সেনাবাহিনীতে নারীরা

image 113964দেশ রক্ষায় দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুরুষদের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যরাও পিছিয়ে নেই। অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হলেও সাম্প্রতিককালে সেনাবাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বেড়েছে। সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকেই আর্মি মেডিক্যাল কোরে নারী ডাক্তার ও নার্সরা যোগদান করে আসছেন। কিন্তু বাহিনীর অন্যান্য কোরে নারীদের যোগদান শুরু হয় ২০০১ সাল থেকে। বর্তমানে সেনাবহিনীতে ক্যাপ্টেন, মেজরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১ হাজার নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া ১৩শ' নারী সৈনিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তারাও প্রশিক্ষণ শেষে নিয়মিত বাহিনীতে যোগদান করবেন।এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেনা সদর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে 'সেনাবাহিনীর নারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্নেল জেনিফার ওয়াকারের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের নারী প্রতিনিধি দল এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৩শ' নারী কর্মকর্তা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের সমাপনী দিন ছিল কাল ।সেমিনারে কর্নেল জেনিফার ওয়াকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে বহু বছর ধরে নারীরা যোগদান করে আসছেন। তারা পুরুষ সহকর্মীর ন্যায় সমানভাবে অবদান রাখছেন। স্বামী-সংসার নিয়ে কোন ধরনের সমস্যা হয় না। তিনি বলেন, আসলে যে কোন ক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে যেতে দরকার মনোবল। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের সেমিনার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি দুই দেশের সেনাবাহিনীর নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার করবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী কর্মকর্তারা বেশ উদ্যোমী ও তাদের প্রশিক্ষণের মান উন্নত বলে মন্তব্য করেন ওয়াকার। তাদের আরো উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে তিনি দেশে ফিরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে সুপারিশ করবেন বলে জানান।সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল (এজি) আশরাফ আব্দুল্লাহ ইউসুফ। মার্কিন সেনাবাহিনীর নারী সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যরা লাভবান হবেন বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেমিনারে সেনা পিএ পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মেহেদী হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।'সেনাবাহিনীতে যোগদান করে আমি গর্বিত'সেমিনারে অংশ নেয়া বাংলাদেশের কয়েকজন নারী কর্মকর্তা সেনাবাহিনীতে তাদের অভিজ্ঞতার কথা ইত্তেফাকের কাছে তুলে ধরেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম নারী প্যারাট্রুপার (প্যারাস্যুট জাম্পার) ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত ২০০৭ সালে বাহিনীতে যোগদান করেন। ২০০৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি কমিশন লাভ করেন। জান্নাত বলেন, সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগে অনেকে অনেক কিছু বলেছেন। কিন্তু মনোবল হারাইনি। প্রশিক্ষণে সহকর্মীদের (পুরুষ) ব্যবহার ও সহযোগিতার কারণে ইচ্ছা হয় আবার সেখানে গিয়ে অংশগ্রহণ করি। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। আমরা একটি পরিবারের মধ্যে থাকি। স্বামী-সংসার নিয়ে কোন সমস্যা হয় না। বরং পরিবারের সদস্যরা উত্সাহ বোধ করেন। সেনাবাহিনীতে যোগদান করে এবং প্রথম নারী প্যারাটু্রপার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরে জান্নাত গর্বিত বলে জানান।সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় নারী প্যারাটু্রপার ক্যাপ্টেন নুসরাত একই মতামত পোষণ করে বলেন, 'প্রশিক্ষণ যত শক্তিশালী হোক না কেন মনোবল ঠিক থাকলে নারীদের পক্ষে সব কিছুই করা সম্ভব।' উল্লেখ্য, ইউএস সেনাবাহিনীর কর্নেল জেনিফার ওয়াকারের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের নারী প্রতিনিধিদল গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন।