সিরিয়ায় জঙ্গি দমনে রাশিয়া ইরান হিজবুল্লাহ ও মার্কিণবাহিনীর বুঝা পড়া।

আবু জাফর মাহমুদ:আরবে শক্তির মেরুকরণে আসছে সাপ-নেউলের বন্ধন।যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গড়ছে দীর্ঘকালের শত্রুদের সাথে। ইরানের সাথে aaaqwqqঐতিহাসিক চুক্তি হবার প্রেক্ষিতে এসেছে নতুন প্রেক্ষাপট।অনাক্রমণের সম্পর্ক বিস্তৃতির খুলেছে দুয়ার।সিরিয়ার পক্ষে রাশিয়া দাঁড়ানোয় ইরানের সকল আঞ্চলিক মিত্রদের সুদিন হয়েছে উজ্জ্বল।ইরাক তো আছেই,লেবাননের হিজবুল্লাহ ও প্যালেষ্টাইনের পি এল ও সহ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ছে জঙ্গি তাড়ানোয়।       
 
রাশিয়া লড়ছে আই এস এবং যাভাত আল-নুসরা জঙ্গি সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও স্থাপনা ধ্বংসে।বিমান আক্রমণ  চালাচ্ছে আমেরিকার সম্মতিতে।অর্থাৎ পরোক্ষে সমর্থন দিয়েছে আমেরিকা।নতুন বাস্তবতার মুখে এসেছে প্রধান পরাশক্তি।বদলে যাচ্ছে আরব এলাকায় সংঘাতও মিত্রতার চিত্র।আলকায়দা জঙ্গীদেরই বিভিন্ন নামে খাটাচ্ছে আর উৎসর্গ করছে প্রভূরা বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে।দীর্ঘকালের শত্রুদেরকে মিত্র করে আমেরিকার স্বার্থ আদায় কমেনি বরং বেড়েছে।     
 
কালো মুখোশে চেহারা গোপনকারী আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘আই এস’ বা ‘ইসলামিক ষ্টেট’ নামে গড়া জঙ্গি  বাহিনী বাংলাদেশে দুই বিদেশী হত্যার আত্নস্বীকৃত খবরে অনেকেই বিচলিত হয়েছেন।কিন্তু সিরিয়ার টাইগার্স  ফোর্সের সাঁড়াসী অভিযান ও রাশিয়ান বিমান যোদ্ধাবাহিনীর লাগাতার ক্রুশ মিজাইল আক্রমণে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর স্থাপনাগুলো একের পর এক ধ্বংসের খবরে বিশ্বব্যাপী ছড়াচ্ছে প্রশান্তির শিহরণ।    
 
যুদ্ধজাহাজ থেকে জঙ্গিদের ১১টি স্থাপনা লক্ষ্য করে ২৬টি ক্রুজ মিশাইল নিক্ষিপ্ত হয়েছে এবং বেসামরিক লোকের ক্ষয় ক্ষতি ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়েছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্জেই সুগো  জানিয়েছেন।  সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক এই তথ্য সমর্থন করেছে।একই সঙ্গে সিরিয়ার সামরিকবাহিনী সজোরে নির্মূল করে চলেছে পলায়নরত সন্ত্রাসী শত্রুদের।এই খবরে ইরাক অঞ্চল থেকেও পালাচ্ছে আই এস জঙ্গিরা।কাশপিয়ান সাগরে অবস্থানরত ৪টি যুদ্ধ জাহাজ থেকে ১০০০ মাইল দূরে নির্দ্দিষ্ট শত্রুর উপর হচ্ছে এই আক্রমণ।    
 
‘যাবাত আল-নুসরা’ নামে জঙ্গিদের প্রধান ঘাঁটি লাটাকিয়া এবং সিরিয়ার পশ্চিমাংশের হামায়।প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই রাশিয়ার পার্লামেন্ট প্রেসিডেণ্ট পুটিনকে সিরিয়ায় জঙ্গি আক্রমণের অনুমোদন দেয়।উল্লেখ্য,আই এস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সিরিয়া-রাশিয়ার সাথে রয়েছে ইরান ও ইরাকের সর্বাত্নক সমর্থন।ইরাক বর্তমানে ইরানের ঘনিষ্ট মিত্র।এছাড়াও জঙ্গি প্রতিরোধে অংশ নেয় ফিলিস্তিন যোদ্ধারা এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ।   
অনেক সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে,আই এস আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থার তৈরী বাহিনী।এদেরকে সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ এবং অর্থায়ন করার ব্যবস্থাপনায় আরো রয়েছে আমেরিকান মিত্র বৃটেন, ইসরাইল,ফ্রান্স,সৌদি আরব,কাতার,তার্কি এবং জর্ডান।যে খবরটি সংবাদ মাধ্যমে প্রায়ই আসেনা।বর্তমান নাম ধারণ করার আগে এই বাহিনীর নাম ছিলো ‘ইরাকি আল-কায়েদা’।তারা ২০১৪সালে(ইসলামিক ষ্টেট অব ইরাক এন্ড সিরিয়া,ইসলামিক ষ্টেট অব ইরাক এন্ড দ্য লেভান্ট)নামে পরিবর্তিত পরিচিতি ধারণ করে।ওয়াল ষ্ট্রীট জার্নাল রিপোর্ট করেছে,রাশিয়ান এয়ার ষ্ট্রাইক ইন সিরিয়া টার্গেটেড ‘সি আই এ ব্যাক্ট রেভেল্‌স’ শিরোনামে।   
 
জঙ্গিদের দমন রাশিয়ার বিমান যোদ্ধা এবং সিরিয়া আরব বাহিনীর যৌথ আক্রমনের প্রাথমিক টার্গেট বলে জানা  গেছে।তবে স্ক্রেপী রিপোর্ট বলছে,রাশিয়ার বিমান যোদ্ধারা আক্রমণের লক্ষ্যের আওতায় আরো অন্তর্ভূক্ত করে রেখেছে আল-লাটামিনাহ,কাফর জিটা,দ্য জাবাল আল-জাওইদ,কাসসাব এবং ডীয়ের হান্না অঞ্চলও। বর্তমানে আল-কায়েদার সিরিয়া শাখাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।তবে অচিরেই সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের জঙ্গি   স্থাপনাগুলোকেও আঘাত হানা হবে।
জানা গেছে,সিরিয়া বাহিনীর টাইগার ফোর্সেস ইউনিট পূর্ব আলেপ্পো ফ্রন্টে আক্রমণ করে কুওইয়ার্স মিলিটারী  এয়ারপোর্ট  মুক্ত করেছে।এছাড়াও আরো নয়া কিছু স্থান তারা মুক্ত করে গুছিয়ে নিচ্ছে,যাতে সেগুলো পরবর্তী বড় ধরনের আকাশ যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত রাখা সম্ভব হয়।অদূর ভবিষ্যতে রাশিয়া ইরাকের বিশাল আকাশ সীমা ব্যবহার করবে।ভৌগোলিক বাস্তবতায় পূর্ব-সি্রিয়ায় বিমান আক্রমণের জন্যে বেশী সময় লাগবেনা। সীমিত আক্রমনই যথেষ্ট হবে জঙ্গিদের পক্ষে প্রসস্থ হাইওয়েগুলো ব্যবহারের অল্প ক্ষমতার প্রেক্ষাপটে।সাউথফ্রন্ট দাবি করেছে, আই এস অপারেশনে সমন্বয় করার লক্ষ্যে রাশিয়া,ইরান,ইরাক ও সিরিয়ার তথ্যকেন্দ্র বাগদাদে  স্থাপন করার চুক্তি করেছে।  
 
ইতিমধ্যে সিরিয়াবাহিনী ব্যাপক আক্রমনে নেমেছে।এদের সাথে প্যালেষ্টাইন লিবারেশন আর্মি(পি এল এ),ইন্তিফাদা এবং প্যালেষ্টাইনী বাহিনীও যুক্ত হয়েছে আই এস জঙ্গি দমনের অভিযানে। 
মজার ঘটনা হলো, বর্তমান যুদ্ধ আরবে আমেরিকাকে নতুন এক কোয়ালিশনের পরিস্থিতিতে টেনে আনবে।যা ইতিপূর্বে ভাবাই যায়নি।ইজরাইলের জঙ্গি রাজনীতিবিদরা যে সম্ভাবনা এড়াতে কড়া অবস্থান নিয়ে রেখেছেন ওবামা-কেরীর নেতৃত্বাধীন ইরান বিষয়ক কূটনীতির বিপক্ষে।তা হলো,রাশিয়া-সিরিয়া-ইরান-ইরাক-এবং লেবাননের হিজবুল্লা্‌হ বাহিনীর সাথে একত্রিত হয়ে আই এস এবং যাভাত আল-নুসরা দমনে যৌথজোট গঠন।
 
তাছাড়াও বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ রাশিয়ার বিমান এবং মেরিন বাহিনীর মেডিটারিয়ান সমুদ্রে এক স্থায়ী অবস্থান নেয়ার প্রেক্ষিত গড়ছে বলে আন্দাজ করছি।আমেরিকা এই নয়া পরিস্থিতিতে তা-ই মেনে নিতে পারে।ইরানকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই আমেরিকার।সেই অর্থে ইরানের সকল মিত্রই যখন জঙ্গী-বিরোধী অভিযানে নেমেছে।তাদের ঐক্যবদ্ধ জোটের বাহিরে থাকার সুযোগ কোথায় আমেরিকার?নতুবা আমেরিকাকে প্রকাশ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে হবে আই এসের পক্ষে।       
রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন বলেছেন,আমরা সিরিয়ায় কেবলমাত্র আই এস এলের বিরুদ্ধে নেমেছি। এতে আর কোন উদ্দেশ্য নেই।রাশিয়ান কূটনৈতিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনাক্রমণমূলক বা বিনয়ী আচরণ অব্যাহত রেখেছেন।আমেরিকান ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন,বোমা বর্ষনের দিন সকাল বেলা বাগদাদে আমেরিকান দূতাবাসকে সেদিন আই এস এলের স্থাপনার উপর বোমাবর্ষনের খবর দেয়।তিনি অধিকন্তু অনুরোধ জানিয়েছিলেন,এই মিশনকালীন যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়ার আকাশ ব্যবহার না করার জন্যে।একঘণ্টার মধ্যে আকাশ সীমা ত্যাগের নোটিশ দেন।
গার্ডিয়ান পত্রিকা(২অক্টোবর২০১৫)জানায়,আক্রমণ মিশন শেষ করার পরও রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান সিরিয়ার  আকাশসীমা ত্যাগ না করায় আমেরিকান কোয়ালিশনে পেনিক বাড়তে থাকে।রাশিয়া সিরিয়ার বিরোধী দলের উপর আক্রমণের অজুহাত দিয়ে রাশিয়াকে সিরিয়ার আকাশসীমা ত্যাগ করার জন্যে নোটিশ দেয় আমেরিকান নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন।নোটিশে রাশিয়াকে উল্লেখ করা হয় এখনই বোমা বর্ষণ বন্ধ করে ফিরে যাও।
রাশিয়ার সিরিয়ায় হস্তক্ষেপের প্রেক্ষিতে জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার টুইটারে বলেন,  সিরিয়ায় বিরোধী দল এবং নাগরিক হত্যা বন্ধ করার জন্যে আমরা আহবান জানাই।উল্লেখ্য মুসলমান প্রধান সিরিয়া হচ্ছে ইরাকের মতো আরেকটি ধর্ম-নিরপেক্ষ দেশ।এদেশগুলো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উগ্রবাদী বা মৌলবাদ প্রশ্রয় দেয়না।    
মাইকেল চসুডোভস্কি তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন,আল-কায়েদার সামর্থ্যায়িত আল-নুসরা জিহাদি সংগঠন যা অগণিত ভয়ানক অপরাধের জন্যে দায়ী।একিউ এবং আল-নুসরা ২০১২সাল থেকেই আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা পেয়ে আসছে এবং সিরিয়ায় নানানভাবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে।রাশিয়ান সন্ত্রাস-বিরোধী আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে আল-নুসরা জঙ্গি।আল-নুসরা জঙ্গিরা হচ্ছে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি বা স্বাধীন সিরিয়া সেনার অংশ বলেই বিবেচিত।
 
আমেরিকা ২০১২ সালে আল-নুসরাকে জঙ্গি সংগঠনরূপে চিহ্নিত করেছিলো।অপরদিকে তাদেরকে গোপণে জনবল সংগ্রহ,অস্ত্র,প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসে।তার্কি,ইসরাইল,সৌদি আরব এবং কাতারের মাধ্যমেই এই সহায়তা চলে আসছে।যুক্তরাষ্ট্রের‘সন্ত্রাস-বিরোধী’যুদ্ধের সমালোচনা করেন তিনি।
 
মার্কিণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাষ্টন কার্টার বলেছেন,সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের বিমান হামলা চালানোর জন্যে রাশিয়াকে অচিরেই মূল্য দিতে হবে।তিনি বলেন সন্ত্রাসীদের হামলায় রাশিয়ার অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে।৮অক্টোবর বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে মার্কিণ নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের এক সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারী দেন তিনি।রাশিয়া কাশফিয়ান সাগর থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করার একদিন পর এই মন্তব্য করেন তিনি।  
 
লেখার শেষ পর্যায়ে খবর আসলো সিরিয়া বাহিনীকে ইরানের পক্ষ হতে উপদেশ দেয়ার দায়িত্বে রত ইরানি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন হামাদানি নিহত হয়েছেন।    
 
 (লেখক আবু জাফর মাহমুদ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে। ).      
Bangla-Kotir
line seperator right bar ad
sunnati hazz
line seperator right bar ad
RiteCareFront
line seperator right bar ad
Adil Travel Winter Sale front
line seperator right bar ad
starling front
line seperator right bar ad

Prothom-alo Ittafaq Inkilab
amardesh Kaler-Kontho Amader-Somay
Bangladesh-Protidin Jaijaidin Noya-Diganto
somokal Manobjamin songram
dialy-star Daily-News new-york-times
Daily-Sun New-york-post news-paper

line seperator right bar ad

 

 Big

line seperator right bar ad
Rubya Front
line seperator right bar ad

Motin Ramadan front

line seperator right bar ad
 ফেসবুকে বিএনিউজ24
line seperator right bar ad
   আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...
line seperator right bar ad
banews ad templet
 
 
line seperator right bar ad
   ফটোগ্যালারি
  আরো ছবি দেখুন -->> 
line seperator right bar ad
 
    পুরাতন সংখ্যা
banews ad templet