কাঁচামাল সঙ্কটে বন্ধ হতে পারে ৯ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল

jootবিএ নিউজ: খুলনা-যশোর অঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে তীব্র কাঁচামাল সঙ্কট দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে পাটক্রয়ে সরকারি কোন অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় মিলগুলোতে নামমাত্র উত্পাদন হচ্ছে। চলতি মাসে জুটব্যাচিং অয়েলের মূল্য বৃদ্ধিতে উত্পাদন খরচও বেড়ে গেছে। পাটের অভাবে যেকোন সময় মিলগুলোর উত্পাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পাটক্রয়ে অর্থ বরাদ্দসহ ৫ দফা দাবিতে তাই আবারও আন্দোলনে নেমেছে পাটকলের ২৫ হাজার শ্রমিক কর্মচারী।

বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) সূত্র জানায়, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৩৩ কুইন্টাল পাট ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে চলতি অর্থবছরে সরকারি কোন অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় তারা পাটের ভরা মৌসুমে তেমন পাট ক্রয় করতে পারেনি। নয়টি পাটকলে এ পর্যন্ত পাট ক্রয় করা হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৮২ হাজার কুইন্টাল। পাটের অভাবে মিলগুলোর উত্পাদন যেকোন সময় বন্ধ হতে পারে বলে শ্রমিকরা আশঙ্কা করছে। বিজেএমসি ও মিলের নিজস্ব অর্থায়নে এ পাট ক্রয় করেছে মিলগুলো।

চলতি বছর ক্রিসেন্ট জুটমিল ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪৫৮ কুইন্টাল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাট ক্রয় করেছে মাত্র ৫৭ হাজার কুইন্টাল। প্লাটিনাম জুবিলি জুটমিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৪৫৮ কুইন্টালের মধ্যে ক্রয় করেছে প্রায় ৪৪ হাজার কুইন্টাল। খালিশপুর জুটমিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫২৯ কুইন্টাল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাট ক্রয় করেছে প্রায় ৬৫ হাজার কুইন্টাল। স্টার জুটমিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৭ কুইন্টাল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ২৮ হাজার কুইন্টাল পাট ক্রয় করেছে। আলীম জুট মিল ৫৭ হাজার ২৯৫ কুইন্টাল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ৯ হাজার কুইন্টাল পাট ক্রয় করেছে। কার্পেটিং জুটমিল ৩১ হাজার ৩৭২ কুইন্টাল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৮ হাজার কুইন্টাল পাট ক্রয় করেছে। ইস্টার্ন জুটমিল ৭১ হাজার ৩২৭ কুইন্টাল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১৮ হাজার কুইন্টাল পাট ক্রয় করেছে। জেজেআই জুটমিল ৯৮ হাজার ৭৬৯ কুইন্টাল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ২১ হাজার কুইন্টাল পাট ক্রয় করেছে। দৌলতপুর জুটমিল ৬১ হাজার ১৮৯ কুইন্টাল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাট ক্রয় করেছে প্রায় ১৬ হাজার কুইন্টাল। গড়ে ৯টি পাটকল এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র শতকরা ২৪ ভাগ পাট ক্রয় করতে পেরেছে।

বর্তমানে ক্রিসেন্ট জুটমিলের ৪ দিনের, প্লাটিনাম জুটমিলের ৫ দিনের, কার্পেটিং জুটমিলের ৭ দিনের, ইস্টার্ন জুটমিলের ৮ দিনের, জেজেআই জুটমিলের ৫ দিনের, স্টার জুটমিলের ৬ দিনের, দৌলতপুর জুটমিলের ৩ দিনের, খালিশপুর জুটমিলে ১৬ দিনের এবং আলিম জুটমিলের মাত্র ১ দিনের উত্পাদন দেয়ার মত পাট আছে। এ অবস্থায় পাট ক্রয়ের জন্য সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ না দেয়া হলে মিলগুলোর উত্পাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এদিকে পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, মজুরি কমিশন গঠনসহ পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সম্প্রতি খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের প্রায় অর্ধলাখ শ্রমিক রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন বলে জানা গেছে।