প্রচ্ছদ মানবাধিকার

বর্ষায় চলতি পথের সঙ্গী

::লাইফস্টাইল ডেস্ক::

‘ক্ষণ অশ্রু, ক্ষণ হাসি পড়িতেছে রাশি রাশি’ এখন আবহাওয়ার অবস্থা অনেকটাই রবীন্দ্রনাথের ‘বর্ষা যাপন’ কবিতার মতো। আকাশে রোদ দেখে বাসা থেকে বের হলেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আকাশ কালো করে একপশলা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিতে পারে আপনাকে। আর ভেজা কাপড় বেশিক্ষণ গায়ে রাখলে আক্রমণ করতে পারে জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো অসুখ। তাই ছাতার পাশাপাশি সঙ্গে রাখতে পারেন রেইনকোট আর গামবুট। এছাড়াও বেছে নিতে পারেন বিভিন্ন স্টাইলের চপ্পল।

বৃষ্টি শুরু হলে ছাতা বা রেইনকোটের অভাবে কাজ ফেলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। কিন্তু এই ঋতুতে বৃষ্টি সামলেই সারতে হবে বাইরের কাজ। আষাঢ়ের আকাশের অবস্থার সঙ্গে পাল্টে নিতে হয় জীবনযাপন। পোশাক-আশাক, সাজ, জুতা, ব্যাগ সবকিছু হতে হবে বর্ষা উপযোগী।

বর্ষার সঙ্গী ছাতা

বাজারে তিন ধরনের ছাতা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ভাঁজযোগ্য ছাতাই বেশি ফ্যাশনেবল। দুই ও তিন ভাঁজযোগ্য ছাতা সহজে ব্যাগে বা পকেটে রাখা যায়। ছোট ও বয়স্কদের জন্য আছে শিকযুক্ত অভাঁজযোগ্য ছাতা। এসব ছাতায় ব্যবহার হয়েছে বিভিন্ন নকশা করা পানিনিরোধক কাপড়। আর শিশুদের ছাতার কাপড়ে আছে ফুল, ফল, মাছসহ বিভিন্ন প্রাণীর ছবি ও আঁকা কার্টুন।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছাতার মধ্যে আছে এটলাস, রিভেরি, পস, মুন, মার্টিন, অ্যাপেক্স, গোল্ডফিশ, চেরি, ব্রাদার্স, শরীফ, রহমান ইত্যাদি।
বাজারে সাধারণ ছাতার দাম ১২০-৩০০ টাকা। দুই ভাঁজ করা যায় এমন ছাতার দাম ৩৫০-৮০০ ও তিন ভাঁজের ছাতার দাম ৭৫০-১২০০ টাকা। বাচ্চাদের ছাতার দাম ২০০-৫০০ টাকা।

ছোটদের ছাতা পাওয়া যাবে অ্যাগোরা, মীনাবাজার, ফ্যামিলি নিডসসহ বিভিন্ন চেইনশপগুলোতে। আর বড় শপিং কমপ্লেক্সগুলোতে পাওয়া যাবে ফ্যাশনেবল ছাতা। এ ছাড়া হরেক রকম ছাতা মিলবে গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, চকবাজার ও নিউ মার্কেটে।

পরনে রেইনকোট

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, রং ও আকারের রেইনকোট পাওয়া যায়। মেয়েদের ফ্যাশনেবল রেইনকোট মানেই রং হবে হালকা। আর ছেলেদের গাঢ় রং। যারা মোটরসাইকেল নিয়ে চলাফেরা করেন তাদের জন্য আছে ফুলপ্যান্টসহ রেইনকোট। শিশুদের জন্য আছে রঙিন রেইনকোট।

ফুলকুঁড়ি কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষার্থী সরোজের পছন্দ টম এ্যান্ড জেরি কার্টুন আঁকা রেইনকোট। শুধু ছোটদের জন্যই নয়, সব বয়সীর জন্যই রেইনকোটর সন্ধান মিলবে বাজারগুলোতে।

ভালো মানের রেইনকোটের মধ্যে আছে ডার্বিসুপার, কমফোর্ট, ফেদার, ব্রিদেবল, রেড চ্যাম্পিয়ন ইত্যাদি। আবার দেশি পলিয়েস্টার, ওয়াটারপ্রুফ, ফিলিপস, প্যারাসুট, বিগবসও বেশ টেকসই ও কাজের। সাধারণত ক্লাসিক, অ্যাটলাস, হোন্ডা ও প্লেবয় ব্র্যান্ডের রেইনকোটগুলোই বেশি চলে এ দেশে। এগুলোর বেশির ভাগই চীন ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা।

ছোট বাচ্চাদের প্লাস্টিকের রেইনকোট পাওয়া যাবে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। বড়দের রেইনকোটর দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। প্যারাসুট কাপড়ের ছোটদের রেইনকোটের দাম পড়বে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা আর বড়দের ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। অ্যাটলাস ব্রান্ডের ছোটদের রেইনকোটর দাম পড়বে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বড়দের ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। মেয়েদের রেইনকোটের দাম পড়বে ৫০০-১৫০০ টাকা। আর ছেলেদের ৬০০-১২০০ টাকা।

যাঁরা সাইকেল বা মোটরসাইকেলে চলাফেরা করেন, তাঁদের জন্য পুরো শরীর আবৃত করা যায় এমন রেইনকোটও পাওয়া যাবে। এর দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। ফুল-প্যান্টসহ রেইনকোটের দাম পড়বে ৮০০-২০০০ টাকা।

গুলিস্তান, ফার্মগেট ও স্টেডিয়াম মার্কেট, পলওয়েল মার্কেট, নিউ মার্কেট, বায়তুল মোকাররম, স্টেডিয়াম মার্কেট, মুক্তবাংলা শপিং ও পুরান ঢাকার ইমামগঞ্জে পাওয়া যায় বিভিন্ন মানের রেইনকোট।

পা বাঁচাতে গামবুট

বর্ষার আরেক সঙ্গী হলো গামবুট। বৃষ্টির পানি ও ময়লা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়া রাস্তা পার হওয়ার জন্য প্রয়োজন গামবুট। আর এই নোংরা পানি পায়ে লাগলে হতে পারে চুলকানি এবং ঘার মতো চর্মরোগ। তাই পায়ের সুরক্ষার কথা ভেবে ব্যবহার করতে পারেন গামবুট।

বাজারে চীনা গামবুটের দাম পড়বে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আর থাইল্যান্ডের তৈরি গামবুটের দাম পড়বে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা। পায়ের মাপ অনুযায়ী ফরমায়েশ দিয়ে বানাতে চাইলে আপনাকে খরচ করতে হবে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা। আকারে ছোট গামবুটের দাম  ৩৫০-৯শ টাকা। বড় আকারের দাম ৫৫০-২৫শ টাকা।

গামবুটের বিশাল সম্ভার রয়েছে ঢাকার পলওয়েল সুপার মার্কেট, ফার্মগেট, নিউমার্কেটসহ বেশ কিছু বাজারে। বর্ষণমুখর এই সময়ে নিজের পা সুরক্ষিত রাখতে এখন গামবুটই তো ভরসা।

বর্ষার চপ্পল বা স্যান্ডেল

বর্ষা উপলক্ষে চপ্পল বা স্যান্ডেলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। কাদা-পানিতে আরামে চলার জন্য এখন শিশু থেকে বুড়ো সবারই পছন্দ প্লাস্টিকের স্যান্ডেল। বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের এসব চপ্পল এখন শোভা পাচ্ছে সবার পায়ে। হালকা নকশা, জ্যামিতিক নকশা, রাবার সোলে ফিতা পেঁচানো, কাপড়ের ডিজাইন করা ইত্যাদি চপ্পলের কদর বেশি। এ ছাড়া রাবারের চপ্পলও পরতে পারেন বর্ষায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিকার সাথে কথা হলো ঢাকার নিউমার্কেটে। তিনি বান্ধবীকে নিয়ে স্যান্ডেল কিনছিলেন। তিনি বলেন, ‘বর্ষার দিনে আমার রাবারের স্যান্ডেলই পছন্দ। বৃষ্টিতে ভিজলেও কোনো সমস্যা হয় না। বিশেষ করে উজ্জ্বল রঙের স্যান্ডেলই বেশি পছন্দ। আর বৃষ্টির দিনে রাবারের স্যান্ডেলই মানানসই।’ বান্ধবী সুমি পায়ের প্লাস্টিকের জুতা দেখিয়ে বললেন, বর্ষার কথা মাথায় রেখেই এ জুতা কিনেছি। এতে অনেকগুলো রং থাকায় বিভিন্ন জামার সঙ্গে মিলিয়ে পড়া যায়। আর দাম কিন্তু একেবারেই হাতের নাগালে।

বাজারে এসেছে রাবার, রেক্সিন ও স্পঞ্জের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা এবং স্যান্ডেল। যা পানিতে ভিজলেও নষ্ট হয় না। এ ছাড়া আছে বিভিন্ন ধরনের পানিরোধক গামবুট।

নিউমার্কেটের জুতার দোকানদার মো. শাহ আলম বলেন, বর্ষার কারণে রাবার, প্লাস্টিক এবং সিনথেটিকের জুতা-স্যান্ডেলের বিক্রি বেড়ে গেছে। এই জুতা-স্যান্ডেলগুলোর অধিকাংশই আসে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার এবং চীন থেকে। আর বিভিন্ন রং আর কম মূল্যের কারণে এর চাহিদাও বেশি বলে জানান এ বিক্রেতা।

বর্ষা উপলক্ষে বাটা, অ্যাপেক্স, বে, জেনি ইত্যাদি ব্র্যান্ড এনেছে নানা ধরনের ফ্যাশনেবল জুতা ও স্যান্ডেল। জুতানির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাটা এনেছে বিভিন্ন ডিজাইনের স্যান্ডেল। গ্যালারি এপেক্সে পাবেন গামবুট।

পাথর বা ফুলের নকশা করা নন-ব্র্যান্ডের প্লাস্টিক এবং রাবারের স্যান্ডেল ও স্লিপার পাবেন নিউমার্কেট, চাঁদনী চক ও গাউছিয়ার ফুটপাতে। এ ছাড়াও বর্ষায় পড়ার জন্য স্টাইলিশ জুতা পাবেন এলিফ্যান্ট রোড, ইস্টার্ন প্লাজা, রাপা প্লাজা, রাইফেলস স্কয়ার, বসুন্ধরা সিটি ও মেট্রো শপিং মলসহ রাজধানীর বেশ কিছু মার্কেটেও।

নকশা ও মানের ওপর ভিত্তি করে ১৫০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। রাবার ও স্পঞ্জের জুতা ৩শ-১হাজার টাকা। দুই ফিতা বেল্টযুক্ত স্যান্ডেল ২শ-৬শ টাকা। ফুটপাতে স্যান্ডেল মিলবে ১৫০-২৪০ টাকায়। তাই আজই কিনে ফেলুন কাদা-পানি জয় করতে আপনার চপ্পল।

তবে চপ্পল কেনার আগে কোন মৌসুমে পরবেন তা মাথায় রাখুন। বর্ষা হলে চামড়ার চপ্পল পরা উচিত নয়।
১. কৃত্রিম সোলের চপ্পল বেছে নিতে পারেন।
২. যেহেতু চপ্পল পরলে পায়ের বেশির ভাগ বাইরে থাকে, তাই যেন পায়ে কাদা-পানি না লাগে খেয়াল রাখুন। লাগলে পরিষ্কার করে নিন।
৩. অবশ্যই এমন সোলের চপ্পল পরা উচিত নয়, যাতে আপনার হাঁটার সময় কাদা-পানি ছিটে কাপড় নোংরা হয়।
৪. এই সময়ের কাদা-পানিতে থাকে জীবাণু, তাই পায়ে লাগলে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। না হলে পায়ে ঘা-পাঁচড়া বা ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে।

বর্ষার সঙ্গী তো বেছে নেয়া হলোই। এবার বেড়িয়ে পড়ুন বর্ষাকে উপভোগ করতে।

 

বাংলাদেশ স্থানীয় সময় : ১৭৪১ ঘন্টা, জুন ২৮, ২০১৩

লেখা : ফারহানা জিয়াসমিন, বিভাগীয় সম্পাদক, লাইফস্টাইল

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

মানবাধিকার : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...