প্রচ্ছদ অন্যান্য দেশে কমিউনিট

কি আছে সিসির ফাঁস হওয়া ফোনালাপে

ad1বিএ নিউজ: মিশরের স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি এবং তার ঘনিষ্ট সেনাকর্মকর্তাদের মধ্যকার বেশ কিছু বিব্রতকর ফোনালাপের রেকর্ড গত কয়েক মাস ধরে ক্রমাগতভাবে ফাঁস হচ্ছে। ফলে রেকর্ডগুলো উপেক্ষা করা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।
কোনো রেকর্ডে শোনা যায় সিসি আর তার জেনারেলরা তাদের অর্থায়নকারী আরব নেতাদের নিয়ে হাসাহাসি করছেন। কোনোটায় শোনা যায় আদালত, গণমাধ্যম এবং প্রতিবেশি দেশগুলোকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার আলাপ।
আবার কোনো রেকর্ডে আলাপ হচ্ছে বিদেশি সহায়তার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বেসামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে বিশেষভাবে সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন অ্যাকাউন্টে কিভাবে নেয়া যায় সে বিষয়ে।

বিভিন্ন প্রমাণাদির ভিত্তিতে মনে হচ্ছে, যে রেকর্ডিংগুলোর সত্যতা ঠিক আছে। ব্রিটিশ পুলিশের কাছে দেয়া তিনটি অডিও রেকর্ড একটি নামকরা ফরেনসিক প্রতিষ্ঠানের দ্বারা পরীক্ষা করানোর পর তারা বলেছে, রেকর্ডে সিসি এবং আরেকজন জেনারেল মামদুহ শাহীনের কণ্ঠস্বর যে কোনোভাবে জাল করা হয়নি সে ব্যাপারে ‘শক্তিশালী প্রমাণ’ পাওয়া গেছে।
জে পি ফ্রেঞ্চ অ্যাসোসিয়েট নামে ওই প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত টেনে বলেছে, রেকর্ডগুলোর কথাবার্তা জাল করার কোনো ধরনের নিদর্শন পাওয়া যায়নি। কণ্ঠস্বর এডিটের মাধ্যমে জালিয়াতি করা হলে তা খুব সহজেই ধরা যায়।
তবে যে কয়েকজন আইনজীবী ব্রিটিশ পুলিশের কাছে এই রিপোর্টগুলো দিয়েছেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকার কারণে একটা পক্ষপাতের ব্যাপার থেকে যায়। তারা সবাই ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
২০১৩ সালে সিসি এবং অন্য জেনারেলরা মিলে মুরসিকে হঠানোর পর তাদের দ্বারা বিরোধীদের নির্যাতন এবং মানবাধিকার লংঘনের বিষয়ে ব্রিটেনে একটি মামলা করা হয়। সেই মামলায় অভিযুক্তদের অপরাধের প্রমাণ হিসেবে এসব ভিডিওকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন আইনজীবীরা।
অবশ্য মিশরের অনেক বুদ্ধিজীবী এবং দেশটিতে অবস্থান করা পশ্চিমা ও আরব কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, তারা রেকর্ডিংগুলোর সত্যতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন। গত কয়েক মাসে মোট দুই ঘন্টারও বেশি সময়ের রেকর্ড ফাঁস হয়েছে।

প্রথম রেকর্ড প্রকাশের পর সরকার দ্রুতার সাথে সেটিকে ‘জাল’ বলে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও এরপর থেকে আর এ বিষয়ে তেমন পাত্তা দিচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট সিসির মুখপাত্র, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সিসির প্রতি সহানুভূতিশীল বলে পরিচিত ভাষ্যকাররা এ বিষয় প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করেন। সাংবাদিক নেতা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসেরের ঘনিষ্ট বলে পরিচিত মোহাম্মদ হোসেইন হেইকেল কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘বিশৃঙ্খলার সময় সবাই এসব রেকর্ড করে।’

অন্যরা বলছেন, রেকর্ডগুলোর কথাবার্তার চেয়েও বিব্রতকর বিষয় রয়েছে। কায়রোর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রাব আল মাহদী বলেন, এর মাধ্যমে সরকারের ভেতরেই বিভাজন রয়েছে শুধু সেটাই প্রমাণিত হয় না। বরং ফোনালাপগুলো শুনে বুঝা যায় এরা কতটা অদক্ষ যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে রেকর্ড করার সুযোগ দিয়েছে।

মিশরের গণমাধ্যম এগুলোকে উপেক্ষাই করে গেছে। বেসরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো তো সমকণ্ঠে সিসির গুণগান করে যাচ্ছে ক্ষমতায় আসার পর থেকে।

একটি ফাঁস হওয়া আলাপে শোনা যায়, জেনারেলরা কিভাবে দ্রুত মিডিয়া কভারেজকে তাদের পক্ষে নিয়ে আসবেন তার পরিকল্পনা করছেন। জেনারেল কামেল বলন, ‘একটা পথ হতে পারে টিভিতে নানা বিষয়ে বিতর্কের সময় সবপক্ষে আমাদের সমর্থকরা থাকবে। কামেল তার এক সহযোগীকে বলছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সিসির কোনো সমালোচনা জাতির জন্য লজ্জার বিষয়।’

বেশ কয়েকজন টিভি উপস্থাপকের নাম ধরে ধরে জেনারেল কামেল বলেন, ‘তাদের উচিত হবে জনগণকে স্বরণ করিয়ে দেয়া যে, সিসি একজন সাহসী, উদারমান এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তি। তার সমালোচনা করা হবে আমাদের জীবনে এত সুন্দর একটা জিনিস পেয়েও দু’পায়ে ঠেলে দেয়ার সমান।’

বলতে হবে, ‘আমাদের প্রিয় মিশরবাসী, যে লোক এত ত্যাগ এবং পরিশ্রম করেছে তার প্রতি কী আপনারা এমন আচরণ করতে চান?’

এটুকু বলে জেনারেল কামেল ফোনের ওপ্রান্তে থাকা তার সহযোগীকে জিজ্ঞেস করছিলেন, ‘তুমি কি শুনতে পাচ্ছো? তুমি কি এগুলো লিখে রাখছো? এভাবেই মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে!’

অন্য এক আলাপে শোনা যায়, জেনারেল কামেল সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল শাহীনকে অন্য এক জেনারেলের ছেলেকে বাঁচাতে একজন বিচারকের কাছে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করছেন। ওই ছেলে পুলিশের গাড়িতে ইসলামপন্থী ৩০ জন নেতাকর্মীর হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত।

জবাবে জেনারেল শাহীন বিচারককে প্রভাবিত করে তাদের পক্ষে আরো কয়েকজন সাক্ষী তালিকাভুক্ত করা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আমি বিচারকের সঙ্গে কথা বলবো যাতে তিনি তাদের (সাক্ষীদের) অন্তর্ভুক্ত করে নেন। আমি তোমার জন্য তাদের ব্যবস্থা করে দেব। চিন্তা করো না।’ শেষ পর্যন্ত ওই মামলায় অভিযুক্ত সব কর্মকর্তা বেকসুর খালাস পান।

প্রেসিডেন্টকে মুরসিকে জেলে আটকে রাখতে কাগজপত্রে জালিয়াতি করার কথাও উঠে এসেছে এক ফোনালাপে।

একটি রেকর্ডে শোনা যায় সিসি উপহাস করে বলছেন যে, পুলিশি সহিংসতার বিরুদ্ধে আমেরিকানদের চেয়ে মিশরের মানুষ বেশি ‘সহনশীল’! তিনি জেনারেল কামেলকে বলেন, ‘দেখেছো আমেরিকানরা সেখানে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখালো?

সম্ভবত সিসি তখন আমেরিকায় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর টিভিতে দেখে দেখে ফোনে একথা বলছিলেন। ‘এটা তো আমাদেরটার (বিক্ষোভ) চেয়ে বেশি ভয়াবহ। সেখানকার মানুষ আসলে এ ধরনের আচরণে অভ্যস্ত নয়’ সিসি কামেলকে বলছিলেন।’
অনেকগুলো রেকর্ডে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতের প্রসঙ্গ এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে মিশরে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য এই তিন দেশ একত্রে ২২ মাস ধরে ৪২ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট মুরসিকে হঠানোর আগে একটি ফোনালাপে জেনারেল কামেল সেনাবাহিনীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো আমিরাতের টাকা বিক্ষোভ আয়োজনে খরচ করা নিয়ে কথা বলেন।

জেনারেল কামেল অন্য জেনারেল সেদকি সোবহিকে বলেন, ‘স্যার, আমিরাত টাকার যে অংশ তামারুদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছে সেখান থেকে ২ লাখ মিশরীয় পাউন্ড (৩০ হাজার মার্কিন ডলার) কালকেই লাগবে।’ তামারুদ এবং রেবেলিয়ন হচ্ছে মুরসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা দুটি গ্রুপ।

আরেক রেকর্ডিংয়ে সিসি সরাসরি জেনারেল কামেলকে নির্দেশ দেন, যেন উপসাগরীয় দেশগুলোর পাঠানো টাকা বেসামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে না রেখে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অ্যাকাউন্টগুলোতে রাখা হয়।

‘তুমি তাকে বলো ১০টি আর্মির অ্যাকাউন্টে রাখতে। আমরা সফল হলে (নির্বাচনে) এগুলো রাষ্ট্রের কাজেই লাগাবো। আমিরাতে কাছ থেকে আরো ১০ আনা লাগবে। এর বাইরে ২০১৪ সালের হিসাব মিলানোর জন্য ২ সেন্ট্রাল ব্যাংকে রাখতে হবে।’

সিসির এ কথা শুনে জেনারেল কামেল হেসে দিলে সিসি বলেন, ‘হাসছো কেন? মিয়া, ওদের কাছে ভাতের মতো খালি টাকা আর টাকা!’
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

অন্যান্য দেশে কমিউনিট : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...