কোনো অঘটন ঘটলেই দল বিশেষকে জড়ানোর বাতিক

॥ সামছুল আরেফীন॥
দেশে কোনো অঘটন ঘটলেই দল বিশেষকে জড়ানোর বাতিক দীর্ঘ দিনের। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে অনেকটা তাৎক্ষণিকভাবে মিডিয়াতে বক্তব্য চলে আসে। বর্তমান সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের লোকদেরকে জড়ানো সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আর Banews24 pic 59সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় গ্রেফতার অভিযান। যদিও পরে তদন্তে বেড়িয়ে আসে অন্য কিছু। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত। এর সাথে রাজনৈতিক রূপ দেয়া হলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালেই থেকে যায়। আর এই সুযোগটাই নেয় সন্ত্রাসীরা। একের পর এক অঘটন ঘটলেও অপরাধীরা ধরা পড়ছে না। শীর্ষ মহল থেকে আগাম বক্তব্য দিয়ে তদন্তকে তামাশায় পরিণত করা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ সব অভিযোগ ধোপে টেকে না।সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক ঘটনা সংগঠিত হয়েছে যেগুলো ঘটনার সাথে সাথেই জামায়াত ও শিবিরকে জড়ানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক পর্যায়ে গিয়ে এ সব অভিযোগের সাথে জামায়াত বা শিবিরের কারো জড়িত থাকার বিষয়টি আর থাকে নি। ঘটনাবলীর নিরপেক্ষ তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণে এসব ঘটনার পেছনে বরং ক্ষমতাসীন দলের কোন না কোন অঙ্গসংগঠন বা উগ্রবাদী দল জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে চলে আসে। ২০১২ সালের চাঞ্চল্যকর বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এই মামলার রায়ে ৮ জনকে ফাঁসি ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শিবিরকে জড়িত করার আপ্রাণ চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই ছিলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। নারায়ণগঞ্জের ত্বকি হত্যাকাণ্ড, ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যাচেষ্টা, রাশেদ খান মেননের উপর হামলা, মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকি হত্যা, ব্লগার রাজিব-অভিজিত প্রমুখ হত্যা প্রভৃতির সঙ্গেও জামায়াত-শিবিরকে জড়ানোর অপচেষ্টা চলে।বিশ^জিত দাস হত্যাপুরান ঢাকায় নিরপরাধ দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎকে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। রাজধানীর চাঞ্চল্যকর এই হত্যার বিষয়ে খোদ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর দাবি করে বলেন, বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ছাত্রলীগ কোনোভাবেই জড়িত নয়। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তার তৎকালীন প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, বিশ্বজিৎ দাস হত্যায় জড়িতরা কেউ ছাত্রলীগ কর্মী নয়। এজন্য বিএনপি-জামায়াতই দায়ী। তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াত ও শিবির মানুষ হত্যা করে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে। এটা তাদের ফ্যাশনে দাঁড়িয়েছে।’ ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে আবুল কালাম আজাদ বিশ্বজিৎ হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে এমন দাবিও করেন যে, তাদের পরিবারের সদস্যরা বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জড়িত। অথচ বিশ^জিত হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। এই মামলার রায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ৮ জন নেতাকর্মীর ফাঁসি ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যদিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে শিবিরকে জড়িত করার প্রচেষ্টা মাঠে মারা যায়।মাওলানা ফারুকী হত্যা : গত বছর আগস্টে চ্যানেল আই’র অনুষ্ঠান উপস্থাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে নিজের বাসায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হলে একটি মহল এই খুনের জন্য যথারীতি ‘জামায়াত-শিবির’কে দায়ী করে। একটি সমাবেশে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে কোনো কোনো বক্তা বলেন, মাওলানা ফারুকী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। তাই জঙ্গিবাদের দোসর জামায়াত-শিবির পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সমাবেশ থেকে জামায়াত-শিবির বিরোধী স্লোগানও দেয়া হয়। পরে তদন্তে এই ঘটনায় জেএমবি’র সম্পৃক্ততার কথা জানা যায়। জেএমবি’র দুই সদস্যকে রিমান্ডেও নেয়া হয়।আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড : চলতি বছরের ২১ এপ্রিল রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজারে কমার্স ব্যাংকের শাখায় ডাকাতরা হানা দেয়। ডাকাতরা যুগপৎভাবে গুলি, গ্রেনেড ও ছুরি চালায়। এতে আটজন নিহত হন ও ১৫ জন গুরুতর আহত হন। পরে জনতা তিন ডাকাতকে ধরে ফেলে, এদের একজন জনতার পিটুনিতে মারা যায়। এই ঘটনার পরদিনই সাভার থানার মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলন করে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহাফুজুল হক নুরুজ্জামান ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে বলেন, ‘ঘটনার বিশ্লেষণ করে তার মনে হয়েছে ডাকাতি নয়, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল হত্যা আর নাশকতা। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।’ এরপর আবার ২৪ এপ্রিল ওই ডাকাতির ঘটনার জন্য সুর পাল্টিয়ে জঙ্গিদের দায়ী করেন ডিআইজি নুরুজ্জামান। ওইদিন ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডাকাতির জন্য জঙ্গিদের দায়ী করে ডিআইজি বলেন, ‘গ্রেফতার দু’জন এক সময় ইসলামী ছাত্রশিবির করলেও বর্তমানে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং সংগঠনের তহবিল গঠনের জন্য তারা ব্যাংকে ডাকাতি করে।’ এই জঙ্গিরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য বলে পুলিশকে জানায়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে বলে, এবিটির কারাবন্দী নেতাদের ছাড়াতে তহবিল গঠনের জন্য তারা ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা করেছিল। যদিও চিরাচরিত অভ্যাসবশত একটি দৈনিক এই ঘটনার হেডলাইন করে ‘আশুলিয়া ব্যাংক ডাকাতি জামায়াত-শিবিরের পরিকল্পিত’।ঈশ্বরদীতে যাজক হত্যাচেষ্টাগত ৫ অক্টোবর গভীর রাতে পাবনার ঈশ্বরদীতে এক ধর্মযাজক ফাদার লুক সরকারকে (৫০) হত্যা চেষ্টার ঘটনার সঙ্গেও শিবিরকে জড়িত করার চেষ্টা করে মহলটি। ওবায়দুল ইসলাম (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে তাকে শিবিরকর্মী বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সে আদৌ শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে জানা যায়। পরে পুলিশ জেএমবি’র ৫ জন সদস্যকে আটক করে জানায়, এরাই ফাদার লুককে হত্যার চেষ্টার সঙ্গে জড়িত। এরা হলো, শরিফুল ইসলাম ওরফে তুলিব, আব্দুল রাকিব, মো. আলিম, আমজাদ হোসেন ও জিয়াউর রহমান। তাদের মধ্যে রাকিব যাজককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। রাকিব ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।হুমায়ুন আজাদ হত্যা চেষ্টা২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে বাংলা একাডেমির উল্টো দিকের রাস্তায় লেখক-অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। কয়েক মাসের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ২০০৪ সালের আগস্টে গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান এই লেখক। ১২ আগস্ট মিউনিখের ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে হত্যার চেষ্টার ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক মহল ও কতিপয় মিডিয়া রাজনৈতিক রূপ দিয়ে এর সঙ্গে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ জামায়াত-শিবিরকে জড়িত করে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, এর সঙ্গে জড়িতরা সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। এতে মো. মিজানুর রহমান মিনহাজ ওরফে শফিক ওরফে শাওন ওরফে হামিম ওরফে হাসিম, আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগ্নে শহীদ, নূর মোহাম্মদ শামীম ওরফে জে এম মবিন, সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে সজীব ওরফে তাওহিদ এবং হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাকিব ওরফে রাসেলকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় আসামির তালিকা থেকে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর নাম বাদ দেয়া হয়।ব্লগার রাজীব হত্যাকাণ্ড২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন (৩৫) নৃশংসভাবে খুন হন। মিরপুরের পলাশনগরে তার বাড়ির সামনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর স্বভাবজাতভাবে জামায়াত ও শিবিরকে দায়ী করা হয়। পর দিন দৈনিক জনকণ্ঠে ‘জামায়াত-শিবিরের হাতে প্রজন্ম সেনা খুন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে রাজীব হত্যার সাথে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে দাবি করা হয়।দৈনিক ইত্তেফাকে নিহত রাজীবের পিতা-মাতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ঘটনার পরপরই নিহতের স্বজন ও সহকর্মীরা জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছেন। তারা বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার পিতা ডা. নাজিম উদ্দিন এবং মা নার্গিস গ্রামের বাড়ি থেকে ছুটে এসে ছেলের হত্যাকাণ্ডের জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাওয়ায় তাদের ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজীবের বাসায় গিয়ে হত্যাকাণ্ডে জামায়াত-শিবির জড়িতÑ ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে’ জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। এরা কোনো গণতান্ত্রিক দল নয়, এরা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে। পরাজিত শক্তি রাজাকার, আলবদর ও জামায়াত-শিবিরের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে। এ জন্য দেশবাসীর সহযোগিতা চাই।’ (সূত্র : দৈনিক জনকণ্ঠ, ১৭ ফেব্রুয়ারি ’১৩)।ঘটনার পর থেকেই জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করলেও তদন্তের শুরুতেই বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। ডিবির প্রাথমিক তদন্তেই দেখা যায় হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত এবং নারীঘটিত বিষয়ই মুখ্য। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তার দুই বান্ধবীকে। রাজীবের ব্লগার মেয়ে-বান্ধবী তানজিলা ও রাফিয়া এবং স্ত্রী বাসন্তিকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জেরাও করা হয়। ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ব্লগার বান্ধবী হলেও তানজিলা এবং রাফিয়া রাজীবের খুবই ঘনিষ্ঠ। তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে বান্ধবীদের কোন ছেলেবন্ধু ঈর্ষান্বিত হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।পরে এ ঘটনায় নাম আসে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’। এর  প্রধান মুফতি জসিমউদ্দিনকে বরগুনা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, তিনি ধানমন্ডি মাখরাজ মসজিদে প্রতি শুক্রবার নাস্তিক ব্লগারদের ধ্বংস করতে হবে এ মর্মে তালিমও দিতেন। (সূত্র : দৈনিক যুগান্তর, ১২ আগস্ট ২০১৩)।চাঞ্চল্যকর ত্বকি হত্যাকাণ্ড ঘটনানারায়ণগঞ্জে নাগরিক কমিটির সহসভাপতি ও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা রফিউর রাব্বির বড় ছেলে তানভীর মোহাম্মদ ত্বকি খুন হয় দুর্বৃত্তদের হাতে। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার পর ত্বকির লাশ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার  ট্রাস্টের খাল থেকে ৮ মার্চ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জে ১৪ দলের ডাকে পালিত হয় হরতাল। ত্বকিরা দুই ভাই। ছোট ভাই সাকী মাউন্ড রয়েল একাডেমির ৫ম শ্রেণীর ছাত্র। তবে দু’একদিন পরেই ঘটনার জট খুলতে শুরু করে যখন খোদ ত্বকির বাবা রফিউর রাব্বিই বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত ওসমান পরিবার; জামায়াত- শিবির নয়।ঘটনার পর কিছু গণমাধ্যমে ঢালাওভাবে এ ঘটনার সাথে জামায়াত ও শিবিরকে দায়ী করা হয়। ৯ মার্চ ২০১৩ দৈনিক জনকণ্ঠে ‘জামায়াতের কিলিং মিশনের টার্গেট- ত্বকি রাজিব সানিরা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জামায়াত-শিবির মাসব্যাপী নানা চত্রান্ত, ষড়যন্ত্র করে পরাস্ত হয়ে এবার অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার মিশনে নেমেছে।’ ৯ মার্চ ২০১৩ দৈনিক সমকাল এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নিহতের বাবা রফিউর রাব্বি নিজেই বাদি হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরদ্ধে মামলায় উল্লেখ করেন, তার অতীত ও বর্তমান বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তার ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো কোনো মহল তার ওপর আক্রোশবশত তার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।’১১ মার্চের প্রথম আলোতে ‘সন্দেহের তীর একটি বিশেষ পরিবারের দিকে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, মেধাবী ছাত্র তানভীর রহমান ত্বকি হত্যায় সন্দেহের তীর  একটি বিশেষ  পরিবারের দিকে। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী মহল সে অভিযোগ তুললেও পুলিশ, র‌্যাব সে পথে হাঁটছে না কেন? জানতে চাইলে তারা বলে, ওপরের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ঐ পরিবারকে সন্দেহের তালিকায় আনা যাবে না।  তানভীরের বাবা রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা আসনের সংসদ সদস্য কবরী এবং জেলার কয়েকজন আওয়ামী নেতার ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত একটি বিশেষ পরিবার। বিষয়টি তারা পুলিশ র‌্যাবকে জানিয়েছেন।খোদ আওয়ামী লীগের নেতাদের অভিযোগ ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে থাকলেও পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার করতে। খবরে প্রকাশ, ১০ মার্চ ত্বকি হত্যার বিষয় খতিয়ে দেখতে নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমিরসহ পাঁচ নেতাকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মিশনপাড়া এলাকায় জামায়াতের কার্যালয় থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।  (সূত্র :  ১১ মার্চ দৈনিক কালের কণ্ঠ)।পরবর্তীতে এ ঘটনার সাথে আর জামায়াত শিবিরের নাম আসেনি।রাশেদ খান মেননকে হত্যা চেষ্টা১৯৯২ সালের ১৭ আগস্ট বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান মেননকে ঢাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় গুলি করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন থাকার পর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে লন্ডন ও ব্যাংককে টানা ৫ মাস চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হন। তার উপর হামলার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবেই এই ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করা হয়। আর তার জের ধরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো এবং জামায়াত-শিবির কর্মীদের আহত করা হয়। পরে অনুসন্ধানী রিপোর্টে জানা যায়, এই হামলার সঙ্গে রাশেদ খান মেননের নির্বাচনী এলাকা বরিশালের উজিরপুরের চরম বামপন্থী গ্রুপ দায়ী। নির্বাচনে মেননের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার ওপর হামলা করা হয়। পরবর্তীকালে এই ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।কোনো অঘটন ঘটলেই জামায়াতকে জড়িয়ে সিণ্ডিকেটেড রিপোর্ট : কোনো অঘটন ঘটলেই কয়েকটি সংবাদপত্র জামায়াতকে জড়িয়ে সিণ্ডিকেটেড মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশ করে জামায়াতের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করার অপচেষ্টা চালায়। যে কেউ ঐ সব রিপোর্ট পড়লেই বুঝতে পারবেন যে, ঐগুলো সিণ্ডিকেটেড মিথ্যা রিপোর্ট। সিণ্ডিকেটেড মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশ করে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। গত ২৮ অক্টোবর দেয়া এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদ এ কথা বলেন।তার আগের দিন দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, হোসেনি দালানের সামনে থেকে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলার ঘটনা এবং গাবতলীতে পুলিশের এ এস আই ইব্রাহিম মোল্লাকে দুর্বৃত্তদের হত্যা করার ঘটনার সাথে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রিগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাগণের ভিত্তিহীন মিথ্যা বক্তব্য এবং কয়েকটি সংবাদপত্রের বিভ্রান্তিকর মিথ্যা রিপোর্ট একই সূত্রে গাঁথা। তিনি বলেন, আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, হোসেনি দালানের সামনে শিয়া মুসলমানদের সমাবেশে বোমা হামলা ও গাবতলীতে পুলিশের এএসআই ইব্রাহিম মোল্লার হত্যার ঘটনার সাথে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোন সম্পর্ক নেই। দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে সরকারের চরম ব্যর্থতা ঢাকা দেয়ার হীনউদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রিগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাগণ ও তাদের মদদপুষ্ট কতিপয় সংবাদপত্র জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মিথ্যা প্রচারণায় মেতে উঠেছে। অতীতেও কোন অঘটন ঘটলেই জামায়াত ও ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে তাদের মিথ্যা প্রচারণা চালাতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু তাদের সকল প্রচারণাই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।ব্যর্থ কেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীযুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে এসেছিলেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে টিএসসি এলাকায় তাদের ওপর হামলা হয়। এতে অভিজিৎ রায় নিহত ও গুরুতর আহত হন বন্যা। তদন্ত সূত্র জানায়, অভিজিৎ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেও হত্যায় সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। তবে মূল খুনিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, মূল খুনিদের কাউকেই এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।গত ৭ আগস্ট রাজধানীর গোড়ানে ব্লগার নীলাদ্রি চ্যাাটর্জিকে হত্যার পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য সাদ আল নাহিন, মাসুদ রানা, কাউসার হোসেন ও কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করে ডিবি। তারা এর আগে ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিল। তদন্ত সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতরা হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তবে তারা এই হত্যা সমর্থন করে বলে জানিয়েছে। তাদের কাছে পাওয়া কিছু তথ্যের সূত্র ধরে মূল খুনিদের শনাক্ত করা চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, লেখক-ব্লগার হত্যা ঘটনার মামলা তদন্তে জড়িতদের নাম বেরিয়ে এসেছে। তাদের মধ্যে অনেকে গ্রেফতারও হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে কাজ চলছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশী নাগরিক ও রাজধানীর মিরপুর চেকপোস্টে পুলিশ সদস্য খুন এবং হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলে হামলাসহ দেশের বিভিন্ন নাশকতার ঘটনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে চলছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এতে দেখা গেছে, অধিকাংশ ঘটনায় সরকারের কাছে আগাম বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। পাশাপাশি ঘটনার পর দ্রুত রহস্য উদঘাটনেও তেমন কোনো সাফল্য দেখাতে পারছে না।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকায় ইতালি ও রংপুরে জাপানি নাগরিক খুনের ঘটনায় আগাম কোনো তথ্য দিতে পারেনি গোয়েন্দারা। একের এক ব্লগার খুন হলেও সে ধরনের তথ্য ছিল না তাদের (গোয়েন্দা) কাছে। এমনকি একই সূত্রে পাবনায় যাজককে হত্যার চেষ্টা ও ঢাকায় খিজিরখানকে হত্যার ঘটনাও তাদের কাছে অজানাই ছিল।জানা গেছে, দেশে বর্তমানে কমপক্ষে ৫টি গোয়েন্দা সংস্থা সক্রিয়। সন্ত্রাসীদের তথ্য সংগ্রহের জন্য কোটি কোটি টাকা ‘সোর্স মানি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। একর পর এক এসব হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য এই টাকা ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু এতো টাকা যায় কোথায়- এমন প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে পুলিশের কোনো কোনো এসপি, ডিআইজিসহ একশ্রেণির কর্মকর্তা মামলার তদন্ত গতিশীল করার বদলে বদলি বাণিজ্য নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তাদের এই ধরনের বাণিজ্যের কারণে মাঠ পর্যায়ে অনেক মামলারই সঠিক তদন্ত হচ্ছে না। তবে পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক বলেছেন, পুলিশ নিষ্ঠার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ব্লগারদের উপর হামলকারীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।এ ব্যাপারে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের ব্যর্থতার মূল কারণ হচ্ছে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত দুর্বলতা। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা কতটা অভিজ্ঞ, তুখোড় ও দক্ষ- এসব গুণাবলীর ওপর নির্ভর করে তদন্তের সফলতার ওপর। উন্নত বিশ্বের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আর একটি উন্নয়নশীল দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কোনোভাবেই সমান নয়। এ দুর্বলতা নিয়েই উন্নয়নশীল দেশের গোয়েন্দাদের কাজ করতে হয়। সুতরাং তারা (উন্নত দেশ) অনেক বেশি সফলতা পাবে, এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া ছোট ছোট পরিসরে যেসব হামলা বা সন্ত্রাসী ঘটনা সংঘটিত হয়, তা বের করা খুবই কঠিন। কারণ ছোট ঘটনায় ক্লু খুব কমই থাকে। অন্যদিকে বড় সন্ত্রাসী ঘটনার ক্ষেত্রে অনেক ক্লু থাকে, যেখান থেকে অপরাধীদের খুঁজে বের করতে সহজ হয়।তদন্তের আগে কাউকে দোষারোপ করা ঠিক নয় : কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীতে একজন প্রকাশক খুন এবং অন্য প্রকাশকসহ তিনজন আহত হওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বলে বর্ণনা করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.)  এম সাখাওয়াত হোসেন। সম্প্রতি দুই বিদেশী হত্যা, হোসেনি দালানে বোমা হামলার ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় বিরাট ফাঁক রয়েছে। আগের  হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার না হওয়ায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে। আজিজ সুপার মার্কেটের মতো ব্যস্ত এলাকা যেখানে রাস্তায় জ্যামের কারণে গাড়ি চলতে পারে না। ভিড়ের কারণে মানুষ হাঁটতে পারে না। রাস্তায় পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলার সদস্য থাকা সত্ত্বেও কিভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে হত্যাকারীরা নির্বিঘেœ পালিয়ে যায়। কেন হত্যাকারীদের নিরাপত্তা বাহিনী ধরতে পারছে না? কোথায় তাদের দুর্বলতা? এ বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাচ্ছে। দেশে একটি রাজনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোন ঘটনা ঘটলে তদন্তের আগেই একটি দলকে নির্দিষ্ট করে দোষারোপের সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এতে করে কোন তদন্তই আর আলোর মুখ দেখছে না। কে প্রকৃত দোষী তা সামনে আসছে না। আর সুযোগ-সন্ধানীরা এটি কাজে লাগাচ্ছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে কোন ঘটনার তদন্তের আগে কাউকে দোষারোপ করা ঠিক নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশেও বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের এ দেশে ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে মানুষের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর থেকে আস্থা উঠে যাবে। যা দেশকে আরও খারাপ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সরকারের উচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা।সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া একে অপরের ওপর দায় চাপানো স্পষ্টতই অবিবেচনাপ্রসূত মানসিকতা। এতে করে রাজনৈতিক বিভাজন আরও বাড়বে। দেশ সংঘর্ষের দিকে ধাবিত হবে। তিনি বলেন, দুই বিদেশী নাগরিক ও প্রকাশক হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি খালেদা জিয়াকে দায়ী করেছেন। এতে করে তদন্ত কাজ প্রভাবিত হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তারাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত করতে চাইবেন না। ফলে প্রকৃত অপরাধী পার পেয়ে যাবে। তারা আরও অধিক মাত্রায় উৎসাহী হয়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করবে।