প্রচ্ছদ ধর্ম ও জীবন

ইসলামে বাকস্বাধীনতা

a11আল্লাহ্ সৃষ্টিকুলের মধ্যে মানুষই একমাত্র সৃষ্টি যাকে আল্লাহ্তাআলা কথা বলার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন আর মানুষের জন্য নবী-রাসূলদের মাধ্যমে দিয়েছেন একমাত্র দ্বীন; ইসলাম ইসলাম মানুষের বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী তবে ইসলামের মতে বাকস্বাধীনতা মানে বল্গাহীনতা যাচ্ছেতাই বলার অধিকার নয় অন্যের ধর্ম বিশ্বাসে আঘাত করার অধিকার নয় ব্যক্তি সমাজ সমষ্টির জন্য ক্ষতিকর কিছু বলার অধিকার নয় বাকস্বাধীনতা মানে অন্যের মান-মর্যাদা সম্মান-ইজ্জত আব্রুহানি না করে নিজের রায় অভিব্যক্তি প্রকাশের অধিকার সমাজ সমষ্টির স্বার্থহানি না করে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের অধিকার কারণেই আল্লাহ্মানুষকে কথা বললে; ন্যায়ানুগভাবে কথা বলার আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ্তাআলা বলেন

أَوْفُوا ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَبِعَهْدِ اللَّه

[الأنعام: ১৫২]

আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ইনসাফ করে কথা বলবে, যদিও সে আত্মীয় হয়; এবং আল্লাহর ওয়াদা পূর্ণ কর এগুলো তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর'

আলোচ্য আয়াতে আল্লাহতাআলা মুমিনদের নিজের আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে হলেও ইনসাফ করে কথা বলার আদেশ দিয়েছেন ইনসাফ ন্যায়ানুগভাবে কথা বলা কিছুতেই বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী নয় কিছুতেই তা মানুষের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী নয় বরং বল্গাহীনতা এবং স্বাধীনতার নামে যাচ্ছেতাই বলাই হলো অন্যের অধিকার হরণের লাইসেন্স কারণেই ইসলাম মানুষকে বাকস্বাধীনতা দিয়েছে; কিন্তু অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করার অধিকার দেয় নাই

প্রসঙ্গে আল্লাহতাআলা আরও বলেন

سَدِيدًا يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا

يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ

وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا

[الأحزاب:70-71]

'হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য অর্জন করল' (সূরা আল আহযাব:৭০-৭১)

আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে ইবন কাসীর বলেন, ‘আলোচ্য আয়াতে আল্লাহতাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের তাঁকে ভয় করার জন্য এবং এমনভাবে তাঁর ইবাদত করার জন্য আদেশ দিয়েছেন যেন তারা আল্লাহকে দেখছেন তাদেরকে আরও আদেশ করেছেন যেন তারা সত্য সঠিক কথা বলে, যাতে কোনো রকমের বক্রতা বিকৃতি হঠকারিতা না থাকে তাদের সাথে এমন ওয়াদাও করেছেন যে, তারা তা করলে সে জন্য তাদের সাওয়াব দিবেন, তাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন অর্থাৎ তাদের সৎকর্ম করার জন্য তাওফিক দিবেন এবং তাদের অতীতের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন আর ভবিষ্যতে তাদের পক্ষ হতে পাপ করা হলে সে জন্য তাদের তাওবার তাওফিক দিবেন

ইসলাম মানুষের মনে আখিরাতে দুনিয়ার সকল কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে অনুভূতি সদা জাগ্রত রাখতে চায় কারণেই বাকস্বাধীনতার নামে অন্যের ক্ষতি করার অধিকার কাউকে ইসলাম দেয়নি এমনকি যে কথার ফলে নিজের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা আছে তা বলার অধিকারও দেয়নি কারণ তাকে কথার জন্যও পরকালে জবাবদিহি করতে হবে আল্লাহ্তাআলা বলেন

إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ

مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ

[ق:17-18]

যখন ডানে বামে বসা দুজন লিপিবদ্ধকারী পরস্পর গ্রহণ করবে সে যে কথাই উচ্চারণ করে তার কাছে সদা উপস্থিত তা সংরক্ষণকারী রয়েছে'

আল্লাহ্তাআলা আরও বলেন

أَمْ يَحْسَبُونَ أَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ بَلَى وَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُونَ

[ الزخرف :80]

না কী তারা মনে করে, আমি তাদের গোপনীয় বিষয় নিভৃত শলাপরামর্শ শুনতে পাই না? অবশ্যই হ্যাঁ, আর আমার ফেরেশতাগণ তাদের কাছে থেকে লিখছে

অতএব মানুষ বাকস্বাধীনতার নামে যাচ্ছে তাই বলতে পারে না মানুষকে মনে রাখতে হবে যে, সে দুনিয়ায় যা বলছে এবং যা লিখছে তার হিসাব তাকে পরকালে অবশ্যই দিতে হবে কারণেই ছাহাল ইবন সা বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'যে ব্যক্তি তার দাঁড়ি গোফের মধ্যের স্থান (মুখ) দুই পায়ের মধ্যের স্থান (যৌনাঙ্গ) হেফাযতের দায়িত্ব নিবে, আমি তার জান্নাতের জামিন হব'

উপর্যুক্ত হাদীসে জানানো হয়েছে যে, কেউ তার নিজের মুখ যৌনাঙ্গের হিফাযত করতে পারলে তার জান্নাত লাভের দায়িত্ব স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে নিয়েছেন মুখের হিফাযত করলে যেমন জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ পাবে, তেমনি মুখের হিফাযত না করলে জাহান্নামে যেতে হবে

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুয়ায ইব জাবালকে এক হাদীসে বলেন, ‘আমি কি তোমাকে সবকিছুর মূল তার স্তম্ভ তার শীর্ষচূড়া সম্পর্কে বলব না আমি বললাম হ্যাঁ, হে আল্লাহ্ রাসূল বলুন তখন তিনি তার জিহ্বা ধরে বললেন, তুমি এটির হিফাযত কর তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্ নবী আমরা যা বলি তার জন্য কি আমাদের জবাবদেহি করতে হবে? তখন তিনি বললেন, মুয়ায তোমাকে তোমার মা হারিয়ে ফেলুন (মৃদু তিরস্কার) মানুষকে জাহান্নামে উল্টা করে বা নাকের উপর করে নিক্ষেপ করা হবে তো তাদের মুখের কামাই এর জন্যই

লেখক : সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর, আরবী ভাষা সাহিত্য বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

ধর্ম ও জীবন : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...