নারীর অধিকার প্রশ্নে সোচ্চার শেরিল স্যান্ডবার্গ

::ডেস্ক ::

‘টাইম’ সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০ নারীর অন্যতম শেরিল স্যান্ডবার্গ। তিনি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকে একজন শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা। ধনকুবের বলেও বিশেষভাবে পরিচিত বিশ্ববাসীর কাছে।

নারীর অধিকার প্রশ্নে শেরিল সবসময়ই সোচ্চার । অন্য অনেক নারীর মতো তারও প্রশ্ন, আমেকিার মতো উন্নত দেশে নারী কি সবক্ষেত্রে সমান অধিকার পাচ্ছেন?

শেরিল স্যান্ডবার্গ নারীদের নানা সমস্যা যেমন নারীদের কর্মক্ষেত্রের ভোগান্তি, তাদের অবস্থান, শীর্ষারোহণ প্রভৃতি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করেন। তার পক্ষে পরাশক্তি আমেরিকার নারীদের এসব চিত্র বা অবস্থা দেখারও সুযোগ হয়েছে। আসলে শেরিল এসব নিয়ে সব সময় ভাবেন বলেই বিভিন্ন দেশের এ-সংক্রান্ত অবস্থা দেখার হয়তো সুযোগ হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব দেখার সুযোগ আপনা আপনি আসে না। এসব দেখা বা পর্যবেক্ষণ করার উন্নত মানসিকতাও থাকা চাই। তার এ-সংক্রান্ত বিশ্লেষণগুলো প্রায় সবাই মেনে নেন।

শেরিলের বেশিরভাগ লেখা আবর্তিত হয় আমেরিকার প্রেক্ষাপটে। তা সত্ত্বেও বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় এগুলো সাধারণভাবে যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক । প্রায় ৩০ বছর আগেই আমেরিকা শিক্ষাক্ষেত্রে যথেষ্ট এগিয়ে গেছে। যেমন যত সংখ্যক ছেলে আমেরিকার কলেজগুলোয় গ্র্যাজুয়েট হচ্ছে, সেই পরিমাণ মেয়েও গ্র্যাজুয়েট হচ্ছে। তার পরও অনেক ক্ষেত্রেই এগোতে পারেননি নারীরা। নীতিনির্ধারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নানা পর্যায়ে শীর্ষ নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত নারীর অংশগ্রহণ যথেষ্ট কম।

এর কারণ হিসেবে শেরিল বলেন, এ জন্য দায়ী নানা ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সমান সুযোগের অভাব। এর প্রভাব পড়ে সামাজিক রীতিনীতি, সংসার কর্ম প্রভৃতির ওপর।

শেরিল 'লিয়েন ইন' নামে একটি বইও লিখেছেন। তার প্রথম মা হওয়ার সময়ের কষ্টের বর্ণনা দিয়ে শুরু করা হয়েছে বইটি।

শেরিল গুগলের অনলাইন সেলসের দায়িত্বে ছিলেন ২০০৪ সালে। ওই সময়ে গর্ভবতী নারীদের গাড়ি পার্কিয়ের জন্য কোনো পৃথক জায়গা বরাদ্দ বা নির্দিষ্ট ছিল না গুগলের পার্কিংলটে। ফলে প্রচুর পথ হেঁটে অফিসে আসতে হতো শেরিলসহ অনেককে। অথচ অন্য অনেক অফিসের প্রায় প্রতিটি ভবনের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। এর উদাহরণ হলো সার্চ ইঞ্জিন ইয়াহু। তা থাকার কারণে গর্ভবতী কর্মীদের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছতে প্রায় কোনো সমস্যাই হতো না।

এ বিষয়টি শেরিল জানতে পারেন তারই স্বামী ডেঙের কাছে। অতঃপর তিনি বিষয়টি অবহিত করেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই বিনকে। বিষয়টি জানার পর সের্গেই বলেন, এর আগে এর গুরুত্ব নিয়ে ভাবা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে শেরিল বলেন, গর্ভবতী হওয়ার আগে (শেরিল) আমিও তা নিয়ে তেমন ভাবিনি। আর এ কারণেই শেরিল বলেন, আসলে এখন পর্যন্ত নারীর ভালো-মন্দের বিষয় গুরুত্বসহকারে ভাবে না আমাদের সমাজ। তবে এ ব্যাপারে বাধ্য করলে কিছুটা আমলে আনা হয়।

তিনি আরো বলেন, আমি দেখেছি, সব নারীর মধ্যেই একটি প্রবণতা রয়েছে ওপরে না ওঠা বা যাওয়ার। একশ্রেণীর নারী একটি সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকতে চান। অর্থাৎ একটি পর্যায়ের পর আর যেতে নারাজ। এমনকি তারা সচেতন নন নিজের অবস্থান সম্পর্কেও। অনেক সময় অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বেশি মনোযোগী হতে দেখা যায়।

নারীর নেতৃত্ব বিকাশে পিছিয়ে পড়ার কারণগুলো খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে তার লিয়েন ইন গ্রন্থে। গবেষণার তথ্য ও ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও নিজের চার পাশের সাথে তুলনার মাধ্যমে। নিজের মতো করে তার ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে। উল্লিখিত বইয়ে অধ্যায় রয়েছে ১১টি। এগুলোর ভেতরকার বিষয়টি সহজে বুঝা যায় নাম শুনলেই। নামগুলো হলো- সিট ইন দ্য টেবিল, দ্য লিডারশিপ এম্বিশন গ্যাপ, ওয়াকিং টুগেদার টুওয়ার্ড ইকুয়ালিটি ইত্যাদি।

সংসার ও কর্মের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখা হয়েছে বইটিতে। শেরিল বলেছেন, কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য নিজের মাতৃত্ব বা নারীত্বকে বিসর্জন দেয়ার প্রশ্নই আসে না।

তিনি এতে প্রকাশ ঘটিয়েছেন অপ্রথাগত নারীবাদীর বিষয়টি। যে কারণে বইটির প্রতি পাঠকদের আকর্ষণ বেড়েছে।

এতে শেরিল বলেছেন, ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটে মাতৃত্ব বিসর্জন দেয়ার মধ্যে কোনো সার্থকতা নেই। আমি এটিরও ঘোর বিরোধিতা করি। পড়ালেখার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বিষয়গুলো নিতে অনেক মেয়ে ভয় পান। পুরুষের মতো নারীও এখন প্রায় সব কিছুই পারে। শুধু তাই নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারী পুরুষের চেয়ে এগিয়ে। কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে নারীদের আরো বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্য তাদের আপন বা নিজ শক্তির ব্যাপারে ওয়াকিবহাল হতে হবে। উপলব্ধি করতে হবে নিজেদের অন্তর্নিহিত সত্য ও শক্তিকে। তাতে তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না ‘পারিপার্শ্বিকতার বাঘ’।

সূত্র : ওয়েব

বাংলাদেশ স্থানীয় সময় : ০১৩৫ ঘন্টা, জুলাই ১৬, ২০১৩
বিএইচ