবরদারি কিংবা চোখ রাঙানি পছন্দ করেন না। বিএনপিকে বাংলাদেশের জনগণের এই বিশেষ বৈশিষ্টটি অনুধাবন করে স্বাধীনতার সপক্ষে থাকতে হবে।
বিএনপিকে জাতীয়বাদী শক্তির নির্ভরযোগ্য কাণ্ডারীর ভূমিকা পালন করতে হবে। যারাই বাংলাদেশের পৃথক অস্তিত্ব ও অর্থবহ বিদেশী প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশে বিশ্বাস করে তাদের সাথে যেকোন মূল্যে সুসংহত ঐক্য ও সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে। যে-ই আমার শত্র“র শত্র“, সে-ই আমার বন্ধু, বিএনপিকে এই নীতি অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশকে আগ্রাসী শক্তির থাবা থেকে রক্ষা করাই হলো সর্বাধিক জরুরী। তাই এখন জাতীয় ঐক্যমত্যের কোন বিকল্প নেই। বিএনপি’কে এ বিষয়টি অনুভব করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপিকে জনগণের আরো কাছে যাবার অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপিকে এই সুযোগ গ্রহণ করতে হবে। বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে বাংলাদেশের নিয়ামক শক্তি হলো এর জনগণ, অন্য কেউ নয়। ক্ষমতার বিনিময়ে ভারতের সাথে অমূলক আপস মানেই দেশের স্বার্থ তথা অস্তিত্বকে ভারতের হাতে তুলে দেয়া। বিএনপি’কে এ ধারা উপড়ে ফেলতে হবে। ক্ষমতা প্রাপ্তির মূল উৎস হবে জনগণ। সাধারণ মানুষের যে সহজাত সমর্থন বিএনপি’র প্রতি রয়েছে, তা-ই হলো বিএনপি’র শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।  ক্ষমতা যাবার জন্য বিএনপি   যদি ভারতের আশীর্বাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। বিএনপি ভারতকেন্দ্রিক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে বিএনপি’র রাজনীতি চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। বিএনপি’র রাজনীতি হবে বাংলাদেশকেন্দ্রিক, ভারতকেন্দ্রিক নয়। ভারতের সাথে অমূলক আপস করার জন্য যারা বিভিন্ন যুক্তি এবং তত্ত্ব উপস্থাপন করেন, তারা মূলত ভারতের হয়েই কাজ করেন। এরা বাহ্যতঃ জাতীয়তাবাদী, কিন্তু মূলতঃ ভারতীয় স্বার্থবাহী, এরাই বাংলাদেশের দুষমন। তাই বিএনপি ভারতের সাথে তাল মিলিয়ে চললে কিংবা ইতোমধ্যে যেসব অমূলক সুবিধা ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে, সেগুলো মেনে নেয়া হলে বাংলাদেশের আর কিছুই থাকবে না। ভারত জানে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ভারত যেসব অন্যায় সুবিধা আদায় করে নিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। এমন পরিস্থিতিতে ভারত বিএনপি’র কাছ থেকে সেগুলোর বৈধতা চায়। হয়তো এ কারণেই ভারত এখন বিএনপি’কে নানা ধরনের টোপ তথা শর্তারোপ করে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিতে চাইবে। কিন্তু বিএনপি’কে স্পষ্ট বলতে হবে দেশের স্বার্থের বিনিময়ে ভারতের স্বার্থবাহী হয়ে ভারতের অনুমোদন নিয়ে বিএনপি ক্ষমতা যাবে না, বিএনপি জনগণের ম্যানডেট নিয়ে ক্ষমতায় যাবে। জনগণই বিএনপি’কে ক্ষমতায় আনবে, ভারত নয়। এখানে বিএনপি’কে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। বিএনপিকে আরো মনে রাখতে হবে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বিএনপি’কে কখনোই আওয়ামী লীগের বিকল্প মনে করবে না।
বিএনপি ভারতপন্থী ভূমিকায় নেমেছে এমন প্রচারণার মুখে বিএনপি’র নীরব থাকার সুযোগ নেই। বিএনপিকে তার অবস্থান জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। বিএনপি যে বাংলাদেশের স্বার্থ ও স্বাধীনসত্ত্বার প্রশ্নে কোন আপস করবে না, তেমন ঘোষণা সময়ের দাবি। একশ্রেণীর সংবাদমাধ্যম, রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী আকারে-ইঙ্গিতে প্রমাণ করতে চাইছেন যে, মোদি সরকার তথা ভারতের সাথে  বিএনপি’র এক ধরনের সমঝোতা হয়েছে। এ প্রচারণা বিএনপিকে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়ার কূটকৌশল বিশেষ। বিএনপি’কে এই প্রচারণার যথাযথ জবাব দেয়া উচিত। এখানে নীরব থাকা মানে প্রচারণাকে সত্যি হিসেবে মেনে নেয়া। চুপ থেকে জনগণকে বিভ্রান্তির মধ্যে রাখা ঠিক হবে না, এমন কৌশল বিএনপি’র জন্য শুভ হবে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ‘বিএনপি এখনো জনপ্রিয় দল’ এমন বিশ্বাসের উপর ভর করে বসে থাকলে চলবে না। সাংগঠনিকভাবে বিএনপি’কে পুনর্গঠন তথা বিশেষ কোন দল বা দেশের ‘চর’মুক্ত করার পাশাপাশি জাতীয় ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও বিএনপি’র জনমুখী কৌশল এবং অবস্থান জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।*
লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক

Email: এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।

 

Bangla-Kotir
line seperator right bar ad
sunnati hazz
line seperator right bar ad
RiteCareFront
line seperator right bar ad
Adil Travel Winter Sale front
line seperator right bar ad
starling front
line seperator right bar ad

Prothom-alo Ittafaq Inkilab
amardesh Kaler-Kontho Amader-Somay
Bangladesh-Protidin Jaijaidin Noya-Diganto
somokal Manobjamin songram
dialy-star Daily-News new-york-times
Daily-Sun New-york-post news-paper

line seperator right bar ad

 

 Big

line seperator right bar ad
Rubya Front
line seperator right bar ad

Motin Ramadan front

line seperator right bar ad
 ফেসবুকে বিএনিউজ24
line seperator right bar ad
   আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...
line seperator right bar ad
banews ad templet
 
 
line seperator right bar ad
   ফটোগ্যালারি
  আরো ছবি দেখুন -->> 
line seperator right bar ad
 
    পুরাতন সংখ্যা
banews ad templet