প্রচ্ছদ আমেরিকা

কানধরে ‘উঠবস’: নম্বর বাড়ানোর প্রতিযোগিতা

Zainal Abdinমোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনসংসদ সদস্য সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জের হিন্দু শিক্ষককে জনতার হামলা থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্য তাকে কানধরে ‘উঠবস’ করানোর অজুহাতকে এক শ্রেণীর মানুষ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বিষোদগার  করে নম্বর বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক থেকে শুরু করে কথিত ধর্মনিরপেক্ষবাদী এবং এনজিও ব্যবসায়ীরা তো আছেনই তাছাড়া এ মিছিলে ইতোমধ্যেই (২২ মে) পর্যন্ত সাতজন মন্ত্রীও শামিল হয়েছেন। অচিরেই এ মিছিল আরো ভারী হতে পারে তেমন আলামত দেখা যায় । হঠাৎ এদের শিক্ষকপ্রেম বেড়ে গেল কেন? দেশের এখানে সেখানে বিগত ক’বছরে বিভিন্ন অভিযোগে/অজুহাতে বহু শিক্ষক চড়-থাপ্পড় লাঠিপেটা খেয়েছেন, কিছু শিক্ষক জীবনও হারিয়েছেন। আজকে যারা সোচ্চার তাদের কেউ কোন দিন একই ধরনের তুখোড় প্রতিবাদমুখর ভূমিকা পালন করেন নি। কিন্তু পূর্বে এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের নীরবতার কারণ খতিয়ে দেখলে যে বাস্তবতা সামনে আসে তা হলো বর্তমান ভিকটিম অর্থাৎ এ শিক্ষক সৌভাগ্যবশতঃ হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত। এ কারণেই হঠাৎ মন্ত্রীসহ দেশের একটা অতি পরিচিত মহল শিক্ষকপ্রেমের প্রশংসনীয় নজির স্থাপন করছেন। এ কারণে তাদের কেউ কেউ অতি উদার কিংবা অসাম্প্রদায়িক শক্তির কর্ণধার হিসেবে কোন পুরস্কারও পেয়ে যেতে পারেন। এটা তাদের মতলবাজী স্বার্থান্বেষী ভূমিকা। এরা যদি অতীতে শিক্ষককে অপমান, নাজেহাল কিংবা পিটানোর  বিরুদ্ধে একইভাবে সরগরম প্রতিবাদ করতেন তা হলে তাদের বর্তমানে হঠাৎ গর্জে উঠা প্রশ্নের মুখোমুখি hqdefaultহতো না । একেবারে গ্রামের প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকরা অপামনিত, এমনকি নিহত হবার পর এদের অনেকেই কেবল নীরবই থাকেন নি, কেউ কেউ হামলাকারীদের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। আদালত থেকেও ঐ সময়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোন ফরমান জারী করা হয় নি। বরং ছাত্রদেরকে শাসনের ক্ষেত্রে শিক্ষকের কোন কোন আচরণ বেআইনী হবে আদালত তার উল্লেখ করে একটা নির্দেশনা জারী করেছেন। 

খবরে যা দেখেছি তা বলা হয়েছে লাঞ্চিত শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত রিফাত নামক জনৈক শিক্ষার্থীকে লাঠিপেটা করার সময় আল্ল¬াহকে কটূক্তি করেছেন। ২০ মে নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি এলাকায় হেফাজতে ইসলামের এক বিক্ষোভ সমাবেশে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ছাত্র রিফাত বলেন: “প্রধান শিক্ষক (শ্যামল কান্তি ভক্ত) আমাকে বলেছেন, ‘তোর আল্লাহ নাপাক বলে কিছুই নেই। তোর আল্লাহ নাপাক, তুইও নাপাক।” রিফাতের দাবি: “আমি সেই শিক্ষক ও শিক্ষামন্ত্রীর বিচার চাই।”  

রিফাতের অভিযোগ এখন হালে পানি পাচ্ছে না। মানবাধিকার সংস্থা থেকে শুরু করে অতি  উদার কথিত প্রগতিবাদী মহল এখন ভক্তকে নিয়ে ফেরেশান, ভক্তের জন্য জানকোরবান। অথচ রিফাতকে কেন্দ্র করেই ঐ শিক্ষক জনতার হামলার শিকার হন। ঐ শিক্ষক আদালতের জারী করা নির্দেশনা কিভাবে অমান্য করেছেন তা কেউই বিবেচনা করেন নি। আদালতের ঐ নির্দেশ অমান্য না করলে হয়তো এমন পরিস্থিতি মোটেই তৈরি হতো না। ২০১১ সালে হাইকোর্ট শিশুদের শারীরিক শাস্তি দেয়াকে বেআইনি এবং অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেন। আদালতের ঐ নির্দেশনাটি নিম্নরূপ: 

“হাত-পা বা কোনো কিছু দিয়ে আঘাত বা বেত্রাঘাত, শিক্ষার্থীর দিকে চক বা ডাস্টার জাতীয় বস্তু ছুঁড়ে মারা, আছাড় দেওয়া ও চিমটি কাটা, কামড় দেওয়া, চুল টানা বা চুল কেটে দেওয়া, হাতের আঙুলের ফাঁকে পেনসিল চাপা দিয়ে মোচড় দেওয়া, ঘাড় ধাক্কা, কান টানা বা ওঠ-বস করানো, চেয়ার, টেবিল বা কোনো কিছুর নীচে মাথা দিয়ে দাঁড় করানো বা হাটু গেড়ে দাঁড় করে রাখা, রোদে দাঁড় করে বা শুইয়ে রাখা কিংবা সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড় করানো এবং ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে শ্রমআইনে নিষিদ্ধ কোনো কাজ করানো যাবে না”। 

 

(http://www.mzamin.com/article.php?mzamin=14850)

 

উল্লে¬খ্য, ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ নির্দেশনা লঙ্খিত হবার খবর পড়েছি। আদালতের এমন নির্দেশনার প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই আমি বলতে চাই: ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি সন্তান কিংবা শিক্ষার্থীকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে কিংবা পাঠের প্রতি তাকে যতœবান করতে সন্তান বা শিক্ষার্থীর উপর চাপ সৃষ্টির সীমিত সুযোগ পিতামাতা কিংবা শিক্ষকদের থাকা উচিত। শ্যামল কান্তি ভক্ত আদালতের নির্দেশনা অমান্য করার জন্য অপমানিত হন নি, অপমানিত হয়েছেন রিফাতের ভাষ্যমতে, সরাসরি আল্ল¬াহর বিরুদ্ধে কটূক্তি করার জন্য। 

শ্যামল কান্তি ভক্ত আল্ল¬াহর বিরুদ্ধে কটূক্তি করার বিচার  এমপি সেলিম ওসমান করতে পারেন না, এ বিষয়ে আমি একমত। কিন্তু তার ব্যাখ্যা হলো বিক্ষুদ্ধ জনতার হামলা থেকে ভক্তকে বাঁচানোর তাগিদে তিনি তাকে কান ধরে উঠাবসা করতে বলেছেন। সেলিম ওসমানকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েও আমি বলতে চাই: হাইকোর্ট থেকে উদ্যোগ নেয়ার পর অন্য কারো এ নিয়ে মাঠ গরম করার  কোন সুযোগও নেই, প্রয়োজনও নেই। এ ধরনের অনাহুত তৎপরতা তদন্তকে কেবল প্রভাবিত ও প্রশ্নবিদ্ধই করবে না, বরং আদালতের প্রতিও এক ধরনের অনাস্থাজ্ঞাপক। 

তেমন আলামত ইতোমধ্যেই দেখা গেছে। সেলিম ওসমানের দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহল আমিন হাওলাদার বলতে চেয়েছেন, দেশের বেশির ভাগ জনমত নাকি সেলিম ওসমানের বিপক্ষে। জনগণের আবেগ (সেলিম ওসমানবিরোধী প্রচারণা)’এর কথা মনে রেখেই নাকি তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

সেলিম ওসমানের দল বর্তমান সরকারেরই অংশবিশেষ। তিনি এ সরকারকে গ্রহণযোগ্যতা প্রদানকারী একজন এমপি। তার দল জাতীয় পার্টি যে বর্তমান সরকারকে বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রদানের বিনিময়ে সরকার থেকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে গৃহপালিত বিরোধীদলের ভূমিকা  পালন করছে তাও সারা দুনিয়ার মানুষ জানেন। তেমনি একটা সরকার-পৌষ্য দলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে খোদ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, এবং সরকারের  একান্ত কাছে-কিনারের সুবিধাভোগীরা, এমনকি এমপি-মন্ত্রীরা ওসমানবিরোধী অবস্থানের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন শিক্ষক কিংবা ভক্তপ্রেমের জন্য নয়, শুধু ভারতের কাছ থেকে অধিক নম্বর পাওয়ার জন্য, ভারতের নেক্দৃষ্টিতে থাকার জন্য। বিশ্লেষকরা মনে করেন, হঠাৎ গর্জে উঠা ব্যক্তিবর্গ ভারতকে দেখাতে চান: তারা হিন্দুপ্রেমিক সংখ্যালঘু প্রেমিক। যদিও পত্রিকায় দেখি হিন্দুদের সর্বাধিক পরিমাণ জায়গা-জমি-সম্পদ বর্তমান সরকারের অনুসারীদের দখলে। 

তা সত্বেও এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন মহল ভক্তপ্রেম যেন উগলে দিচ্ছেন। কে কার আগে কতো কট্টর ও তিক্ত উক্তি করে সেলিম ওসমানকে নাস্তানাবুদ করতে পারেন, কতো কঠোর ভাষা প্রয়োগ করতে পারেন তেমন প্রতিযোগিতায় তারা মেতে উঠেছেন। এ প্রতিযোগিতায় সামনে থাকার জন্য কেউ কেউ সেলিম ওসমানের লাজ-শরম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। সেলিম ওসমান যেন সংসদে না যান, তেমন নসিহতও করেছেন। তিনি নাকি পুরো সংসদকেই অপমানিত করেছেন। অথচ শিক্ষকসহ বিভিন্ন অবস্থানের আমলাদের উপর হামলাকারী সদস্যরা এ সংসদে নির্বিঘেœই আছেন। সর্বোপরি সংসদ এবং সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। জনগণের প্রতিনিধি সেলিম ওসমানকে সংসদে না আসতে উপদেশ দিয়ে তার লাজ-শরম নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরেকজন সদস্য কি জনগণের রায়কে অবজ্ঞা-অস্বীকার করতে পারেন? সেলিম ওসমান কতোখানি দোষী, আদৌ দোষী কিনা, কিংবা সে দোষে কি তার সদস্য পদ হারাতে হবে সে রায় কি কোন মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য দিবেন? তাহলে আইন-আদালত কেন? এমন উপদেশের পর আদালতের অবস্থান কোথায় দাঁড়ায়?

দুর্মুখরা মনে করেন সেলিম ওসমানের উপর ঝাপিয়ে না পড়লে ভারতের সুনজরে আসা যাবে না। ভারতের প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্যতা প্রকাশ এবং সে দেশকে সেবাদানের  নম্বর বাড়ানোর জন্য ওসমানবিরোধী এমন আহামরি তৎপরতা। তদুপরি এ সরকার যে ভারত-নির্ভর তা ভারত সরকারের কর্তাব্যক্তিরা প্রকাশ্যেই বলে দিয়েছিলেন। এমন মুরুব্বীর সতীর্থ ভক্তকে অভক্তি তথা অপমানে নীরব থাকলে মুরুব্বী গোস্বা করতে পারে। পেছনে ভারত নেই তো কিছুই নেই। মন্ত্রীত্বও নেই। মন্ত্রীত্ব শক্ত করার এমন মওকা সচারাচর পাওয়া যায় না। তাই সেলিম ওসমানকে বলির পাঠা বানাও।

ক্ষমতার বাইরে একশ্রেণীর তথাকথিত সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী শ্রেণী, প্রগতিবাদী, শাহাবাগী, আর এনজিও ওয়ালীরা তো আছেনই। এরা কথিত ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী। এরা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে মুসলিম-বিরোধিতায় লিপ্ত । এদের দৃষ্টিতে মুসলমান আর ইসলামের পক্ষে কথা বলা মানেই সাম্প্রদায়িকতা। এমনকি ভারতের বাংলাদেশ বিরোধী অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলাও সম্প্রাদায়িকতা। মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই ভালো এবং উদার মানুষ হিসেবে প্রশংসা পাওয়া, বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার এবং নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা আদায় করা যায়। বাংলাদেশে কোন হিন্দু ব্যক্তিগত কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হলেই কথিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা সমস্বরে ধ্বনি তোলেন, কিন্তু ভারতে যখন হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করা হয়, গরুর গোশ্ত খাবার অপরাধে মুসলমানদের খুন করা হয়, মুসলমানদেরকে জোর করে হিন্দু বানানোর প্রদর্শনী হয়, মুসলমানদেরকে চাকরিসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা হতে বঞ্চিত করা হয়, তখন এসব মতলবাজ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা একেবারেই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।

মুসলমানদের পক্ষে কথা বলাই যেন এখন মহা অপরাধ। মুসলমানরা আজ বড় অসহায়। তাদের হয়ে কথা বলার কেউ নেই। আল্লাহর বিরুদ্ধে কটূক্তি করা কোন অপরাধ নয়, ঐ অপরাধের কারণে প্রতিবাদী জনতার রুদ্ধরোষ থেকে ভক্তকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে কান ধরে ‘উঠবস’ করানোই হারাম, মহা অপরাধ। আবার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাঞ্জিত করা তাদের দৃষ্টিতে অপরাধ ছিল না বলেই মন্ত্রীসহ কেউই তেমন সোচ্চার ছিলেন না। ঐ লাঞ্চিত শিক্ষক সরকারী বুদ্ধিজীবী হওয়া সত্বেও তার জন্য এরা তেড়ে আসেন নি। কারণ ঐ শিক্ষক হিন্দু নন, মুসলমান। 

সরকারের বি-টিম জাতীয় পার্টির হাওলাদার ওসমানবিরোধী প্রচারণায় বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত হয়ে বলেছেন, জনমত নাকি বেশির ভাগ সেলিম ওসমানের বিপক্ষে। জনমত কি কিছু পত্রিকার প্রচারণা, মতলবী মহলের বিবৃতি অথবা শহরকেন্দ্রিক কিছু মিছিল দিয়ে নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশ শাহাবাগে সীমিত নয়, পত্রিকায় বিবৃতি প্রকাশের মধ্যেও নয়। হাওলাদার সাহেবরা জনমত প্রকাশের অধিকার ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিন, তারপর দেখুন জনমত কোনদিকে। আপনাদের অবদানে বাংলাদেশের মানুষ জীবন্মৃত হয়ে গেছেন। তারা এতোবেশি ভয়-কাতুরে হয়ে পড়েছেন, মার খেয়ে মার হজম করছেন, তারা প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। প্রতিনিয়ত আপনজনের লাশ দেখতে দেখতে তাদের অনুভূতি লোপ পেয়েছে। মুসলমান হওয়াটাই যেন অপরাধ। বাংলাদেশে মুসলমানরা খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। সংখ্যাগুরু হয়েও তারা সংখ্যালঘুর চেয়েও বেশি হীনমন্যতায় ভুগছেন। বেকারত্বের কষাঘাতে পিষ্ঠ বাংলাদেশে বেকার যুবকদের বলতে শোনা গেছে: হিন্দু হলে আমার চাকরি অনেক আগেই হয়ে যেতো। এমন মনোকষ্টে বাংলাদেশের মানুষ এর আগে আর কখনোই ভোগেন নি। এমন অনিশ্চিয়তার অমানিশা তাদের সামনে আর কখনোই আসেনি। তাদের ভয়  কখন তারা সাম্প্রদায়িক শক্তি, রাজাকার, মৌলবাদী, জঙ্গী, সন্ত্রাসী হিসেবে গুম-নিখোঁজ, উধাও হয়ে যাবেন। কখন বেসরকারী পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ‘যমদূত’রা এসে ঘর থেকে তাদেরকে তুলে নিয়ে যাবে। ঐ যাওয়ার পর আর আসা হবে না। তাদের পিছনে আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই।

একটা স্বাধীন দেশের মানুষের জন্য এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে? তাদের দেশে তারা যেন অঘোষিতভাবে পরাধীন। এ পরাধীনতার ইঙ্গিত আমাদের মানুষ আগেই শুনেছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান শঙ্কর রায় চৌধুরী প্রকাশ্যেই বলেছিলেন: বাংলাদেশকে আর কখনোই ভারতীয় রাডারের বাইরে যেতে দেয়া হবে না। এটা কি তারই আলামত? ডঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরীসহ দেশ-বিদেশের সচেতন মহল মনে করেন বাংলাদেশকে এখন ‘র’ চালায়। আর ঐ শক্তিকে খুশী করার পাল্লা ভারী করতে সেলিম ওসমানের মতো লোকদের সতীর্থরা তার পিছন থেকে সরে  দাঁড়িয়েছেন। তারা কান ধরে ‘উঠবস’ করাকে সামনে নিয়ে এসেছেন। আল্লাহবিরোধী কটূক্তি কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানাকে কোন ধরনের অপরাধ হিসেবেই গণ্য করছেন না, যদিও এগুলো শাসনতন্ত্রকেও লঙ্ঘন করেছে।

এখন সেলিম ওসমানের পিছনে বাংলাদেশের অসহায় শক্তিহীন সাধারণ মানুষ ছাড়া আর কেউ নেই। তাদের প্রত্যাশা দেশে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। সেলিম ওসমান অন্যায় করেছে কিনা তার সুষ্ঠু ও চাপমুক্ত তদন্ত হবে। কোন প্রেক্ষিতে সেলিম ওসমান কি করেছেন কেন করেছেন সে পটভূমি খতিয়ে দেখা হবে। কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ত্ব  নয়, সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিত হবে। এখানে একপেশে কিছু হলে দেশ মারাত্মক সংকটে নিমর্জ্জিত হবে। আমরা আর ডুবতে চাই না। আমাদের আর ডুবার কোন সুযোগ নেই।#

লেখক: সাংবাদিক ও M‡elK

Email: এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।

 

 

 

 
Adil Travel Winter Sale 2ndPage

আমেরিকা : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...