মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা পদ হারানোর দুশ্চিন্তায়

mayaবিএ নিউজ: সরকারের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদ হারানোর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এর মধ্যে দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ব্রাজিলের পচা গম কেলেংকারির নায়ক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের দলে নেয়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রয়েছেন চরম উৎকণ্ঠায়। তাদের নানা বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে সরকার বারবার বিব্রত ও সমালোচিত হয়েছে। মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ভাগ্য বিপর্যয়ের গুজবেও এ তিন মন্ত্রী অস্থির সময় পার করেন। সচিবালয় থেকে গণমাধ্যম পর্যন্ত গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, মঙ্গলবার রাতেই বাদ পড়ছেন এ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংবাদপত্র অফিসে অসংখ্য টেলিফোন আসে প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য।

ব্রাজিল থেকে পচা ও জ্যান্ত পোকাসহ আমদানিকৃত গম কেলেংকারির ঘটনায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম চরম বেকায়দায় রয়েছেন। খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও তোপের মুখে পড়েন তিনি। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন তার পদত্যাগ দাবি করেছে। পচা গম আমদানি করে কামরুল ইসলাম দলের মধ্যেও বিরাগভাজন হয়েছেন। সংকট উত্তরণের জন্য বারবার গণমাধ্যমকে দোষারোপ করে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েও পার পাচ্ছেন না তিনি। ওয়ান-ইলেভেনে হঠাৎ ভাগ্য বদলে যাওয়া ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এ নেতা মহাজোট সরকারের শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তাকে পদোন্নতি দিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির করার অসৎ উদ্দেশ্যেই এমন গম আমদানি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে গণভবনে ডেকে নিয়ে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করেছেন বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার মূল হোতা র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ সাঈদ ত্রাণমন্ত্রী মায়ার জামাতা। এ আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পর জামাতাকে রক্ষা করতে সরকারের ওপর মহলে দেন-দরবার করতে গিয়ে সমালোচিত হন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। এরপর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে ক্ষুব্ধ হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বশেষ দুর্নীতির মামলায় সাজা বহাল থাকায় তার মন্ত্রিত্ব থাকা নিয়ে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি গণভবনে ডেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রী মায়ার ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। আবাহনীর ডিরেক্টর হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নজরে পড়েন বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। পরে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর বাঘা-চারঘাট আসনে দলের মনোনয়ন দেয়া হয় এ তরুণ ক্রীড়া সংগঠককে। গণজোয়ারের ওই নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসেন। দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শাহরিয়ার আলমের ভাগ্য খুলে যায়। দায়িত্ব পান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর। তার আগেই বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি, মেডিকেল কলেজের অনুমোদনসহ সরকারের নানা সুবিধা নিজের ঝুলিতে পুরতে থাকেন। এ সময় নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা তার টার্গেটে পরিণত হন। বিএনপি-জামায়াত থেকে বিপুলসংখ্যক লোক এনে জমায়েত করতে থাকেন আওয়ামী লীগে। সর্বশেষ ভোট কেন্দ্রে নাশকতা সৃষ্টিকারী জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসী আসামিকে ফুলের মালা দিয়ে দলে নিয়ে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এপিএস সিরাজের আর্থিক কেলেংকারিও তাকে বিতর্কিত করেছে। এলাকার নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী এপিএসের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে থাকেন। তাই শত অভিযোগ সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এর আগে প্রতিবেশী ভারত সম্পর্কে অকূটনীতিসূলভ মন্তব্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপনের জন্য সমালোচিত হন এ প্রতিমন্ত্রী। তাকে নিয়ে সরকার একাধিকবার বিব্রত হয়েছে।