প্রচ্ছদ বিশ্ব

তরুণদের নেতৃত্বে মুসলিম ব্রাদারহুডের নব উত্থান

111341 1বিএনিউজ: মুসলিম ব্রাদারহুড তার জন্মলগ্ন থেকে বহু কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছে। বর্তমানে সংগঠনটি তার কঠিনতম সময় পার করছে এবং টিকে থাকার সংগ্রামে নিয়োজিত রয়েছে।


মিশরে সেনা অভ্যুত্থানের পর দুই বছর কেটে গেছে- যে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হন। স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির ক্ষমতা গ্রহণ করার পর প্রায় এক বছর হতে চলল।


সেনাশাসন শুরু হওয়ার পর মিশরের সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধিক সংগঠিত বিরোধী গোষ্ঠী মুসলিম ব্রাদারহুড যে রাষ্ট্রীয় নিষ্পেষণের স্বীকার হয় তা কতিপয় বিশ্লেষকের মতে ‘আধুনিক মিশরের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের সবচেয়ে করুণ ঘটনা’।


বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার ও অগণিত মৃত্যুদণ্ডের সাথে সাথে সংগঠনটির আভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দলটির ঐক্য ও সংহতিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।


সংগঠনটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে দলের পুরনো নেতৃত্ব ও নতুর প্রজন্মের মাঝের বিভাজন বেশ প্রকট হয়ে উঠেছে।


এমন একটি সংকট  সংগঠনটিকে আরো বিপ্লবী হয়ে উঠতে শক্তি যোগাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


যেমনটি একজন ব্রাদারহুড সদস্য স্বীকার করেছেন যে সংগঠনটির মস্ত বড় ভুলগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এটা বিশ্বাস করা যে চলমান প্রক্রিয়ার ভেতরে কাজ করে মিশরের অবস্থা আস্তে আস্তে ঠিক করা যাবে।


জনপ্রিয় গণমাধ্যম আলজাজিরা মিশর ও আরব বিশ্বে প্রাচীনতমক এই সংগঠনটির ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে চার মুসলিম ব্রাদারহুড বিশেষজ্ঞেরস সাথে কথা বলেছেন।


আবদুল্লাহ আল-আরিয়ানের মূল্যায়ন


‘আনসারিং দ্য কল: পপুলার ইসলামিক অ্যাক্টিভিজম ইন সাদাত’স ইজিপ্ট’ এর লেখক কাতারের দোহার জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল-আরিয়ান বলেন, সেনা অভ্যুত্থানের প্রায় দুই বছর হয়ে গেল যা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিশরের প্রথম প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত করেছিল এবং হোসনি মোবারকের সময়কার সেই স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছিল।

সেনাশাসনের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির প্রাচীনতম সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড।


মোহাম্মদ মুরসিসহ সংগঠনটির বেশিরভাগ নেতৃত্ব জেলে বন্দী এবং তারা মৃত্যুদণ্ডের হুমকির মধ্যে রয়েছেন। এর সাথে ব্রাদারহুড চালিত সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কর্মী-সমর্থকদের টার্গেটে পরিণত করা হয়েছে। তাদের ভীতি প্রদর্শন ও অত্যাচার- নিপীড়নের মাধ্যমে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।


মুসলিম ব্রাদারহুড অন্যান্য সংগঠনের আত্মবিশ্বাসের ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর সাথে তাদেরকে এই নিশ্চয়তা দিতে চাইছে যে সরকার বিরোদী আন্দোলনে সংগঠনটি তাদের বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হতে পারে।


মুসলিম ব্রাদারহুড সদস্যদের একটি অংশের মধ্যে একটি দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে বৈপ্লবিক রাজনীতি করার সংগঠনটির অনিচ্ছার ফলে  সংগঠনটির এই বর্তমান দুরাবস্থা বা ব্যর্থতা।


ঐতিহ্যবাহী মুসলিম ব্রাদারহুড সংগঠনটি একটি সংস্কার ভিত্তিক আন্দোলন। তবে সংগঠনটিতে বিপ্লবী চেতনার অভাব রয়েছে। সংগঠনটি সমগ্র মিশর রাষ্ট্রটিকে ঢেলে সাজাতে বারবার ইতস্তত করেছে।


সংগঠনটির এখন দরকার সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলো মোকাবেলা করার মতো সামর্থ্য- যে প্রতিষ্ঠানগুলো একনায়কতান্ত্রিক শাসনকে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য দায়ী।


মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রবাসী কার্যালয় সম্প্রতি সংগঠন পুনর্গঠনের জন্য একটি নির্বাচনের আয়োজন করে যেখানে বিপ্লবের ডাকে সাড়া দিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ তরুণ নেতৃত্ব এসেছে।


সংগঠনটির লক্ষ্য এখন আল-সিসির একনায়ক সরকারকে উৎখাত করা এবং বৈপ্লবিক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা-যেটার শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের বিপ্লবে।


এটা প্রমাণিত যে এটা কোনো সহজ কাজ নয়। চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে হলে কতিপয় বিষয়ের মধ্যে এক বা অধিক বিষয়ে পরিবর্তন অবশ্যই আনতে হবে।

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

বিশ্ব : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...