প্রচ্ছদবাংলাদেশ

কথিত জঙ্গী দমনে মোদির সাহায্যের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়

Modi-k7qG--621x414LiveMintমোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: জুলাই মাসের ২১ তারিখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাহস যুগিয়েছে বলেছেন, কথিত ‘জঙ্গীবিরোধী যুদ্ধে তিনি একা নন। ভারত তার পিছনে রয়েছে। ভারত সব ধরনের প্রদান করবে’ মোদির এ ধরনের প্রস্তাবকেবল আপত্তিকরই নয়, বিভ্রান্তমূলক এবং আমাদের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে নাক-গলানোর শামিলই নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের প্রস্তাব জাতি হিসেবে আমাদের টিকে থাকার যোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে । কোন দেশপ্রেমিকই তার এমন প্রস্তাবকে স্বাগত জানাতে পারে না । 
যুদ্ধ হলো দুই বা ততোধিক সশস্ত্র পক্ষের মধ্যে। যুদ্ধ হয় প্রধানতঃ একদেশের সেনাবাহিনীর সাথে অন্যদেশের বা দেশসমূহের সেনাবাহিনীর।  সবাই বুঝে কে কার সাথে  যুদ্ধ করছে। যুদ্ধ মানেই ঘোষিত সশস্ত্র আক্রমণ, প্রতি-আক্রমণ। অভ্যন্তরীন কোন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানও প্রকাশ্য ঘোষিতই। কিন্তু বাংলাদেশে কোন সশস্ত্র জঙ্গী গোষ্ঠী রয়েছে, এমন কোন গোষ্ঠীর নাম কেউ জানেন না। কারো পক্ষ থেকে কেউ দাবিও করেন নি, যে অমুকরা সশস্ত্র জঙ্গীদল বা গোষ্ঠী। মাঝে মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ র‌্যাব বিভিন্ন বাসভাবনে/মেসে হামলা চালিয়ে ছুরি, তরবারি, রামদা, রড বড়জোর পিস্তল উদ্ধারের দাবি করেন। ধরে নিয়ে যাওয়া কাউকে ক্রসফায়ারে হত্যা করে হত্যা করার স্থান থেতেক পিস্তল, রিভলবার পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। এসব দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার কোন সুযোগ নেই। পুলিশের বিবৃতিই মানুষ শোনে। এর বাইরে কোন তথ্য নেই। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। এ জনপদের অধিবাসীরা গোপন বিদ্রোহকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে কোনদিন প্রশ্রয় দেয় নি। অনুশীলন দল হতে শুরু করে কমিউনিস্ট শ্রেণীসংগ্রাম ইত্যাদি কোন গোপন সংগঠন আমাদের জনপদে কখনই স্বতঃস্ফূর্ত  জনসমর্থন পায় নি। হালের জেএমবি, আনছার উল¬া বাংলাটিম, আল¬াহ দল ইত্যাদি নামক তথাকথিত ইসলামী জঙ্গীদলের কথা সংবাদ মাধ্যমেই মানুষ শোনে, কিন্তু বাংলাদেশের কোন গ্রামেই এদের কোন অস্তিত্ব নেই। এমনকি জেএমবি’র শায়েখ আব্দুর রহমান কিংবা বাংলা ভাইয়ের গ্রামেও তাদের একজন সমর্থকও পাওয়া যাবে না। সবচেয়ে বেদনাময় কথা হলো জেএমবি’র ফাঁসি হওয়া ব্যক্তিবর্গ নিশ্চিত করে বলেছেন তাদের অর্থ, অস্ত্র-গোলাবারুদ, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি মোদির দেশ থেকে দেয়া হয়েছে । 
বর্তমানে জঙ্গী নামে যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে, কিংবা ধরা হচ্ছে, তারা কোনসূত্র থেকে প্রেরণা পাচ্ছে, তাদের পিছনের গুরু কে সে প্রকৃত তথ্য মানুষ জানেন না। দেশবাসী সরকারী ভাষ্য ও দাবির বাইরে কিছুই জানেন না। এমনকি যে জঙ্গীকে মারা হয়, তার পিতামাতাও জানেন না, তাদের সন্তানরা জঙ্গীপনায় আসক্ত। এ ধরনের কিছু  জনবিচ্ছিন্ন বিভ্রান্ত অজানা ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানকে মোদি কেন যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করলেন এবং সে কথিত যুদ্ধে শেখ হাসিনার পাশে থাকার যে অভয় (“You are not alone in this fight against terrorism. You have with you the full support of India,” Modi told Hasina. “I want to assure Prime Minister Sheikh Hasina that India would extend all sorts of assistance in her fight against terrorism.”)
 দিলেন তাকে বিশেষজ্ঞমহল মারাত্মক দুরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত এবং অশনি সংকেত বলে মনে করেন। 
ভারত, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, আমেরিকাসহ দুনিয়ার প্রায় সব দেশেই কমবেশি এ ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সারা দুনিয়াতে ভারত হলো সর্বাধিক সন্ত্রাস-কবিলত এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্ায় রক্তাক্ত সংকটাপন্ন দেশ। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো একেবারেই নগণ্য। ভারতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরে ঘোষিত ভয়াবহ সশস্ত্র লড়াই ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরপরই শুরু  হয়ে আজো চলছে। 
ভারতে কতো সংখ্যক সশস্ত্র দল-উপদল রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান ভারত সরকারের গোয়েন্দা শাখায় পাওয়া যেতে পারে। সাধারণ মানুষ কিংবা কোন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের পক্ষেও তাদের প্রকৃত সংখ্যা খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী  ভারতের ভিতরেই দুই ধরনের প্রকাশ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে লিপ্ত। ঐতিহাসিকভাবে ভারতের অংশ ছিল না, এমন ৮টি রাজ্য কাশ্মীর, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, অরুনাচল প্রদেশ, নাগাল্যাণ্ডে, (এমনকি পাঞ্চাবে) ভারত হতে স্বাধীন হবার জন্য সশস্ত্র লড়াই বিদ্যমান। অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক শোষণ এবং বর্ণবাদী বৈষম্য, অমানবিকতা  ও নির্যাতন  অবসানের উদ্দেশ্যে ঝাড়খন্ড, ছত্রিশগড়, বিহার, উড়ষ্যা, পশ্চিম বঙ্গ, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গা, কেরালা, তামিলনাড়–, উত্তরখণ্ড, রাজস্থান, আসাম, অরুনাচল প্রদেশসহ ২০টির বেশি রাজ্য মাওবাদী গেরিলাদের জনযুদ্ধে পর্যদস্ত। এমন দীর্ঘস্থায়ী জনযুদ্ধে ভারত সরকার কেবল বিব্রতই নয়, বরং দিশেহারা Ñ যাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ভারতের সবচেয়ে মারাত্মক অভ্যন্তরীন সমস্যা বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।  স্বাধীনতাকামী কিংবা মাওবাদী গেরিলারা স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও সহযোগিতা ভোগ করেন। অর্থাৎ এরা জনগণের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করেন । আলজাজিরা, বিবিসি এবং ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য মতে ভারতের মোট ভূখণ্ডের ৪০ শতাংশে মাওবাদী বিদ্রোহী ছড়িয়ে পড়েছে।  অন্যদিকে স্বাধীনতাকামী আটটি রাজ্যের গ্রামাঞ্চল ১৯৭১ সনের বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের মতোই মুক্ত অঞ্চল বিশেষ। এসব রাজ্যে কোন পর্যটক কিংবা সাংবাদিক যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে পারেন না। এমনকি  বিশেষ অনুমতিপত্র পূর্বাহ্নে সংগ্রহ না করে ভ্রমণে যাওয়াও নিষিদ্ধ। 
ইদানিং বাংলাদেশে যা ঘটছে, তা আমাদের উপর বাহির থেকে চাপিয়ে দেয়া সংকট হলেও আমরা এককভাবেই এর মোকাবেলা করতে সক্ষম। তবে জঙ্গী চিহ্নিত করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে বিশেষভাবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। জঙ্গী নাম দিয়ে যাকে তাকে পাকড়া করার কিংবা মেরে ফেলার যে সংস্কৃতি চালু রয়েছে, তা হিতে বিপরীত হতে পারে। ব¬গার-শিক্ষক-পুরোহিত-ইমাম-পীর হত্যার পর কাউকে ধরা হয় নি। কেউ জানে না এরা কারা ছিল? কিভাবে তারা মানুষ মেরে দিনে-দুপুরে কাছে-কিনারে  পুলিশের উপস্থিতি সত্বেও নিমিষে হাওয়া হয়ে গিয়েছিল? এ ধরনের ঘটনা ঘটার পর প্রতিবারই কোন তদন্ত ছাড়া মুহুর্তের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত-বিএনপি’কে কথিত দায়ী করা হয়। এ ধরনের ভূয়া অভিযোগে জামায়াত-বিএনপি নাস্তানাবুদ হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে।  গুলশানে এবং শোলাকিয়ার ঘটনায় বুঝা গেল হায়েনার দৃষ্টি এখন আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর রফতানী বাণিজ্য ও উন্নয়নের ধারা ব্যাহত করার দিকে। বিষয়টি দেশপ্রেমিক শক্তিকে নানা কারণে নিঃসন্দেহে বিচলিত করেছে।  
পর্যবেক্ষক মহল মনে গুলশান ঘটনা আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছে, এ কথিত জঙ্গীপনা ক্ষমতাসীন সরকার বা দলের বিরুদ্ধেই নয়, বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ, এমনকি  অস্তিত্বের বিরুদ্ধে। গত ৪৫ বছরে আমাদের পাটশিল্প, বস্ত্রশিল্প, ভারী কলকারখানা ধ্বংসের  পরে এখন যে সামান্য পোশাক সেলাইয়ের কারখানসহ যা কিছু আছে, সেগুলোকেও শেষ করার প্রক্রিয়ারই হলো জঙ্গী হামলার উদ্দেশ্য। একটা অংশ চলমান হামলা। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রেষারেষির সুযোগ নিয়ে আমাদের অস্তিত্ববিরোধী শক্তি সন্ত্রাসী হামলাকে বিরোধীদলের অপকর্ম হিসেবে চালিয়ে দেয়ার সুযোগ নিচ্ছে। 
অন্যদিকে বিগত দুই দশকে বাংলাদেশে বেসরকারী খাতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন যেসব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে হায়েনার দৃষ্টি এখন  সেগুলোর দিকেও পড়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাহিরের ইন্ধনে সৃষ্ট সেশনজট এবং হানাহানির কারণে এক সময় লাখ লাখ শিক্ষার্থী ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বেসরকারী উদ্যোগে  স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে  উঠায় ভারতগামী সে স্রোত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা দেশেই থেকে যায়। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক তৈরি হয় । প্রচুর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। শিক্ষাখাতে বাংলাদেশের এ নাটকীয় অগ্রগতি করো কারো মনোজ্বালার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 
এমন পরিস্থিতিতে গুলশান হামলার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কতোগুলো বেরসরকারী বিদ্যালয় অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। অনেকের মনে এমন সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে  যে, বেসরকারী উদ্যোগে আমাদের  শিক্ষাখাতের প্রশংসনীয় ও বিপ¬বাত্মক উত্থানে যাদের গা জ্বলে  তারা গুলশান হামলায় অংশ নেয়া বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কথিত জেহাদে দূর থেকে প্ররোচিত  করেছিল, যাতে এ অগ্রযাত্রা বন্ধ হয়ে যায়।  এর ঢেউ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আলামত দেখা দিয়েছে। সরকার ইতোমধ্যেই নিরাপত্তার অজুহাতে ঢাকার প্রথম শ্রেণীর ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলো বন্ধ রেখেছেন ।  অন্যদিকে বারিধারা, বনানী, ধানমণ্ডি হতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আদালতের নির্দেশে গুটিয়ে ফেলার উদ্যোগ পরিস্থিতিকে বাড়তি সংকটে ফেলে দিয়েছে । এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে আবার ভারতে পাঠানোর দিকে ঝুঁকতে প্ররোচিত হবেন বলে পর্যবেক্ষরা আশংকা প্রকাশ করেছেন, (যা দেশের জন্য কোন বিবেচনাতেই কল্যাণজনক নয়)। 
অন্যদিকে জঙ্গী ধরার নামে সাধারণ তথা দেশপ্রেমিক মানুষকে জঙ্গী হিসেবে  একতরফা  চিহ্নিত করে যে অঘোষিত দলননীতি, মোদির ভাষায় জঙ্গীবিরোধী যুদ্ধ চলছে, তাতে বাংলাদেশে যে সুদূরপ্রসারী সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলছে তার দায়ভার কে নেবে? নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে বাংলাদেশে বর্তমানে সাড়ে সাতলাখ যুবক উদ্দেশ্যমূলক রাজনৈতিক মামলার আসামী, যাদের অধিকাংশই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না। বিএনপি’র মহাসচিব মির্যা ফখরুল ইসলাম ৪ আগষ্ট বলেছেন, বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় একলাখ মামলা রয়েছে। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় প্রায় একলাখ নেতাকর্মী কারাগারে আটক রয়েছেন। আর কতোজন পঙ্গু অবস্থায় ঘরে কিংবা হাসপাতালে পড়ে আছেন তার কোন হিসেব নেই। জানা নেই গুম হওয়া খুন হওয়াদের সংখ্যা। কারারুদ্ধ কিংবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়/ঘরবাড়ি-ছাড়া শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছেন। তারা কবে বের হবেন তা কারো জানা নেই। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় যেতে না পারার কিংবা কারারুদ্ধ থাকার কারণে তাদের পাঠ্যজীবনের বয়স শেষ হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের ছাত্র-যুবকরা কিভাবে জীবনযুদ্ধে জয়ী হবেন । ইতোমধ্যেই বেকার সমস্যায় জর্জরিত দেশে এসব বন্দী কিংবা পলাতকরা অর্ধশিক্ষিত, এমনকি অশিক্ষিত থেকে দেশ ও জাতির জন্য সম্পদ না হয়ে সমস্যায় পরিণত হবেন। কারাগার থেকে বের হয়ে কোথাও কোন কাজ করার সুযোগ না পেলে তারা নানা ধরনের সমাজবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়তে পারেন। অন্যদিকে কোন মেয়ে এদেরকে বিয়ে করতে রাজি নাও হতে পারেন। ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণকারী কিংবা কারারুদ্ধ অথবা পলাতক এসব যুবক অনুপযুক্ত হওয়ায় সমসংখ্যক মেয়ের জন্য যোগ্য পাত্র পাওয়ার সংকটই কেবল প্রকট হবে না, নানাবিধ ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা আরো ভয়াবহ হবে। ছেলেরা যেমন যোগ্য না হওয়ায় বিয়ে করার মেয়ে পাবেন না, শিক্ষিত মেয়েরাও কমপক্ষে তাদের সমমানের যোগ্য ছেলে পাবেন না। তারা এবং তাদের অনাগত সন্তানরা সমাজের জন্য কেবল মারাত্মক বোঝাই হবেন না, নানাবিধ অসামাজিক এবং আইনবিরোধী কাজের উৎসও হয়ে দাঁড়াবেন। গণহারে জঙ্গী নামে অভিযুক্ত করে একটা জাতি ও দেশকে অনিশ্চিত অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে কয়জন জঙ্গী আছে? যদিও ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন, যাদেরকে জঙ্গী হিসেবে বিনা প্রমাণে বিনা তদন্তে হেনস্তা কিংবা হত্যা করা হচ্ছে, তাদের শতকরা ৯৯জনই জঙ্গী নন। এরা বড়জোর কারো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। রাজনৈতিক পক্ষকে জঙ্গী হিসেবে  নির্মূল করলে তাতে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সাময়িকভাবে লাভবান হলেও চূড়ান্ত পরিণতিতে এর নির্মম শিকার হবে এ অসহায় দেশ এবং এর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। একটা শান্তিপ্রিয় দেশে হানাহানি লাগিয়ে দিয়ে এবং তা জিইয়ে রেখে যারা বহুবিধ ফায়দা লুটতে চায়, তারাই বাংলাদেশকে জঙ্গীবিরোধী লড়াইয়ে সর্বাত্মক সাহায্য করার নামে এদেশকে শেষ করতে চায়। তারাই  ’৪৭ সনের কথিত ভুল-ক্রুটি শুধরে নিয়ে চায়। আরো সরাসরি বলতে চাই, বাংলাদেশেকে বিপদে ফেলে এর পৃথক অস্তিত্ব বিলীন করতে চায়।
সে উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশে জঙ্গী-কবলিত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার বহুমুখী চক্রান্ত চলছে। কিন্তু এরপরেও বলবো বাংলাদেশে যা ঘটেছে এটা কোন যুদ্ধ নয়। বাংলাদেশে প্রকাশ্য কিংবা গোপন কোন যুদ্ধ নেই। কারণ কথিত জঙ্গীদের সাথে এদেশের সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা এমনকি তাদের পরিবারেরও কোন সম্পর্ক নেই। এদের পিছনে সরকারবিরোধী রাজনীতিরও কোন সম্পর্ক নেই। এরা সরাসরি জনবিচ্ছিন্ন। এরা বিদেশী কোন অপশক্তির চর, যারা এদেরকে অর্থ অস্ত্র-গোলাবারুদ সরবরাহ করে। এ ধরনের হামলা হলো বাংলাদেশের অস্তিত্ববিরোধী কোন অপশক্তির চক্রান্তের প্রতিফলন। হয়তো কোন বর্ণচোরা বন্ধুর কারসাজি Ñ যারা মুখে দোস্ত বাস্তবে দুষমণ। এরা ম্যাকিয়াভ্যালীর থিউরী মুখস্ত করে রাখা আমাদের অস্তিত্ববিরোধী শক্তি। এরা সুঁই হয়ে ঢুকবে, শাল হয়ে বের হবে। এরা বন্ধুবেশী শক্র। এদের মুখে মধু অন্তরে বিষ। আমাদের সব বন্ধুই বন্ধু নয়। বন্ধু নির্বাচনে সবার অতীতকে সামনে আনতে হবে। মনে রাখতে হবে: আমাদের ইতিহাস ১৯৭১ সন থেকে শুরু হয় নি। ’৭১ সনের পরেও কার কি ভূমিকা তাও বন্ধু নির্বাচনে মনে রাখতে হবে। 
বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরপরই এরা কথিত কমিউনিস্ট নামধারী কিছু ব্যক্তিকে দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত-সংলগ্ন বাংলাদেশের জেলাগুলোতে গোলমাল বাঁধানোর চেষ্টা করে। আর দেশের দক্ষিণ-পূর্বকোণে পার্বত্য চট্টগ্রামের বহিরাগত চাকমা সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়। এ দুটো সমস্যাই বাংলাদেশ নিজস্বভাবেই সমাধা করেছে। ঐ সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ এখন সর্বক্ষেত্রে অনেক বেশি শক্তিশালী। এখন বাংলাদেশে যা চলছে, এর পিছনেও যে কোন অপশক্তি রয়েছে, তা সবাই বুঝেন। ইনশাল¬া জঙ্গীদের মুরুব্বী অপশক্তির মুখোশ কেবল উন্মোচিতই হবে না, একদিন বিলীন হয়ে যাবে। এ চক্রান্ত বাংলাদেশের মানুষই মোকাবেলা করবেন। বাইরের কারো বাড়তি সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। 
মোদিরা বাংলাদেশের জন্য হাজারো সমস্যা সৃষ্টি করে ‘জঙ্গী দমনে সরকার একা নন’ এমন আশ্বাস দিয়ে ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’ দিচেছন, যা ‘মা’র চেয়ে মাসীর দরদ বেশি’ প্রবচনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। গ্রাম-বাংলায় একটা কথা আছে, ‘মা’র চেয়ে যে বেশি ভালোবাসে সে নাকি ডাইনী’। মোদি তার দেশে ’৪৭ সন থেকে চলে আসা ঘোষিত সশস্ত্র যুদ্ধ বন্ধ করতে পারছেন না, তিনি কেন আমাদের ব্যাপারে সাহায্যের নামে নাক গলান?  বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে মোদির কথিত  ‘জঙ্গীবিরোধী যুদ্ধে’ সর্বাত্মক সহযোগিতার আগাম ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ঘোষণা কোনভাবেই অভিনন্দিত হবে না। বঙ্গবন্ধু যে দেশের সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশ হতে সরে যেতে বলেছেন, তার পুনরাগমন বাংলাদেশের জনগণ কোনভাবেই মেনে নেবেন না।  বাংলাদেশের মানুষ কোন অজুহাতে কোনভাবেই ভারতীয় কোন বাহিনীর অস্তিত্ব সহ্য করবেন না। যুদ্ধটা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হলেও মোদিরা আমাদেরকে ১৯৭১  সনে ভালোভাবেই দেখেছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ যে আচরণ করেছেন, অন্য যেকোন দেশের সৈন্যদের সাথে তারচেয়ে কোন অংশে কম করবেন, এমন ধারণা ভ্রমাত্মক হবে। 
মোদির কাছে একটা প্রশ্ন না করেই পারছিনা: বাংলাদেশের সাধারণ অভ্যন্তরীন সমস্যা সমাধানে যদি মোদিদের মতো কবিরাজের সাহায্য জরুরী হয়, তবে ভারত বাংলাদেশকে আক্রমণ করলে আমরা কোন ডাক্তারকে ডাকব?   তিনি কি চান বাংলাদেশে আমেরিকা কিংবা চীনও ঢুকে পড়–ক। আমরা আক্রান্ত হলে তো যেকোন শক্তিই আমাদের আহ্বানে আমাদের ভূখণ্ডে আসতে পারে। তেমন পরিস্থিেিত ভারতের অবস্থা কেমন হবে? যে ডাক্তার নিজেই অসুস্থ সে অন্যের রোগ সারাতে পারে না। আর এ ধরনের কবিরাজী করতে গিয়ে ভারতীয়রা শ্রীলংকায় কেমন মার খেয়েছিল মোদির স্মৃতি হতে তা মুছে যাবার কথা নয়।
অন্যদিকে ভারতে অভ্যন্তরে অবিরাম সশস্ত্র  যুদ্ধ বন্ধে কোন দেশ ভারতকে ‘সর্বাত্মক সাহায্য’ দেয়ার প্রস্তাব দেয় নি। আমরা কেন ভারতের সাহায্য নেব? আমাদের দেশে কোন সশস্ত্র যুদ্ধ নেই । কারো লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণই যথেষ্ট। যেহেতু জনগণের সাথে এদের কোন সম্পর্ক নেই। বাইরের ইন্ধনে এসব পরগাছারা এমনিতেই নির্মূল হয়ে যাবে। সর্বোপরি, আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী বিশ্বের দেশে দেশে জঙ্গীপনা, এমনকি সশস্ত্র গৃহযুদ্ধ বন্ধ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী । তেমন সেনাবাহিনী থাকতে আমাদেরকে ভারতীয় সহযোগিতা যে নিতে হবে না, তা মোদিরা না বুঝলেও আমাদের দেশের শিশুরাও বোঝেন। 
তবে এ ক্ষেত্রে  আমাদেরকে বিশেষ সাবধানতার সাথে এগুতে হবে। আমাদেরকে ফাঁদে ফেলে ফায়দা লুটার মতো লোকের অভাব নেই। সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা সাধারণ মানুষকে গণহারে জঙ্গী হিসেবে নাজেহাল করলে তা দেশ ও জাতির জন্য চরম দুর্যোগ বয়ে আনবে।  কেউ নামায পড়লে মাথায় টুপি পরলে কিংবা মুখে দাড়ি রাখলে, বোরকা-হিজাব পরলে, নামায পড়া কিংবা মসজিদে যাওয়া-আসা করলে, এমনকি বিএনপি-জামায়াত কিংবা সরকারবিরোধী হলেই জঙ্গী হতে পারে না । এগুলো জঙ্গীপণার বৈশিষ্ট্য বা কারণ নয়। এমন প্রবণতা প্রচারনা হতে সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে। 
এগুলো আত্মঘাতী ভয়ঙ্কর থিওরী। একজন মুসলিম নর-নারীর জন্য তো নামায পড়া ফরজ (আবশ্যিক) । এ ধরনের প্রচারনা তো নামাযীদের বে-নামাযী করার জঘন্য দুরভিসন্ধি যা সুক্ষ্ম কায়দায় মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কায়দায় মসজিদ মাদ্রাসার স্বাধীন অস্তিত্ব বিলীন করে সরকারী নিয়ন্ত্রণে  নেয়া হচ্ছে। মসজিদে সরকারী খোৎবা  জারী করা হচ্ছে। মসজিদকে গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে। হয়তো দেখা যাবে কোন কোন মসজিদের ভিতরে বাইরে বোমা ফুটানো হয়েছে। কিংবা জঙ্গীপন্থী শ্লোগান দেয়া হয়েছে। পুলিশের পোশাক পরে কিংবা সাধারণ পোশাকে যেকেউ নিজেদেরকে  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে দাবি করে একদিন কোন মসজিদ থেকে কিছু নিরাপরাধ মুসুলি¬কে ধরে নিয়ে যাবে ।  কিংবা পুলিশ তাদের বাড়িতে হানা দিয়ে কিছু না পেলেও সাংবাদিক সম্মেলনে দা-কুড়াল-খন্তাকে অস্ত্র আর নামায শিক্ষার বই কিংবা কোন ধর্মীয় বইকে ‘জেহাদী’ বই জঙ্গীপনার আলামত হিসেবে দেখানো হলো। এগুলোকে মসজিদ বন্ধের কারণ হিসেবে দেখানো হতে পারে। তাই  ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, সে ব্যাপারে সবাইকে সাবধান হতে হবে। 
বিশে¬ষকরা মনে করছেন: জঙ্গী ধরা বা মারা বিদেশী শক্তির চাপিয়ে দেয়া জঙ্গীদের ধরতে সরকার অনেক ক্ষেত্রে  অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ছেন। বিনা কারণে বিনা বিচারে নিরস্ত্র নিরাপরাধী মানুষ মেরে ফেলা কোনভাবেই জঙ্গী নির্মূল নয়।  তারা মনে করেন কোন ধরনের তথ্য-প্রমাণ তদন্ত ছাড়াই কারো প্ররোচনায়-পরামর্শে কোন রাজনীতির সাথে যুক্ত নয়, এমন শিক্ষার্থীদেরকে জঙ্গী সাজিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে কিনা তা যাচাই করার কোন সুযোগ নেই। শহরে  এদের থাকার ব্যবস্থা নেই বলে তাই এরা মেসে থাকে। এদের অধিকাংশেরই বয়স ২২/২৫’এর মধ্যে। হয়তো  নামায পড়েন । মুখে দাড়ি রাখেন।এগুলোতে আমাদের মুসলমানদের ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার অংশ। ।  এগুলো তো কোন অপরাধ নয়। 
মুখে দাড়ি রাখা মাথায় টুপি পরা মুসলমানদের ধর্মীয় আচারের অংশ। মুসলমানদের চিহ্ন, যেমন ধুঁতি  পরলে বুঝা যায় তিনি হিন্দু। হিন্দুরা ধুঁতি পরলে নাকে মাথায় তিলক কাটলে তারা মৌলবাদী কিংবা জঙ্গী নয়। হিন্দু মহিলারা কপালে ঁিসদুর ব্যবহার করলে হাতে শাঁখা পরলে মৌলবাদী আরএসএস নয়, কিন্তু মুসলিম মহিলারা বোরকা-হিজাব পরলে মৌলবাদী, জামায়াতী শিবির। তাদেরকে শ্রেণীকক্ষ থেকে বের করে দেয়া হয়। এমন বৈপরিত্য-বৈষম্যের শিকার মুসলমানরা তাদের জানা ইতিহাসে কখনোই হন নি।  জঙ্গী নির্মূলের  হিড়িক পরোক্ষভাবে হলেও মুসলিম পরিচিতিসূচক দাড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাব ব্যবহার বাংলাদেশে বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে । এগুলো এখন ভীতিকর পোশাক। অনেক মুসলমান এখন নিরাপত্তার ভয়ে আবার কেউ কেউ নিন্দিত হবার আশংকায় মুসলিম পরিচিতিসূচক আচার হতে সরে যাচ্ছেন। অথচ মুসলিম পরিচয়েই ১৯৪৭ সনে আমাদের দাদা-বাবারা ভারত হতে বের হয়ে মুসলিম আবাসভূমি সৃষ্টি করেন, যার ফলশ্র“তিতে ১৯৭১ সনে স্বাধীন বাংলাদেশের উত্থান হয় Ñ যা আমাদের স্বাধীতা সমৃদ্ধির দ্বার খুলে দেয়। আমাদের স্বাধীনতা যেমন বিনিময় কিংবা বিক্রিযোগ্য কোন পণ্য নয়, আমাদের মুসলিম পরিচিতি এবং সংস্কৃতিরও তেমনি। মুসলিম পরিচিতি ও সংস্কৃতি এবং আমাদের স্বাধীনতা অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এদুটোর কোনটাই আমরা হারাতে চাই না। কিন্তু কারো কারো উদ্দেশ্য হচ্ছে এ দুটোকেই বিলীন করা।
কথিত জঙ্গীবিরোধী যুদ্ধের নামে মোদিরা বাংলাদেশে কেন আসতে চান?  এর উত্তর মোদির পূর্বসুরী মনমোহন সিং’এর মন্তব্যের মধ্যেই রয়েছে। বাংলাদেশ সফর শেষে ভারতে গিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মনমোহান সিং বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের ২৫% মানুষ জামায়াত সমর্থক। জামায়াত বলতে তিনি মূলত ভারতীয় আধিপত্যবাদী নীতিবিরোধী দেশপ্রেমিক মুসলমানদেরকেই বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ যারাই ভারতের বাংলাদেশবিরোধী অপকর্মের  বিরুদ্ধে তারা সবাই জামায়াতী। এমনকি বহু মুক্তিযোদ্ধারাও। কারণ তারা বাংলাদেশকে ভারতীয় খবরদারি এবং আধিপত্য হতে মুক্ত রাখতে চান।  এ ২৫% মানুষই ভারতের জন্য মাথাব্যথা, যদিও বাস্তবে এরা ৭৫ শতাংশের বেশি। স্বাধীনতাপ্রেমিক এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে ‘সাইজ’ করাই হলো মোদির বাংলাদেশে কথিত জঙ্গীবিরোধী যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য।  
মোদিরা সর্বক্ষেত্রে আমাদের ক্ষতি করে জঙ্গীবিরোধী যুদ্ধের নামে আমাদেরকে শেষ করতে চান। মোদিরা বর্ষা মওসুমে সব বাঁধের পানি হঠাৎ ছেড়ে দিয়ে আমাদেরকে ডুবিয়ে-চুবিয়ে আর শুকনা মওসুমে পানি আটকে রেখে শুকিয়ে মারেন, সীমান্তে খুন  করেন, আমাদের দেশ থেকে সবকিছু নিয়েও আমাদেরকে কিছুই দিতে চান না, আমাদের ভূখণ্ড সর্বকাজে যথেচ্ছ ব্যবহার করছেন কিন্তু আমাদেরকে নেপাল-ভূটানে যাবার জন্য ২১ কিলোমিটার সড়ক ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছেন না, আমাদের দেশকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য বহিরাগত চাকমা সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছেন, অসম বাণিজ্যের মাধ্যমে  আমাদেরকে লুট করছেন। আমাদের স্বার্থহানি ঘটাতে যে ভারতীয়দের  বিবেকে একটুও লাগে না, সেই ভারতীয় সেই মোদি কথিত জঙ্গীবিরোধী যুদ্ধে (?) শেখ হাসিনার পাশে থাকার স্বতঃস্ফূর্ত খায়েশ প্রকাশ করেছেন। মোদিদের এ  বৈপরিত্য হতেই তাদের উদ্দেশ্য বুঝা যায়। মোদিরা বাংলাদেশে আসতে চান দেশপ্রেমিক শক্তিকে নির্মূল করতে। জঙ্গীবিরোধী কথিত যুদ্ধের বাহানায় গণহারে মুসলিম নিধন এবং আমাদের অগ্রগতির  সোপান স্বাধীনতা হরণের দুরভিসন্ধি আমাদেরকে উপলব্ধি করতে হবে । মোদির এ আগ্রাসী প্রস্তাবের কোন গ্রহণযোগ্যতা কোন দেশপ্রেমিকের কাছে থাকতে পারে না।*
লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক, নিউইয়র্ক

Email: এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।  

 
 
Adil Travel Winter Sale 2ndPage

বাংলাদেশ : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...