জামায়াতে আপত্তি নেই আওয়ামী লীগের!

al jamবিএ নিউজ: দেশজুড়ে জামায়াতে ইসলামীকে যখন নিষিদ্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে পথ চলতে চাইছে জামায়াত। এতে আপত্তিও নেই আওয়ামী লীগের। বিভিন্ন জেলায় দলে দলে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে শুরু করেছেন জামায়াতের নেতারা। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলে এখন জামায়াত নেতা-কর্মীদের পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায় আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীরা।
চাকরি প্রদান, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সহযোগিতার পাশাপাশি জ্বালাও-পোড়াও, নাশকতাসহ ডজন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি জামায়াত-বিএনপির নেতাদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ সুবিধা নিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করে প্রতিপক্ষকে দলে ভেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি-মন্ত্রীরা। এটা মানতে পারছেন না মাঠের নেতারা। বিপরীত মতাদর্শের দলের নেতা-কর্মীদের জায়গা দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন তারা।
 এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে শরিক জোটে ও তৃণমূল আওয়ামী লীগে। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক যথেষ্ট আছে, নতুন করে দলে লোক নেওয়ার দরকার নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দল বদল হলেও নীতি-আদর্শ সহজেই পরিবর্তন হয় না। এরশাদ সরকারের সময়ও জাতীয় পার্টিতে যোগদানের হিড়িক ছিল। এরপর বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখন জাতীয় পার্টির নেতারা বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিভিন্ন দলের নেতাকে দলে ভেড়াতে দেখা গেছে। দল ভারী করলেও ২০০১ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মলি্লক বলেন, 'সাম্প্রদায়িক দল জামায়াতকে নিয়ে খেলা বড় দুই রাজনৈতিক দলের জন্য ভালো নয়। এখন জোটে রাখা ও দলে ভেড়ানো নিয়ে যা করা হচ্ছে তা নোংরা রাজনীতি। আওয়ামী লীগের উচিত নীতি-নৈতিকতার জায়গায় অটুট থাকা। নইলে পরিণাম ভালো হবে না।' জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, সুযোগ-সুবিধা নিতে তৃণমূলে জামায়াত-বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কতটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। রাজশাহী বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন  বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও ক্যাডারভিত্তিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়। সবার জন্য আওয়ামী লীগের দরজা খোলা। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী বাদে স্বাধীনতার পরবর্তীতে জামায়াতের যে কোনো নেতা তাদের ভুল বুঝতে পেরে যদি আওয়ামী লীগে আসতে চান তাহলে তাদের দলে নেওয়া দোষের কিছু নয়। নীলফামারী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা। তার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরাই অভিযোগ করেছেন, তিনি এখন জামায়াত-শিবিরের প্রধান পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায় নেমে পড়েছেন। জানা গেছে, ২০০৯ সালে দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরা সদস্য ও নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির আজিজুল ইসলাম। তার ছেলে মুজাহিদ বিন মাসুদকে আইডিয়াল কলেজে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত ফারুক হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আরাফাত আলীকে টেংগনমারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে, ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া মামলার অন্যতম আসামি নুর হককে জলঢাকা ডিগ্রি কলেজে, শিবির নেতা ও জলঢাকা উপজেলা জামায়াতের আমিরের জামাতা মোহাম্মদ হাবিবকে বিন্নাকুড়ি ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ দিয়েছেন স্থানীয় এমপি গোলাম মোস্তফা। জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ হোসেন রুবেল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, 'জামায়াতের অনেক টাকা, আর টাকা হলে আওয়ামী লীগের এমপিদের কেনা যায়।' টাকার বিনিময়ে স্থানীয় এমপি গোলাম মোস্তফা জামায়াত-শিবিরকে চাকরি দেওয়াসহ পুনর্বাসনে নেমে পড়েছেন।
 তিনি অভিযোগ করে বলেন, সহিংসতা-নাশকতার অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের ৫০০ নেতাকর্মীর নামে মামলা থাকলেও এমপির কারণে তাদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। তিনি বলেন, নীতিভ্রষ্ট এমপিদের কারণে আজকে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী কোণঠাসা। এ অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম মোস্তফা এমপি বলেন, 'আমার নির্বাচনী এলাকায় অসংখ্য প্রতিষ্ঠান আছে। সেসব প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির লোকজন কী করবে, কাকে নিয়োগ দেবে সে দায়িত্ব আমার না। যারা আজকে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে তারা ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে ছিলো না। নৌকায় ওঠেনি, নৌকা ডোবাতে যা যা করা দরকার করেছে। তিনি বলেন, ১৪ বছর ধরে জলঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয় না। যখনই কাউলিন্সের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তখনই পদ-পদবী হারানো ভয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।