নিরাপদে মরতে চাওয়া কি বিলাসিতা?

ডা. হাবিবুর রহিমঃ habibur-rahimবিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেখতে দেখতে ব্যাপারটা সবার কাছে এখন একেবারে ক্লিশে হয়ে গেছে। একটার পর একটা হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে। বলা বাহুল্য কোনটারই দৃষ্টান্তমূলক কোন বিচার হচ্ছে না। ঘটনাগুলো এখন বড়জোর কয়েক ঘণ্টার উত্তেজনার উপলক্ষ্য হচ্ছে মাত্র।

একেকজন মানুষকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়; আর তার স্বজন-শুভাকাঙ্খীরা কান্নাকাটি করতে থাকে। আর প্রতিপক্ষ তার মৃত্যুতে সুখের আবেশে চুপ করে থাকে। এবার যখন অপরপক্ষের কোন লোক মারা যায় এবার আগের অংশটি খুশিতে  বগল বাজাতে শুরু করে।

ফলাফলে এই মৃত্যুগুলো এখন কেবলই রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায়ের মাধ্যম হয়ে যাচ্ছে; স্বপক্ষে জনমত বাড়ানোর উপলক্ষ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। যিনি মারা যান তার শুভানুধ্যায়ীরা কয়েকদিন বিভিন্ন জায়গায় শোক সভা, প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করেন। একের পর এক শোক সভায় বক্তব্য দিয়ে দিয়ে একসময় তারা ক্লান্ত হয়ে যান। এরপর আবার অবচেতনে অপেক্ষা করতে থাকেন নতুন কোন হত্যাকাণ্ডের। অপেক্ষা করতে থাকেন নতুন করে সেই অপমৃত্যুর প্রতিবাদে গর্জে ওঠার!

‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ এখন বাংলাদেশের মানুষের দারুণ আকাঙ্খার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। কারণ বর্তমানে  স্বাভাবিক ভাবে শেষ নিঃশ্বাস ফেলার সম্ভাবনাটাই সবচেয়ে কম। এর আগেই আপনি খুব বেশী কিছু না করেও আপনার অজান্তেই কারো না কারো ‘টার্গেটে’ পড়ে যেতে পারেন। আপনার কোন বাক স্বাধীনতা নেই। মুক্তভাবে কোথাও মত প্রকাশের সুযোগ নেই। আপনি যা বলতে চাইবেন তাতেই বিপদ। জমিনে কোথাও পা ফেলতে গেলেই কারো না কারো লেজে পা পরার সম্ভাবনা থেকে যায়।

সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললে সরকারী বাহিনী আপনাকে মরণ ছোবল দেবে। মিথ্যা মামলা, হুলিয়া এমন কী ক্রসফায়ারের মতো ঘটনাগুলো আপনার জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাবে। আবার ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু বললে আনসার উল্লাহ বাহিনীরা আপনাকে দুনিয়ার বাইরে পাঠিয়ে দিবে।

যখন বিরোধী মতের প্রতি দমন-নিপীড়ণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া হয়, স্বাভাবিক ভাবে মত প্রকাশের দরজা বন্ধ করে  জ্ঞানপাপীদের কে মর্যাদার দরজা দিয়ে রাখা হয় তখন দীর্ঘ দিনের চেপে থাকা ক্ষোভ বেড়িয়ে আসার ফলাফলটা খুব ভালো হয় না। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিষয়টি বেশ স্পষ্ট ভাবেই প্রতিভাত হচ্ছে।

এ দেশে এখন নিরাপদে বেঁচে থাকার উপায় হল একেবারেই কোন কথা না বলা। বোবার ভূমিকায় অভিনয় করে যাওয়া সারাক্ষণ। কথা বললেই দারুণ বিপদ। বলা তো যায় না কখন কোন বাহিনী পিছে লেগে যায়। সম্প্রতি যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেসব হত্যাকাণ্ডের আসল অপরাধী কারা সেটা খুঁজে বের করা কখনোই তেমন কোন কঠিন কাজ ছিলো না।

যেখানে দেশের বর্তমান সরকার প্রধান আর সাবেক সরকার প্রধানের ফোনে কথোপকথনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় ডকুমেন্ট ফাঁস করার মতো চৌকস লোক আমাদের দেশে আছেন। সেখানে এসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করাতো নিতান্তই সহজ কাজ। কারা, কখন, কোথায়, কিভাবে, কেন এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে তা জানা মোটেও কঠিন কাজ না। প্রয়োজন শুধু কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা।

তবে কথা হলো এই গোপনীয় বিষয়গুলো জনগণের সামনে আসলে কারো কারো লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশী হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে কিনা সেটাও মাথায় রাখতে হয়। সেই হারানোর ‘ভয়’ একটার পর একটা তদন্তকে ক্রমাগত হিমাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছে কিনা দেখা দরকার। যদিও কোনভাবেই তা জানার সুযোগ নেই। তাছাড়া এসব হত্যাকান্ডে জনগনের আবেগ খুব বেশী থাকে। তাই এই বাড়তি আবেগগুলোকে কোন ভাবে রাজনীতিতে ব্যবহার করা যায় কি না সেটা ভাবতেই অনেক মাথা খাটাতে হয়; বিচার নিয়ে ভাবার সময় কোথায়?

আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের কাজ হলো ‘আম জনতা’ হিসেবে আমাদের ওপর আরোপিত দায়িত্বগুলো যথাযথ ভাবে পালন করা। আমাদের কাজ হলো আমরা সবাই মিলে একটা রুটিন করে সে আলোকে একেকদিন একেকজন একেকভাবে একেক জায়গায় মরে পড়ে থাকবো। কেউ সড়ক দুর্ঘটনায় বিভৎসভাবে মরব, কেউ সন্ত্রাসীর গুলিতে ছিন্নভিন্ন হব, কেউবা জবাই হয়ে ফিনকি দেয়া রক্তের সাগরে ভাসতে ভাসতে মরব, কেউবা আবার ক্রসফায়ারে জীবন দিব। আমাদের দায়িত্ব বলতে ওইটুকুই। মৃত্যুর পর আমাদের লাশটা আমার পরিবারের কাছে পৌঁছুবে নাকি পেটের মধ্যে একটা ফুটো করে বাতাসগুলো বের হবার ব্যবস্থা করে দিয়ে দেহের সাথে ষোলটা ইট বেঁধে বুড়িগঙ্গা কিংবা শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেয়া হবে সেই সিদ্ধান্তটাও আমাদের হাতে নাই। সব সিদ্ধান্ত হবে অন্য কোথাও। আমাদের কাজ শুধু অনুগত ভাবে এই মৃত্যুকে আলিঙ্গণ করে যাওয়া।

আমাদের করণীয় হলো শুধু একটা বিভৎস হতাশ মুখে কিছু পশুর প্রতি একরাশ ঘৃণা নিয়ে জায়গামতো মরে পরে থাকা। নিজেকে কোন নোংরা বিভেদের শিকার হিসেবে স্বীকার করে নেয়া। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ এই বাধ্যতামূলক দায়িত্ব পালন করা ছাড়া আর কিইবা করতে পারে? তাছাড়া আমরা যদি এ কাজ না করি তবে কে করবে বলুন? আমরাই তো কর্তা ব্যক্তিদের দাবার ঘুঁটি। আমাদের দিয়েই তো তাঁরা ইচ্ছে মতোন নানান খেলা খেলবেন।

কেন যেন এখনো নির্লজ্জের মতো স্বাভাবিক ভাবে মরতে ইচ্ছে করে। আরো কটা দিন এই পৃথিবীর আলো বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে ইচ্ছে করে। কলুষতামুক্ত সুনীল আকাশের দিকে তাকিয়ে দেশের নিবিঢ় সবুজ ঘাসে শুয়ে বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে আরো কিছুদিন। কিন্তু বুঝতে পারছি এ চাওয়া বড়ো অসম্ভব চাওয়া। সবার সব চাওয়া কী আর সবসময় পূরণ হয়!

হয়তো কিছুদিন বাদেই কোন এক রাস্তায় বা বাজারে কিছু হিংস্র শ্বাপদের হাতে আক্রান্ত হব আমি। ধারালো অস্ত্রের একের পর এক নির্মম কোপে ক্ষত বিক্ষত হব আমি আর আশেপাশের মানুষ নামের জানোয়ারেরা দূর থেকে শুধু দেখে যাবে; এরপর হিসেব করতে বসবে, “আচ্ছা, কোন দলের ছিলো লোকটা?”

ডা. হাবিবুর রহিম: লেখক ও চিকিৎসক

Bangla-Kotir
line seperator right bar ad
sunnati hazz
line seperator right bar ad
RiteCareFront
line seperator right bar ad

fb

line seperator right bar ad
starling front
line seperator right bar ad

Prothom-alo Ittafaq Inkilab
amardesh Kaler-Kontho Amader-Somay
Bangladesh-Protidin Jaijaidin Noya-Diganto
somokal Manobjamin songram
dialy-star Daily-News new-york-times
Daily-Sun New-york-post news-paper

line seperator right bar ad

 

 Post-Card

line seperator right bar ad
Rubya Front
line seperator right bar ad

Motin Ramadan front

line seperator right bar ad
 ফেসবুকে বিএনিউজ24
line seperator right bar ad
   আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...
line seperator right bar ad
banews ad templet
 
 
line seperator right bar ad
   ফটোগ্যালারি
  আরো ছবি দেখুন -->> 
line seperator right bar ad
 
    পুরাতন সংখ্যা
banews ad templet