তারেক রহমান : ইতিহাস-বিকৃতির নতুন যুবরাজ

mahbub reza-311x186মাহবুব রেজা:অনেকদিন পর রাজনীতির মাঠ বাক-বিতণ্ডায় সরগরম হয়ে উঠেছে। প্রধান দুই দলের নেতারা এই বাক-বিতণ্ডার পক্ষে-বিপক্ষে অবসস্থান নিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উস্কে দিচ্ছেন। স্বাধীনতার তেতাল্লিশ বছর অতিক্রম করার মাসে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান লন্ডনে বসে রাজনীতির উত্তপ্ত মাঠে এক নতুন বোমা নিক্ষেপ করেছেন বলে ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা এ প্রসঙ্গে এ-ও বলছেন তারেক রহমান ভেবে-চিন্তে, জেনেশুনে, ঠান্ডা মাথায় ইতিহাস বিকৃতির এই ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছেন। এতদিন বিএনপি’র দলীয় ওয়েব সাইটে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে অভিহিত করলেও তারেক রহমানের সাম্প্রতিক এই বক্তব্যে সেই হিসাব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গত ২৫ মার্চ লন্ডনের এক দলীয় কর্মীসভায় তারেক রহমান তার পিতা মরহুম জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করে শুধু জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে তুলে দিয়েছেন এক নতুন বিতর্কের অধ্যায়। তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে নির্বাসিত রাজনৈতিক জীবন অতিবাহিত করছেন। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে ওয়ান ইলেভেনের সময় মুচলেকা দিয়ে রাজনীতি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়ে স্বেচ্ছায় লন্ডনে চলে যান সপরিবারে। সেখানে তার উন্নত চিকিৎসা চলে। জানা যায়, এখনও তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেননি পুরোপুরি। অসুস্থতার মধ্যে থেকেও তারেক রহমান এলোমেলো বক্তব্য দিয়ে মাঝে-মধ্যেই সরব হয়ে ওঠেন রাজনীতিতে। এভাবেই দীর্ঘদিন চলে আসছিল। কিন্তু এবার তারেক রহমান যেন একটু বেশিরকমের ডেসপারেট হয়ে অতীতের সব বিতর্ককে ছাপিয়ে তুলে আনলেন এক নতুন বিতর্ককে যে বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়নি জাতিকে। তিনি লন্ডনে বসে বললেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। শুধু তাই নয় এ বিষয়ে তিনি পরিষ্কারও করলেন তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণও রয়েছে। তারেক রহমানের এ ধরনের মস্তিষ্ক-বিকৃতিজনিত বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করলেন তার মা খালেদা জিয়াও। গত ২৭ মার্চ খালেদা জিয়া তার পুত্রের মতো একই কথা উচ্চারণ করলেন নির্বিকারভাবে।তারেক রহমানের এই বক্তব্যে রাজনীতি থেকে শুরু করে দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ রীতিমত হতভম্ভ। দেশের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদরা তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে নিছক ‘পাগলের প্রলাপ’বলে অভিহিত করে বলেছেন, তারেক রহমানের আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তারেক রহমানকে ইতিহাস-বিকৃতির নতুন যুবরাজ হিসেবে উল্লেখ করে তারা তাকে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেন।৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর থেকে দেশের রাজনীতির গতি-প্রবাহ কোনদিকে চালিত হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলের শঙ্কা থাকলেও বিএনপি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেনিÑ বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ বিএনপি’র এই দিশেহারা অবস্থানে নীরব ভূমিকা পালন করছিলেন। তারা ঠিক পারছিলেন না তারা কোন পথে এগোবেন। এসময় বিএনপি’র রাজনীতিতে অন্তর্দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং-লবিং, পদ-পদবী নিয়ে নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধও চলছিল। খালেদা জিয়া স্বয়ং ছাত্রদল ও ঢাকা মহানগর বিএনপি’র কমিটির নেতাদের ওপর তার নাখোশ হওয়ার কথা গণমাধ্যমে ফলাও করে উল্লেখ করেছিলেন। বিএনপি’র মধ্যম সারির নেতাদের মধ্যে বিরোধ অনেকটা প্রকাশ্যেই চলে আসছিল। চেয়ারপার্সনের নির্দেশও কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছিল। লন্ডন থেকে তারেক রহমানের আদেশ-নির্দেশও ঠিকঠাক মতো পালিত হচ্ছিল না। দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা কাজ করছিল। দলের ভেতর চেইন-অব-কমান্ডও ঠিকমতো পালিত হচ্ছিল না। এই যখন দলের অবস্থা তখন দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবলকে অধিকতর চাঙ্গা করতে লন্ডনে বসে তৈরি করলেন নতুন এক বিতর্ক। বিতর্কের ফর্মুলা।রাজনীতি-ঘনিষ্ঠরা তাদের অভিমত ব্যক্ত করে বলছেন, তারেক রহমানের নিজস্ব ফর্মুলায় আবিষ্কৃত এই বিতর্কে কে কতটা লাভবান হয়েছেন এ কথা বলার আগে বলা প্রয়োজন, এই নয়া বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিএনপি কতটা লাভ ঘরে তুলতে পেরেছে। তারেক রহমান ঠান্ডা মাথায় এই বিতর্কে আওয়ামী লীগকে টেনে আনা সহ দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষজনদেরকেও সম্পৃক্ত করতে চেয়েছেন।আওয়ামী লীগের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য বলে চালিয়ে দিতে চাইলেও অন্যরা তা মানতে নারাজ। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে তার বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও ঐতিহাসিকভাবে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সরঞ্জিত সেনগুপ্ত’র এই বক্তব্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা একমত পোষণ করে বলেছেন, লন্ডনে চিকিৎসারতম তারেক রহমানের মস্তিষ্ক-বিকৃতি ঘটেছে যার ফলে তিনি এলোমেলো, ভুলভাল বলছেন।বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে শতভাগ সমর্থন করেছেন। তিনি তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যকে ‘সত্য’বলে অভিহিত করে বলেছেন, ৭ মার্চের পর থেকে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের পূর্ব পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে জিয়াউর রহমান সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তারেক রহমানের সঙ্গে গলা মিলিয়ে তিনি জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করে বলেছেন, ইতিহাসে জিয়াউর রহমান দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেঁচে থাকবেন।অন্যদিকে বিএনপি’র একাধিক সিনিয়র নেতা যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তারা তারেক রহমানের এ অসত্য বক্তব্যের ব্যাপারে মুখ খোলেননি। তারা নীরবতা পালন করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একাধিক বিএনপি নেতা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের এই বক্তব্য দেশ ও জাতিকে চরমভাবে বিভ্রান্ত করবে এবং আগামীতে এই বিভ্রান্তির জন্য জাতিকে উচ্চমূল্যে মাশুল দিতে হবে। বিএনপি’র কট্টরপন্থী নেতাদের অনেকেই তারেক রহমানের এই বক্তব্যে ভীষণভাবে আন্দোলিত হয়েছেন এবং তারা তাদের হাবভাবে অন্যকে একথা বুঝিয়ে দিয়েছেন, তারেক রহমান আগামীতে আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিগণিত হতে চলেছেন। তবে বিএনপি’র ভেতরে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে তারেক রহমানের এ বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি না করাই ভালো। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ইতিহাসে যেমন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তেমনি জিয়াউর রহমানের নামও লেখা থাকবে। সুতরাং এই দুই নেতাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য বর্তমানেও যেমন সচেতন মানুষ নেবে না, তেমনি পরবর্তী প্রজন্মও তা গ্রহণ করবে না।কে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি- এই বিতর্কে বিএনপি নেতারা আচ্ছন্ন হলেও সাধারণ মানুষ ইতিহাসের সঠিক পথেই হাঁটবে। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের এ বিতর্ক ক্ষণিকের জন্য জাতিকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেললেও একটা সময় সব ঠিক হয়ে যাবে। ইতিহাসবিদরা বলছেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন একথা ঐতিহাসিকভাবে সত্য। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আমবাগানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে যাকে বলা হয় মুজিবনগর সরকার। ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার পর শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। এরপর ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্ররূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়। সেই ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়। ১০ এপ্রিলের ঘোষণাপত্রে দেশের সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে প্রজাতন্ত্রের উপ-রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। তাজউদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থ মন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক পালাবদলের এক পর্যায়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন মেজর জিয়া। সামরিক আইনের বলে তিনি রাষ্ট্রপতি হন।বিএনপি’র দলীয় ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দলটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল।’২৫ মার্চ ২০১৪, লন্ডনে তারেক রহমানের বক্তব্যের তিন-চারদিনের মাথায় বিএনপি’র দলীয় ওয়েব সাইটটি রহস্যজনক কারণে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিএনপি সমর্থকরা ওয়েব সাইটটির এই সরিয়ে ফেলাকে যুক্তিযুক্ত মনে করলেও সাধারণ মানুষের মনে তা জন্ম দিয়েছে হাজারো প্রশ্নের। সাধারণ মানুষের এই হাজারো প্রশ্নের উত্তর কী দিতে পারবে বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দলটি?লেখক: কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক

Bangla-Kotir
line seperator right bar ad
sunnati hazz
line seperator right bar ad
RiteCareFront
line seperator right bar ad

fb

line seperator right bar ad
starling front
line seperator right bar ad

Prothom-alo Ittafaq Inkilab
amardesh Kaler-Kontho Amader-Somay
Bangladesh-Protidin Jaijaidin Noya-Diganto
somokal Manobjamin songram
dialy-star Daily-News new-york-times
Daily-Sun New-york-post news-paper

line seperator right bar ad

 

 Post-Card

line seperator right bar ad
Rubya Front
line seperator right bar ad

Motin Ramadan front

line seperator right bar ad
 ফেসবুকে বিএনিউজ24
line seperator right bar ad
   আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...
line seperator right bar ad
banews ad templet
 
 
line seperator right bar ad
   ফটোগ্যালারি
  আরো ছবি দেখুন -->> 
line seperator right bar ad
 
    পুরাতন সংখ্যা
banews ad templet