এ কে পার্টির গরিষ্ঠতা হারানোয় নানা সমীকরণ

18 1মাসুমুর রহমান খলিলী

তুরস্কের রাজনীতিতে বিস্ময় সৃষ্টিকারী জাস্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) ৭ জুনের নির্বাচনে জয়ী হলেও সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এতে দলটি সরকার গঠন করতে পারবে, হয় সংখ্যালঘু হিসেবে অথবা অন্য দলের সাথে কোয়ালিশন করে। সংখ্যালঘু সরকার গঠনে সমর্থন অথবা কোয়ালিশন সরকার না হলে আরেকটি মধ্যবর্তী নির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। তুরস্কের রাজনীতিতে এতে সৃষ্টি হতে পারে সাময়িক রাজনৈতিক অস্থিরতা।
এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন এ কে পার্টি ৪১ শতাংশের মতো ভোট পেয়ে ৫৫০ আসনের সংসদে ২৫৮টি আসন জিতেছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য ২৭৬টি আসনের প্রয়োজন ছিল। এবারের নির্বাচনে একেপি চার বছর আগের তুলনায় ৮.৯ শতাংশ ভোট কম পেয়েছে। আসন হারিয়েছে ৫৩টি। প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) ২৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৩২টি আসন লাভ করেছে। তৃতীয় বৃহত্তম দল ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) ১৬.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ৮০টি আসন লাভ করেছে। আর কুর্দিদের দল পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও (এইচডিপি) ১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে। দলভিত্তিক তুর্কি মডেলের আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থায় এ ফল দাঁড়িয়েছে। এই ব্যবস্থায় সারা দেশকে ভাগ করা ৮৫ ইলেক্টোরাল জেলার ভোটারদের আসন দিয়ে ভাগ করে নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম ভোট নির্ধারণ করা হয়। এরপর দলগুলোর দেয়া তালিকা থেকে ক্রম অনুসারে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। কোনো দল ১০ শতাংশের কম ভোট পেলে তাদের আসন সেখানকার অধিক ভোট প্রাপ্ত অন্য দলগুলোকে দেয়া হয়।
নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে এ কে পার্টি ৪২ শতাংশ ভোট পাবে বলেই ধারণা করা হয়েছিল। এ পরিমাণ ভোট পেলেও এইচডিপি ১০ শতাংশের ন্যূনতম ভোটপ্রাপ্তির কোটা অতিক্রম করতে না পারলে এ কে পার্টির আসন ৩৩০ অতিক্রম করতে পারত। এতে করে দলের পক্ষে সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার প্রবর্তনের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হতো। কিন্তু এইচডিপি বিস্ময়করভাবে আগের সাড়ে ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩ শতাংশ ভোট লাভ করায় সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যায়। তাদের আসনসংখ্যা বাড়ে ৫০টি। এমএইচপি আগের বারের তুলনায় এবার ৩.৩৭ শতাংশ ভোট বেশি পেয়ে ২৮টি আসন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। সে তুলনায় প্রধান বিরোধী দল সিএইচপির ভোটসংখ্যা ১ শতাংশ কমে গেছে। যদিও আসন বেড়েছে সাতটি।
এবারের নির্বাচনের পরে একেপির নেতারা সংখ্যালঘু বা কোয়ালিশন সরকার গঠনের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সিএইচপি এবং এইচডিপির সাথে এ কে পার্টির কোয়ালিশনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলা যায়। তৃতীয় দল এমএইচপির নেতারা কোয়ালিশনের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেননি। ফলে তাদের সাথেই কোয়ালিশন হলেও হতে পারে। কিন্তু সেটি নির্ভর করবে প্রেসিডেন্ট এরদোগান কোয়ালিশন সরকার চাচ্ছেন কি না আর এমএইচপি একে পার্টির দেশের শাসনতন্ত্র পরিবর্তনের উদ্যোগকে সমর্থন করবে কি না। সেটি যদি না করে থাকে তাহলে সংখ্যালঘু একেপি সরকার গঠনের সম্ভাবনাই বেশি। একেপি সরকার গঠনে ব্যার্থ হলে বিকল্প হিসেবে অন্য দলগুলোও কোয়ালিশন সরকারের উদ্যোগ নিতে পারবে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের সমর্থন না থাকার কারণে সরকারের স্থিতি ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে আগামী এক বা দুই বছর পরে আরেকটি মধ্যবর্তী নির্বাচন অনিবার্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি সেটি হতে পারে সরকার গঠনের নির্ধারিত ৪৫ দিন পেরোনোর পরবর্তী ৯০ দিনেও।
সংখ্যালঘু সরকার ও কোয়ালিশন সরকার
তুরস্কের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হতে না পারলে দু’ধরনের সরকার গঠন করতে পারে। এর একটি হলো সংখ্যালঘু সরকার। এ ধরনের সরকার গঠনে অন্য দল সরকারে অংশ না নিয়ে বাইরে থেকে আস্থা ভোটে সমর্থন প্রদান করে। এই সমর্থন যেকোনো সময় প্রত্যাহার হলে সে সরকার আবার পতনের মুখে পড়তে পারে। অন্য দিকে একাধিক দল মিলে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোয়ালিশনের অংশীদাররা সরকারে অংশ নেয়। সরকারের নীতি নির্ধারণ হয় সমঝোতার মাধ্যমে। এই সমঝোতায় ব্যত্যয় না ঘটলে এই ধরনের সরকার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ১৯৯৯ সালে পরস্পরবিরোধী তিনটি দল কোয়ালিশন সরকার গঠন করেছিল তুরস্কে।
৭টি সম্ভাব্য দৃশ্যপট
তুরস্কের এবারের নির্বাচনের পর দেশটিতে সাতটি দৃশ্যপট দেখা যেতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি ও সমঝোতার ওপর নির্ভর করবেÑ কোন দৃশ্যপটটি সেখানে দেখা যেতে পারে। ৭ জুনের নির্বাচনে ১০ শতাংশ ভোট প্রাপ্তির সীমা অতিক্রম করে চারটি দল সংসদে আসন লাভ করেছে। এর বাইরে গুলেনপন্থী বেশ কয়েকজন নেতা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে লড়াই করে বিজয়ী হতে পারেননি।
ইসলামি পটভূমি থেকে ডান রক্ষণশীল দল হিসেবে এ কে পার্টি গঠন করেছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোগান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল। ২০০২ সাল থেকে দলটি ক্ষমতায় রয়েছে। প্রধান বিরোধী দল সিএইচপি কট্টর সেকুলারিস্ট দল। এটি মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের ভাবাদর্শকে ধারণ করে আছে। দলটি সেনাবাহিনী ও সেক্যুরিস্ট এস্টাব্লিশমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় দীর্ঘ দিন তুরস্কের ক্ষমতায় ছিল। এমএইচপি হলো তুর্কি জাতীয়তাবাদী মধ্যপন্থী দল। এর আগে দলটি কয়েকবার ক্ষমতায় গিয়েছিল। আদর্শগতভাবে এই দলটি সিএইচপির চেয়ে বরং একেপিরই কাছাকাছি। এইচডিপি বিভিন্ন ক্ষুদ্র কুর্দি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত। তাদের সাথে এক সময় বিচ্ছিন্নতাবাদী পিকেকে’র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিগত সংসদে এই দলের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাড়ে ৬ শতাংশ ভোট এবং ৩০টি আসন লাভ করেছিল। দলটি কুর্দি জাতীয়তাবাদ ও সমাজতান্ত্রিক আাদর্শে বিশ্বাস করে।
দৃশ্যপট ১ : একেপির সংখ্যালঘু সরকার
এই দৃশ্যপটে একেপির ২৫৮ জন এমপির বাইরে আরো ১৮ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন সরকার গঠনের জন্য। সংসদের বাকি তিন দলের মধ্যে যেকোনো দল বা দলের ১৮ জন সদস্য সমর্থন দিলে একেপি এ সরকার গঠন করতে পারে। দলের শৃঙ্খলার কারণে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদ সদস্যদের সমর্থন দানের সম্ভাবনা নেই। একেপির সাথে কোয়ালিশনে না গিয়ে কোনো দল সমর্থন দিলে এ সরকার গঠন হতে পারে। কিন্তু একেপির ব্যাপারে তিন দলেরই নেতিবাচক মনোভাব থাকায় এ ধরনের সমর্থনের সম্ভাবনা কম বলে মনে হচ্ছে।
দৃশ্যপট ২ : সিএইচপি-এমএইচপির সরকার-এইচডিপির সমর্থন
এই দৃশ্যপট অনুসারে প্রধান বিরোধী দল সেকুলারিস্ট সিএইচপি ও জাতীয়তাবাদী এমএইচপি সরকার গঠন করতে পারে। এতে তাদের সম্মিলিত সংসদ সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১২ জন। তাদের এই কোয়ালিশনে বাইরে থেকে এইচডিপি সমর্থন দিলে এই সংখ্যা ২৯২তে উন্নীত হবে। এমএইচপি’র চেয়ারম্যান ডেভেট বাসেলি অন্য কারো সাথে কোয়ালিশনে না যাওয়ার কথা বলায় এটি কতটা হবে নিশ্চিত করে বলা যায় না। অন্য দিকে এইচডিপি আগেই ঘোষণা করেছে তারা সরকারের অংশ হবে না।
দৃশ্যপট ৩ : একেপি-এমএইচপি কোয়ালিশন
শাসক দল একেপির সাথে কোনো দলের কোয়ালিশন সরকার হলে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমএইচপির সাথে। এই দলের প্রধান কোয়ালিশনে না যাওয়ার কথা বললেও দ্বিতীয় প্রধান নেতা বলেছেন তারা সম্ভাব্য যেকোনো পথ খোলা রাখবে। ফলে এই ধরনের আলোচনা হতে পারে। এই দুই দল কোয়ালিশন সরকার গঠন করলে এমপির সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৩৮ জন। তারা সংবিধানে যেকোনো সংশোধনী আনতে চাইলে গণভোটে পাঠানোর মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমএইচপি একে পার্টি ও এরদোগানের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব গ্রহণ করলেও নির্বাচনের ফলাফলের ব্যাপারে তাদের মনোভাবে বেশ খানিকটা নমনীয়তা আসে।
দৃশ্যপট ৪ : একেপি-সিএইচপি কোয়ালিশন
নির্বাচনোত্তর আরেকটি দৃশ্যপট হতে পারে একে পার্টি ও প্রধান বিরোধী দল সিএইচপির মধ্যে কোয়ালিশন। এ ধরনের সম্ভাবনা কম হলেও যদি তা হয় তবে এই দুই দলের সম্মিলিত সংসদ সদস্যের সংখ্যা পৌঁছবে ৩৯০ জনে। এই কোয়ালিশন চাইলে গণভোট ছাড়াই সংবিধানে যেকোনো সংশোধনী আনতে পারে। চরম বিপরীত এই দুই দলের মধ্যে কোয়ালিশন সম্ভাবনা এক প্রকার নেই বললেও চলে। যদিও বিপরীত আদর্শের দলের মধ্যে কোয়ালিশনের তেমন ঘটনা দেশটিতে এর আগে দেখা গেছে।
দৃশ্যপট ৫ : একেপি-এইচডিপি কোয়ালিশন
এইচডিপি প্রধান সালাদিন ডেমিরেটাস নির্বাচনী প্রচারণার সময় যেকোনো সরকারে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও বাস্তব বিষয়টি হলো কুর্দি ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধানের ব্যাপারে সবচেয়ে উদ্যোগী ভূমিকা রয়েছে একে পার্টির। ফলে এইচডিপি আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে একে পার্টির সাথে কোয়ালিশন গঠন করতে পারে। এটি বাস্তবে হলে কুর্দি শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া অনেকটা সহজ হতে পারে। যদিও দলটির নির্বাচনী প্রচারণায় এ কে পার্টি মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল। একেপিবিরোধী অনেক ভোটার ইস্তাম্বুল ও ভ্যানসহ আরো কয়েকটি স্থানে ক্ষমতাসীন দল যাতে সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতিতে যেতে না পারে তার জন্য এইচডিপিকে ভোট দিয়ে ১০ শতাংশ অতিক্রমে সহায়তা করেছে। এসব ভোটারের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে একেপির সাথে সরকারে গেলে। এ কারণে এ ধরনের কোয়ালিশন বেশ কঠিন হবে।
দৃশ্যপট ৬ : সিএইচপি-এমএইচপি ও এইচডিপি কোয়ালিশন
সংসদে অধিক আসনপ্রাপ্ত একেপি কোয়ালিশন বা সংখ্যালঘু সরকার গঠনের মতো সমর্থন না পেলে বাকি দলগুলোর সামনে কোয়ালিশনের পথ প্রশস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরস্পর বিপরীত আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও সিএইচপি-এমএইচপি ও এইচডিপি কোয়ালিশন হতে পারে। এরদোগানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দুই দল যৌথ প্রার্থী দিয়েছিল। এই তিনটি দল কোয়ালিশন করলে তাদের সম্মিলিত এমপির সংখ্যা হবে ২৯৩ জন। তারা সংবিধান সংশোধনের কোনো উদ্যোগ নিতে পারবে না। কিন্তু সরকার চালাতে পারবে। এ ক্ষেত্রে এইচডিপির পক্ষে কুর্দিবিরোধী এমএইচপির সাথে সরকারে থাকা বেশ কঠিন হবে। আন্তর্জাতিক কোনো উদ্যোগ সক্রিয় হলে এটি একবারেই অসম্ভব নয়।
দৃশ্যপট ৭ : আবার নির্বাচন
নির্বাচনের সরকারি ফলাফল ঘোষণার ৪৫ দিনের মধ্যে কোনো দল সরকার গঠন করতে না পারলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিতে পারেন। এই সম্ভাবনা বেশ কম হলেও এটি অসম্ভব নয়। একে পার্টি ২০০২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটির অভূতপূর্ব উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়। যত দিন তারা এককভাবে সরকার গঠন করতে পেরেছে তত দিন কোনো অস্থিরতা দেখা দেয়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর কারণে অস্থিরতা দেখা দিলে তারা ভোটারদের উদ্দেশে স্থিতিশীল সরকার গঠনের জন্য বর্ধিত সমর্থন জনগণের কাছে চাইতে পারেন। আবার বিরোধী পক্ষের সামনেও আরো ভালো ফল করে সরকার গঠন নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তুরস্কের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী আসে সেটি সম্পর্কে আরো নিশ্চিত হতে কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। ইতোমধ্যে আঙ্কারায় রাজনৈতিক দলগুলো কোয়ালিশন গঠনের ব্যাপারে প্রাথমিক আলাপ আলোচনা শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান রাজনৈতিক বাস্তবতা উপলব্ধি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
একেপিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা
তুরস্কের রাজনীতিতে এবারের নির্বাচনের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে বলে আগে থেকেই জল্পনা চলছিল। একে পার্টি সংবিধান সংশোধনের মতো আসন পেলেই তুরস্কে সরকারপদ্ধতি পাল্টে হতো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। আর এরদোগান হতেন দেশটির ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ফলাফল ক্ষমতাসীনদের জন্য খানিকটা নৈরাশ্যজনক হওয়ায় এর প্রভাব পড়তে পারে রাজনীতির স্থিতিশীলতায়। তুরস্কের একে পার্টির নেতৃত্বেও আসতে পারে পরিবর্তন।
তুরস্কের রাজনীতিতে রিসেপ তাইয়েব এরদোগান যে ঝড়োগতির সাফল্য পেয়েছিলেন, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননি তার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দেভুতুগ্লু। দেভুতুগ্লু তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন সফল ব্যক্তিত্ব। কিন্তু একাডেমিক পটভূমি তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা থেকে আসা এ ব্যক্তি রাজনৈতিক ময়দানে জনগণের মধ্যে সাড়া ফেলতে সেভাবে সফল হননি। ফলে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে এরদোগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ফলাফল এতটা নৈরাশ্যজনক পর্যায়ে এসে দাঁড়াল।
এরদোগানকে এ কে পার্টির ক্ষমতা অব্যাহত রাখার জন্য দলের নেতা নির্বাচনের ব্যাপারে কিছুটা ভিন্নভাবে ভাবতে হবে। দেভুতুগ্লুর নেতৃত্ব দলকে আর বেশি দূর সামনে এগিয়ে নিতে পারবে বলে মনে হয় না। এ ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ গুলকে নেতৃত্বে নিয়ে আসতে পারলে দলে আবার গতি সঞ্চার হতে পারে। এমন একটি ইঙ্গিত নির্বাচনের আগে এরদোগান নিজেই দিয়েছিলেন। তবে রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত হওয়ার জন্য আবদুল্লাহ গুলের যে দু’টি শর্ত রয়েছে, তার একটি হলো অনুরোধটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দেভুতুগ্লুর কাছ থেকেও আসতে হবে। তবে যাই হোক না কেন, আবদুল্লাহ গুল দলের নেতৃত্বে ফিরে আসার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন শেষের দিকে এরদোগানের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে তার মতানৈক্য দেখা দিয়েছিল। কিন্তু গুল একেপির বাইরে অন্য কোনো দলে যোগদান বা শরিক হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করেননি। এমনকি নানা বিষয়ে ক্ষোভ থাকলেও এরদোগানকে তিনি চ্যালেঞ্জ করেননি।
কেন এই ফল?
এ ফলাফলের পেছনে যেসব কারণ দায়ী বলে মনে করা হয়, তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেভুতুগ্লু স্বল্প সাফল্যের পাশাপাশি এরদোগানের রাষ্ট্রপতি শাসনের মধ্যে স্বেচ্ছাচারী হয়ে পড়ার যে প্রচারণা চলছিল, তার প্রভাব কিছুটা হলেও কাজ করেছে। অন্য দিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুলের মতো একেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কিছুটা সাইড লাইনে পড়ে যাওয়ায় বিপর্যয় ঠেকানোর মতো ভূমিকা পালন করার কেউ থাকেনি। এ ছাড়া ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে অ্যান্টি এস্টাব্লিশমেন্ট একটি চেতনা ভোটারদের মধ্যে কাজ করেছে। সর্বোপরি বিভিন্ন কুর্দি দলের সমন্বয়ে গঠিত পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কারিশম্যাটিক নেতা সালাদিন ডেমিরেটাস সংসদে কুর্দি স্বতন্ত্র প্রতিনিধিত্বের ব্যাপারে তার নিজস্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে জাগরণ আনতে পেরেছেন। অন্য দিকে, প্রধান বিরোধী দল সিএইচপি ন্যূনতম ভোটপ্রাপ্তির ১০ শতাংশ পিপলস পার্টি যাতে অতিক্রম করতে পারে তার জন্য নানাভাবে সহযোগিতা করেছে। তারা মনে করেছে, ১০ শতাংশের পর্যায় অতিক্রম করতে না পারলে এ কে পার্টির আসন সংখ্যা ৩৩০ পার হয়ে যেতে পারে।
এর বাইরে নিউ ইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান, ইকোনমিস্ট ও খ্যাতনামা বিশ্ব গণমাধ্যমের ভূমিকা দেখে মনে হয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তুরস্কের এই নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছে। তারা তুরস্কের একেপি শাসনের অবসান ঘটিয়ে আঞ্চলিক অস্থিরতার মতো কোনো ঝুঁকি হয়তো নিতে চাননি। তবে এরদোগানের হাত যাতে অনেক বেশি শক্তিশালী না হয়ে যায় তার জন্য ভূমিকা রেখেছে।
আন্তর্জাতিক তাৎপর্য
তুরস্কের এবারের নির্বাচন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট এরদোগান মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ব্রাদারহুড ও অন্যান্য ইসলামি আন্দোলনের একজন কড়া পৃষ্ঠপোষক। যদিও তার নিজ দেশের ইসলামি আন্দোলন সাদাত পার্টি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে ২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ব্রাদারহুডকে সমর্থন করায় মিসরের সিসি সরকারের সাথে তুরস্কের শীতল সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ বিবেচনায় তুরস্কে একে পার্টির সাফল্য বা ব্যর্থতা বিশ্বের অন্য দেশের ইসলামি দলগুলোর ওপর বেশ খানিকটা প্রভাব ফেলবে। আর কোনো কারণে একেপি সরকার গঠন না করতে পারলে এর প্রভাব হবে আরো মারাত্মক। এতে তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যে যে ভিন্ন ধারার পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছিল তাতে ছেদ পড়তে পারে। এ কারণে অনেকে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ছাড়াও ইসরাইল, ইরান বা মিসরের মতো দেশের গোপন ভূমিকা রাখার বিষয়টি উড়িয়ে দেন না।

Bangla-Kotir
line seperator right bar ad
sunnati hazz
line seperator right bar ad
RiteCareFront
line seperator right bar ad

fb

line seperator right bar ad
starling front
line seperator right bar ad

Prothom-alo Ittafaq Inkilab
amardesh Kaler-Kontho Amader-Somay
Bangladesh-Protidin Jaijaidin Noya-Diganto
somokal Manobjamin songram
dialy-star Daily-News new-york-times
Daily-Sun New-york-post news-paper

line seperator right bar ad

 

 Post-Card

line seperator right bar ad
Rubya Front
line seperator right bar ad

Motin Ramadan front

line seperator right bar ad
 ফেসবুকে বিএনিউজ24
line seperator right bar ad
   আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...
line seperator right bar ad
banews ad templet
 
 
line seperator right bar ad
   ফটোগ্যালারি
  আরো ছবি দেখুন -->> 
line seperator right bar ad
 
    পুরাতন সংখ্যা
banews ad templet