চীন-মার্কিণ সম্পর্ক উষ্ণতার মোড় নিয়েছে

Abu-zafarআবু জাফর মাহমুদ: সংবাদ পড়ছিলাম সৌদি আরবে মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত বিশ্বনন্দিত যুবক ক্বারি মোহসেন হাজহাসানি করগারের কাহিনী।তিনি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৫৭ তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারী একজন ইরানী।গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতা।

ইসলামী ইরানের নিয়ম অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার পুরস্কার হিসেবে তাকে হজে পাঠানো হয়েছিল।তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২৫। মিনার মর্মান্তিক ঘটনার আগে পবিত্র কাবা ঘরের কাছে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর মধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করেছিলেন।সেই তিলাওয়াতসহ তাঁর অন্য অনেক তিলাওয়াতের ভিডিও এখন কেবলই বেদনাময় মধুর স্মৃতি হয়ে থাকবে। ইতিমধ্যে মন ছুটে গেলো তুরস্কের দিকে।রাশিয়ার যুদ্ধজেটকে আকাশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে জাতিসংঘে  তুরস্কের আবেদন নিয়ে ভাবনা।যাতে তারা দাবী করেছে,তারা নিজেদের আকাশ সীমায় অচেনা যুদ্ধ জাহাজ দেখেই নিজেরদের নিরাপত্তাগত কারণেই তারা গুলি করেছে যুদ্ধজেট ভূপাতিত করতে। আমেরিকার আটলান্টিক জোটের সদস্য তুরস্ক যে তা নিজের বড় সহযোগীর লক্ষ্য বাস্তবায়নে করে বসেছিলো, তা নিয়ে সংশয় নেই অনেকের।

রাশিয়াকে বাড়তে না দেয়ার জন্যে আমেরিকার গভীর মনোযোগের মধ্যে তুরস্কের ঘটনার পর খবর পেলাম চীনের সাথে স্বার্থ ভাগাভাগির প্রশ্নে আমেরিকান কূটনীতি সফল হয়েছে। দীর্ঘকাল যাবত রাশিয়াকে চীনের উষ্ণ আলিঙ্গনে নার্ভাস করে রাখার পরিকল্পনা কার্যকর শুরু হয়েছে।     সাংহাই কোপারেশন অর্গানাইজেশন সংক্ষেপে এস.চি.ও জোটের কোর সদস্য চীন এবং রাশিয়া।প্রতিরক্ষা বিষয়ে উভয় দেশ অনেকে গুরুত্বপূর্ণ দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন করেছে।বিশ্বরাজনীতিতে এই জোট তাৎপর্য্যপূর্ণ অবদান বা ভূমিকা রাখার পথে পা ফেলে আসছে।কিন্তু বিশ্বের সাম্প্রতিক ঘটনাধারা এই ভূমিকার সামনে রাস্তা পিচ্ছিল করে দিয়েছে।

চীনের সাংহাই শহরে ২০০১সনে চীন,রাশিয়া,কাজাকিস্তান,কিরগিজিস্থান,তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তানকে নিয়ে গঠন হয়েছিলো সাংহাই কোপারেশান অর্গানাইজেশন।  চীন-আমেরিকা গোপনে সামরিক বিষয়ে বোঝাপড়া করে সফল মহড়া করার পর আরো গভীরে তারা পরস্পর পরস্পরকে সম্পর্কে বেঁধেছে।আমেরিকার সাথে সামরিক সম্পর্কে যাবার এবং যৌথ মহড়া করার কথা রাশিয়ার কাছে গোপন রেখেছিলো চীন।চীনের এই গোপনীয়তা চীনা জাতীয় স্বার্থ ভিত্তিক।তাই রাশিয়ার কাছেও কড়া গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছিলো।তবে রাশিয়া এতে হতাশ হয় কিছুটা।চীন তাতে জবাব দিয়ে ছিলো আমেরিকার সাথে চীনা সম্পর্কের কারণে রাশিয়ার সাথে চীনের অনেকদিনের সুসম্পর্ক উল্টোমুখী হবেনা।  
Cinআমেরিকার টার্গেট দক্ষিণ এশিয়া,দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও মধ্য এশিয়ায় দাপুটে বিচরণের মাধ্যমে সম্পদে, যোগাযোগে,প্রকৃতি ও প্রতিরক্ষায় নিজের কর্তৃত্ব গুছিয়ে আনা, নিজের চাপ বিস্তৃত করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ পরাষ্কতির অবস্থান ধরে রাখা।চীনের এতে বেশী রকম কিছু হারাতে হয়না।

রাশিয়ার একমাত্র নির্ভরযোগ্য মিত্র ভারতের চারিদিকে চীন এবং পাকিস্তানকে আরো যতো সহযোগীতা দরকার,আমেরিকা সেই ইস্যুতে চীনকে রাজী করিয়ে নিয়েছে।
মার্কিন ও চীনের ঐতিহ্যগত মিত্র পাকিস্তানকে দুই কিস্তিতে (৪৮+৫২=১০০)একশত বিলিয়ন ইউ এস ডলার দিয়েছে যার ৬০% ডলার ব্যয় হবে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে।পরাশক্তির উত্থান এবং তার বিকাশে চলার পথের বাধাগুলোর সাথে প্রেমের আলিঙ্গন করেনা।আগামীতে এই খেলা আমাদের ধারণার দেয়াল তছনছ করে দিতে পারে।নেপালে চীন হাত বিস্তৃত করে চলেছে,ভারতকে হাত গুটিয়ে নিতে বাধ্য করে।

এই রকম বাস্তবতায় নিকটতম ক্ষুদ্র দেশগুলোর সাথে ভারত প্রকাশ্যে কোনরূপ সমযোতায় যায়নি বাংলাদেশের মতো করে।ফলে চীনা এবং আমেরিকান প্রভাবাধীন এসব প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বাংলাদেশকে আলাদা রাখার নীতি কার্যকর করে চলেছে। ভারতের এই কৌশলগত জোর খাটানোর মধ্যে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের বিষয়টি আলোয় এসেছে।বাংলাদেশকে পাকিস্তান-বিদ্বেষী রাখার ব্যাপারে সবরকম তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।
তবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের আনুগত্যমূলক বন্ধুত্বকে অসহ্য মনে করছে চীন-পাকিস্তান ও আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে চীন থেকে কিছুটা দূরে রাখা সম্ভব হলে রাশিয়াকে একা পাওয়া সহজ হয় আমেরিকা ও তার জোটের।

তেমন অবস্থায় কেবলমাত্র রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল থেকে ভারত চীন-আমেরিকার সাথে দরকষাকষি করা দুরূহ হয়ে যেতে পারে।তেমন পরিস্থিতিতে ভারতকে যেনো বড় শক্তিগুলো এমন চাপ না দেয়,যেরকম ভারত বাংলাদেশকে করে চলছে।ইদানিং সন্ত্রাস ইস্যুর রাজনীতিকে বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক জোট দমন করার জন্যে কার্যকরভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে রাশিয়ান নীতিতে আখ চিবানোর মতো করে জীবন হীন করে ফেলা হয়েছে।একই রোগ দমনের অজুহাতে ভারত-পন্থীদেরকে চিবিয়ে চিবিয়ে কষিয়ে শুকনো করার একটা ধমকের ঊড়ে যেতে দেখা যায় বাংলাদেশ ও ভারতের গা ঘেঁষে।পশ্চিমারা বলছে,আই এস যায়গা করেছে বাংলাদেশে।বাংলাদেশ সরকার বলছে,তারা আই এসের অস্তিত্ব দেখেনা বাংলাদেশে।যদিও আই এস ওয়েবসাইটে বাংলাদেশে অপারেশনগুলোর  উল্লেখ করা হয়েছে।    বিদেশী সহ ব্লগার হত্যার সাথে যুদ্ধাপরাধী এবং সরকার-বিরোধীরাই জড়িত বলেই বাংলাদেশ সরকারের দাবী।সরকারের মতে, জামাত-বিএনপির পক্ষে ইসলামী জঙ্গিরাই চায় সরকারের পতন ঘটাতে।এদিকে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হঠাৎ যখন দাবী করে বসলেন,আমেরিকা চায় বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন।

তখন বুঝা যায় সরকারের ধারণার অবস্থান বদল হয়েছে।কিছুটা ভয়ে ভয়ে আছে।বরং আমেরিকান-জোটের ষড়যন্ত্র এড়িয়ে ক্ষমতায় থাকার আপ্রাণ চেষ্টা তাদের।যাহোক, সরকারের নীতি নির্ধারকদের এই পথ বাংলাদেশে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারকে ভারতের প্রতি আরো অনুগত হয়ে থাকতে বাধ্য করবে।যা ভারতকে বাংলাদেশে আরো হাত বিস্তৃত করার সুযোগ করে দেবে।যা ক্ষমতাসীনদের সাথে অনেক আগেই নাকি বোঝাপড়া হয়ে আছে। এমনটাই দাবী করছেন অনেকে।প্রশ্ন হলো,আমেরিকা সরাসরি কর্তৃত্ব চাইলে ভারত কোন চ্যালেঞ্জে যাবে কি?মনেতো হয়না।তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষাপ্রধান সার্গি সগো স্পষ্ট করে বলেছেন,“চীনের সাথে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামূলক সম্পর্কের গভীরতা বিস্তর।এই সম্পর্ক উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্যে খুবই জরুরী।তারপরও এক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন হচ্ছে,কিভাবে চীন রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ন্যাটোর আগ্রাসন নীতিকে বিবেচনায় রেখে পদক্ষেপ নেবে”।
রাশিয়ার এই মন্তব্যের মধ্যে চীনের উপর নির্ভরতা এবং মার্কিণ-ভীতিজনিত হতাশার চাপের ছাপ দেখা যায়।  এই বিষয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে রয়েছে তর্ক-বিতর্ক।রুশ-ভারত পন্থীরা একভাবে বাংলাদেশে প্রচার করে চলেছেন,যাতে সরকার প্রধান খোশ মেজাজে থাকেন।তাদের ব্যাখ্যায়,ভারত যেকোন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম।তারা চীনের নৌবাহিনী এবং মার্কিণ নৌবাহিনীর যৌথ মহড়ার উল্লেখ করে পরিবর্তিত পরিস্থিতি তুলে ধরার মুরোদ নেই।সপ্তাহব্যাপী চীন-মার্কিণ যৌথ মহড়া সমাপ্ত হবার এক সপ্তাহের মধ্যেই রাশিয়ার যুদ্ধজেট তুরস্কের আকাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়েছিলো।তাছাড়াও দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিণ অবকাঠামো নির্মানের খবর চীন-মার্কিণ নয়া জোটের লক্ষণ নয় কি?
আমি মনে করি,প্রকৃত পরিস্থিতির চেহারা উল্লেখ করা বিশ্লেষকের দায়িত্ব।সরকার এবং রাজনীতিকের দায়িত্ব পালনের কৌশল হচ্ছে তাদের একান্তই নিজস্ব।নিজের স্বার্থরক্ষায় নিরাপদ পথ তারা নিজেরাই খুঁজেন।সেভাবেই হয়ে আসছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।  

লেখক:-

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

email: এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে। ).

Bangla-Kotir
line seperator right bar ad
sunnati hazz
line seperator right bar ad
RiteCareFront
line seperator right bar ad
Adil Travel Winter Sale front
line seperator right bar ad
starling front
line seperator right bar ad

Prothom-alo Ittafaq Inkilab
amardesh Kaler-Kontho Amader-Somay
Bangladesh-Protidin Jaijaidin Noya-Diganto
somokal Manobjamin songram
dialy-star Daily-News new-york-times
Daily-Sun New-york-post news-paper

line seperator right bar ad

 

 Big

line seperator right bar ad
Rubya Front
line seperator right bar ad

Motin Ramadan front

line seperator right bar ad
 ফেসবুকে বিএনিউজ24
line seperator right bar ad
   আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...
line seperator right bar ad
banews ad templet
 
 
line seperator right bar ad
   ফটোগ্যালারি
  আরো ছবি দেখুন -->> 
line seperator right bar ad
 
    পুরাতন সংখ্যা
banews ad templet