নারীর সম্ভ্রমহানি

Banews24 40গণধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। শনিবার ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে এ ধরনের অপরাধের শিকার এক তরুণী লজ্জা ও অপমানে আত্দহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। চার বছর আগে তরুণীটির বিয়ে হয় মিঠুন নামের এক লোভী যুবকের সঙ্গে। দুই দফা যৌতুক আদায়ের পর তৃতীয় দফায় না পেয়ে তরুণীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তার স্বামী। তারপর থেকে শিশুপুত্রকে নিয়ে সে বাপের বাড়িতেই থাকত। তিন মাস আগে নিজের ভুল স্বীকার করে তরুণীকে ফিরিয়ে নেয় তার স্বামী। এর দুই মাস পর হতভাগ্য তরুণীকে আবার বাপের বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়। তার আগে সে ধর্ষিত হয় স্বামী ও তার সহযোগীদের দ্বারা। ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিওচিত্রে ধারণ করে তা পরিচিতজনদের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বাপের বাড়ি এসে এক মাস হতভাগ্য তরুণী প্রায় নির্বাক হয়েই ছিল। চারদিকে তার ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে পড়েছে শুনে লজ্জা অপমানে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সে আত্দহত্যার পথ বেছে নেয়। এ নিয়ে কালিগঞ্জ থানায় মামলা হলেও পুলিশ নাকি অপরাধী কাউকে খুঁজে পায়নি। যদিও সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের এ বক্তব্যের পর তারা মামলার প্রধান আসামি আত্দহননকারী তরুণীর সাবেক স্বামীর বাড়িতে গিয়ে তাকে বহালতবিয়তে দেখেছেন। দল বেঁধে সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণের কথা অস্বীকার করলেও প্রশ্নবাণের মুখে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঝিনাইদহে গণধর্ষণের যে ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের সমাজের অবক্ষয়ের এক সাধারণ চিত্র। তথ্য-প্রযুক্তি যেমন যোগাযোগের ক্ষেত্রে আশীর্বাদ বয়ে এনেছে, তেমনি যৌন হয়রানির ঘৃণ্য সুযোগও সৃষ্টি করেছে। গ্রামাঞ্চলে বিপথগামী যুবকদের একাংশ অসহায় কিশোরী ও তরুণীদের ফাঁদে ফেলে সম্ভ্রমহানির দৃশ্য মোবাইল ফোনের ভিডিওতে ধারণ এবং তা ব্লাকমেইলিংয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসহায় কিশোরী বা তরুণীকে জব্দ করার জন্য সম্ভ্রমহানির ভিডিও চিত্র বিভিন্নজনের মোবাইলে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানসম্মানের ভয়ে গোপন রাখা হয়। আত্দহনন কিংবা এ ধরনের কিছু হলে কেবল সে ক্ষেত্রেই তা প্রকাশ পায়। তথ্য-প্রযুক্তি মানুষের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনলে তার অপব্যবহার কী ধরনের বিড়ম্বনার জন্ম দিচ্ছে ঝিনাইদহের এক তরুণীর আত্দহত্যা তার প্রমাণ। এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে সমাজ ও রাষ্ট্রকে অবশ্যই সক্রিয় হতে হবে।