প্রচ্ছদ আমেরিকা

এশিয়ায় সাবমেরিন প্রতিযোগিতা ও বাংলাদেশ

আবু জাফর মাহমুদ : এশিয়াকে দুনিয়ার সবচেয়ে সামরিকীকৃত অঞ্চল বলতে পারি।বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া।  ভয়াল বিপজ্জনক সাবমেরিনের দাপুটে দৌরাতেœ্য সমুদ্র মহাসমুদ্রগুলো মারণাস্ত্র প্রতিযোগীতার কুরুক্ষেত্রে হয়েছে পরিণত।ইউ.এস প্যাসিফিক কমান্ডের   কমান্ডার SS X-1 Midget Submarineএডমিরাল সেমুয়েল লকলিয়ার ইউ.এস সেনেট আম্র্ড সার্ভিস কমিটিকে বলেছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলটি মারাত্মক সামরিকীকরণ হয়ে গেছে।দুনিয়ার ৩০০ সাবমেরিণের দুই তৃতীয়াংশই এই অঞ্চলে নিয়োজিত হয়েছে।চীনের ঘনিষ্ট মিত্র পাকিস্তানের সাবমেরিন কেবলমাত্র দক্ষিণ এশিয়া সীমানায় নয়,ওগুলো দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় পর্যন্ত কার্যতঃ সক্রিয়। চীন পূর্ব চীন সাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপগুলোয় নিজের অধিকারের দাবী তুলেছে। পিপ্লস লিবারেশন আর্মির শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীন তার সাবমেরিণ বহরগুলোকে অত্যাধুনিক করছে।এই উদ্যোগ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে দারুন চাপে ফেলেছে বলা যায়।ইন্দোনেশিয়া এবং  ভিয়েতনামও সাবমেরিণ নামিয়েছে। ফিলিপাইন সাবমেরিন অনুসন্ধানী এয়রাক্র্যাফট কেনার চেষ্টা করছে, তাদের আগে ছিলোনা।ভিয়েতনাম রাশিয়ার তৈরী সাবমেরিন নিয়ে সাবমেরিন ক্লাবের সদস্য হয়েছে। সিঙ্গাপুর জার্মান শিপ নির্মাতা থাইসেনক্রাপের সাথে সাবমেরিন নির্মানের চুক্তি করেছে। জাকার্তা ও রাশিয়ান সাবমেরিনের জন্যে আগ্রহী হয়েছে।রয়েল থাই নেভী সাবমেরিন সংক্রান্ত সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক ব্যবস্থা গড়েছে।  চীন এবং পাকিস্তান তাদের উভয়ের শত্রু ভারতের বিরুদ্ধে মোতায়েন করা পারমানবিক বোমা সজ্জিত সাবমেরিনের মাধ্যমে যে প্রতিরক্ষা ব্যুহ তৈরী করেছে তা বিশ্বশক্তিদের চোখ কপালে তুলে দিয়েছে।উচ্চ দামি এবংপরিচালনায় জটিল সাবমেরিন ব্যবহারকারিরা নিজেদেরকে শসস্ত্র শক্তিশালীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের 48005489.cachedকাতারে।    সিঙ্গাপুরের এস রাজারতœাম স্কুল অব ইন্টার্ন্যাশনাল স্টাডিজে মেরিটাইম সিক্যুরিটি প্রোগ্রামের এসোসিয়েট রিসার্চ  ফেলো মিঃ সুই লিন কলিন কোহর মতে,“ এ সাবমেরিন ইজ এ সিম্বল অব ন্যাশনাল পাওয়ার” অর্থাৎ “সাবমেরিন জাতীয় শক্তির প্রতীক”।প্রচলিত কোন মিলিটারী অথবা সরকারী কর্মকর্তা বিবেচনা করে,যদি আমার প্রতিবেশীর দুটো সাবমেরিন থাকে আমিও দুটা সাবমেরিন কিনতে চাই।রণতরীর সাথে সাব মেরিন কেনার বিষয়টি মর্যাদাগত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।অর্থনৈতিক উন্নতির প্রেক্ষাপটে এশিয়ার দেশগুলোর যাদের আগে একটাও সাব মেরিন ছিলোনা,তারা এখন অনেকগুলো কিনছে। কমোডর জ্যাক ম্যাককেফ্রি সাবমেরিন সংক্রান্ত বিস্তারিত গবেষনার জন্যে অনেক আলোচিত।তিনি অষ্ট্রেলিয়ার উইলংগং ইউনিভার্সিটির ন্যাশানাল সেন্টার ফর রিসোর্চ এন্ড সিক্যুরিটিতে একজন ভিজিটিং ফেলো।ইদানিং তিনি পি এইচ ডি লাভ করেছেন একই সেন্টার হতে। তাঁর মতে,“চাইনিজ নেভী ইজ বিগার,ইট্স গেটিং ষ্ট্রঙ্গার,এন্ড ইটস গেত্তিং মোর ক্যাপেবোল” অর্থাৎ“চীনা  নৌবাহিনী বিশাল,এর শক্তিমত্তাও বিশাল এবং ওটার ক্ষমতা আরো বাড়ছে”। ম্যাকক্যাফ্রি বলেছেন, ২০১০সালে পূর্ব এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ২০০টি সাবমেরিন ছিলো। ২০৩০সালের মধ্যে সেখানে সংখ্যা বেড়ে হয়ে যাচ্ছে  ২৮৮টি।  
তিনি আরো বলেন, চায়নার অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মকান্ডই অপরাপর দেশগুলোকে তাদের এয়ারক্রাফটের সাথে সাবমেরিন অনুসন্ধানী সংগ্রহে পুঁজি বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে।এসব দেশকে সাবমেরিন ডিটেকটার বা সাব মেরিন অনুসন্ধানী সংগ্রহ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
সমস্যা হলো পানির নীচে সাবমেরিনের সংখ্যা এতো বেশী বাড়ছে যে যেকোন সময় তীব্র গতিতে চলমান সাবমেরিনে পারস্পরিক সংঘাত লেগে যেতে পারে। যেমন অষ্ট্রেলিয়া হতে চীনে কয়লা ও আয়রণ বহনকারী বার্জগুলো এবং মধ্য প্রাচ্য হতে তেল বহনকারী ট্যাঙ্কারগুলোর চলাচলের ব্যস্ত সামুদ্রিক পথ হচ্ছে সাউথ চায়না সমুদ্র পথ।পথটি এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
তবে অপ্রত্যাশিত এবং অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্যে উপলব্ধি এসেছে চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক শক্তির দুই প্রতিযোগীর মধ্যে।এতে প্রমান হয়েছে অস্ত্রের প্রতিযোগীতার পরিণতিই যে অনিবার্য যুদ্ধ, তা সব সময়েই নয়। একের সাথে অপরের দ্রুত যোগাযোগ করার সক্ষমতা কত বেশী আছে তার উপরই নির্ভর করছে সম্পর্কের প্রকৃত পরিস্থিতি। এনিয়ে উক্ত দুদেশ নিজেরাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে গত নভেম্বরে।চীন জাপানের সাথেও এনিয়ে কথা বলেছে।
প্রফেসর ডার ডেরিয়ান হচ্ছেন সিডনি ইউনিভার্সিটির  চেয়ারম্যান অব ইন্টারন্যাশানাল সিক্যুরিটি স্টাডিজ এবং ডাইরেক্টর অব দ্য সেন্টার অব ইন্টারন্যাশানাল সিক্যুরিটি স্টাডিজ।তাঁর গবেষণা এবং শিক্ষকতার বিষয় ইন্টারন্যাশানাল সিক্যুরিটি। তিনি  অবশ্য দাবি করেছেন, “অনিচ্ছাকৃত মুখোমুখীনতা এড়ানোর জন্যে প্রতিপক্ষ যোদ্ধাদের মধ্যে দ্রুত আলাপ আলোচনাই বিপদ এড়াতে পারে।দুর্ঘটনা যাতে  তিক্ততায় যেতে না পারে সে লক্ষ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত করা যায়”।  
উল্লেখিত প্রসঙ্গে তিনি আবার বলেছেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রচুর দেশ আছে যারা নেভেল শক্তির চেয়ে ল্যান্ড ফোর্স্কে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে তাদের নিজের দেশবাসীদের দমন নিপীড়নে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে। সে সব দেশে নেভেল ফোর্স অতোটা বড় নয় এবং সেসব দেশ নিয়ে সমুদ্র পথে এধরনের দুর্ঘটনার সম্ভবনা বিবেচনায় নেয়া হয়না।
বাংলাদেশে প্রতিরক্ষাবাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীই বেশী মর্যাদাবান এবং সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসছে  অপরাপর বাহিনীর সাথে অতূলনীয়। বেসামরিক ব্যবস্থাপনায় অনেক জরুরী ক্ষেত্রে সীমাহীন অক্ষমতার বিকল্প দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দিয়ে পালন করানো হয়,তেমন জবাব অবশ্য আছে। তবে সমুদ্রে নজরদারী কার্যকর করার বিবেচনা বাংলাদেশ কখনো গুরুত্বে আনছেনা।বাংলাদেশের শক্তিশালী নেভেল ফোর্স তো প্রতিবেশীদের কাজেও আসতে পারে।বাংলাদেশ রাজনীতিতে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব আলোচ্যই নয়। এই উদাসীনতাকে দেশপ্রেম বলা যায় নাকি?    
 Abu-Zafarলেখক আবু জাফর মাহমুদ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমাণ্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং রাজনীতি বিশ্লেষক। এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে। .  

Adil Travel Winter Sale 2ndPage

আমেরিকা : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
লোকে-যারে-বড়-বলে-বড়-সেই-হয়
আবদুল আউয়াল ঠাকুর : বাংলা প্রবচন হচ্ছে, আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যা বড় বলে বড় সেই হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কেন্দ্র করে এমন কিছু...