হেসে খেলে জয় পেল দক্ষিন আফ্রিকা

afriবিএ নিউজ: তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০তে লিড নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ১৬১ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে সফরকারীরা ৫৩ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। ৩১.১ ওভার খেলে প্রোটিয়ারা দুই উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬৪ রান।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৩ রান আসে অপরাজিত থাকা ফাফ ডু প্লেসিসের ব্যাট থেকে। ৭৫ বল মোকাবেলা করে প্লেসিস তার ইনিংসটি সাজান। এছাড়া ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন রিলে রুশো। দলীয় ৬৫ রানের মাথায় দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিলেও ৯৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে রিলে রুশো আর ফাফ ডু প্লেসিস দলকে সহজ জয়ের দিকে এগিয়ে নেন। স্বাগতিকদের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মাশরাফি এবং নাসির হোসেন।

প্রোটিয়াদের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন ডি কক এবং হাশিম আমলা। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে মাশরাফি ফিরিয়ে দেন প্রোটিয়া দলপতি আমলাকে। মাহমুদুল্লাহর তালুবন্দি হয়ে আউট হওয়ার আগে আমলা ১৮ বল মোকাবেলা করে ১৪ রান করেন।

হাশিম আমলার পর প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার ডি কক। নাসিরের করা দলীয় ১৪তম ওভারের প্রথম বলে
কাভারে দাঁড়ানো সাব্বিরের তালুবন্দি হয়ে বিদায় নেন ৪১ বলে ৩৫ রান করা ডি কক।

এর আগে অভিষেক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে টাইগারদের ব্যাটিংয়ের টপঅর্ডার ভেঙে দেওয়া ক্যাগিসো রাবাদার বোলিং তোপে পড়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ ৩৬.৩ ওভার খেলে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায়। রাবাদা একাই তুলে নেন ৬টি উইকেট।

অভিষেক ম্যাচেই রাবাদার অসাধারণ হ্যাটট্রিকে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে দলকে বিপদে ফেলে বিদায় নেন ১৪৮ ওয়ানডে খেলা তামিম। রাবাদার বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে বাঁহাতি এ ওপেনার ১৩ বলে কোনো রানই নিতে পারেন নি। পরের বলেই লিটনকে ফিরিয়ে দেন রাবাদা। ১৪টি ওয়ানডেতে নামা সৌম্যর সঙ্গে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে জুটি গড়তে আসেন লিটন। তবে, প্রথম বলেই বেহারদিয়ানের তালুবন্দি হন লিটন। চার নম্বরে নামা মাহমুদুল্লাহকে এলবির ফাঁদে ফেলে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেন রাবাদা।

দলীয় ১৭ রানের মাথায় তামিম, লিটন আর মাহমুদুল্লাহর বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন ওপেনার সৌম্য সরকার এবং সাকিব আল হাসান। তবে, ইনিংসের অষ্টম ওভারে রাবাদার চতুর্থ শিকারে বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন সৌম্য। জেপি ডুমিনির হাতে ধরা পড়ার আগে সৌম্য ২৭ বলে চারটি চারের সাহায্যে ২৭ রান করেন।

টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরার পর সাকিবের সঙ্গে জুটি গড়তে আসেন মুশফিক। দলীয় ৪০ রানের মাথায় সৌম্যর বিদায়ে মুশফিক মাঠে নামেন। তবে, পানি পানের বিরতির আগে দলীয় ২০তম ওভারে বিদায় নেন মুশফিক। ডুমিনির বলে ইমরান তাহিরের তালুবন্দি হওয়ার আগে মুশফিক করেন ৩৮ বলে ২৪ রান। সাকিব-মুশফিক জুটি হতে ৫৩ রান আসে।

৯৩ রানের মাথায় টপঅর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যান বিদায় নেন। এরপর সাকিবের সঙ্গে জুটি গড়তে আসা সাব্বির রহমান দলীয় ২৩তম ওভারের শেষ বলে বোল্ড হন। ক্রিস মরিসের বলে বোল্ড হওয়ার আগে সাব্বির ১৩ বলে মাত্র ৫ রান করেন। দলীয় ২৬তম ওভারের প্রথম বলে ইমরান তাহির এলবির ফাঁদে ফেলেন ৩১তম ওয়ানডে অর্ধশতক থেকে মাত্র দুই রান দূরে থাকা সাকিবকে। ব্যক্তিগত ৪৮ রান করে বিদায় নেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। ৫১ বল মোকাবেলা করে ৫টি চার হাঁকান সাকিব।

রাবাদার পঞ্চম শিকারে সাজঘরে ফেরেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। মাত্র ৪ রান করে উইকেটের পেছনে ডি ককের গ্লাভসবন্দি হন মাশরাফি। নিজের ষষ্ঠ উইকেট তুলে নিতে অভিষিক্ত রাবাদা বোল্ড করেন জুবায়েরকে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে নাসির হোসেন করেন ৪৪ বলে ৩১ রান। ক্রিস মরিসের বলে বোল্ড হন নাসির।

৮ ওভার থেকে মাত্র ১৬ রান খরচ করে রাবাদা তিনটি মেডেন সহ ৬টি উইকেট পান।

সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে টাইগারদের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার।

বাংলাদেশ একাদশ থেকে বাদ পড়েন এনামুল হক বিজয়, আরাফাত সানি আর রুবেল হোসেন। দ. আফ্রিকার একাদশ থেকে বাদ পড়েন অ্যারন ফাঙ্গিসো, মরনে মরকেল, ওয়েইন পারনেল এবং ম্যাকলারেন।

বৃষ্টির কারণে ৪০ ওভারে নেমে আসে ম্যাচ। যেখানে পাওয়ার প্লে ধরা হয় প্রথম ৮ ওভার আর ৩২ ওভার থেকে ৪০ ওভার পর্যন্ত (৮ ওভার) ৩০ গজের বাইরে পাঁচ ফিল্ডার দাঁড়ানোর নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়। পাওয়ার প্লে’র ৮ ওভার থেকে স্বাগতিকদের আসে ৪২ রান।

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

খেলা : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...