প্রচ্ছদ ধর্ম ও জীবন

ইতিকাফে আল্লাহর নিবিড় সান্নিধ্য লাভ

 মাহে রমজান রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের বারতা নিয়ে আসার পাশাপাশি এমন একটি মহার্ঘ রাতের কথাও ঘোষণা করেছে, যে রাতে মানুষের ভূত-ভবিষ্যৎ ও পাপ-পুণ্যের সমন্বয় সাধন করা হয়। তাই এই মহিমান্বিত রাতের সুফল অর্জনের জন্য রোজাদারগণ রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফে শামিল হয়।
slide-showইতিকাফের ফলে আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং আল্লাহ তায়ালার জন্য মস্তক অবনত করার প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে। কেননা, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন : 'আমি মানুষ এবং জিন জাতিকে একমাত্র আমারই ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।' [সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত_ ৫৬]
আর এই ইবাদতের বিবিধ প্রতিফলন ঘটে ইতিকাফ অবস্থায়। কেননা, ইতিকাফ অবস্থায় একজন মানুষ নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর ইবাদতেরসীমানায় বেঁধে নেয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় ব্যাকুল হয়ে পড়ে। আল্লাহ তায়ালাও তার বান্দাদের নিরাশ করেন না। বরং তিনি বান্দাদের নিরাশ হতে নিষেধ করে দিয়ে বলেছেন : '(হে রাসূল) বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।' [সুরা ঝুমার, আয়াত-৫৩]
ইতিকাফ সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, 'আর যতক্ষণ তোমরা ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সঙ্গে মিশো না। এটা হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা।' [সূরা আল-বাকারা, আয়াত_ ১৮৭]
এই পবিত্র আয়াতের মর্মার্থেই ইতিকাফ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। বিশেষ করে শবে কদরের পূর্ণ সওয়াব আয়ত্ত করার জন্য রমজানের শেষ দশকে নিয়ত সহকারে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। ইতিকাফের শাব্দিক অর্থ_ কোনো এক স্থানে অবস্থান করা। পরিভাষায়_ কতকগুলো বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে একটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্দিষ্ট মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে।
ইতিকাফের সময় পানাহারের হুকুম সাধারণ রোজাদারদের প্রতি নির্দেশেরই অনুরূপ। তবে স্ত্রী সহবাসের ব্যাপারে এ অবস্থায় পৃথক নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, ইতিকাফ অবস্থায় এটা জায়েজ নয়। উপরোক্ত আয়াতে এ কথারই প্রতিধ্বনি শ্রুতিগোচর হয়।
রাসূল (স.) বলেন, 'আমি বেশ কয়েকবার ইতিকাফে বসি। সেই সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করি_ হে আল্লাহ, আমি আপনার মেহমান হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ মাসের এবং মহিমান্বিত রাত শবে কদরের অপরিমিত সওয়াব লাভের প্রত্যাশায় আপনার ঘর মসজিদে অবস্থান নিলাম। হে অসীম করুণাময় মহাদয়ালু আল্লাহ, আপনি আমার কাঙ্ক্ষিত কামনা-বাসনা পূরণ করে দিয়ে ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় অঙ্গীকার কল্যাণকর ও মঙ্গলময় করে দেবেন বলে আশা পোষণ করি। সেহেতু আপনার নিবিড় সঙ্গ লাভের আশায় মুক্তির দশকে আপনার ৯৯ গুণ দয়া প্রাপ্তি কামনা করি। হে রহমানুর রাহিম, আমার আনুগত্য, আর্তি ও প্রার্থনা মঞ্জুর করে নিন।'
হাদিসে এসেছে, পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ইতিকাফ অত্যন্ত পছন্দনীয় ইবাদত। আর এই ইবাদত দ্বারাই মহান আল্লাহর সানি্নধ্য নিবিড়ভাবে লাভ করা যায়। আবার আল্লাহ রাব্বুল আলামিনও ইতিকাফকারীকে ভালোবাসেন।
হাদিসেও ইতিকাফ এবং ইতিকাফকারীর অপরিমিত উপকারিতা বর্ণিত হয়েছে।
নবী করিম (স.) রমজানের শেষভাগে ইতিকাফ করতেন। তিনি সারাজীবনে মাত্র একবার তা কাযা করেছিলেন। সেটাও শাওয়াল মাসে আদায় করছিলেন। হুজুর পাক (স.) কয়েকবার রমজানের প্রথমভাগেও ইতিকাফ করেছিলেন। কিন্তু যখন তার ওফাতের সময় নিকটবর্তী হয়, তখন তিনি রমজানের শেষদিকে ইতিকাফে বসেন। তবে প্রায়ই তিনি রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফে বসতেন। আলোচ্য লেখনিতে ইতিকাফ বিষয়ক কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো_
হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (স.) রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন এবং তার সঙ্গী-সাথীরা সবাই তার সঙ্গে ইতিকাফ করতেন। [বুখারি-মুসলিম]
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলে করিম (সা.) প্রতি বছর একবার কোরআন মজিদ খতম করতেন। যে বছর তিনি প্রথমে ইতিকাফ করেন, সেই বছর তিনি দুই খতম কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করেন। তিনি প্রতি বছর রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সেই বছর ২০ দিন ইতিকাফ করেছিলেন। [বুখারি-মুসলিম]
রাসূল (সা.) ইতিকাফকারী সম্পর্কে এরশাদ করেছেন, ইতিকাফকারী সমুদয় গুনাহ থেকে মুক্ত থাকে এবং সে পুণ্যবানদের সঙ্গে সঙ্গে পুণ্যের কাজেও শরিক থাকে। [ইবনে মাজাহ]
হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা রমজানের শেষ ১০ তারিখে বেজোড় রাতে শবে কদর তালাশ করবে। [বুখারি]
হজরত আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রজমানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করবে, সে দুটি নফল হজ এবং দুটি নফল ওমরার সওয়াবের অংশীদার হবে। [বায়হাকি]
হাদিসে আরো ইরশাদ হচ্ছে, যে ব্যক্তি খালেছ নিয়তে এবং দৃঢ় ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় ইতিকাফ করবে, তার আগের সব (ছগিরা) গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [দাইলামি]
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি এক দিন ইতিকাফে বসবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিয়ামতের দিন তার এবং দোজখের মধ্যে তিন খন্দকের ব্যবধান করবেন। এক-এক খন্দক ৫০০ বছরের রাস্তা।
যখন ইতিকাফে বসবে, তখন নিজেকে মৃত মনে করবে। বিনা আবশ্যক, যেমন_ জানাজা, জুমার নামাজের জন্য বের হতে পারবে। মসজিদ ব্যতীত ইতিকাফ দুরস্ত নেই। অবশ্য মহিলারা ঘরের নির্দিষ্ট প্রকোষ্ঠে ইতিকাফ করবে। জামে মসজিদে ইতিকাফ করলে খুবই ভালো। ইতিকাফে চুপ থাকা মাকরুহ। মনে মনে বা মুখে জিকির করা বা কোরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা উচিত।
ইতিকাফের শর্তসমূহ : ১. নিয়ত করা। ২. রোজা রেখে ইতিকাফ করা। ৩. আছরের নামাজের পর ইতিকাফে বসা এবং আছরের নামাজের পর ইতিকাফ ভঙ্গ করা। ৪. ইতিকাফকারী জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া। ৫. পাক-পবিত্র নির্জন গৃহে বসা। ৬. জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় হয়, এমন মসজিদে বসা। ৭. মহিলারা মসজিদে না বসে কোনো পাক-পবিত্র নির্জন গৃহে বসা। ৮. ইতিকাফ অবস্থায় সহবাস থেকে বিরত থাকা।
মাহে রমজানের শেষ দশকে মসজিদে অবস্থান অর্থাৎ ইতিকাফ এমন একটি ইবাদত, যা আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয়। আর এই দিনগুলোতেই রয়েছে লাইলাতুল কদরের মতো মহিমান্বিত রজনী, যার মূল্য অত্যন্ত বেশি এবং অতি উত্তম। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেছেন, 'আমি একে (কোরআন) নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি কি জানেন, লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হলো হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ এবং রূহ অবতীর্ণ হয়। তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। [সূরা আল-ক্বদর, আয়াত_ ১-৫

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

ধর্ম ও জীবন : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...