মৃত ঘোষণার দু’ঘণ্টা পর কেঁদে উঠল নবজাতক

111673 1বিএ নিউজ: ভূমিষ্ট হওয়ার পরপরই চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করলেন। এরপর স্বজনেরা ব্যস্ত মরদেহ নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতায়। এভাবে প্রায় দু’ঘণ্টা পার হতেই ঘটল অলৌকিক ঘটনা।

নবজাতক গলা ছেড়ে কান্না করে জানাল দিল সে মরে নাই। এ ঘটনা ঘটেছে নীলফামারী ডোমার উপজেলার ডক্টরর্স ক্লিনিকে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে নবজাতকের স্বজন ও স্থানীয়রা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে বেসরকারি ‘ডক্টরর্স ক্লিনিক’ অবরুদ্ধ করে রাখে। ঘণ্টাব্যাপী চলে এই অবরোধ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডোমার উপজেলার চিকনমাটি এলাকার মোকছেদুল ইসলামের স্ত্রীর প্রসব বেদনা ওঠে শুক্রবার রাতে। এরপর তাকে স্থানীয় ওই ডক্টরর্স ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর সেখানে ভর্তি করা হয়। শনিবার ভোরে প্রসূতির সিজার করেন ওই ক্লিনিকের মালিক ডা. মাসুম ও ডা. নিহার রঞ্জন। প্রসূতি একটি মেয়ে সন্তান প্রসব করেন।

তবে সদ্যজাত সেই সন্তানকে চিকিৎসরা মৃত ঘোষণা করেন। এরপর রোগীর অভিভাবকেরা মৃত নবজাতক নিতে আনুষ্ঠানিকতা সারতে থাকেন। একই সঙ্গে বাড়িতে চলে তার দাফন-কাফনের প্রস্তুতি।

আর এই দীর্ঘ সময় নবজাতককে অযত্ন আর অবহেলায় ক্লিনিকের একটি কক্ষে রাখা হয়। দুই ঘণ্টা পর অভিভাবকেরা যখন বাচ্চাটিকে নিতে যান, তখনই সে কেঁদে ওঠে।

এরপর ক্লিনিকজুড়ে শুরু হয় হট্টগোল। এলাকাবাসী দলে দলে ওই ক্লিনিক চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। তারা এসে ক্লিনিক অবরুদ্ধ করে রাখেন।

অবস্থা বেগতিক দেখে ক্লিনিক মালিক ওই দুই চিকিৎসক মাসহ নবজাতককে নিজ খরচে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ঘোষণা দেন। সে মোতাবেক তাদের রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়।

এদিকে, শনিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত ক্লিনিকের মালিক ডা. মাসুম ও ডা. নিহার রঞ্জন নবজাতকের পরিবারের সঙ্গে আপস করার চেষ্টা করছিলেন। আর তখনো ক্লিনিকের বাইরে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করছিলেন।