প্রচ্ছদবাংলাদেশ

৭ নভেম্বর জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষায় জনতার শপথে বলিয়ান

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: নিজের চোখে না দেখলে বুঝা যেতো না। ৭ নভেম্বর ঢাকা শহরে আসলে কী ঘটেছিল? রেডিও টেলিভিশনের কোন খবরের অপেক্ষায় কেউ ঘরে বসেছিলেন না। imagesjpg-2493079 lgকোন পক্ষ থেকে কোন আহ্বান নেই । অথচ ঢাকার পথে পথে জনতার ঢল নামে। এরা কোন দলের ছিলেন না। দলীয় কোন ব্যানার ছিল না । ছিল না কোন দলের পক্ষে কোন শ্লোগান। দেশের টানে এরা সেদিন রাস্তায় নেমেছিলেন। গভীর রাত থেকেই রাস্তায় মাঝে মাঝে গণবিদারী চিৎকার শোন যায়: সিপাহী জনতা ভাই ভাই। 
বেশ পরে রাত চারটার দিকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে (এস এম হল) জাসদ-সমর্থিত ছাত্রলীগ এ ধরনের একটি ঘোষণা দিয়েছিল যে, আ. স. ম. আব্দুর রব শহীদ মিনারে লংমার্চে নেতৃত্ব দিবেন। কিন্তু ঐ আ. স. ম. রব রাজশাহী কারাগারে বন্দী । এ ঘোষণা পুরোপুরি অসত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়।  
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনের প্রশস্ত সড়ক বেয়ে জনতার ¯্রােত শহীদ মিনারের দিকে। অধিকাংশই লুঙ্গি পরিহিত। সাধারণ মানুষ।  বিভিন্ন বয়সী। কিশোর থেকে অশতিপর বৃদ্ধ। কারো কারো হাতে গজারী লাঠি। আর মুখে চিৎকারঃ খন্দকার মোশতাক জিন্দাবাদ; সিপাহী জনতা ভাই ভাই। যেন  ’৭১ সনের ২৭ মার্চ নোয়াখালী জেলার চরাঞ্চল এবং গ্রাম থেকে শহরে ধেয়ে আসা মানুষগুলোর সাথেই আমি হাঁটছিলাম। 
ফজরের নামাযের পরই এস এম হল থেকে শহীদ মিনারের দিকে হাঁটছিলাম। আজিমপুরের দিক থেকে জনতার বিশাল ¯্রােত। সবাই শ্লোগান দিচ্ছেন। ঢাকাইয়া ভাষায় আমার বয়সী যুবকদের জানতে চাইলেন: মালুরা এ হান্দা কই থাহে? প্রথমে আমি বুঝতেই পারি নি, তিনি কী বলছেন: ‘মালুরা’ (?)। ঐ সময়ে আমি জগন্নাথ হলের দক্ষিণ পাশের সড়কে। আমি বললাম: ‘মালু’ কী? তিনি বললেন: ‘হিন্দু’ ‘হিন্দু’। এদের উদ্দেশ্য বুঝে আমি ঘুরিয়ে বললাম: এ রাস্তার উভয় পাশে কোন হিন্দু বাড়ি নেই। যুবকরা হন্ হন্ করে সামনে চলে গেলেন। 
এটা ছিল অভূতপূর্ব অঘোষিত স্বতঃস্পূর্ত গণ-অভ্যুত্থান নয়, গণ-বিপ্লব। তবে শান্তিপূর্ণ।  গণ-অভ্যুত্থান হয় কোন দল বা নেতার আহ্বানে, সুসংগঠিত কোন দলের নেতৃত্বে। কিন্তু সাত নভেম্বর কোন দলের বা নেতার আহ্বানে নয়, একেবারে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণ-জোয়ার। ’৭৫-এর ৭ নভেম্বর ছিল আধিপত্যবাদ কুচক্রী এবং তার স্থানীয় চরবিরোধী সাধারণ মানুষ আর সৈনিকদের রাস্তায় নেমে এসে অদৃষ্টপূূর্ব সম্মিলিত প্রতিরোধের দিন, যা কেবল ১৯৭১ সনে হয়েছিল।
শহীদ মিনার জনতার যেন জনতার সমুদ্র Ñ শহীদ মিনারই চারদিক থেকে আসা সবার গন্তব্য। আজিমপুর, বকশিবাজার, টিএসি, বর্তমান দোয়েল চত্বর, ছানখারপুলের দিক থেকে আসা মানুষের ভিড়ে কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। জনতার হাতে মোশতাক আহমদ আর জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত পেস্টুন। মাঝে মাঝে দু’একটি ট্রাকে সাধারণ সৈনিক ও বেসামরিক জনগণ খন্দকার মোশতাকের নামে শ্লোগান দিতে দিতে চক্কর দেয়। সর্বত্রই শান্তিপূর্ণ উত্তেজনা । কোথাও কোন পুলিশ নেই। কোন বিশৃঙ্খলাও নেই। তবে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এস এম হলের আবাসিক ছাত্র জাসদপন্থী ছাত্রলীগ নেতা টাঙ্গাইলের ডলার ছানখারপুলের দিক থেকে আসা জনৈক মিছিলকারীর হাতে থাকা মোশতাক-জিয়ার ছবি-সংবলিত পেস্টুন ভেঙ্গে ফেললে ডলার বিক্ষুদ্ধ জনতার হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন। জনতার রুদ্ধরোষ দেখে ডলারকে রক্ষায় উপস্থিত জাসদ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ কোন চেষ্টাই করেন নি। 
হাঁটতে হাঁটতে টিএসসি হয়ে শাহবাগ মোড় ।  এখানে, বিশেষত রেডিও সেন্টারের সামনে, বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য। বাস চলাচল করে। বাসভর্তি মানুষ শাহাবাগে নেমে শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে হাঁটে। ঘুরতে ঘুরতে হাতির পুল, নিউমার্কেট, আজিমপুর ঘুরে আবার এস এম হল। সর্বত্র একই দৃশ্য Ñ জনতার শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা। 
এ ছিল সাধারণ মানুষের অসাধারণ প্রতিক্রিয়া। খালেদ মোশাররফ ৩ নভেম্বর মোশতাক-জিয়াকে বন্দী করে ক্ষমতা দখলের পর ৩২ নম্বর সড়কমুখী মিছিলের ব্যবস্থা করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধারণা জন্মে যে খালেদ মোশাররফ ভারতে হয়ে কাজ করছেন। ভারতীয় চক্রান্ত প্রতিহতকরণের প্রতিফলন ঘটে ৭ নভেম্বর। সাধারণ জনগণ ও সৈনিকদের সম্মিলিত বিদ্রোহে (জাসদের মতে কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে) ৭ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ গংদের উৎখাত করে মোশতাক-জিয়াকে উদ্ধার করা হয় । তবে এ ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিকনায়ক জেনারেল এম এ জি  ওসমানীর অঘোষিত বিশেষ ভূমিকা ছিল। সৈনিকরা মূল কাজটি করলেও সাধারণ মানুষ সৈনিকদের সমর্থনে স্বতঃস্ফূতভাবে এগিয়ে আসায় খালেদ মোশাররফ গংদের মুরুব্বিরা আর সামনে আগানোর সাহস করেন নি। 
বাংলাদেশের পৃথক অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় করার লড়াইয়ে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অঘোষিত ঐক্য বাংলাদেশে নতুন যুগের সূচনা করে। এর মাধ্যমে ভারতীয় আধিপত্যবাদী থাবা সাময়িকভাবে হলেও প্রতিহত হয়। প্রাণে বেঁচে যান খন্দকার মোশতাক ও জেনারেল জিয়াউর রহমান । আবু তাহেরদের প্রবল বিরোধিতার মুখে মোশতাক আর প্রেসিডেন্ট পদে ফিরে যেতে পারেন নি। প্রেসিডেন্ট হন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম,  যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা এবং রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের আবির্ভাবের সড়ক খুলে দেয়, যার দূরদর্শী নেতৃত্ব আমাদের জাতীয় জীবনে অনন্য অধ্যায়ের সূচনা করে। 
অনির্বাচিত হওয়া সত্বেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়াউর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ আমাদের জাতীয় ইতিহাসে অনন্য মাইলস্টোন বিশেষ। তিনি একদলীয় একব্যক্তির বাকশালী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্র এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন। আমাদের জাতীয়তাবাদকে বিজ্ঞানভিত্তিক সর্বজনগ্রাহ্য বাস্তব ভিত্তির উপর স্থাপন করেন। ভাষাকেন্দ্রিক পরিচয়ের মাধ্যমে ভিনদেশী পরাধীন বাঙালীদের থেকে যে আমরা পৃথক - ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ ধারণার উদ্ভাবন ও প্রবর্তন করে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ-ভূখন্ডে বসবাসকারী জনগণের আশা-আকাঙ্খা, ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, সর্বোপরি পৃথক অস্তিত্ব ও জাতীয় পরিচিতি ও সক্রীয়তাকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেন।  রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে বাংলাদেশ ভূখ-ে বসবাসকারী সবাই বাংলাদেশী  - এ ধারণার মাধ্যমে বাংলাভাষী ছাড়াও বাংলাদেশের কমপক্ষে ২৯টি উপজাতিকে - যাদের মাতৃভাষা বাংলা নয় এবং যারা নিজেদেরকে বাঙালী হিসেবে কখনোই পরিচয় দিতে ইচ্ছুক নন - বাংলাদেশের মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। 
অচিরেই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী চেতনা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সক্রীয়তা ও অস্তিত্বের মূল প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। সময়ের ব্যবধানে এ চেতনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এ চেতনাই এখন আমাদের টিকে থাকার প্রেরণাময়ী শক্তি। 
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর অর্থবহ স্বাধীনতা ও অস্তিত্বকে আগ্রাসী শক্তির নখর-দন্ত থেকে মুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমানের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন উদ্ভাবন হলো দক্ষিণ এশীয় দেশসমূহের সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক জোট গঠন, যা তার শাহাদাত বরণের পর সার্ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আগ্রাসী শক্তির হায়েনায় ক্ষত-বিক্ষত সার্ক বর্তমানে ‘খানা-পিনার’ আসরে পরিণত হয়ে কার্যতঃ অকার্যকর হলেও এ সংস্থা অবশ্যই একদিন এর অভ্যুদয়ের মূল প্রেরণায় জ্বলে উঠবে। 
শহীদ জিয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিকে কোন বিশেষ দেশের খাঁচায় বন্দী না রেখে সবার সাথে বন্ধুত্ব করো সাথে বৈরিতা নয় নীতিকে বাস্তবে রূপদান করেন। তিনি মুসলিম বিশ্বসহ বিশ্বের সব দেশের সাথে সম-মর্যাদাসম্পন্ন সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার সময়ই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ওআইসি, কমনওয়েথ প্রভৃতি সংস্থায় গৌরবজনক অবস্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয় । 
আন্তর্জাতিক নদী গঙ্গার পানির সঠিক হিৎসা বাংলাদেশকে দিতে অস্বীকার করা প্রেসিডেন্ট জিয়া বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করেন। ভারত বাধ্য হয়ে বাংলাদেশের সাথে বুঝাপড়ার মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করার ওয়াদা করে বাংলাদেশকে অভিযোগ তুলে নেয়ার অনুরোধ জানায়। ভারত বাংলাদেশকে ৩৪ হাজার কিউসেক পানি প্রদান করতে বাধ্য হয়। 
বাংলাদেশকে স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তিনি খালকাটাসহ  ১৯-দফা কর্মসুচি ঘোষণা করেন। তিনি নিজে খালকাটায় অংশ নিয়ে আমাদের ইতিহাসে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। উজানে আন্তর্জাতিক নদীর পানি অবরোধের প্রেক্ষিতে জিয়ার সূচিত খালকাটা কর্মসুচি কতো বাস্তব ও জরুরী তা বর্তমানেও অনুভূত হচ্ছে। এ ছাড়া তিনি গঙ্গাবাঁধ নির্মাণের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো এ বাঁধ আশির দশকেই নির্মিত হতো। এ বাঁধের প্রয়োজনীয়তা এখন তার প্রতিপক্ষরাও যথার্থ হিসেবে উপলব্ধি করছেন। 
এ সব হচ্ছে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার সফল বিপ্লবের ফলশ্রুতি । ৭  নভেম্বর জিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার সড়ক নির্মাণ করাতেই হয়তো বাংলাদেশ বেঁচে গেছে এবং ভবিষ্যতেও বেঁচে থাকবে। সে বেঁচে থাকার নমুনা: বেগম জিয়ার লন্ডন থেকে স্বদেশে ফেরত আসার দিন বিমানবন্দরে জনতার অচিন্তনীয় সমাগম কিংবা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য কক্সবাজার যাবার পথে সড়কের উভয় পাশে গ্রামীণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভীড়। 
বাংলাদেশের হৃদয় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপে ভারতীয়  সৈন্য মোতায়েন তথা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় অবস্থান নিলে সারাদেশে তীব্র গণ-বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিদিনই ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ভারতীয় দ্রব্য বর্জনের দাবি উঠে। জাতীয় সংসদে তালপট্টি হতে ভারতীয় আগ্রাসন অবসানের সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হয়। 
এমন পরিস্থিতির ইতি ঘটানোর জন্য আধিপত্যবাদী ভারতের চক্রান্তে স্থানীয় চরদের সহযোগিতায়  মুখে মানুষ জিয়াকে সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের হৃদয় থেকে শহীদ জিয়াকে মুছে ফেলা যায় নি, কখনো যাবে না। মৃত জিয়া জীবিত জিয়ার চেয়ে অনেক শক্তিশালী। জিয়ার চেতনা ও আদর্শ মরে নি, বরং সেগুলো আরো তেজোদীপ্ত হচ্ছে। এখানেই ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের আর শহীদ জিয়ার কালজয়ী সাফল্য। যেতোই চক্রান্ত হউক এদেশকে এখন আর গিলে ফেলা সম্ভব নয়। আগ্রাসী শক্তি আমাদেরকে বারবার পদানত করতে যতো সক্রিয় হবে, আমাদের দেশপ্রেম ততো বেগবান ও বজ্রকঠোর হবে। বার বার ৭ নভেম্বরের চেতনা এবং শহীদ জিয়ার অবদান ও আদর্শ আমাদের সামনে আসবে, আমাদেরকে পথ দেখাবে।এটাই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবেসের প্রেরণা, আর শহীদ জিয়ার  শ্রেষ্ঠত্ব।*
লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক
 
Adil Travel Winter Sale 2ndPage

বাংলাদেশ : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...