প্রচ্ছদ মানবাধিকার

বগুড়ায় জামায়াত-শিবিরের আড়াই লক্ষাধিক নেতাকর্মী ঘরছাড়া

a705বিএ নিউজ: বগুড়ায় ২'শ মামলায় জামায়াত-শিবিরের আড়াই লক্ষাধিক নেতাকর্মী ঘরছাড়ামোস্তফা মোঘল, বগুড়া : বগুড়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাগারে আটক দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে রাজপথে মিছিল-সমাবেশ ও হরতালকে কেন্দ্র করে গত আড়াই বছরে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের নামে প্রায় ২’শ মামলা দায়ের হয়েছে।

এসব মামলার অধিকাংশই দায়ের করেছে পুলিশ। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত। এসব মামলায় জ্ঞাত-অজ্ঞাত আসামি প্রায় দুই লাখ।

তবে, বিভিন্ন সময়ে পুলিশের গণগ্রেফতারের কারণে প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘর-বাড়ি ছেড়ে ফেরারি জীবন-যাপন করছে জামায়াত-শিবিরের প্রায় আড়াই লাখ নেতাকর্মী।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার প্রথম দফায় ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় ৪ বছর পর ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর বগুড়ায় প্রকাশ্যে রাজপথে নামে জামায়াত-শিবির। ওই দিন দুপুরে শহরের জিরোপয়েন্টের সাতমাথায় জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতাকর্মী মিছিল বের করেছিল। পুলিশ বাধা দিলে শুরু হয় সংঘর্ষ। সেদিন বেশ ক’জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়। পুলিশের টিয়ার সেল ও রাবার বুলেটে আহত হয় জামায়াত-শিবিরের কয়েক জন নেতাকর্মী। আটক হয় বেশ কয়েকজন। এরপর থেকেই রাজপথে প্রতিনিয়ত পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে।

জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা এবং মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের পর রাজপথে সংঘাত-সহিংসতা ভিন্নমাত্রা পায়।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত ভয়াবহ গণবিস্ফোরণ ঘটে বগুড়ায়। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ছাড়াও সেসময় সাধারন মানুষও নেমে আসে রাস্তায়। স্মরণকালের হরতাল চলে টানা কয়েকদিন।

মাওলানা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে ৩ মার্চ মধ্যরাত থেকে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে দমাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় র‌্যাব। আর র‌্যাব-পুলিশের গুলিতে মারা যায় কমপক্ষে ৬ জন। পরবর্তীতে মারা যায় আরও ৩ জন। আহত হয় কয়েক ’শ। চিরদিনের পঙ্গু হয় ১০ জনেরও বেশি সাধারন মানুষ।

ওই দিনের বিক্ষোভে জেলার বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি আক্রান্ত হয়। নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এসব ঘটনায় প্রায় এক’শ মামলা হয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের নামে। এসব মামলায় আসামি জ্ঞাত-অজ্ঞাত প্রায় দেড় লাখ।

এছাড়াও সরকারবিরোধী আন্দোলনে গত তিন বছরে আরও প্রায় এক’শ মামলা হয়েছে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের নামে। সবমিলিয়ে প্রায় ২’শ মামলায় জামায়াত-শিবিরের প্রায় দুই লাখ নেতাকর্মী আসামি।

ইতোমধ্যেই জেলা আমিরসহ এক হাজারেরও অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। এখনো কারাগারে আছেন দেড়’শোরও বেশি নেতাকর্মী। এদের মধ্যে শিবিরের কর্মীর সংখ্যাই বেশি।

এদিকে, পুলিশের ব্যাপক ধর-পাকড়ের মধ্যেই বিগত উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে ব্যাপক সাফল্যও পায় জামায়াত।

জোট মিত্র বিএনপির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ৫টিতে চেয়ারম্যান, ৭টিতে ভাইস চেয়ারম্যান ও ২টিতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয় পায় জামায়াত সমর্থিতরা।

কিন্তু পরবর্তীতে জামায়াত সমর্থিত ৩ জন চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করে সরকার। যদিও হাইকোর্টে রিট করে তারা পুনরায় স্বপদে বহাল হয়েছেন। এছাড়া জামায়াত সমর্থিত ৪ জন উপজেলা চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়। ৩ জন জামিনে মুক্ত হলেও শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা আলমগীর হুসাইন এখনো কারাগারেই রয়েছেন।

জানা যায়, দীর্ঘ ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে জামায়াতের জেলা ও শহর অফিস। পুলিশের অব্যাহত অভিযানে জামায়াত-শিবির ঝটিকা মিছিল ছাড়া প্রকাশ্যে কোন কর্মসূচিই পালন করতে পারছেনা।

তবে, নিরবে সংগঠনকে গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানাগেছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মাজেদুর রহমান জুয়েল বলেন, সরকারের অব্যাহত জুলুম-নির্যাতন সত্বেও জামায়াত-শিবির লক্ষ্যচ্যুৎ হয়নি। দেশের মানুষকে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ উপহার দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মিথ্যা মামলায় প্রায় আড়াই লাখ নেতাকর্মী মাসের পর মাস বাড়ি-ঘর ছেড়ে দুর্বিষহ জীবন- যাপন করছে। অনেকের পরিবারের লোকদের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। শুধুমাত্র ইসলামী আন্দোলন এবং দেশের মানুষের স্বার্থে নেতাকর্মীরা এসব কষ্ট হাসিমুখে মেনে নিচ্ছে। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে।

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

মানবাধিকার : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...