প্রচ্ছদ আমেরিকা

চীনা বন্ধুত্ব: আমাদের আকাশে চিল-কাউয়া উড়তে সাহস করবে না

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: চীনের প্রেসিডেন্ট শি  জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ভিন্ন ধারার সূচনা করেছে। বিনিয়োগ ও ঋণ হিসেবে চীনের ২৪.৪৫ বিলিয়ন ডলার প্রদানের মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের যে নবযুগের সূচনা হলো তা আমার বিবেচনায় আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ভিতকে আরো মজবুত করেছে, যা উপমহাদেশসহ আঞ্চলিক কূটনীতি ও রাজনীতির উপর সুদূরপ্রসারী 05f96947c03538cad699c619fa335456-China-Khaledaপ্রভাব ফেলবে। যৌথ ঘোষণায় এ চুক্তিকে কৌশলগত অংশীদারিত্বের সহযোগিতা এবং ২০১৭ সনকে ‘বন্ধুত্বের বছর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এ চুক্তির সুদূরপ্রসারী প্রভাব কেমন হতে  পারে তা ভারতের গাত্রদাহ হতে সহজেই অনুমেয়। চীন- বাংলাদেশ সম্পর্কের এ নতুন ধারার বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন মহল থেকে বৈরি, এমনকি আপত্তিকর ও অনভিপ্রেত প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে।
ভারতের আসাম-কেন্দ্রিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল অসম গণপরিষদের তৃতীয় সারির নেতা ধ্রুবজ্যোতি শর্মা বাংলাদেশে চীনের বিশাল বিনিয়োগ এবং চীন-বাংলাদেশ চুক্তিতে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার ধমক: “চীনের ফাঁদে পা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ---- এটা তার রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা। ------ এ জন্য তাকে খেসারত দিতে হবে।” শর্মার মতে “ভারতের সাথে সম্পর্ক রেখে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে” নাকি “সাংঘর্ষিক”।
ভারতের সাথে বাংলাদেশের কেমন সম্পর্ক সে ফিরিস্তি লিখতে গেলে কয়েকটি মহাকাব্য হয়ে যাবে। এখানে আমি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই না। তবে শর্মার মতো একজন আধা-স্বাধীন ব্যক্তির এমন ধমক কেবল হাসিই নয়, বরং লজ্জার উদ্রেকও করে। শর্মা কি বাংলাদেশকে আসামের মতো ভারতের অধীন কোন ভূখন্ড মনে করেন? যে নতজানু নীতির কারণে একজন তৃতীয় শ্রেণীর আঞ্চলিক নেতা স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধমক দেয়ার সাহস যুগিয়েছে, সেখান থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভারত যখন যা চেয়েছে, তা দূরদৃষ্টিহীনভাবে ভারতকে দিয়ে দিয়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, ভারতীয়রা যেন ভাবতে শুরু করেছে বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্র নয়, বরং ভারতের আজ্ঞাবহ, বড়জোর আধা-স্বাধীন Ñ তাই ভারতের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো সাথে কোন চুক্তি করার মতো সার্বভৌম অধিকার বাংলাদেশের নেই। আমাদেরকে এ পরিস্থিতির ইতি টানতে হবে। শর্মাদের সে ভুল ভেঙ্গে দিতে হবে। তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম। চীন-বাংলাদেশ চুক্তি কিছুটা হলেও তা বুঝিয়ে দিয়েছে। 
একটা স্বাধীন দেশ কার সাথে কি ধরনের চুক্তি করবে, তা অন্যকোন দেশের মনপূত হবে কি হবে না, তা বিবেচনায় আনলে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ কারণেই শর্মাদের দৃষ্টিতে ভারতের পাশাপাশি চীনের সাথে কোন চুক্তি করার অধিকারই নেই। শর্মারা যেন আমাদেরকে আর এভাবে অপমান করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তাই শর্মাদের মন থেকে এ ধারণা ঝেটিয়ে দূরীভূত করার দায়িত্ব আমাদের সবার, বিশেষত সরকারের। 
শর্মারা আমাদের মতো স্বাধীন নয় বলেই পরাধীনতার চোখ দিয়ে আমাদেরকেও দেখার চেষ্টা করছে। তাই তারা ক্ষুব্ধ হন চীন-বাংলাদেশ চুক্তি তথা ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব দেখে। আসাম আমাদের মতো স্বাধীন-সার্বভৌম হলে এ চুক্তি নিয়ে শর্মা এ ধরনের মন্তব্য করতেন না, বরং স্বাগত জানাতেন। পরাধীন শর্মার চোখ এবং আমাদের চোখ, উপলব্ধি ও চিন্তা-চেতনা কোনভাবেই এক হতে পারে না। 
শর্মা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধমক দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের জাত্যাভিমান ও দেশপ্রেমকে নাড়া দিয়েছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার অপমান করেছেন। আমরা চীনের সাথে কেবল অর্থনৈতিক চুক্তিই নয়, সামরিক চুক্তিও চাই এবং একদিন তা-ই হবে । ভারতের সাথে যদি এমন চুক্তি থাকতে পারে, তবে চীনের সাথে তা হবে না কেন? এ অধিকার আমাদের রয়েছে। চীনের সাথে ভারতের সম্পর্ক কেমন তা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। কে চীনের বন্ধু কিংবা শত্রু তা দেখে আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করবো না। আমাদের সুদূরপ্রসারী স্বার্থ ও নিরাপত্তার নিরীখেই আমাদের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নির্ধারিত হবে। আমেরিকা, চীন, ভারত, রাশিয়াসহ বিশ্বের যেকোন দেশের সাথে আমাদের সম্পর্ক হবে আমাদের স্বার্থের আলোকে। এখানে ভারতের সাথে কার সম্পর্ক কেমন তা কোনভাবেই বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। ভারতের সাথে চীনের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার মানে এ নয় যে, বাংলাদেশও চীনের সাথে বৈরি সম্পর্ক তৈরি করবে এবং চীনের সাথে কোন ধরনের চুক্তিতে আবদ্ধ হবে না কিংবা চীনের কোন সাহায্য নিবে না।  ভারতের সাথে আমেরিকা, রাশিয়া, চীনের নানা ধরনের, এমনকি সামরিক চুক্তি রয়েছে। ভারত যদি এসব দেশের সাথে চুক্তি করতে পারে তবে বাংলাদেশ তা করতে গেলে ভারতের পক্ষ থেকে সামান্য আপত্তি তোলা হলেও তাকে আমরা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার-অবমাননা হিসেবে মনে করবো। সে ক্ষেত্রে ভারতের সাথে আমাদেরকে সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে হবে। আমাদেরকে বুঝতে হবে ভারত আমাদেরকে তার কথিত বলয়ের মধ্যে রাখতে চায়, আমাদের সাথে তার একটি প্রদেশের মতোই আচরণ করতে চায়, যা আমরা কোনভাবেই মেনে নেবো না। 
চীন-বাংলাদেশের এ চুক্তিকে তথা সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন মহল থেকে যে ধরনের সমালোচনা, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের উচিত ভারতের কাছে তার ব্যাখ্যা চাওয়া। ভারতকে অবশ্যই মানতে হবে বাংলাদেশ স্বাধীন-সার্বভৌম। ভারতের সাথে বন্ধুত্ব মানে এ নয়, আমরা ভারতের নির্দেশের বাইরে তার নীতির বাইরে কিছু করতে পারবো না। এটা বন্ধুত্ব বুঝায় না, বন্দীত্বের সংকেত দেয়। এ ধরনের মানসিকতা আমাদের সার্বভৌমত্ব-অস্তিত্বকে অস্বীকার করে। বহির্শক্তির হস্তক্ষেপ ও খবরদারিমুক্ত অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষমতার নামই সার্বভৌমত্ব। এ ক্ষমতা বলেই বাংলাদেশ ভারতের সাথে সুসম্পর্ক থাকা সত্বে বিশ্বের কোন দেশের সাথে চুক্তি কিংবা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার অধিকার ও ক্ষমতা রাখে। এ ক্ষমতা বলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভারতের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ১৯৭২ সনে বাংলাদেশ হতে ভারতীয় সৈন্য সরিয়ে নিতে বলেছিলেন। আবার এ ক্ষমতার কারণেই তিনি ভারতের সাথে কোন ধরনের শলা-পরামর্শ না করেই ভারতের ইচ্ছার বাইরে সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১৯৭৪ সনে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন । শেখ হাসিনাও একই ক্ষমতা বলে চীনের সাথে চুক্তি করেছেন, এতে ভারতের ক্ষুব্ধ হবার কোন আপত্তি থাকতে পারে না। 
ভারত ভূয়া বন্ধুত্বের আবরণে প্রভুত্ব দেখিয়ে তার সব প্রতিবেশীদেশকে ভারতের বিপক্ষে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেশীদেরকে ভারত মুখে সমমর্যাদা সম্পন্ন হিসেবে প্রচার করলেও, বাস্তবে তা স্বীকার করে না। প্রতিবেশীদেশগুলোকে ছায়ারাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ভারত প্রতিটি দেশে চর ও জঙ্গী তৈরি করেছে। সর্বোপরি, প্রতিটি দেশকে শোষণ করছে। একান্ত দরিদ্র হওয়া সত্বেও কেবল ভৌগোলিক ব্যাপকতার কারণে নিজেকে পরাশক্তি হিসেবে জাহির করার অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারত নাক-গলানোর কুঅভ্যাস পোষণ করে। ভারতীয় নীতি-নির্ধারকরা প্রতিবেশী দেশসমূহকে দখল করে তথাকথিত মহাভারত তৈরি করার আরেকটি ভয়ঙ্কর  স্বপ্ন দেখেন, যা রক্তাক্ত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। 
ভারতকে তার আশেপাশের আয়তনে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখ-তা মেনে নিতে হবে। বিশ্বের বহু বড় দেশের পাশেই ক্ষুদ্র দেশ রয়েছে। বর্তমান বিশ্বের অগ্রসরামান শক্তি চীন। চীনের পাশেই নেপাল, লাওস, ভিয়েতনাম, নর্থ কোরিয়ার মতো ক্ষুদ্রদেশসহ মোট ১৩টি দেশ রয়েছে। চীন এসব দেশের কোনটিকেই গ্রাস করে মহাচীন বানাতে চায় না।
ভিয়েতনামের ফ্রান্স এবং আমেরিকাবিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধে চীন ছিল প্রধান সহায়ক। ভিয়েতনামের স্বাধীনতাকামীদেরকে চীন আশ্রয়,  অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং সেনাবাহিনী দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর সক্রিয় সহযোগিতা করেছে। ভিয়েতনামের এমন দুইহাত জায়গা নেই, যেখানে আমেরিকা বোমা বর্ষণ করে নি। সেই ভিয়েতনাম এখন তার জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে আমেরিকার সাথে হাত মিলিয়েছে। ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ভারত ভিয়েতনামে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে। আর ভিয়েতনাম তার নিজস্ব স্বার্থে বিপদের বন্ধু চীনকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। আমরা তেমন কিছু করলে ভারতের আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।
১৯৭১ সনে ভারত আমাদেরকে সাহায্য করেছে Ñ এ বড়ি ব্যবহার করে ভারত আমাদেরকে গোলাম করতে চায়, আমাদেরকে গিলে ফেলতে চায়। শর্মা তার সাক্ষাৎকারে বলেছেন: “বাংলাদেশকে মনে রাখতে হবে, ভারতই তার প্রকৃত বন্ধু।” প্রকৃত বন্ধু চীনের সাথে ভিয়েতনাম কেমন আচরণ করছে, শর্মা অবশ্যই তা জানেন। ভারতীয় বন্ধুত্বের স্বরূপ কতো ভয়াবহ তা এ নিবন্ধে আমি উল্লেখ করতে চাই না। এ বন্ধুত্বের মানে কি এটাই যে আমরা আর কোন দেশের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারবো না। ভারতের সাথে বন্ধুত্ব রেখে চীনের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না কোন কারণে? শর্মারা বাংলাদেশকে কি ভারতের রক্ষিতা মনে করেন? রক্ষিতারা যেমন কেবল একজন পুরুষকে আজীবন অবৈধ মেলামিশার সুযোগ দিতে বাধ্য থাকে, বাংলাদেশও কি তেমনি ভারতের নির্দেশ মতোই চলবে, তার জাতীয় স্বার্থ না দেখে ভারতের স্বার্থ দেখবে? ভারতকে মনে রাখতে হবে কোন ব্যক্তিকে রক্ষিতা করা যায়, একটা জাতিকে নয়। কারণ একটা জাতি মানে একজন নয়। জাতি পুরুষ কিংবা মহিলাও নয়। শর্মরা এমন বাস্তবতা অনুধবান করতে পারছেন না কেন? বাংলাদেশের কোন সরকারের ভারতের প্রতি নমনীয়তার মানে এ নয় যে, বাংলাদেশ ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। এটাও একটা কূটনীতি।
যেকোন জাতির কূটনীতিই হলো দাবা খেলার মতো। দাবা খেলার মতো কূটনীতির গুটিকেও এক দেশে সীমিত রাখা যায় না। স্বার্থ মোতাবেক কূটনীতি নামক দাবার গুটি এদিক সেদিক নিতে হবে। বাংলাদেশ তা-ই করেছে  এবং ভবিষ্যতেও করবে Ñ ভারত তা  মেনে নিলেও করবে, না মানলেও করবে। 
ভারতের বিভিন্ন মহল থেকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ধমক কেবল বেহায়াপনার পরিচায়কই নয়, এর মাধ্যমে তার বাংলাদেশবিরোধী গভীর চক্রান্তকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যত নীতি-নির্ধারকদেরকে বুঝে-শুনে ভারতের সাথে উঠাবসা করতে হবে। ভারতকে সহজ-সরল নিষ্ঠাবান বন্ধু ভাবা ঠিক হবে না। ভারতকে বিশ্বাস করা যায় না। তারা প্রকাশ্যেই বলে বেড়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভূটান, শ্রীলংকা নিয়ে মহাভারত বানাবে। বাংলাদেশকে ভারতের এ খায়েশ রুখে দিতে হবে। তারা এমনও বলে বাংলাদেশ নাকি তাদের। এসব কারণে ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত সব চুক্তি পর্যালোচনা করে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী চুক্তিগুলো হয়তো সংশোধন কিংবা সরাসরি বাতিল করতে হবে অথবা অকার্যকর করে রাখতে হবে। নদীর পানি হতে বঞ্চিত রেখে, সীমান্ত হামলা চােিলয়ে, চর-জঙ্গী পাঠিয়ে ভারত বাংলাদেশের যে ক্ষতি করছে, তা প্রতিহত করার জন্য জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামের সাহায্য চাইতে হবে। ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ করতে হবে। বাংলাদেশের পৃথক অস্তিত্ব ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী দূরের  এবং কাছের দেশগুলোর সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার নতুন ও জোরদার উদ্যোগ নিতে হবে। চীনের সাথে আরো ঘনিষ্ঠপূর্ণ চুক্তি হওয়া জরুরী। চীনের সহযোগিতায় মায়ারমার হয়ে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন সরাসরি সড়ক ও রেলযোগাযোগ নির্মাণ করার ঝিমিয়ে পড়া উদ্যোগ সচল করতে হবে। চীনকে  বুঝিয়ে দিতে হবে এর বাইরে ভারতের ভিতর দিতে কোন ঘুরপথে কোন সড়কে বাংলাদেশ বিশ্বাস করে না এবং সেটা আমাদের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। এ ক্ষেত্রে ভারতের চাপে নতি স্বীকার করা যাবে না। ভারতের ধমকে চুপসে গেলে চলবে না। সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। 
আমাদেরকে মনে রাখতে হবে ভারতের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে আমাদের ভূখন্ড ¬Ñ আমাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা। আমাদের এমন বন্ধুর প্রয়োজন যারা অন্তত আমাদের দেশকে তাদের দেশের অংশ করতে চায় না। তাদের সাথে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক  করতে হবে Ñ হোক চীন কিংবা আমেরিকা অথবা রাশিয়া। চীনের সাথে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিকতম চুক্তি, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে আরো সুসংহত করবে। ভারতের গাত্রদাহ তারই ইঙ্গিত বিশেষ। এখন আর আমাদের আকাশে চিল-কাউয়া উড়তে সাহস করবে না। সারা বিশ্ব হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্ধুহীন থেকে কেবল ভারতের বন্ধুত্বে বিভোর থাকলে আমাদের দেশ থাকবে না, যেমন থাকে নি সিকিম।# 
লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক, নিউইয়র্ক
Email: এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।
 
Adil Travel Winter Sale 2ndPage

আমেরিকা : সকল সংবাদ

আজকের এই দিনে
স্মরণ-অবিস্মরণীয়-শহীদ-জিয়া
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন: একেবারেই অপরিচিত ব্যক্তি শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল অসীম দেশপ্রেম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অকুতোভয় মানসিকতা, উদারহণযোগ্য  সততা, সর্বোপরি বাংলাদেশের...