একটি বৈচিত্রময় ভ্রমণ বৃত্তান্ত: বায়তুল মুকাদ্দাস, মসজিদুল আকসা ও নবীদের দেশ ফিলিস্থিন

অধ্যাপক মাওলানা মুহিব্বুর রহমান: পৃথিবীর তৃতীয় পবিত্রতম নগর আল কুদস (জেরুজালেম) দ্বিতীয় প্রাচীনতম মসজিদ, প্রথম কেবলা, নবী 1 Muhibbur Rhaman Baitul Moqadessমুহাম্মদ (সা:) এর আসমান ভ্রমণ মেরাজ গমনের প্রারম্ভিক স্থান অসংখ্য নবী-রাসুল (আ:) গণের জন্ম, চলাফেরা, মৃত্যু ও কবরের দেশ ফিলিস্থিন বায়তুল মুকাদ্দাস ও মসজিদুল আকসা সফরের একান্ত বাসনা ছিল বহুদিনের। কিন্তু নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা হেতু সে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতে বিলম্ব হয়েছিল। বিশেষত: সে দেশ ও অঞ্চলটি বর্তমানে ইসরাঈল নামক ইহুদী রাষ্ট্রের দখলে থাকা বিধায় আরো ছিল অসুবিধা। যা হোক অধির আগ্রহের কারণে সাহস করে গত জানুয়ারী মাসে আমার দ্বিতীয় ছেলে মুফতি-মাওলানা হাফিজ ক্বারী মুজিবুর রহমানকে অন লাইনে টিকেট দেখতে বললাম। সে তখন অনেক খুঁজাখুঁিজর করে আজারবাইজান এয়ার লাইনে আমার এবং তার জন্য দুটি টিকেট ত্রুয় করে রাখে কিন্তু এরই মধ্যে হঠাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্প সাহেবের মুসলিম বিরোধী বিধি নিষেধের কারণে আত্মীয়-স্বজন সবাই সে কাংখিত সফর মুলতবী করতে বলতে লাগলেন।

আমি বাহ্যিকভাবে তাদের পরামর্শের বিরোধীতা করলাম না। কিন্তু টিকেটও ক্যানসেল করি নাই। কিছুদিন পর অবস্থা অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ায় আর কেউ বাঁধা না দেয়াতে সফরের প্রস্তুতি নিয়ে গেলাম। সে মতে ১৮ ফেব্রুয়ারী, শনিবার-২০১৭ তারিখে আমরা দুইজন সকাল সাড়ে এগারটার ফ্লাইটে চড়ে পরদিন সকাল সাড়ে ৭ টা পৌঁছলাম আজারবাইজান ‘বাকু’ এয়ারপোর্টে। সেখানে দুই ঘন্টা অপেক্ষা করে আজারবাইজান এয়ারপোর্ট ‘বাকু’ থেকে তেলাবিবের ‘বেনগরিয়ান’ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে গিয়ে নামলাম স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে এগারটায়। পূর্বে শুনে ছিলাম তেলাবিবে ওরা মুসলমানদেরকে ৫ থেকে ১০ ঘন্টা রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু মহান আল্লাহর দয়ায় আমাকে কিছুই জিজ্ঞাসা করেনি তবে আমার ছেলেকে প্রায় 2 Mow Mohibbur Rahman 1দেড় থেকে দুই ঘন্টা রেখেছে। সেখান থেকে বের হয়ে ৭০ ডলার দিয়ে একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে কাংখিত সে জেরুজালেম পৌঁছে বায়তুল মুকাদ্দাস ও মসজিদুল আকসার নিকটে ‘রিভলী’ নামে একটি হোটল এক সপ্তাহের জন্যে ভাড়া করলাম। হোটেল থেকে হেঁটে মসজিদে পৌঁছতে প্রায় ১০/১২ মিনিটের পথ।

সব কিছু ঠিক করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। রাতে বের না হয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম, যাতে পরদিন সকাল সকাল উঠে ফজরের জামাতে শরীক হতে পারি।
২০ ফেব্রুয়ারী তারিখ সোমবার সকাল ফজরের ২/৩ ঘন্টা পূর্বে জেগে তাহাজ্জ্বদ নামাজ এবং আরো কিছু নফল ইবাদত সেরে রওয়ারা দিয়ে ১২/১৩ মিনিটে গিয়ে পৌঁছলাম চির আকাংখিত স্থান বায়তুল মুকাদ্দাসে। সেখানে রয়েছে উড়সব ড়ভ জড়পশ এবং মসজিদুল আকসা। সেদিন থেকে শুরু হয়েছিল আমাদের ভ্রমণ। যেহেতু পুরো ভ্রমণ বৃত্তান্ত নিয়ে একটি বই লেখা শুরু করে দিয়েছি এবং ইতিমধ্যে আল হামদুলিল্লাহ প্রায় শতাধিক পৃষ্ঠার মতো লেখা হয়ে গেছে, তাই এখানে দীর্ঘ আলোচনা না করে অত্যন্ত সংক্ষেপে যা কিছু দেখেছি তার বর্ণনা দেব ইনশাল্লাহ।
সেখানে আমরা এক সপ্তাহ ছিলাম। এ সময়ে যা যা দেখেছি তা হচ্ছে সংক্ষেপে মসজিদুল আকসা, যেখানে হুজুর (সা:) একলক্ষ চব্বিশ বা দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রাসুলকে সাথে নিয়ে জামাতে নামাজ পড়েছিলেন আর সে জামাতের ইমাম ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা:)। এবং এ মসজিদে এক রাকাত নামাজ পঞ্চাশ হাজার রাকাতের সমান। “কুব্বাতুস ছাখরা” যাকে উড়সব ড়ভ জড়পশ বা গুম্বুজে ছাখরা বলা হয়, সেখান থেকে আসমানের ভ্রমণ শুরু হয়। ভূল করে লোকেরা শুধু সেই বিল্ডিংকে বায়তুল মুকাদ্দাস বলে। আসলে এ পুরো এলাকার নাম বায়তুল মুকাদ্দাস।

তাই কুব্বাতুস ছাখরা এবং মসজিদুল আকসা দুটোই বায়তুল মুকাদ্দাস। শুধু তাই নয়, নবী (সা:)এর মিরাজ গমণের বাহক বুরাক যেখানে বাধাঁ হয়েছিল সেখানে ও ছোট একটি মসজিদ রয়েছে, যাকে বুরাক মসজিদ বলে তাও দেখেছি। এ ছাড়া মসজিদের নিচে হযরত মরিয়ম (আ:) যে কক্ষে ইবাদত করতেন এবং সেখানে হযরত জিবরাঈল (আ:) এসে হযরত ঈসা (সা:) এর জন্মের সংবাদ দিয়ে ছিলেন তাও দেখেছি। এ ছাড়া এ পুরো মহল্লা সেখানে হযরত ঈসা (আ:), হযরত মরিয়ম (আ:), হযরত যাকারিয়া (আ:), হযরত ইয়াহইয়া (আ:), হযরত সোলায়মান (আ:), হযরত দাউদ (আ:)সহ অন্যান্য নবী-রাসুলগণ থাকতেন এবং লালিত-পালিত হয়েছিলেন তাও দেখেছি এবং একটু দূরে ‘মাকবারায়ে রাহমাহ’ নামক কবরস্থান যেখানে সাহাবী হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রা:) এবং হযরত শাদ্দাদ বিন আউস (রা:) সমাহিত রয়েছেন, সেখানে গিয়ে ছিলাম। এর একটু দূরে হযরত সালমান ফারসী (রা:) এর মাজার ও যিয়ারত করেছি এবং কিছু দুরে হযরত ঈসা (আ:) এর জন্ম স্থান ‘ব্যথেল হাম’ ও যাই। তারপর হযরত সোলায়মান (আ:) হযরব দাউদ, হযরত যাকারিয়া, হযরত ইয়াহইয়া (আ:) তাদের মাজারও যিয়ারত করি। হযরত যাকারিয়া ও ইয়াহইয়ার মাজার মাউন্ট অব ওলিব এ অবস্থিত।
তারপর আমরা জেরিকো নামক স্থান, সেখানে হযরত মুসা (আ:) মাজার সেখানে গিয়ে অনেক সময় অতিবাহিত করে তাঁর মাজার যিয়ারত করি। এরপর জেরুজালেম থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে হিবরুন শহরে চলে যাই। সেটাকে হযরত ইব্রাহীম খলিলের নামে ‘খলিল শহর’ বলা হয়। সেখানে বেশ বড় মসজিদে খলীল রয়েছে। এর ভিতরেই রয়েছে হযরত ইব্রাহিম, হযরত ইসহাক, হযরত ইয়াকুর ও হযরত ইউসুফ (আ:)’র মাজারসমুহ এবং এর সাথে হযরত ইব্রাহীমের স্ত্রী হযরত সারার ও কবর রয়েছে এ গুলো সব যিয়ারত করি।
সেখান থেকে আসার পথে ‘হালহোল’ নামক স্থানে হযরত ইউনুস (আ:) কবরও যিয়ারত করি। সে অঞ্চলে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রা:) মাকাম। কেউ কেউ বলেন, সেটা তাঁর মাজারও বটে। তাও জিয়ারত করেছি। তারপর সর্বশেষে বায়তুল মুকাদ্দাসের এর দীর্ঘ দিনের মাননীয় ইমাম আল্লামা সোলায়মান এর সাথে বৈঠক করি। উনি জেরুজালেম জাকাত কমিটির প্রধান।

তার সাথে আমাদের পাচঁ মিনিটের একটি ভিডিও টকও রয়েছে। উনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আমরা এটা প্রচার করবো ইনশাল্লাহ। পূর্বেও বলেছি যে, এ সফর এবং ফিলিস্থিনের ইতিহাসসহ একটি বই লেখা শুরু করেছি। শ্রীঘ্রই সে বইটি পাঠক সমক্ষে উপস্থাপন করবো। সেখান থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারী রওয়ানা দিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারী সহীসালামতে নিউইয়র্কে পৌঁছি।

Bangla-Kotir
line seperator right bar ad
sunnati hazz
line seperator right bar ad
RiteCareFront
line seperator right bar ad
Adil Travel Winter Sale front
line seperator right bar ad
starling front
line seperator right bar ad

Prothom-alo Ittafaq Inkilab
amardesh Kaler-Kontho Amader-Somay
Bangladesh-Protidin Jaijaidin Noya-Diganto
somokal Manobjamin songram
dialy-star Daily-News new-york-times
Daily-Sun New-york-post news-paper

line seperator right bar ad

 

 Big

line seperator right bar ad
Rubya Front
line seperator right bar ad

Motin Ramadan front

line seperator right bar ad
 ফেসবুকে বিএনিউজ24
line seperator right bar ad
   আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...
line seperator right bar ad
banews ad templet
 
 
line seperator right bar ad
   ফটোগ্যালারি
  আরো ছবি দেখুন -->> 
line seperator right bar ad
 
    পুরাতন সংখ্যা
banews ad templet