প্রচ্ছদ অন্যান্য দেশে কমিউনিট

লন্ডন হামলার ১০ বছর: বৃটিশ মুসলিমরা কেমন আছেন

b mলন্ডন: "সাতই জুলাইয়ের সন্ত্রাসী হামলার ১০ বছর পর বৃটেনে মুসলিমদের অবস্থার অবনতিই হয়েছে। তাদের ওপর নজরদারি বেড়েছে, সন্দেহ-অবিশ্বাসের পরিবেশের মধ্যে তারা একটা সার্বক্ষণিক দুর্ভাবনা নিয়ে বাস করছেন।"

লন্ডনে ট্রেন ও বাসে ২০০৫ সালে ইসলামপন্থীদের হামলার ১০ বছর পূর্তির দিনে আজ বৃটেনে মুসলিমদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এ কথাই বলছিলেন লেখক ও গবেষক এহতেশামুল হক।

ওই ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৫২ জন, আহত হন সাত শতাধিক। এই আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিলো বৃটেনেই বেড়ে ওঠা চারজন মুসলিম তরুণ। তার পর বৃটেনে সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনের জন্য নজরদারি ও পুলিশী অভিযান জোরদার হয়েছে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইন কঠোর করা হয়েছে।

কিন্তু তাতে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে? এহতেশামুল হক বলছিলেন, "গত ১০ বছরে বৃটেনে মুসলমানদের অবস্থা অবনতির দিকেই গিয়েছে। এন্টি টেররিজম ল' নামে যে আইন হয়েছে তা মূলত মুসলমানদের ওপর নজরদারির জন্যই। সেটা ভুল না ঠিক সে কথা আমি বলছি না। কিন্তু এর ফলে নজরদারি বেড়েছে এবং তার একটা প্রভাব পড়েছে।"

আজকের দিনটি পালন করতে গিয়ে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের কাছে বৃটেন মাথা নত করবে না। গত এক দশকে কড়া সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইন হয়েছে, জোরদার হয়েছে পুলিশী অভিযান। কিন্তু এখনও বৃটেন থেকে কট্টরপন্থী মুসলিমরা সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের হয়ে যুদ্ধ করতে যাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে বৃটেনে মুসলমানদেরকে ঠিক কি ধরনের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে - এ নিয়ে বিবিসি  বলেছে মি. হকের সাথে।

জবাবে মি. হক বলেন, "আমাদের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে । সার্বিকভাবে বলতে গেলে একটা দুশ্চিন্তার মধ্যে মুসলিমরা দিনাতিপাত করছে। যারা প্র্যাকটিসিং মুসলিম, যারা লম্বা দাড়ি রাখে, দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ে - তাদের জন্য ব্যাপারটা একটু কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

"আমি দেখেছি আমার সহকর্মীদের মধ্যে একটা ভীতি কাজ করে । ট্রেনে যাতায়াত করার সময় মনে হয় কে কখন বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে যদি লম্বা পাঞ্জাবি পরা বা লম্বা দাড়িওয়ালা কাউকে দেখা যায় - তাহলে হয়তো একটু দুর্ভাবনা কাজ করে।"

গত ১০ বছরে বৃটেনের মুসলিম সমাজের মধ্যে কি কোন পরিবর্তন হয়েছে? জবাবে মি হক বলেন, "দুই ধরণের প্রতিক্রিয়া হয়েছে। একটা ব্যাপার আমি খেয়াল করি। সরকার যে পদক্ষেগুলো নিয়েছে তার ফলে যারা রক্ষণশীল মুসলমান তারা আরো বেশি ডিফেন্সিভ হয়ে যাচ্ছে। আরো বেশি করে তাদের ধর্ম আঁকড়ে ধরতে চাচ্ছে।"

"তারা বলছে, তাদের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে, বৃটেনের পররাষ্ট্রনীতি এবং অন্যান্য নীতি মুসলমানদের বিপক্ষে। এর কোন পরিবর্তন বোধহয় হচ্ছে না। তারা যত বিচ্ছিন্ন বোধ করছে - ততই মুসলিম আত্মপরিচয়কে আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরছে।"

এহতেশামুল হক বলছেন, ইসলামী চরমপন্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার ক্ষেত্রে বৃটেনের মুসলিমদের মধ্যে জড়তা রয়ে গেছে।

"উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষেত্রে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন, কিন্তু মুসলিম আলেম, মসজিদ বা অন্যন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিতভাবে আরো বেশি কিছু করার ছিল।"

এর পেছনে ইরাক যুদ্ধ ইত্যাদি নানা কারণে বৃটিশ সরকার এবং সমাজের মূলধারার প্রতি তৈরি হওয়া অবিশ্বাসই কাজ করেছে, বলেন তিনি।

"তা ছাড়া আরেকটা কারণ হচ্ছে - এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে নিজের কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার ঝুঁকি আছে।"

এহতেশামুল হক বলেন, "আপনি একজন মুসলমান হয়ে এগুলো করতে গেলে লোকে হয়তো বলবে আপনি 'আল্ট্রা-লিবারেল', অথবা বলবে 'আপনি বিক্রি হয়ে গিয়েছেন'। মূলত এ দুটি কারণেই এ জড়তা কাটছে না।"

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

অন্যান্য দেশে কমিউনিট : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...