প্রচ্ছদ মানবাধিকার

ইফতারের রসনা

:: এহসান মাহমুদ ::


 রমজান মাসে মুসলমানগণ সারাদিন রোজা রাখার পর সূর্যাস্তের সময় যে খাবার গ্রহণ করেন তাকেই আমরা ইফতার বলে থাকি। রমজান মাসে রোজাদাররা একত্রে বসে ইফতার গ্রহণ করেন। খেজুর খাবার মাধ্যমে ইফতার শুরু করা সুন্নত। তবে বাংলাদেশের বেশির ভাগ স্থানে পানি পানের মাধ্যমে ইফতারি শুরু করা হয়।


বাংলাদেশের সর্বত্র রমজান মাসে সন্ধ্যায় মাগরিবের আগে বাজারে ইফতারি বিক্রি হয়। ইফতারের খাবার হিসাবে পিঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা, মুড়ি, হালিম, জিলাপি এসব জনপ্রিয়।
তবে শহরের অধিবাসিদের কাছে ইফতার ভিন্ন মাত্রা বহন করে। ইফতারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ইফতারির বাজার। দোকানিরা নানা রসালো খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানে দোকানে। বেলা গড়িয়ে যেতেই শুরু হয়ে যায় ইফতারি কেনা-বেচার ধুম।

পুরান ঢাকার ইফতার সারা ঢাকা শহরের অধিবাসিদের কাছেই সমান লোভনীয়। বেলা বাড়তেই ইফতারি পছন্দের ইফতারি কেনার জন্য ভির বাড়তে থাকে পুরান ঢাকায়, বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে।


এছাড়া পুরান ঢাকার সাতরাওজা, বেচারাম দেওড়ী, কসাইটুলী, বংশাল, গেণ্ডারিয়া, সূত্রাপুর, হাজারীবাগ, লালবাগ, গেণ্ডারিয়া, আলুবাজার, সিদ্দিকবাজার, নাজিরা বাজার, নয়াবাজার, নবাবপুর, পটুয়াটুলি, নবাব বাড়ি, সদরঘাট, ইসলামপুরে রয়েছে ইফতারের বিশাল বাজার।


পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলোতে বিশাল শিকের সঙ্গে জড়ানো সুতি কাবাব, জালি কাবাব, শাকপুলি, টিকা কাবাব, ডিম চপ, কাচ্চি, তেহারি, মোরগ পোলাও কবুতর ও কোয়েলের রোস্ট, খাসির রানের রোস্ট, দই বড়া, গরুর চপ, মালাইকাপ, ফিরনি, মিষ্টি শিঙ্গাড়া, দই-বুন্দিয়া, ভেজিটেবল রোল, ব্যানানা রোল, পনির, বিভিন্ন ধরনের কাটলেট, পেস্তা বাদামের শরবত, ফালুদা, লাবাং, ছানা মাঠা, কিমা পরোটা, ছালা, মুড়ি, ঘুগনি, বেগুনি, আলুর চপ, জালিকাবাব, পিয়াজু, আধা থেকে পাঁচ কেজি ওজনের জাম্বো সাইজ শাহী জিলাপিসহ নানা পদের খাবার সাজিয়ে বসে পড়েছেন বিক্রেতারা।


এছাড়া নানা মৌসুমী ফল থেকে শুরু করে বিক্রি হচ্ছে আতা-আনারস-বিলেতি গাব থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফল, পিঠা-পায়েস, মিষ্টিসহ ইফতারের নানা সামগ্রী।
সারাদিন রোজা রেখে রোজাদাররা চায় সাধ্যের মধ্যে একটু ভালো খাবার দিয়ে ইফতারি করতে। তাই খাবারের দাম একটু বেশি হলেও তা খুব একটা প্রভাব পড়ে না ইফতারি বাজারে।


কবুতরের রোস্ট ১১০-১৩০ টাকা, কোয়েল পাখির রোস্ট ৬০-৭০ টাকা, আস্ত মুরগির রোস্ট ২৫০-৩০০ টাকা, খাসির রানের রোস্ট ৪০০-৬০০ টাকা, শিক কাবাব ৩০ টাকা, কিমা পরোটা প্রতিটি ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া এক কেজি ওজনের একেকটি শাহী জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। দেড় কেজি ওজনের শাহী জিলাপী ১৮০ টাকা, দই বড়া ২০০ টাকা, চিকেন কাটলেট ১৫০ টাকা কেজি এবং ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে দুধ থেকে তৈরি পানীয় ‘লাবাং’।


রোজাদাররা তাঁদের রুচি মতো সংগ্রহ করেন তাঁদের প্রিয়সব ইফতারি। কেউবা বাসায় তৈরি করেন। আবার অনেকই প্রিয় একটা ব্যঞ্জনের জন্য ঢুঁ মারেন রাজধানীর নামী কোনো রেস্তোরায়।


সারাদিন রোজা রেখে পরিবারের সবার সাথে বসে ইফতার করার তাড়া নিয়ে ঘরে ছোটেন পরিবারের কর্তা। আর তার হাতে থাকে ইফতারের জন্য প্রিয় কোনো আইটেম।


বাংলাদেশ স্থানীয় সময় : ১৮১০ ঘন্টা, ১৩ জুলাই, ২০১৩
লেখক : এহসান মাহমুদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
এএম



 






Adil Travel Winter Sale 2ndPage

মানবাধিকার : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...