ঈদ-রাজনীতি ও সংগঠন নিয়ে ব্যস্ত জামায়াত

বিএ নিউজ: eid jamatগোটা রমজান মাস ইফতার-রাজনীতির পর এবার ঈদকেন্দ্রিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জামায়াত- শিবির। দলটির শুভাকাঙ্ক্ষী গ্রামের যেসব জনশক্তি শহরে থাকেন তাদের জন্য শেষ মুহূর্তে স্থানীয়ভাবে ইফতার পার্টি ও ঈদ পুনর্মিলনীর মাধ্যমে এ কর্মসূচি পালন করতে উভয় সংগঠনের শীর্ষনেতারা ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন।

জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ঈদের পরই ২০ দলীয় জোটনেত্রী খালেদা জিয়া সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে চরম ব্যর্থ হওয়ায় এবার মাঠের রাজনীতির কৌশলে পরিবর্তন এনেছে জোটটির অন্যতম প্রধান মিত্র জামায়াত। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের এবারের ঈদভাবনায় সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনে গুরুত্ব না দিয়ে বরং ঈদকেন্দ্রিক রাজনীতি ও ভেঙে পড়া সংগঠনের ভিত মজবুতই প্রধান টার্গেট।

জানা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিগত ৮ বছরে পরিবারের সঙ্গে নির্বিঘ্নে ঈদ করতে পারেনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত সংগঠন জামায়াতে ইসলামী ও একই আদর্শের সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের শীর্ষ কোনো নেতা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই শিবিরের দখলে থাকা কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চিরুনি অভিযান চালানো হলে অনেকটাই হাতছাড়া হয়ে যায় দীর্ঘদিন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্যাম্পাসের রাজত্ব। সঙ্গে সঙ্গে অনেক নেতাকর্মী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। তার কিছুদিন পরই শুরু হয় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে দলীয় নেতাদের বিচারকাজ। এ নিয়ে নেতাদের বাঁচাতে রাজপথে নামতে হয়েছে অসংখ্যবার। ফলে মামলা-হামলার শিকার হয়ে ঘরছাড়া হন অনেকেই। ইতোমধ্যে দলের দুই শীর্ষ নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এর প্রতিবাদেও রাজপথে নেমে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু এবার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মীই গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। স্থানীয়ভাবে আয়োজন করছেন ছোট ছোট ইফতার পার্টির। প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় ঈদের সময় গণসংযোগ করে ভেঙে পড়া সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে কাজ করছেন।

রোজা শুরুর ২ দিন আগেই জেল থেকে মুক্তি পাওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এক নেতা যায়যায়দিনকে বলেন, প্রায় ৫ বছর ছিলেন ঘরছাড়া, ২ বছর ছিলেন জেলে। এবার মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করার পাশাপাশি এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করতে এখন তিনি তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় অবস্থান করছেন।

এদিকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নতুন কৌশল গ্রহণ করছে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত সংগঠন জামায়াত ও তাদের আদর্শের উত্তরসূরি শিবির। শুধু পেশিশক্তির জোরে রাজপথে এককভাবে আন্দোলন করে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে দলের অস্তিত্ব ও খুঁটি ধরে রাখাই এখন তাদের প্রধান টার্গেট।

সূত্র আরো জানায়, আগের মতো রাজপথে সহিংস কর্মসূচি থেকে আপাতত দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব। মাঝেমধ্যে নামমাত্র কিছু কর্মসূচি ছাড়া বাধ্য না হলে এককভাবে কঠোর কোনো আন্দোলনে যাবে না তারা। বিশেষ করে ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি সক্রিয়ভাবে রাজপথে নামলেই কেবল তারা তাতে অংশগ্রহণ করবে। নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থা মজবুত করাই এখন একমাত্র টার্গেট জামায়াতের। বিশেষ করে বিগত বিভিন্ন আন্দোলনে হামলা-মামলার শিকার জামায়াত এখন দল গোছানোর কাজেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে গত ২ মাসে জামায়াতের পক্ষ থেকে সারাদেশে গোপনে গণসংযোগ চালানো হয়েছে। কেন্দ্র থেকে টার্গেট দেয়া হয় জেলা, উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও দল গোছাতে। সারাদেশকে ১৫টি অঞ্চলে ভাগ করে জেলা আমিরদের সমন্বয়ে চালানো হয় সাংগঠনিক কার্যক্রম। জরুরি ফান্ড হিসেবে নেতাকর্মীর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদার (এয়ানত) বাইরেও আদায় করা হয় বিশেষ অঙ্কের টাকা। দলের যেসব নেতাকর্মী হামলা-মামলার শিকার ও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পরিবারের মধ্যে এ ফান্ডের টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি বেশ সফলতাও পেয়েছে। এছাড়া রমজান মাসকে আত্মশুদ্ধি ও প্রশিক্ষণের মাস হিসেবে ঘোষণা করে দলের সাংগঠনিক কর্মকা- আরো জোরদার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর জামায়াতের মতিঝিল থানার শুরা সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর জামায়াত তাদের কৌশলে বেশ পরিবর্তন আনে। রাজপথে এককভাবে আন্দোলন করে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে দলের অস্তিত্ব ও খুঁটি ধরে রাখাই এখন প্রধান টার্গেট তাদের।