স্মরণ: অবিস্মরণীয় শহীদ জিয়া

ziaur rahmanমোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তার সময়োচিত অবিস্মরণীয় দুঃসাহসিক ঘোষণা  ও তা সংরক্ষণে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন  বাস্তবানুগ কর্মসূচী তাকে জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়কে পরিণত করেছে। 
একটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ও দিশেহারা দেশবাসীর অনিশ্চিত পরিস্থিতির ঐ দুঃসময়ে উজ্জীবনী সুধা নিয়ে চট্টগ্রাম বেতার থেকে ইথারে ভেসে এলো একটি বাণী:This is Swadhin Bangla Betar Kendra. I, Major Ziaur Rahman, Provincial Head of the government, do hereby declare that Independence of the People's Republic of Bangladesh.
 পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মেজর নিজের জীবন, এমনকি দুই শিশু-পুত্রের ভবিষ্যত সংকটে নিক্ষেপ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার এমন দুঃসাহসিক ও ঝুঁকি পূর্ণ ঘোষণা শহীদ জিয়া মনস্তত্ত্বে স্বদেশপ্রেম ও স্বাধীনতা আগুন কতো তীব্রভাবে জ্বলছিল তারই বহির্প্রকাশ। 
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসার হিসেবে তিনি পাকিস্তানের পক্ষেই কথা বলতে পারতেন, যা হতো তার পেশার সাথে মানানসই। জনগণকে  আহ্বান করতে পারতেন: আপনরা শান্ত থাকুন, তা হলে হয়তো তার অভাবনীয় পদোন্নতি হতো, আরো নানাবিধ বৈষয়িক সুযোগ-সুবিধা তাকে দেয়া হতো। কিন্তু তিনি তার পেশার বিপরীতে হাঁটলেন। রাজনীতিক না হয়েও রাজনীতিকদের চেয়েও বড় ভূমিকা রাখলেন। তিনি মানুষের আশা-আকাংখা, তাদের মনস্তত্ত অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন নি। ঐ সময়ে বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আরো বহু বাঙালী সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, তারা এ ধরনের উদ্যোগের কথা ভাবতেই পারেন নি। এখানেই জিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব। 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বেচ্ছায় কিংবা পরিস্থিতিগত কারণে পাকিস্তানীদের হাতে বন্দী হবার পর যে রাজনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয় ও হতাশা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের উপর চেপে বসে, শেখ মুজিবের ভূমিকা যেখানে থেমে যায়,  শহীদ জিয়া সেখান থেকেই শুরু করেন। শহীদ জিয়া শুধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেই তিনি দায়িত্ব শেষ করেন নি, একেবারেই পরিস্থিতিগত কারণে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব (এ উদ্দেশ্যে তিনি বঙ্গুবন্ধুকেও হত্যা করেন নি কিংবা খন্দকার মোশতাক আহমাদকেও ক্ষমতাচ্যূত করেন নি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছেন সেনাবাহিনীর কিছু অফিসার। আর খন্দকার মোশতাক আহমাদকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়েছেন কর্ণেল তাহের। শহীদ জিয়া দায়িত্ব নিয়েছেন বিচারপতি সায়েমের কাছ থেকে) নিয়ে তিনি এর সার্বভৌমত্বকে নিরাপদ ও সুদৃঢ় এবং একে আত্ম-নির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ দেশ হিসবে গড়ে তুলতে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিম-লে সঠিক ও সুদূরপ্রসারী তৎপরতা চালিয়ে অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন। 
আয়তনে ক্ষুদ্র ও অর্থনীতিতে দুর্বল হওয়ায় বৃহত্তর প্রতিবেশীর থাবা হতে দেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তিনি ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ নীতি অনুসরণ করেন, যাতে কোন বিশেষ দেশের উপর নির্ভরশীল কিংবা দায়বদ্ধ হতে না হয়, বরং বিপদে-আপদে কাছের ও দূরের বন্ধুদের সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া যায়। 
এ উদ্দেশ্যে তিনি ভারতের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে মুসলিম বিশ্ব ছাড়াও প্রতিবেশী চীন, বার্মা, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অঞ্চলিক সহযোগিতা, সংহিত ও নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্দেশ্যে জিয়া ভারত, ভূটান, নেপাল, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের সমন্বয়ে একটি জোট গঠনের প্রস্তাব করলে ভারত উপায়ান্তর না দেখে ‘অনুরোধে ঢেঁকি গেলা’র মতো ক্ষীণ সাড়া দিলেও জিয়ার জীবদ্দশায় এ ফোরাম গঠনের সব প্রচেষ্টায় বাধ সাধে। ভারতের বিশ্লে¬ষণ ছিল এ ধরনের  ফোরাম গঠনের নামে জিয়া আসলে এতদাঞ্চলের দেশগুলোর সমন্বয়ে ভারত-বিরোধী একটি ফ্রন্ট গঠনের  দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
কারণ ভারত এতদাঞ্চলে দেশের মধ্যে পারস্পরিক আঞ্চলিক ঐক্যে বিশ্বাস করে না। ভারত দ্বিপাক্ষিকতার নামে প্রতিটি দেশকে তার পদানত করতে চায়। এ ধরনের জোট হলেও তা হতে হবে ভারতের নির্ধারিত ছকে। ভারত স্পষ্টতঃ বুঝতে সক্ষম হয় যে, জিয়ার কূটনৈতিক তৎপরতা কেবল বাংলাদেশকেই তার হাতছাড়া করবেনা, এতদাঞ্চলে ভারতের সম্প্রসারণবাদী তৎপরতা চালানোর পথেও প্রধান অন্তরায়  হয়ে দাঁড়াবে। ভারত জিয়ার নেতৃত্ব, তথা  বাংলাদেশের এই কূটনৈতিক যুদ্ধকে সহ্য করতে পারেনি।  এ কারণে জিয়াকে হত্যা করার আগে ভারত দক্ষিণ আঞ্চলিক জোট (মূলত অকার্যকর বর্তমানে সার্ক নামে পরিচিত) গঠন করতে এগিয়ে না এসে, বরং বাধা দিয়েছিল। 
জিয়ার আরেকটি অনন্য অবদান হলো তিনি আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিসত্বার পরিচিতি তথা জাতীয়তাবাদকে বাস্তব ও সুস্পষ্ট  নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাঙালী জাতীয়বাদের শ্লোগান দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন করার করার পর আমাদের জাতীয় পরিচয় ও জাতীয়তাবাদের ধ্যান-ধারণার পরিবর্তনই ছিল স্বাভাবিক। বাঙালী জাতীয়তাবাদ ছিল ভাষাভিত্তিক, আর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সাধীন-সার্বভৌম বাংলােেদশকেন্দ্রিক। বাঙালী বললে আমাদের ভূখ-ের বাইরে অন্যদেশের নাগরিক আমাদের মতো স্বাধীন নয়া, এমন পরাধীন বাঙলাভাষীদের সাথে আমাদের পরিচিতি এক হয়ে যায়, যদিও গত ৭০ বছরে তাদের সাথে আমাদের আকাশ-পাতাল পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে বাঙালী জাতীয়তাবাদ বললে বাংলাদেশ ভূখ-ে বসবাসকারী ২৯টি নৃতাত্তিক গোষ্ঠী তথা উপজাতি, যাদের মাতৃৃভাষা বাংলা নয়, তাদেরকে আমাদের বাইরে রাখা হয়। ৫৫ হাজার বর্গমাইল জুড়ে বাংলাদেশ নামক ভূখ-ে বসবাসকারী ভাষা-ধর্ম-বর্ণ-নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নির্বিশেষে সব বাসিন্দারই এক পরিচয় Ñ আমরা সবাই বাংলাদেশী। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আওতায় সবাইকে বুঝানো সহজ, যা বাঙালী দিয়ে হয় না। আধুনিক বিশ্বে কেবল ভাষা-কেন্দ্রিক কোন দেশ বা জাতি নেই। ভাষা যাই-ই হোক প্রতিটি দেশের অধিবাসীদের জাতীয় পরিচয় দেশের নামে, ভাষার নামে নয়। জিয়ার এ সুচিন্তিত উদ্ভাবন জাতি হিসেবে আমাদেরকে সঠিক দিক-নিদের্শনা দিয়েছে। 
জিয়ার আরেকটি অনন্য উদ্যোগ হলো শাসনতন্ত্রে সংশোধনী এনে তিনি দেশকে একদলীয় শাসনের বদ্ধযাঁতাকল থেকে বের করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন করেন। সংবাদপত্রে স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, মানবাধিকার নিশ্চিত করেন। শুষ্ক মওসুমে ভারতের পানি অবরোধের কারণে কৃষি, মৎস্য, বাণিজ্য, নৌ-চলাচল এবং পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যে খাল কাটা কর্মসূচীর পাশাপাশি গঙ্গার পানি বন্টনে ভারতীয় নীতির  প্রতিবাদ করে বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করে ভারতকে আসামীর কাঠগড়া উঠান। বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিকভাবে বিষয়টির সম্মানজনক সুরাহা করা হবে জাতিসংঘে এমন ওয়াদা করলে জিয়া বিষয়টি জাতিসংঘ হতে প্রত্যাহার করেন। গ্যারান্টি ক্লজ অক্ষুণœ রেখে ফারাক্কা দিয়ে ৩৪ হাজার কিউসেক পানি প্রদান নিশ্চিত করে ভারত বাংলাদেশের সাথে  চুক্তি করতে বাধ্য হয়।  অন্যদিকে ১৯-দফা কর্মসূচী গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে দেশের আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন।  
জিয়ার পররাষ্ট্র নীতি কোন বিশেষ দেশ কিংবা  অঞ্চল কেন্দ্রিক না হওয়াতেই জাতিসংঘ, ওআইসি, জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনোর মতো বহুজাতিক আন্তর্জাতিক সংগঠনে, বিশেষত উপসাগরীয় যুদ্ধ বন্ধে বাংলাদেশ অনন্য ভূমিকা পালনের সুযোগ লাভ করে। জিয়ার প্রশংসনীয় পররাষ্ট্র নীতির ফলশ্রুতি হিসেবে ১৯৭৯ সনে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ নিরাপদ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়।  
দেশের স্বার্থ, সার্বভৌম ও আঞ্চলিক অখ- রক্ষায় জিয়া কতো আপসহীন ছিলেন। ৯ মে (১৯৮১) হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় দক্ষিণ তালপট্টিতে ভারতীয় যুদ্ধ জাহাজের সহযোগিতায় ভারতীয় সেনাবাহিনী পদার্পন করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেকোন ধরনের প্রতিরোধ প্রতিহত করার জন্য ভারত তালপট্টির পূর্বপাশে বাংলাদেশের পানিসীমায় সন্ধ্যায়ক, আন্দামান ও সাহারাব নামক তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে। ভারতীয় আগ্রাসনকে বাংলাদেশ কিছুতেই মেনে নিতে পারে নি। এই আগ্রাসনের খবর প্রকাশিত হবার সাথে সাথে সারা বাংলাদেশে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের ঝড় উঠে। প্রতিদিন ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে ৪/৫টি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিবিসি’ ভারতীয় হাইকমিশনকে বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু বলে অভিহিত করে। 
তালপট্টিতে ভারতীয় আগ্রাসনের  প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে প্রতিবাদমুখর আলোচনায় সব দলের সদস্যরা তীব্র নিন্দ্রা ও প্রতিবাদ জানান । তারা তালপট্টি হতে অবিলম্বে ভারতীয় জবরদখলের অবসান দাবী করেন। ২৮ মে জাতীয় সংসদ সর্বসম্মতভাবে যে প্রস্তাব গ্রহণ করে তাতে বলা হয় Ñ  
‘‘ইতোপূর্বে ভারতের নিকট সরবরাহকৃত তথ্যাবলীর ভিত্তিতে নিজস্ব   অবিচ্ছেদ্য ভূখ- হিসাবে বাংলাদেশ কর্তৃক দাবীকৃত সীমান্ত নদী হাড়িয়াভাঙ্গার মোহনায় নতুন জেগে উঠা দ্বীপ/গুলি (নিউমুর/দক্ষিণ তালপট্টি/পূর্বাশা)’র মালিকানা সম্পর্কিত আলোচনার কথা স্মরণ করে;
১৯৭৯ সনের এপ্রিল মাসে ভারতীয় পররাষ্টমন্ত্রীর সফরকালে এই সমস্যা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সামাধানের জন্য ভারতের অঙ্গীকারের কথা বিবেচনা করে;
১৯৮১ সনের ৯ মে তারিখ থেকে এই দ্বীপে সশস্ত্রবাহিনী অবতরণ, ঘরবাড়ী নির্মাণ, ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করে এবং এই সকল দ্বীপের উত্তর-পূর্বাংশে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলসীমায় ভারতীয় সশস্ত্র নৌবাহিনীকে প্রেরণ করে ভারত যে অযাচিত, একতরফা এবং বেআইনী কাজ করেছে তা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করে;
এই সংসদ তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দ্রা  জ্ঞাপন করছে;
বাংলাদেশ সরকারের  সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত রীতিনীতি পুরোপুরি ভঙ্গ করে দক্ষিণ তালপট্টি/নিউমুর দ্বীপে ভারত সরকারের এই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ইহার তীব্র প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছে এবং প্রস্তাব করছে: 
ক্স       সকল সামরিক লোকজন, ঘরবাড়ি এবং পতাকাসহ সকল জিনিসপত্র এবং অবশিষ্ট ভারতীয় সশস্ত্র নৌবাহিনীর যানসমূহ এই  মুহূর্তে অপসারণ এবং কোন শক্তি প্রয়োগ, শক্তি প্রয়োগের হুমকি, বা কোন প্রকারের উস্কানীমূলক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য;
ক্স       সমঝোতা, সহযোগিতা এবং সৎপ্রতিবেশীসুলভ মনোভাবের পরিবেশে আলোচনা করে এবং যুক্ত জরিপ ও তথ্য বিনিময়ের দ্বারা যথাশীঘ্র শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতের প্রদত্ত আশ্বাসকে বাস্তবায়ন করার জন্য; এবং 
ক্স       উভয় দেশের জনগণের এবং এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থায়ীত্বের বৃহত্তর স্বার্থে জাতিসংঘ সনদ এবং জোট নিরপেক্ষতার নীতিসমূহের অনুসরণের জন্য তাদের প্রদত্ত অঙ্গীকার অনুসারে আলোচনা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সকল সমস্যার সমাধানের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।”
জাতীয় সংসদের সবসম্মত প্রস্তাব এবং অবিরাম জনবিক্ষোভজনিত সমস্যা চিরতরে বন্ধ করে তালপট্টিতে জবর দখল অক্ষুণœ রাখার উদ্দেশ্যে  ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ কিছু ক্ষমতালোভীল সহযোগিতায় দেশপ্রেমিক সফল ও সৎ শাসক  জিয়াউর রহমানকে ৩০ মে (১৯৮১) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নির্মমভাবে হত্যা করে। 
জিয়া বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ভিন্নতর হতো। তালপট্টি আমাদের হাতছাড়া হতো না, এমনকি যে প্রক্রিয়ায় সমুদ্র-সীমা নির্ধারণের নামে আমাদের নদী মোহনার দ্বীপ ভারতকে দিয়ে দেয়া হয়েছে তাও হয়তো হতো না। কারণ তালপট্টি সমুদ্র-সীমানার বাইরে, আমাদের নদী-সীমানায়।। আমার দৃঢ় বিশ্বাস বাংলাদেশ স্বাধীন থাকলে আমাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে কোন একদিন এ অবিচ্ছেদ্য ভূখ- ফিরিয়ে আনবে।*
লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক
 
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র...
আবু জাফর মাহমুদ: সংবাদ পড়ছিলাম সৌদি আরবে...
শিবলী চৌধুরী কায়েস: ইউরোপের শিল্প সাহিত্য আর...
ডক্টর তুহিন মালিক: এক. ইতালীয় নাগরিক...