যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’এর সাবেক নেতৃবৃন্দ কার স্বার্থে কাজ করছেন

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক নেতৃবৃন্দ কার স্বার্থে কাজ করছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র জনৈক সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতির কাছে এমন প্রশ্ন করেছিলাম । তাকে বললাম, নিউইয়র্কের পত্রিকায় জনৈক সাবেক মন্ত্রী সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র একশ্রেণীর সাবেক নেতৃবৃন্দের যেসব মন্তব্য ও হুমকি প্রকাশিত হয়েছে তাতে বুঝা যায় যে, বিএনপি’র কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীরাই এখন পরস্পরের প্রধান প্রতিপক্ষ । Banews24 pic 62দীর্ঘদিন থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ৪/৫ ভাগে ভাগ হয়ে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগ এমনকি কুৎসা রটাতে মোটেই দ্বিধা করেন না।

ঐ নেতার কাছে জানতে চাইলাম, দেশের এ চরম দুর্দিনে এমনকি শহীদ জিয়ার মরণোত্তর বিচারের হুমকি মুখে এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ  কিংবা নতুন করে মামলা দায়ের করার দুঃসময়ে আপনাদের এ ভূমিকা কার স্বার্থে কাজ করছে।
আমি পত্রিকায় প্রকাশিত ক’টি বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি এবং এগুলো যে বিএনপি-বিরোধী শক্তিকে সাহায্য করছে তাও তাকে বলতে ভুলি নি। তাকে বললাম আপনারা ৪/৫ ভাগে ভাগ হয়ে যান। কোনভাবেই একই মঞ্চে বসতে রাজী হন না। যখনই এ ভাগ-ভাটোয়ারা তথা নেতৃত্বের দ্বন্ধ অবসানের কোন আলামত দেখা যায় তখন আগের সব বিরোধ-বিবাদ ভুলে আপনারা এক হয়ে যান। কখনো কখনো সবাই একখানে হলেও এক সময় আবার ভাগ হয়ে যান । আজকে একখানে আবার কাল অন্যখানে।
তিনি বললেন, কমিটি নেই বলেই এমনটি হয়েছে। আমি বললাম, কমিটি গঠন করলে এবং সে কমিটিতে প্রত্যাশিত পদ না পেলে আপনারা সে কমিটি যে মানবেন না, তেমন ঘোষণাতে বার বার শোনা গেছে।  কমিটি করার জন্য যে পরিবেশ দরকার সে পরিবেশ তো আপনারই সৃষ্টি করছেন না। মনে হয় বিএনপি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তাই বিএনপি’র নেতৃত্ব নতুন কারো হাতে তুলে দিতে চাচ্ছেন না। আপনাদের মতে যে কমিটিই হবে সেখানে আপনাদের কয়েকজনকে আপনাদের প্রত্যাশিত পদ দিতে হবে। তা না হলে সে কমিটি মেনে নেবেন না। আপনারা বলতে চাইছেন: আমি বিএনপি’কে ভালোবাসি, তবে আমাকে আমার পছন্দ মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে হবে। ঘুরে ফিরে আমরাই ঐ পদগুলো ধরে রাখবো। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আমি আগেও ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।
নেতৃত্ব পাবার জন্য হাহাকার করার কারণে এখানকার বিএনপি’র নেতারা সবাই সবার বিরুদ্ধে।  একবার নিউইয়র্কের কিছু নেতা তারেক রহমানের সাথে দেখা করার জন্য লণ্ডনে গিয়েছিলেন । এ ধরনের একাধিক নেতা আমাকে জানিয়েছেন তারেক রহমান তাদের দুইজনের কে কোন পদ চান এমন প্রশ্ন করলে তারা দুইজনই সভাপতির পদ দাবি করলেন। তারেক রহমান  তাদের দুইজনকে বললেন আপনারা দুইজনই ঠিক করেন কে সভাপতি আর কে সাধারণ সম্পাদক হবেন। ঐ দুই নেতার কেউই সভাপতির পদ ছাড়া সাধারণ সম্পাদকের পদ নিতে রাজী হন নি। তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছলে হয়তো ঐদিনই কমিটির একটা রূপরেখা তৈরি হতো। তারা নাকি  সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব তারেক রহমানের উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।
২০১৪ সনের ২১ সেপ্টেম্বর আমি লণ্ডনে তারেক রহমানের সাথে ২ ঘন্টা ৩ মিনিট কথা বলেছি। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি নিয়েও কথা হয়েছে। কমিটিবিহীন অবস্থায় নিষ্ঠাবান উঠতি নেতাকর্মীদের তথা দল হিসেবে বিএনপি’র যে বিশেষ ক্ষতি হচ্ছে তারেক রহমান তা অনুভব করেন। এরপরেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহিদুর রহমান লণ্ডন হতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। লণ্ডনে এবং নিউইয়র্কে তার সাথেও আমার একই বিষয়ে কথা হয়েছিল।

নিউইয়র্কে তিনি বিএনপি’র সবাইকে নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন । কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছার মতো  কোন পরিবেশ তিনি দেখতে পান নি। এমনকি তারই উপস্থিতিতে নিউইয়র্ক সিটির একটি হোটেলে মোহিদুর রহমানের উপস্থিতিতে বিএনপি’র পরস্পরবিরোধী গুপের আক্রমণে একজন নেতৃস্থানীয় কর্মীর নাক থেকে ঝরঝর করে রক্ত ঝরার দৃশ্য তাকে দেখতে হয়েছে। ঐখানে বিএনপি’র সবগ্র“পের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা যে মোহিদুর রহমানকে কতোখানি খাটো করলেন তার উপস্থিতিকে অপমান করলেন তারা তা একবারও অনুভব করেছেন বলে মনে হয় নি। বিব্রত মোহিদুর রহমান হতবাক হয়ে এ দৃশ্য দেখলেন। এমন পরিস্থিতি দেখে মোহিদুর রহমান তারেক রহমানের কাছে কি বার্তা পৌঁছাতে পারেন বিএনপি’র নেতারা তা মোটেই পরোয়া করেন নি।
বিএনপি’র যুক্তরাষ্ট্র কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পর পদ হারানো কোন কোন  নেতাকে বলতে শুনেছি, আমরা জিয়ার সৈনিক। আমাদেরকে বিএনপি করার জন্য কেন্দ্রের উপর নির্ভর করতে হবে না। তথাকথিত নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য কোন কোন নেতা ‘আমরা বিএনপি’ ‘বহির্বিশ্ব বিএনপি’ ইত্যাদি নানা নামে নতুন নতুন দল বের করলেন, যার সাথে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির কোন সম্পর্কই ছিল না। তবে এমন অভিযোগ রয়েছে যে, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটি’র কোন কোন নেতার সাথে  নাকি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র এসব শাখা-প্রশাখার নেতাদের যোগাসাজোস ছিল।
পত্রিকায় প্রকাশিত ক’টি বিষয়ের ব্যাপারে আমি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা’য় যোগাযোগ করেছি। পত্রিকাটির দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত সাংবাদিকের কাছে  জানতে চেয়েছি: বিএনপি’র জনৈক সাবেক মন্ত্রীর ব্যাপারে আপনারা যা চাপিয়েছেন, সেগুলোর অনুকূলে আপনাদের কাছে কোন প্রমাণ আছে কিনা। তিনি বললেন, আমরা কেবল বিএনপি’র নেতারা বক্তৃতায় যা বলেছেন তা-ই ছাপিয়েছি, সুতরাং আমাদের তো তথ্য-প্রমাণের প্রয়োজন নেই।
একই বিষয়ে সাবেক ঐ সিনিয়র সভাপতির মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি একজন সাবেক মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে বললেন, ঐ মন্ত্রী নাকি তাদেরকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন স্টেটে কমিটি গঠন করছেন। তাদের সাথে কোন যোগাযোগ করছেন না। তার যুক্তি সাবেক মন্ত্রী আমাদের সাথে কথা বলবেন, কিভাবে কমিটি করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করবেন। তাছাড়া ঐ মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র কমিটি না করে কেন স্টেট কমিটি করবেন?
আপনারা মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি না বোধক উত্তর দিলেন। আপনারা ঐ মন্ত্রীর সাথে আলাপ না করেই তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তুললেন যে, তিনি লাখ টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রী করছেন। 

এমনকি আপনারা তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন। তাকে প্রতিহত করতে গিয়ে মারামারি করে আপনারা দলবদ্ধভাবে জেলে যাবেন। আপনাদের এ ধরনের ভূমিকা তো বিএনপি’র বিরুদ্ধেই যাচ্ছে। অথচ দেশে বিএনপি’র হাজার হাজার নেতাকর্মী সাজানো মামলায় কারাগারে রয়েছেন। অজানা সংখ্যক নেতাকর্মী নিহত কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নতুন মামলা হয়েছে। এসব খবর শুনে তো আপনারা কারো বিরুদ্ধে আন্দোলন করে জেলে যাবার ঘোষণা দেন নি। অথচ আপনারা আপনাদের দলের নেতাকে ঠেকাতে গিয়ে মারামারি করবেন। আপনারা মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ না করলেও তারেক রহমানের সাথে তো যোগাযোগ করতে পারতেন, কারণ আপনারাই  বলেছেন সাবেক মন্ত্রী নাকি তারেক রহমানের বরাত দিয়ে কমিটি করছেন। 

সত্যাসত্য জানতে পারতেন তারেক রহমান ঐ সাবেক মন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে কমিটি করার দায়িত্ব দিয়েছেন কিনা। তা না করে ঐ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আপনারা তো বিএনপি-বিরোধী শক্তিকে সাহায্য করছেন, মূলত বিএনপি’র মূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়েছেন। নিজেদের সমস্যা একান্তে বসে সমাধান না করে পত্র-পত্রিকায় এভাবে হুমকি দলের ইমেজকে ভূলণ্ঠিত করেছে। সারা বিশ্বে বিএনপিকে হেয় করা হচ্ছে। আপনাদের মন্তব্য প্রমাণ করে আপনারাই বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান, অন্য কাউকে সুযোগ দিতে চান না।
আমি তাকে বললাম, এমন অভিযোগ অহরহ শোনা গেছে  যে, আপনাদের সাথেই থাকা কোন কোন নেতা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্টেটে কমিটি করেছেন ।

পদ বিক্রী করেছেন। ঐ সাবেক সহ-সভাপতি এমন অভিযোগ পরোক্ষভাবে স্বীকার করে বললেন, এখন তো তিনি আর কোন পদে নেই। তাকে বললাম, এমন কথা শোনা যায় যে, কোন পদে না থাকলেও ঐ  নেতা নাকি সবখানেই আছেন, তিনি এখনো  নাকি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চান।   
বিএনপি’র নিষ্ঠাবান নেতাকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র এ বিভক্তির জন্য  কিছু সাবেক নেতাকে দায়ী করেন। তাদের অভিযোগ নেতাদের কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে কোন কোন বিএনপি’র সাধারণ সমর্থকদেরকে গুরুত্বপূর্ণ  পদে বসিয়ে দেয়ার কারণেই পদবঞ্চিতরা ক্ষুব্ধ হন। তাদের মধ্যে আইডেন্টিটি ক্রাইসিস দেখা দেয়া।

নতুন নতুন নামে নতুন নতুন কমিটি গঠন করে নিষ্ঠাবান নেতাকর্মীদের মধ্যে অনৈক্য ও বিভক্তি সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়ায় যে, দলের নেতৃত্বের তোয়াক্কা না করেই ৮/১০ একত্রিত হয়ে নতুন নামে নতুন কমিটি গঠিত হতে থাকে। বিজ্ঞাপন ও সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ছবি তোলার এবং ছবি ছাপানোর হিড়িক দেখে অন্যরাও নতুন নতুন বেঙের ছাতা সৃষ্টি করেন । ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি তথাকথিত নেতাসর্বস্ব হয়ে পড়ে। দলের ঐক্য, আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য চাপা পড়ে যায়।
বিএনপি’র একনিষ্ট সমর্থক এবং এক সময় দেশে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন বহু প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী এখন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট। তাদেরকে কেউ ডাকেও না। তাদের অনেককেই এখন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা মনে হয় চিনেও না। তাদের কাছে বিএনপি’র বিভক্তির কারণ জানতে চাইলে তারা কিছু নেতার পদ-লিপ্সা আর চাঁদাবাজির সমালোচনা করেন। তারা বলেন, সবাই নেতা হতে চায়। নেতা হলেই মঞ্চে চেয়ারে বসার সুযোগ পাওয়া যাবে। চেয়ারে বসলে পত্রিকায় ছবি আসবে।

  চেয়ারে বসা ও ছবি তোলার প্রতিযোগিতাই মূলত বিএনপি’র এতো টুকরায় বিভক্ত হবার পটভূমি হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। অনেক সময় দেখা গেছে মঞ্চে বসতে বসতে দর্শকদের সারিতে আর কেউ নেই। আবার প্রায়ই দেখা যায়, যতোজন দর্শক ততোজন বক্তা। মোটা অংকের টাকা দিয়ে নাকি মঞ্চে বসার এবং বক্তব্য প্রদানের সুযোগ সংগ্রহ করা হয়। এমন অভিযোগও রয়েছে যে, চাঁদার পরিমাণ অনুযায়ী মঞ্চে কোন সারিতে স্থান দেয়া হবে তা নির্ধারিত হয়। চাঁদার পরিমাণ অনুযায়ী বক্তৃতার সময়ও নির্ধারিত হয়।
তারা বলেন, একই দিন একই ইস্যুতে চার-পাঁচভাগে সভা কিংবা বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। চার-পাঁচভাগে না হয়ে একক আয়োজন হলে তা যে আরো জোরালে ও কার্যকর হয়, এ সাধারণ চেতনাবোধও অনেকের মধ্যে কাজ করে বলে মনে হয় না। চেয়ার ভাগাভাগি কিংবা পদ ক্রয় বা বিক্রীর এবং অর্থ আয়ের জন্য বিএনপি  কারো বাহন হওয়া উচিত নয়।
বিএনপি’র এসব নীরব শুভানুধ্যায়ী-সমর্থকরা অভিযোগ করেন মাঝে মাঝে কোন কোন নেতা ফটোসেশনের জন্য দুই একজন নির্দিষ্ট কংগ্রেসম্যানদের  সাথে সাক্ষাৎ করেন । আর বাইরে প্রচার করেন যে, তারা বিএনপি’র জন্য লবিং করছেন। এসব ছবি তারা বিএনপি’র বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের কাছে পাঠিয়ে নিজেরদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে ব্যবহার করেন।  যদিও গত ৮ বছরে  সমস্যা-সংকুল বাংলাদেশের পরিস্থিতি উন্নয়নে কিংবা বিএনপি’র উপর দলননীতি বন্ধে তাদের এ ধরনের কথিত ফটোসেশন কোন ভূমিকাই রাখে নি।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও অযোগ্যতার জন্যই কার্যকর লবিং কখনোই হয় নি। সাবেক নেতৃত্ব এ ব্যাপারে কোন ভূমিকাই রাখতে পারে নি।
তাদের অভিযোগ সাবেক কমিটি’র কোন কোন নেতা চান না যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কোন কমিটি হোক । আর কমিটি হলেও এমনভাবে হবে যার উপর তাদের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ শতভাগ বহাল থাকবে। কমিটির কোন পদে না থেকেও তারাই হবেন মূল নিয়ন্ত্রা। এমন কাউকে তারা নেতৃত্বে চান না, যাদেরকে তারা  প্রভাবিত করতে পারবেন না।

এমন সম্ভাবনা আঁছ করতে পেরেই তারা বিএনপিকে কমিটিহীন রাখার কাজটি অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে সম্পন্ন করছেন, যাতে কমিটিহীন বিএনপি’র কর্তৃত্ব তাদের হাতেই থাকে।  আর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি যাতে কোনভাবেই ঐক্যবদ্ধ ও  শক্তিশালী হতে না পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সাথে  দেন-দরবার করার পর্যায়ে না যেতে পারে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সে ব্যাপারে সক্রীয় রয়েছে। বিএনপি’র কোন কোন নেতার সাথে বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল  এবং প্রতিবেশি একটি দেশের গোয়েন্দাদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এমনকি বিএনপি’র কোন কোন নেতা আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে  যৌথভাবে ব্যবসা করার অভিযোগও রয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নানাবিধ চক্রান্তের শিকার। বিএনপি’কে নিষ্ক্রীয় রাখতে  বাহ্যিকভাবে নেতৃত্বের কোন্দলকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিএনপি সহজে এ চক্রান্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে বলে মনে হয় না।
বস্তুতঃ দীর্ঘদিন যাবত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কমিটি নেই। সর্বশেষ কমিটির নেতাদের মধ্যে নেতৃত্বের ও কর্তৃত্বের রেষারেষি বিএনপি’র ঐক্যে ফাটল ধরে। ফলে বিএনপি দুইভাগ থেকে এখন ৪/৫ ভাগে বিভক্ত।  আবার বিএনপি’র পাশাপাশি ৩৪ সংগঠনের বিজ্ঞাপন তো অহরহ পত্রিকায় আসে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কর্মীর চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি। মনে তাদের মধ্যে এমন অনুভূতি কাজ করছে: ‘আমরা সবাই নেতা’ কিংবা ‘আমি কারো চেয়ে কম নই’।
এমন গণহারে নেতা গজানোর পিছনে উদ্দেশ্য রয়েছে। এদের অনেকে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র বড় পদে থাকলে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটিতে ভালো পদ পাওয়া যাবে।  এবং সেই সুবাধে ভবিষ্যতে কোন নির্বাচনে বিএনপি থেকে এমপি কিংবা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনায়ন পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে এমন শতাধিক বিএনপি নেতা রয়েছেন যারা এমপি মনোনয়ন  প্রাপ্তির জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। এসব পদের জন্য তারা কতোখানি যোগ্য, দেশে তাদের জনসম্পৃক্ততা কতোখানি, দলের জন্য তাদের অবদান কতটুকু এসব বিষয়গুলো তারা মোটেই বিবেচনায় আনেন না। তাছাড়া আমেরিকায় আসার আগে তাদের অনেকেরই যে কোন রাজনৈতিক অবস্থান বা পরিচিতিই ছিল না  তারা  সে বাস্তবতা আমলেই নেন না ।
অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন আমি বিএনপি’র কেউ না হয়েও বিএনপি’কে নিয়ে আমার মাথাব্যথা কেন? যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাংলাদেশে এমন কোটি কোটি মানুষ রয়েছেন যারা বিএনপি’র সদস্য  নন, কিন্তু বিএনপি’কে ভালোবাসেন। আমি তাদেরই একজন।

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং শহীদ জিয়ার অপরিসীম আত্মত্যাগের কারণে বিএনপি’র হাজারো রকমের দোষ-ক্রুটি সত্বে সাধারণ মানুষের মতো আমিও বিএনপি’র প্রতি দুর্বল। আমি বিএনপি’কে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব  রক্ষার শক্তি বলে মনে করি।  বিশ্বাস করি বিএনপি’র মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বার্থ এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য হেফাজত করা সম্ভব। তাই বাংলাদেশের এ চরম দুর্দিনে বিএনপি’কে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী রাখতে হবে। বিএনপি’র ক্ষতি হওয়া মানে দেশের মানুষের ক্ষতি হওয়া, স্বাধীনতা-সার্বভৌত্বের ভিত্ দুর্বল হওয়া। বিএনপি যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে চেতনাবোধ থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কোন্দলে মর্মাহত হই। কোন ব্যক্তির প্রতি আমার কোন বিদ্বেষ নেই। কারো প্রতি কোন দুর্বলতাও নেই।

আমি স্পটষ্ট কথা বলি, স্পষ্টভাবে লিখি। এর আগেও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তারেক রহমানের উপর লেখা একটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে জনৈক বিএনপি নেতা এবং তার সমর্থকদের ভূমিকা  তারেক রহমান তথা বিএনপি’র জন্য বিব্রতকর ছিল বিধায় ঐ তৎপরতারও আমাকে মর্মাহত করেছে। তখনো আমি কাউকে ছাড় দিয়ে লিখি নি। একজন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা এবং বিএনপি’র নীরব শুভানুধ্যায়ী হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুসংহত রাখতে কেবল দেশে নয় যুক্তরাষ্ট্রেও বিএনপিকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখা সব দেশপ্রেমিকেরই দায়িত্ব । সে দায়িত্ববোধের তাড়নায় এ লেখা। *
লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক, নিউইয়র্ক

Email: এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।



Bangla-Kotir
line seperator right bar ad
sunnati hazz
line seperator right bar ad
RiteCareFront
line seperator right bar ad
Adil Travel Winter Sale front
line seperator right bar ad
starling front
line seperator right bar ad

Prothom-alo Ittafaq Inkilab
amardesh Kaler-Kontho Amader-Somay
Bangladesh-Protidin Jaijaidin Noya-Diganto
somokal Manobjamin songram
dialy-star Daily-News new-york-times
Daily-Sun New-york-post news-paper

line seperator right bar ad

 

 Big

line seperator right bar ad
Rubya Front
line seperator right bar ad

Motin Ramadan front

line seperator right bar ad
 ফেসবুকে বিএনিউজ24
line seperator right bar ad
   আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...
line seperator right bar ad
banews ad templet
 
 
line seperator right bar ad
   ফটোগ্যালারি
  আরো ছবি দেখুন -->> 
line seperator right bar ad
 
    পুরাতন সংখ্যা
banews ad templet