প্রচ্ছদ ধর্ম ও জীবন

ইসলামী ফাউন্ডেশনের ফতোয়া নিয়ে তোলপাড়

awerবিএ নিউজ:অসুস্থ অবস্থাতেও চেয়ারে বসে নামাজ আদায় জায়েজ হবে না, মসজিদে চেয়ার রাখা যাবে না- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই ফতোয়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই ফতোয়ার সঙ্গে একমত নন দেশের অধিকাংশ আলেম। তাদের অভিমত, শারীরিক অক্ষমতার কারণে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় জায়েজ। তবে কেউ যদি দাঁড়াতে সমর্থ হন, তাহলে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় জায়েজ হবে না। ফতোয়াটি নিয়ে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকেও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং এ ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
গত রোববার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষণা বিভাগের মুফতি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এই মর্মে ফতোয়া দেন, শারীরিক অসুস্থতা বা অক্ষমতার কারণেও মসজিদে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় বৈধ হবে না। মসজিদে চেয়ার রাখা যাবে না। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার কান্দানিয়া গ্রামের বাসিন্দা সারোয়ার হোসাইনের জিজ্ঞাসার জবাবে এ ফতোয়া দেওয়া হয়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) আলেম সমাজের মতামত নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেনি। ফতোয়া প্রসঙ্গটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করেন কৃষিমন্ত্রী
মতিয়া চৌধুরী। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, 'অসুস্থ মানুষ তো চেয়ারে বসেই নামাজ পড়েন। তাহলে তাদের কী অবস্থা হবে।' বৈঠকে উপস্থিত দুই মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ও ইমাজউদ্দিন প্রমাণিক জানান, অসুস্থতার কারণে তারাও চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়ার সঙ্গে একমত নন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক বিচারপতি ও সিলেটের সৎপুর আলিয়া মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা হবিবুর রহমান। তিনি বলেন, কেউ অসুস্থ হলে যেভাবে সম্ভব সেভাবেই নামাজ আদায় করতে পারবেন। তিনি জানান, চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার বিষয়টি কোরআন -হাদিসে নেই এই যুক্তিতে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় জায়েজ নয়- এমন ফতোয়া ঠিক নয়।
ফতোয়ার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদরাসিল আরাবিয়ার (বেফাক) সহসভাপতি মাওলানা আশরাফ আলী সমকালকে বলেন, নামাজের ১৩ ফরজের একটি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা। কেউ যদি দাঁড়াতে সক্ষম হন কিংবা হেঁটে মসজিদ পর্যন্ত যেতে পারেন তাহলে তাকে দাঁড়িয়েই নামাজ পড়তে হবে। দাঁড়াতে না পারলে কিংবা বসেও যদি রুকু সিজদা করতে সক্ষম না হন তাহলে মাথা যতটুকু সম্ভব ঝুঁকিয়ে কিংবা ইশারায় তা আদায় করতে পারবেন। যদি হাঁটু গেড়ে, আসন পেতে কিংবা অন্য কোনোভাবেও বসা সম্ভব না হয় তাহলে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা যাবে।
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর এবং চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ খতিব অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল কাদেরী সমকালকে বলেছেন, 'অভিজ্ঞ চিকিৎসক যদি পরামর্শ দেন দাঁড়িয়ে কিংবা বসে নামাজ আদায় করলে রোগ বৃদ্ধি পাবে, তাহলে বিকল্প হিসেবে ফরজ লঙ্ঘন না করে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা যাবে। কারণ শরিয়ত মতে যদি কোনো অসুবিধা থাকে তাহলে নিষিদ্ধ পদ্ধতিও অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে যায়।' তিনি বলেন, আলাপ-আলোচনা না করেই কীভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এত বড় বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিল তা তার বোধগম্য নয়।
চট্টগ্রামের ছুবহানিয়া আলিয়া কামিল মাদারাসার মুহাদ্দেছ কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফী বলেন, 'যে ব্যক্তি দাঁড়াতে পারেন কিংবা হেঁটে মসজিদে আসতে পারেন- তিনি চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করলে তা বৈধ হবে না। কিন্তু কোনো অভিজ্ঞ মুসলমান ডাক্তার কোমর বা শারীরিক সমস্যার কারণে পরামর্শ দিলে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা যাবে।'
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়ায় বলা হয়েছে, মসজিদে চেয়ার রাখা যাবে না। এতে নামাজের কাতার ঠিক থাকে না। রাসুল (সা.) অসুস্থতার সময় বসে নামাজ আদায় করেছেন। কিন্তু মসজিদে চেয়ারে বসে ইমামতি করেননি। এ প্রসঙ্গে মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন সমকালকে বলেন, মসজিদে নববি ও কাবা শরিফে চেয়ারে বসে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
ফতোয়া প্রদানকারী মুফতি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সমকালকে বলেন, গত ১৯ মার্চ ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। এরপর বিচার-বিশ্লেষণ করে মহাপরিচালকের অনুমতিক্রমে গত রোববার তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ভুল থাকলেও এই দুই মাসে ধরা পড়ত। তিনি জানান, ফতোয়ার ১২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনোভাবেই সম্ভব না হলে চেয়ারে নামাজ পড়া যাবে। তবে মসজিদের চেয়ারে বসে নামাজ পড়া যাবে না।
অন্য আলেমদের দ্বিমত প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, কেউ কোরআন হাদিস দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারে চেয়ারে নামাজ পড়া যাবে তাহলে ফতোয়া প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিশিষ্ট আলেমদের মতামত আহ্বান করা হয়েছে। চেয়ারে নামাজ আদায় করার পক্ষে অভিমত এলে ফতোয়াটি সংশোধন করা হবে।

 
Adil Travel Winter Sale 2ndPage

ধর্ম ও জীবন : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...